দুপুর ১২:৪৭, শুক্রবার, ১৮ই আগস্ট, ২০১৭ ইং
/ রাজনীতি / কুসিক জয়ে বিএনপিতে স্বস্তি
নতুন কৌশলে এগুনোর পরিকল্পনা
কুসিক জয়ে বিএনপিতে স্বস্তি
এপ্রিল ১, ২০১৭

রাজকুমার নন্দী : নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) নির্বাচনে পরাজয়ের পর নিজেদের জনপ্রিয়তা প্রমাণে মরিয়া ছিল বিএনপি। কারণ, ব্যাপক প্রস্তুতি সত্ত্বেও ওই নির্বাচনে পরাজয়ে দলটির নেতাকর্মীরা হতাশ হয়ে পড়েছিল। তাই কুমিল্লায় জয়ের মধ্য দিয়ে সরকারি দমন-পীড়ন, হামলা-মামলা ও হতাশায় নিস্তেজ হয়ে পড়া বিএনপিতে ফিরে এসেছে স্বস্তি। নেতা-কর্মীদের মধ্যেও এক ধরণের উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা গেছে। দলটির নেতাদের দাবি, বিএনপিকে নিয়ে ক্ষমতাসীন মহাজোট সরকারের নেতাদের নানা অপপ্রচার সত্ত্বেও বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বের প্রতি দেশবাসী যে এখনো আস্থাশীল, তিনি যে এখনো দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী- কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক) নির্বাচনে ধানের শীষের বিজয়ের মধ্য দিয়ে সেটা আবারো প্রমাণিত হয়েছে। আর এই জয়ে জাতীয় নির্বাচনের আগে গাজীপুর, খুলনা, রাজশাহী, সিলেটসহ যে কয়েকটি সিটি নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে সেগুলোতেও ভাল করার উৎসাহ তৈরি হবে।

কুমিল্লা সিটি নির্বাচনের মাঠে সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পালন করা বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান দৈনিক করতোয়াকে বলেন, কুমিল্লায় ধানের শীষের প্রার্থী জেতায় বিএনপিকে নিয়ে সরকারি দলের নানা অপপ্রচার মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। নির্বাচনের মধ্য দিয়ে কুমিল্লাবাসী প্রমাণ করেছে- আওয়ামী লীগ নয়, বিএনপিই এখনো বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় দল। আগামীতে নির্দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হলে ক্ষমতাসীনদের বিপক্ষে দেশবাসী একই রায় দেবে বলেও দাবি করেন তিনি।

কুমিল্লার মাঠে দায়িত্ব পালন করা দলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শহীদুল ইসলাম বাবুল দৈনিক করতোয়াকে বলেন, বিএনপি গণমানুষের দল। তাই যারা বলে বিএনপি নাই, বিএনপি শেষ, বিএনপি পারবে না-কুমিল্লার বিজয় তাদের জন্য চপেটাঘাত। আগামীতে নির্বাচন মোটামুটি সুষ্ঠু হলেও অধিকাংশ জায়গাতেই বিএনপি জয়লাভ করবে বলে দাবি তার।

বিএনপির সিনিয়র নেতারা বলছেন, আভ্যন্তরীণ কোন্দলে নারায়ণগঞ্জে পরাজয়ের পর কুসিক নির্বাচনে বিএনপির বিজয় নিঃসন্দেহে স্বস্তির। কিন্তু এ নির্বাচনেও ক্ষমতাসীনরা প্রশাসনকে ব্যবহার করে যেভাবে কেন্দ্র দখল, জাল ভোট দেয়াসহ ক্ষমতার দাপট দেখিয়েছেন, তাতে ভোটে জিততে তাদের বিশেষ কৌশল অবলম্বন করতে হয়েছে। নির্বাচনে টিকে থাকতে কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিএনপির নেতাকর্মীরা বুকে নৌকার ব্যাজ লাগিয়ে ধানের শীষে ভোট দিয়েছে। এছাড়া নারায়ণগঞ্জের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে কুমিল্লায় প্রথম থেকেই স্থানীয় নেতাদের মধ্যকার গ্রুপিং মেটাতে দল মনোযোগী ছিল, যা ধানের শীষের জয়ের ক্ষেত্রে বিরাট ভূমিকা রেখেছে। নির্বাচনী মাঠে শেষ পর্যন্ত টিকে থাকাটাও ছিল গুরুত্বপূর্ণ। তাই কৌশলে কুসিক নির্বাচনের এই বিজয়কে সামনে রেখে পরবর্তী নির্বাচনগুলোর কৌশল নির্ধারণ করতে চায় বিএনপি।

