রাত ৯:৩৮, বৃহস্পতিবার, ১৭ই আগস্ট, ২০১৭ ইং
/ চট্টগ্রাম / কুমিল্লায় আওয়ামী লীগের দুই কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা
কুমিল্লায় আওয়ামী লীগের দুই কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা
এপ্রিল ১৯, ২০১৭

কুমিল্লা প্রতিনিধি : কুমিল্লায় সংসদ সদস্য ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুনের অনুসারীদের আধিপত্য বিস্তারসহ বালু ব্যবসা এবং পূর্ব শক্রতার জের ধরে দু’গ্র“পের সংঘর্ষে ফারুক (২৮) ও সাইদুর রহমান (২৬) নামের দুই আওয়ামী লীগ কর্মীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাত  সোয়া ১১টার দিকে  জেলার মুরাদনগর উপজেলার রহিমপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় সংঘর্ষে ইউপি সদস্য আশরাফসহ আহত হয়েছে কমপক্ষে ১৫ জন। নিহতরা হলো মুরাদনগর উপজেলার রহিমপুর গ্রামের খোরশেদ আলমের ছেলে ফারুক (২৮) ও একই গ্রামের হানিফ মিয়ার ছেলে সাঈদুল (২৫)। নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমেক হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।  এ ঘটনায় গতকাল এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ ঘটনার নেতৃত্বদানকারী আনিসসহ ৬ জনকে  গ্রেফতার এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৮ জনসহ ১৪ জনকে আটক করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ  মোতায়েন করা হয়েছে। গতকাল বুধবার দুপুরে ইউপি সদস্য আশরাফুল ইসলাম বাদী হয়ে ২৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরোও ২০/২৫ জনসহ প্রায় ৫০ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে।  এলাকা থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার আওয়ামী লীগের সমর্থকের নবীপুর পশ্চিম ইউনিয়নের ও রহিমপুর গ্রামের ইউপি সদস্য আলী আশ্রাফ ও একই  গ্রামের কবির, আলাউদ্দিন গ্র“পের মধ্যে দীর্ঘদিন থেকে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এনিয়ে দু’গ্রুপের মধ্যে বেশ কয়েকবার সংর্ঘষের ঘটনা ঘটে। এরই জের ও উপজেলার নয়াকান্দি গ্রামে গোমতী নদীর পাশে বালু ব্যবসা নিয়ে গত তিন দিন ধরে দু’গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা চলে আসছিল। মঙ্গলবার রাতে আলাউদ্দিন আনিস গ্র“পের  লোকজন বালু ব্যবসার  ড্রেজার কাজে নিয়োজিত  লোকজনকে বাধা দেয়। খবর পেয়ে আলী আশরাফ মেম্বার, ফারুক ও সাইদুলসহ তাদের লোকজন ঘটনাস্থলে পৌঁছলে আনিস গ্র“পের লোকজন তাদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। এক পর্যায়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আশ্রাফ গ্রুপের আলী আশ্ররাফ নিজেসহ ফারুক, সাঈদুর, রুবেল, আবুবক্করসহ অন্তত ১৫জন আহত হয়। আহতদের স্থানীয়রা মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়। আহতদের মধ্যে মারাত্মক আহত সাইদুর ও ফারুকে ডাক্তাররা মৃত ঘোষণা করে। ২ জনের মৃত্যুর খবরে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। রাতেই বাড়ির ঘর ভাঙচুর, লুটপাট শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাত থেকেই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
গতকাল বুধবার মুরাদনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ তানভীর আহমেদ বলেন, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়েই স্থানীয় স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুনের অনুসারীদের দুই পক্ষের মধ্যে এ সংঘর্ষে ২ জন নিহত হয়েছে।

এ ঘটনার পর বুধবার সকাল ১০টায় কুমিল্লা উত্তর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল মোমেন ও মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস.এম বদিউজ্জামান মুরাদনগর থানায় সাংবাদিকদের সাথে প্রেস ব্রিফিং করেন। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার  আব্দুল মোমেন জানান, ‘এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও  ড্রেজার ব্যাবসার জের ধরে রাতে স্থানীয় ইউপি সদস্য আলী আশ্রাফ ও কবির-আনিস গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এক পর্যায়ে ধারালো অস্ত্রের ফারুক ও সাঈদুল নামে দুই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৮জন ও জড়িত থাকার অভিযোগে ৬জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরন করা হয়েছে।

মুরাদনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস এম বদিউজ্জামান জানান, ‘এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব বিরোধের  জের ধরে রাতে স্থানীয় ইউপি সদস্য আলী আশরাফ ও আলাউদ্দিন আনিস গ্র“পের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আওয়ামী লীগ কর্মী ফারুক ও সাঈদুর মারাত্মক আহত হন। তিনি আরও বলেন-বুধবার দুপুরে ২৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরোও ২০/২৫জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। এ হত্যার বিষয়টি পরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে তবে ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এলাকা বর্তমানে শান্ত রয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

 

 



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top