সন্ধ্যা ৬:১৮, রবিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং
/ দেশজুড়ে / কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি
কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি
জুলাই ১১, ২০১৭

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি : কুড়িগ্রামে সবগুলো নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। চিলমারী পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি ১৮সে.মি. বৃদ্ধি পেয়ে বিপদ সীমার ২০সে.মি. ও সেতু পয়েন্টে ধরলার পানি ৫৮সে.মি. পেয়ে বিপদ সীমার ১২সে.মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বেড়েছে তিস্তা ও দুধকুমারসহ অন্যান্য নদীর পানি।

বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে উলিপুর, চিলমারী, রৌমারী, রাজিবপুর, নাগেশ্বরী ও সদর উপজেলার ৩৫টি ইউনিয়নের চর ও দ্বীপচরসহ প্রায় আড়াই শতাধিক গ্রাম। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে এসব এলাকার প্রায় এক লাখ ৭০ হাজার মানুষ। বানভাসী মানুষজন ঘর-বাড়ি ছেড়ে বাঁধ ও উচু জায়গা আশ্রয় নিতে শুরু করেছে। টানা ৫দিন ধরে বন্যার পানিতে তলিয়ে থাকা এলাকা গুলোতে দেখা দিয়েছে খাদ্য ও বিশুদ্ধ খাবার পানির তীব্র সংকট। অনেক পরিবার বাড়ি-ঘর ছেড়ে উঁচু স্থানে আশ্রয় নিলেও তাদের হাতে কোন কাজ না থাকায় খেয়ে না খেয়ে অতিকষ্টে দিন যাপন করছে। বন্ধ রয়েছে জেলার দেড় শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঠদান।

সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের পোড়ারচর গ্রামের রুবেলের শেফালী বেগম জানান, ৪ দিন হয় বাড়িতে পানি উঠছে। খুব ¯্রােত বইছে। দুইটা বাচ্চা নিয়া সারাদিন মানুষের নৌকায় নৌকায় ঘুরছি। সারাদিন রান্নাও হয় নাই, খাইও নাই। মেম্বার চেয়ারম্যান কোন রিফিলও দেয় নাই।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. আইয়ুব আলী সরকার জানান, আমার ইউনিয়নের চরাঞ্চল গুলোর ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষ পানিবন্দী জীবন-যাপন করছে। এর মধ্যে ১শ ৫০ জনকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়েছে। এই ৩০ হাজার বন্যা দুর্গত মানুষের জন্য ১১মে. টন চাল পেয়েছি। যা মঙ্গলবার উত্তোলন করেছি। আজ বিতরণ করা হবে।

জেলা ত্রাণ শাখা সুত্রে জানা গেছে, বন্যার্তদের জন্য জেলা প্রশাসন থেকে ২শ ৫০মে. টন চাল ও ৫লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। কিন্তু এই বিপুল সংখ্যক বন্যাকবলিত মানুষের জন্য তা অপ্রতুল।

জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মোহাম্মদ ফেরদৌস খান জানান, জেলায় বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য সকল প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। এদিকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য মতে বন্যার পানিতে জেলায় ৭শ ৭১ হেক্টর জমির ফসল নিমজ্জিত হয়েছে। এর মধ্যে উঠতি আউশ ৭৪ হেক্টর, বীজতলা ১শ ১৩ হেক্টর, সবজি ৩শ ৪৪ হেক্টর, পাট ২শ হেক্টর এবং আখ ৪২ হেক্টর।

স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শফিকুল ইসলাম জানায়, গত ২৪ ঘন্টায় চিলমারী পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি ১৮সে.মি. বৃদ্ধি পেয়ে বিপদ সীমার ২০সে.মি. ও সেতু পয়েন্টে ধরলার পানি ৫৮সে.মি. বৃদ্ধি পেয়ে বিপদ সীমার ১২সে.মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কাউনিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি ২৩সে.মি. বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এই বিভাগের আরো খবর



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top