দুপুর ২:৪৭, শনিবার, ২৪শে জুন, ২০১৭ ইং
/ রাজনীতি / কুসিকে জিততে নানা প্রস্তুতি নিয়ে নির্বাচনী মাঠে বিএনপি
ওয়ার্ডভিত্তিক ম্যাজিস্ট্রেট চান সাক্কু
কুসিকে জিততে নানা প্রস্তুতি নিয়ে নির্বাচনী মাঠে বিএনপি
মার্চ ১৮, ২০১৭

রাজকুমার নন্দী : নতুন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) অধীনে আগামী ৩০ মার্চ অনুষ্ঠেয় কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের (কুসিক) নির্বাচনকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে বিএনপি। আগামী সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এই নির্বাচনে নতুন ইসির ভূমিকা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে দলটি। আর নারায়ণগঞ্জে বিপুল ভোটে পরাজিত হওয়ার পর এবার কুসিক নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে নিজেদের জনপ্রিয়তা প্রমাণ করতে মরিয়া বিএনপি। সেজন্য কুসিকে দলের মেয়র প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কুর বিজয় নিশ্চিত করতে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বিএনপি। এর অংশ হিসেবে স্থানীয় নেতাদের সমন্বয়ে ইতোমধ্যে ওয়ার্ডভিত্তিক ২৭টি কমিটি গঠন করা হয়েছে। দুই-একদিনের মধ্যে ভোটকেন্দ্রভিত্তিক ১০৩টি কমিটিও গঠন করা হবে। ভোটের ফলাফল ঘোষিত না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা ভোটকেন্দ্রে অবস্থান করবেন। আর সুচারুরূপে প্রচারের স্বার্থে প্রতিটি কমিটির কর্মকান্ড সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড বা ভোটকেন্দ্রেই সীমিত থাকবে। এছাড়া প্রচারণায় দলের কেন্দ্রীয় নেতাদেরও পর্যায়ক্রমে নামানো হচ্ছে। তারা কুমিল্লার স্থানীয় নেতাদের সাথে সমন্বয় করে মেয়র প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালাবেন। শিগগিরই কেন্দ্রীয়ভাবে একটি মনিটরিং টিমও গঠন করা হবে। বিএনপি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান নাসিকে সাক্কুর পক্ষে নির্বাচন পরিচালনায় প্রধান সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পালন করছেন। তাকে সহযোগিতা করছেন দলের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল, মোস্তাক মিয়া, আবদুল আউয়াল খান, নির্বাহী সদস্য শেখ মো. শামীম, চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শামসুদ্দিন দিদার। আর নির্বাচনে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমিন-উর-রশীদ ইয়াছিনকে প্রধান স্থানীয় সমন্বয়কারী এবং মোস্তাক মিয়া ও আবদুল আউয়াল খানকে সহকারী স্থানীয় সমন্বয়কারী করা হয়েছে। নজরুল ইসলাম তাদেরকে নিয়ে ইতোমধ্যে কুমিল্লায় বৈঠকও করেছেন। ওই বৈঠক থেকে সাক্কুর পক্ষে নির্বাচন পরিচালনার কর্মপদ্ধতি ঠিক করে সেই অনুযায়ী কাজও শুরু হয়েছে। এদিকে, নির্বাচনে ২০ দলীয় জোটের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাদেরও পর্যায়ক্রমে প্রচার কাজে মাঠে নামানো হচ্ছে। বিএনপির মেয়র প্রার্থী সাক্কুকে জোট ইতোমধ্যে তাদের সমর্থনও জানিয়েছে। এলডিপির মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ কুসিক নির্বাচনে জোটের প্রধান সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পালন করছেন। পরিবেশ-পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে এবং প্রয়োজন হলে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াও দলীয় প্রার্থীর পক্ষে প্রচারে অংশ নিতে পারেন। তবে আপাতত তেমন কোনো সম্ভাবনা নেই বলে কুসিকে নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করা বিএনপির এক কেন্দ্রীয় নেতা জানিয়েছেন।