দলের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেছেন, নৌকার পক্ষে প্রকাশ্যে সিল মারার পরও যে কৌশলে জেতা যায়, সেটা কুসিক নির্বাচনে প্রমাণিত হয়েছে। নৌকার মার্কা বুকে নিয়ে সেখানে ধানের শীষে ভোট দেয়া ছাড়া আর কোনো গত্যন্তর ছিলো না। এই কৌশলে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে জনগণ ধানের শীষের প্রার্থীকে জিতিয়েছে। তিনি আরো বলেন, কুমিল্লার নির্বাচন দেশের মানুষের চোখ খুলে দিয়েছে। তাই কুমিল্লার এই বিজয়কে সামনে রেখে ভবিষ্যতে সেইভাবে কৌশল নির্ধারণ করে আমরা এগিয়ে যাবো।

এদিকে, কুসিক নির্বাচনে বিজয়ের ফলে নবগঠিত নির্বাচন কমিশনের প্রতি বিএনপির আস্থা ‘কিছুটা’ হলেও ফিরেছে। তবে দলটির নেতারা বলছেন, নির্বাচন কমিশন কিছুটা সজাগ থাকলেও নির্বাচনকে পুরোপুরি সরকারি দলের সন্ত্রাস ও অনিয়মমুক্ত রাখতে তারা ব্যর্থ হয়েছে। তারা এও বলেছেন, স্থানীয় নির্বাচন ও জাতীয় নির্বাচন এক নয়। সরকার পরিবর্তনের কোনো সুযোগ না থাকলেও দলীয় প্রার্থীকে জেতাতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতেও ক্ষমতাসীনদের দাপট অব্যাহত রয়েছে। সর্বশেষ কুসিক নির্বাচনেও সেটা দেখা গেছে। আর এর মধ্য দিয়ে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে বিএনপির জাতীয় নির্বাচনের দাবির যৌক্তিকতা আরো দৃঢ় হয়েছে। তাই জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে হলে অবশ্যই সে নির্বাচন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে হতে হবে। ইসির পক্ষে কোনভাবেই সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব নয়। সেজন্য কুমিল্লায় জিতলেও নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের দাবি থেকে মোটেই সরেনি বিএনপি। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, প্রয়োজনে কেয়ামত পর্যন্ত অপেক্ষা করব, তবুও শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনে যাবো না।

জানা গেছে, নির্বাচন কমিশন গঠনে রূপরেখা দেয়ার পর বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া শিগগিরই নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সহায়ক সরকারের রূপরেখাও জাতির সামনে তুলে ধরবেন। তবে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে সেই রূপরেখাকে ধরে ক্ষমতাসীনরা আলোচনায় এগিয়ে না এলে দাবি আদায়ে প্রয়োজনে রাজপথেও নামতে পারেন খালেদা জিয়া।

এদিকে, কুসিক নির্বাচনে বিজয়ে উচ্ছ্বসিত বিএনপিকে বেদনায় নীল করেছে চট্টগ্রামে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নেতা নুরুল আলম নুরুর নৃশংস হত্যার ঘটনা। সেজন্য কুমিল্লায় বিজয়ের পরও দলের নেতাকর্মীরা বুকে শোকের প্রতীক ‘কালো ব্যাজ’ ধারণ করেছে। এ প্রসঙ্গে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, কুমিল্লায় ধানের শীষের বিজয় বর্তমান অনির্বাচিত সরকারের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে জনতার বিজয়। কিন্তু পুলিশী নির্যাতনে চট্টগ্রামে ছাত্রদল নেতা নুরুল আলম নুরুর মৃত্যুতে আমরা সবাই দারুণ ব্যথিত, শোকাহত। তাই কুমিল্লা বিজয়ের আনন্দ আমরা কেউ ভাগ করে নিতে পারিনি।  

 

 

 


 

 



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top