দুপুর ১:৩৩, সোমবার, ২৯শে মে, ২০১৭ ইং
/ রাজনীতি / খালেদা জিয়ার অনাস্থার আবেদন দুই আদালতেই নাকচ
খালেদা জিয়ার অনাস্থার আবেদন দুই আদালতেই নাকচ
এপ্রিল ১৩, ২০১৭

জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট ও এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার দুই বিচারকের প্রতি অনাস্থা জানিয়ে খালেদা জিয়ার আবেদন নাকচ হয়েছে। বকশিবাজারে কারা অধিদপ্তরের প্যারেড মাঠে স্থাপিত বিচারক আবু আহমদ জমাদার ও জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ  কামরুল হোসেন মোল্লার আদালতে এই দুই মামলায় গতকাল বৃহস্পতিবার বিএনপি চেয়ারপারসনের আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানির কথা ছিল। দুই আদালতেই খালেদা জিয়ার আইনজীবী ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার তার পক্ষে অনাস্থার আবেদন তুলে ধরেন। এর মধ্যে জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার বিচারক আবু আহমদ জমাদার অনাস্থার আবেদন নাকচ করে ২৭ এপ্রিল মামলার পরবর্তী দিন ঠিক করেন। আর জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য ১৮ই মে পরবর্তী ঠিক করে দেন বিচারক কামরুল হোসেন মোল্লা। এর আগে সকাল সোয়া ১১টার দিকে খালেদা জিয়া বকশিবাজারে পৌঁছালে শুরুতে আবু আহমদ জমাদারের আদালতে জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট মামলার শুনানি হয়। শুনানির শুরুতেই ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন বিচারকের উদ্দেশ্যে বলেন, যেহেতু এতিমখানা মামলাটি আপনার আদালত থেকে অন্য আদালতে নেওয়া হয়েছে। সুতরাং এই মামলাটিও আপনি ওই একই আদালতে বদলি করে দিন। আপনার বিচারের প্রতি আমাদের কোনো আস্থা নেই। জবাবে বিচারক বলেন, আমি মামলা ট্রান্সফার করতে পারবো না। আপনারা উচ্চ আদালত থেকে আদেশ নিয়ে আসেন। হাই কোর্ট যদি বলে এই মামলা ছেড়ে দেন, তাহলে আমি ছেড়ে দেব। বিচারকের সঙ্গে আইনজীবীদের উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয় খালেদা জিয়া চুপচাপ শোনেন। এক পর্যায়ে তার পক্ষে আরেক আইনজীবী আবদুর রেজাক খান বিচারককে বলেন, আপনি ৩৪২ ধারার পরীক্ষা যথাযথভাবে করেননি। তখন বিচারক বলেন, আমি সাক্ষীদের সাক্ষ্য পড়ে শুনিয়েছি। যথাযথভাবেই এই আসামির ৩৪২ ধারার কার্যক্রম শেষ করেছি। পরে আবু আহমেদ জমাদার জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য ১৮ই মে দিন ঠিক করেন। জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার নিতে একই এজলাসে বেলা ১২টায় ওঠেন জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ কামরুল হোসেন মোল্লা। খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা তাকে বলেন, এই মামলার তদন্তের সময় আপনি দুদকের শীর্ষ কর্মকর্তা ছিলেন; বিচারক হিসেবে আপনি নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে পারবেন না। সুতরাং এ মামলার আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি আপনি নিতে পারেন না। জবাবে বিচারক বলেন, এসব কথা আমাকে বলছেন কেন। হাই কোর্টের আদেশে আমি এই মামলার বিচারকের দায়িত্ব পেয়েছি। আপনাদের কথাতেই হাই কোর্ট এই মামলার বিচারের দায়িত্ব আমাকে দিয়েছে। বিএনপির চেয়ারপারসনের আইনজীবীদের আপত্তির মধ্যে ২৭ মে আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানির দিন রেখে এজলাস থেকে নেমে যান বিচারক। বেলা পৌনে ১টার দিকে আদালত প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন খালেদা জিয়া।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top