জানা গেছে, নির্বাচনী কর্মকান্ড সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য কুমিল্লার ধর্মসাগরপাড়ে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান সালেহ প্রিন্সের নেতৃত্বে ‘কেন্দ্রীয় নির্বাচনী সেল’ গঠন করা হয়েছে। এছাড়া বিএনপির মেয়রপ্রার্থীসহ তার পক্ষে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাদের প্রতিদিনকার নির্বাচনী প্রচারণার সর্বশেষ খবর গণমাধ্যমের কাছে সরবরাহ করতে দলের ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদকে প্রধান করে একইস্থানে একটি মিডিয়া সেলও গঠন করা হয়েছে। শামসুদ্দিন দিদারকে এ সেলের সহকারী সমন্বয়কারী করা হয়েছে। এদিকে, নারায়ণগঞ্জে ১০৪জন কেন্দ্রীয় নেতাকে মাঠে নামানো হলেও কুসিক নির্বাচনে এতো বেশি সংখ্যক কেন্দ্রীয় নেতাকে প্রচারণায় নামাতে চায় না বিএনপি। দলটি মনে করছে, বিএনপির মেয়র প্রার্থী সাক্কু পরপর দুইবার মেয়র (পৌর ও সিটি করপোরেশন) ছিলেন। সুতরাং তার নিজস্ব একটা সেটআপ আছে, নিজস্ব ভোটও আছে। এছাড়া তিনি এলাকায় ব্যাপক উন্নয়নও করেছেন। আর নারায়ণগঞ্জে অনেক ভাসমান ভোটার থাকলেও কুসিকে স্থানীয় ভোটারই বেশি। তাছাড়া নারায়ণগঞ্জে প্রচারণায় স্থানীয় নেতাকর্মীদের কিছুটা সঙ্কট থাকলেও বিএনপি অধ্যুষিত এলাকা হওয়ায় কুমিল্লায় প্রচুর স্থানীয় নেতাকর্মী রয়েছে। এসব কারণে কুসিকে প্রচারণার ক্ষেত্রে স্থানীয় নেতাদের বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে বলে বিএনপির এক কেন্দ্রীয় নেতা জানান।

নারায়ণগঞ্জের মতো কুসিক নির্বাচনেও স্থানীয় বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব-কোন্দল বিজয়ের পথে কিছুটা বাধার সৃষ্টি করতে পারে, এমন আশঙ্কা থাকলেও বাস্তবে তার প্রভাব নেই। দলের কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী কুমিল্লার স্থানীয় নেতারা ইতোমধ্যে দলীয় মেয়র প্রার্থীর পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ শুরু করেছেন। যাকে নিয়ে সবচেয়ে বেশি শঙ্কা ছিল সেই ইয়াছিন ইতোমধ্যে সাক্কুর পক্ষে প্রচারণায় নেমেছেন। তাই কুসিকে সুষ্ঠু ভোট হলে সাক্কুই মেয়র হবেন বলে আশা তার কর্মী-সমর্থকদের। নির্বাচন সুষ্ঠু ও নির্বিঘœ করতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে বিএনপি এতোদিন সেনা মোতায়েনের দাবি জানিয়ে আসলেও কুসিকে ভিন্ন কথা বলেছেন দলটির মেয়র প্রার্থী সাক্কু। নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করতে ভোটের সময় সেনাবাহিনীর পরিবর্তে কুসিকের প্রতিটি ওয়ার্ডে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ চান তিনি। এর কারণ ব্যাখ্যা করে সাক্কু দৈনিক করতোয়াকে বলেন, সেনাবাহিনী চাওয়া হলেও সহজে তা পাওয়া যায় না।

তাছাড়া অনাকাক্সিক্ষত কিছু ঘটলে পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী অন্য বাহিনী ত্বরিত কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। কিন্তু জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এক্ষেত্রে ত্বরিত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। মেয়র থাকাকালে এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন দাবি করে তিনি বলেন, ভোট সুষ্ঠু হলে এবং ভোটাররা নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারলে কুসিক নির্বাচনে তিনিই বিজয়ী হবেন।

কুসিকে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী মহিলা হওয়ায় সেখানে মহিলা ভোটারদের মধ্যে ধানের শীষের পক্ষে জোয়ার সৃষ্টি করতে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে চাইছে বিএনপি। বিশেষ করে গত ঢাকা দক্ষিণ সিটি নির্বাচনে মেয়রপ্রার্থী ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য স্বামী মির্জা আব্বাসের পক্ষে গণসংযোগ করে সাড়া ফেলে দেয়া মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাসকে সামনে রেখে এ দায়িত্ব দেয়া হতে পারে। বিএনপির মেয়র প্রার্থীকে জেতাতে দলটির অন্য অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোও অনুরূপভাবে তাদের কর্মকান্ড পরিচালনা করবে। কুমিল্লাবাসীর কাছ থেকে ধানের শীষের পক্ষে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন জানিয়ে নির্বাচনে বিএনপির প্রধান সমন্বয়কারী নজরুল ইসলাম খান দৈনিক করতোয়াকে বলেন, বিএনপির মেয়র প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কু কুমিল্লায় অত্যন্ত জনপ্রিয়। দুইবার মেয়র থাকাকালে তিনি এলাকায় ব্যাপক উন্নয়নও করেছেন। তাছাড়া সরকারের দুঃশাসনে সারাদেশের সঙ্গে কুমিল্লাবাসীও অতিষ্ঠ। তাই সুষ্ঠু ভোট হলে ও কুমিল্লাবাসী নির্বিঘেœ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করার সুযোগ পেলে বিপুল ভোটে সাক্কুই বিজয়ী হবেন।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top