সকাল ৮:১৭, মঙ্গলবার, ২৮শে মার্চ, ২০১৭ ইং
/ সাহিত্য / কাঠ বিড়ালী ও বিড়াল
কাঠ বিড়ালী ও বিড়াল
ফেব্রুয়ারি ৩, ২০১৭

,কুদ্দুস ইশায়ী ,কাঠ বিড়ালী ও বিড়ালের শত্রুতা অনেক দিনের। কাঠবিড়ালী তার একটা নিজেস¦ এরিয়ার মধ্যে চলাফেরা করে। গাছে গাছে পেয়ারা, আম, বাতাবী নেবু খায়। মাটিতে নেমে এসে চলাফেরা করে। কোন মানুষ তাকে ধরার চেষ্টা করলে দৌড়ে গিয়ে গাছে চরে। কাঠবিড়ালী ধরা খুব কষ্টকর। তবু যে ধরা পরে না তা নয়, ধরা পরে। শিকারীরা পারে না এমন কাজ পৃথিবীতে নাই। কাঠবিড়ালী যে পোষ মানে না তাও না, পোষ মানে। শিকারীদের একটা ধারনা বনে পশু যত শক্তিশালী হোক তাকে পোষ মানানো যাবে।

 বনের পশুদের যদি শারিরীক কোন নির্যাতন না করে বন্দি রেখে তাদের খাবার দাবার ভরণ পোষন ঠিক মত করা যায় একদিন পোষ মানতে দ্বিধা করবে না। তখন যদি খাঁচা খোলাও থাকে সে তার মনিবকে ফাঁকি দিবে না। কিন্তু মানুষের ক্ষেত্রে এই ধারনা সম্পুর্ণ ভুল। মানুষকে কখনও পোষ মানানো যায় না। উপকার করলে ক্ষতি করার চেষ্টা করে। সুনাম করলে দুর্নাম করার চেষ্টা করে। কাছে টানলে আঘাত করার চেষ্টা করে। কাঠবিড়ালী এক মনিবের খাঁচায় অনেক দিন ধরে বন্ধি আছে। মনিব কাঠবিড়ালীকে খুব ভালবাসে। গাছের পাকা পেঁপে, পাঁকা কলা, পেয়ারা, বাতাবী নেবু সব এনে দেয়। সেগুলো কাঠবিড়ালী মজা করে খায়। এই মনিবের বাড়ি আরো আছে পোষা বিড়াল, পোষা কুকুর।

 পাখিদের মধ্যে আছে ময়না, টিয়া, কবুতর ও কোয়েল পাখি। আলাদা একটা ঘর আছে। সেই ঘরে এই শিকার করা বন্য পশুপাখি লালন পালন করে। বিড়ালের একটাই রাগ কুকুর তাকে দেখতে দৌড়িয়ে যায় কামড়াতে। বাড়ির মনিব তার কোন খোঁজ রাখে না। কাঠ বিড়ালীকে বাজার থেকে ভাল ভাল খাবার এনে দেয়। তাহলে কি তার এই বাড়িতে থাকা আদৌ ঠিক হচ্ছে। হচ্ছে না। মনিব এক চোখে লবন দেখে অন্য চোখে মিষ্টি দেখে। বিড়াল রেগে বাড়ি থেকে চলে যায়। সিদ্ধান্ত নেয় সে আর এ বাড়িতে কোনদিন আসবে না। যদি মনিব তার চরিত্র ঠিক করে এক নীতিতে সবাইকে দেখে সেদিন আসবে। বিড়াল মনের রাগে এক বিধবার বাড়িতে আসে। বিধবার দুই কুলে কোন আপনজন নাই। বিড়ালকে দেখে তার মায়া জাগে।

 কাছে ডেকে, গায়ে হাত বুলিয়ে বলতে লাগলো তুই আমার কাছে থাক। বেটাপুত্র যা ছিল সবাই ফাঁকি দিয়ে চলে গেছে। তুই আমাকে ফাঁকি দিসনা। আমি যা খাব তোকেও তা খাওয়াব। আমি যেখানে থাকবো তুই আমার পাশে থাকবি। বিড়াল ঘার নাড়িয়ে স¦াগত জানাল। বেশ সুখেই  কাটছিল দিনকাল। এদিকে মুনিবের ঘুম হারাম। কোথায় গেল তার পোষা বিড়াল? মুনিবের মেয়ে অর্পনা যে বিড়ালকে কাছে করে মাছ ভাত খাওয়ায় সে তার বাবাকে বিড়াল নিয়ে আসার জন্য খুঁজে বের করার জন্য বেশ কয়েকদিন হলো তাগাদা দিয়ে আসছে। মনিব তার পোষা বিড়ালকে তন্ন তন্ন করে খুঁজছে।

