সকাল ৬:১৮, মঙ্গলবার, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং
/ দেশজুড়ে / কাল্টুর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগ : আহসানের মা পলাতক
ফুলছড়িতে সিনথিয়া ধর্ষণ ও হত্যা
কাল্টুর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগ : আহসানের মা পলাতক
সেপ্টেম্বর ৮, ২০১৭

ফুলছড়ি (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি : গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলা বাউসি গ্রামের প্রথম শ্রেণির ছাত্রী শিশু সিনথিয়াকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে আটক দুইজনের মধ্যে মাজেদুল ইসলাম কাল্টুর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপকর্মের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে এলাকাবাসীর কাছ থেকে। মাজেদুল ইসলাম কাল্টু মাদকদ্রব্য সেবনসহ ফুলছড়ি বাজার এলাকায় বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ড চালিয়ে আসছিল।
 
এলাকাবাসী ও শিশু সিনথিয়ার পরিবারের ধারণা, কাল্টু অত্যন্ত সাহসী প্রকৃতির হওয়ায় তার সহযোগিতায় শিশুটিকে ধর্ষণ, হত্যা ও লাশ গুম করার চেষ্টা করা হয়। সিনথিয়া নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি এলাকাবাসী কিছুতেই মেনে নিতে পারছিল না। সন্দেহের সৃষ্টি হওয়ায় আহসান হাবিবের বাড়ির আশপাশের লোকজন সর্বদা সজাগ থাকায় শিশুটির লাশ সরিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা সফল হয়নি। উপায়ন্তুর না পেয়ে ঘাতকরা শিশু সিনথিয়ার লাশ সাইফুলের বাড়ির পাশে তারা কচুরিপানার নিচে ঢেকে রাখে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য ফারুকুল ইসলাম ফারুক বলেন, সিনথিয়াকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় আহসান হাবিবের মা সেতারা বেগম জড়িত থাকার কথা ভাবা হচ্ছে। কারণ তিনি সেদিন বাড়িতেই ছিলেন এবং বাড়ির একটি কক্ষ তিনি তালাবদ্ধ করে রাখেন। সিনথিয়ার পরিবারের লোকজন ও আমরা ওই কক্ষটি খুলে দিতে বললে সেতারা বেগম তা খুলে দিতে অস্বীকার করেন। এ সময় সেতারা বেগম লোকজনকে বিভিন্নভাবে গালিগালাজ করেন। এ কারণে ধারণা করা হচ্ছে ওই কক্ষেই ধর্ষণ ও হত্যার পর সিনথিয়ার লাশ গোপন করে রাখা হয়েছিল। ধর্ষণ ও হত্যাকান্ডে জড়িত আকরাম হোসেন, সেতারা বেগমসহ তার পরিবারের অন্য সদস্যদের গ্রেফতারের দাবি জানান তিনি।

এদিকে এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে গ্রেফতারকৃত মাজেদুল ইসলাম কাল্টু সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। মাজেদুল ইসলাম কাল্টু বছর দুয়েক আগে ফুলছড়ি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করার অপরাধে জেল খেটেছেন। এলাকাবাসীর তথ্য মতে, মাজেদুল ইসলাম কাল্টু স্বল্প সময়ের মধ্যে দুইটি বিয়ে করলেও তার নির্যাতন সইতে না পেরে একজন বউও সংসার করতে পারেনি।

ফুলছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু হায়দার মো. আশরাফুজ্জামান বলেন, গ্রেফতারকৃত দুই যুবককে পুলিশি হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। আদালত রিমান্ড আবেদনের শুনানি দিন ধার্য করেছে ১১ সেপ্টেম্বর। এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে সঠিক তথ্য পাওয়া যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, শিশু সিনথিয়াকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে নাকি অন্যভাবে তার মৃত্যু হয়েছে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে এ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

উল্লেখ্য, গত ৩১ আগস্ট সকালে বাউশি গ্রামের রাজমিস্ত্রি সেলিম মিয়ার মেয়ে প্রথম শ্রেণির ছাত্রী সিনথিয়া পরাটা কেনার জন্য বাড়ির পার্শ্ববর্তী হোটেলে যায় এবং নিখোঁজ হয়। নিখোঁজ হওয়ার পরদিন দুপুরে তার লাশ মামলার প্রধান আসামি আহসান হাবিবের বাড়ির পুকুরের কচুরিপানার নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনায় সিনথিয়ার বাবা সেলিম মিয়া হত্যার অভিযোগ এনে প্রতিবেশী তিন যুবককে আসামি করে ১ সেপ্টেম্বর ফুলছড়ি থানায় মামলা দায়ের করেন। ওইদিন রাতেই পুলিশ আসামি আহসান হাবিব সিজার ও মাজেদুল হক কাল্টুকে গ্রেফতার করে। পরদিন ২ সেপ্টেম্বর পুলিশ গ্রেফতারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়।

 

এই বিভাগের আরো খবর



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top