পেয়ে যায় বিধবার বাড়িতে। কিন্তু বিধবা সে তার পোষা বিড়ালকে ফেরত দিবে না। মনিব অনেক বুঝিয়ে তবে পোষা বিড়ালকে তার বাড়িতে নিয়ে আসে। কাঠবিড়ালী এতদিন কবজি ডুবিয়ে খেয়েছে। বিড়ালকে মনিবের সাথে দেখে রেগে গড়গড় করতে থাকল। বিড়াল এবার হাটঘাট বেঁেধই মাঠে নেমেছে। হয় কাঠবিড়ালী এ বাড়িতে থাকবে না হয় আমি থাকব। কাঠবিড়ালীও সিদ্ধান্ত নিয়েছে একবার যদি খাঁচা থেকে ছাড়া পাই এ গ্রাম থেকে একেবারে জঙ্গলে চলে যাব। কাঠবিড়ালী আর বিড়ালের এই ঝগড়া কেউ জানে না। দুজন দুজনাকে দেখলে তেলে বেগুনে জ্বলে উঠে।

মনিব যে তাদের আশ্রয়দাতা সেও জানে না তাদের ঝগড়ার কারণ। দিন গড়াতে লাগল। একদিন মনিব হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পরে। সেইদিন কোন পশুপাখিকে খাবার দিতে পারেনি। খাবার যা ছিল বিড়াল খেয়ে ফেলেছে। মনিব যেখানে শুয়ে ছিল বিড়াল মনিবের পাশে গিয়ে ঘুমিয়ে পরে। মনিব বুঝতে পারে বিড়াল তাকে খুব ভালবাসে। অসুস্থ অবস্থায় মনিব বিড়ালের গায়ে হাত বুলিয়ে দেয়। বিড়াল মনে মনে ভাবে আমি এত কাছে থাকার পরেও আমাকে চেন নাই। কি দরকার ছিল, আমার শত্রু কাঠবিড়ালীকে ঘরে রাখতে। এবার তারাও নইলে আর তুমি সুস্থ হতে পারবে না।

মনিবের একজন বিশ্বস্ত কর্মচারী ছিল, তাকে দিয়ে পশুপাখিগুলোকে যত্ম নিত। যত্মের কোন রকম অভাব ছিল না। কারণ মনিব অসুস্থ হলেও কর্মচারীকে সব সময় পশুপাখিকে খেয়াল রাখার কথা স¥রণ করিয়ে দিত। কাঠবিড়ালী ও বিড়াল কেন এত আক্রোশ তার একটা বাস্তব কথা বলি। বিড়াল সবে মাত্র ছানা প্রসব করেছে। কাঠবিড়ালী তার দুইটি বাচ্চাকে পায়ে পিষিয়ে মেরে ফেলে। বিড়াল সেটা  নিজে চোখে দেখেছে। প্রতিবাদ করার জন্য এগিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু কাঠবিড়ালীর দল ছিল একতা। কিছু করতে পারে নি। বিড়াল বুকে কষ্ট নিয়ে দিন গুনতে থাকে। কোন দিন যদি এমন সময় আসে সেই দিন তার প্রতিশোধ নিবে। মায়ের চোখের সামনে যদি কোন নেমক হারাম বাচ্চাকে মেরে ফেলে মা কেমন হতে পারে। সেই দিন থেকে কাঠবিড়ালী ও বিড়ালের ঝগড়া। কাঠ বিড়ালীও বলে আমি যতদিন বন্দি খাঁচায় আছি তুই আমাকে কিছুই করতে পারবি না। আর বিড়াল বলে খাঁচাতো আমি যে কোন মুহুর্তে ভাঙতে পারি। এটা আমার কাছে এমন কিছুই না। শুধু মনিবের খাই, পরি, পাহারা দেয়, তাই মনিবের ভয়ে কিছুই বলি না। আমার জন্য মনিব কষ্ট পাবে এই ভেবে কাঠবিড়ালীকে কিছু বলি না। নইলে কাঠবিড়ালীকে আস্ত খেয়ে ফেলতাম। প্রতিশোধ নিতাম বাচ্চাদের।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top