দুপুর ২:৪৯, মঙ্গলবার, ২৩শে মে, ২০১৭ ইং
/ চট্টগ্রাম / এসএসসি ফল বিপর্যয়ে কুমিল্লাজুড়ে হতাশা
এসএসসি ফল বিপর্যয়ে কুমিল্লাজুড়ে হতাশা
মে ৮, ২০১৭

কুমিল্লা প্রতিনিধি : কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডে এবার এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল বিপর্যয়ের ৪ দিনেও শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের হতাশা-ক্ষোভ কমেনি বরং ক্রমেই বাড়ছে। প্রায় ৭৬ হাজার শিক্ষার্থী পরীক্ষায় ফেল করেছে। ফলাফলে সাফল্যের হার অনুযায়ী দশ বোর্ডের মধ্যে কুমিল্ল¬ার অবস্থান দশম। রাজশাহী বোর্ডে যেখানে পাসের হার ৯০ দশমিক ৭০, সেখানে কুমিল্ল¬া বোর্ডে পাসের হার মাত্র ৫৯ দশমিক ০৩ শতাংশ। কেন এমন হলো তা নিয়ে চলছে নানা বিশ্লেষণ।

শিক্ষার্থী এবং শিক্ষক সকলেই ফলাফলে হতাশ। কুমিল্লার শিক্ষকদের দাবি, পদ্ধতিগত কারণেই ফল বিপর্যয় হয়েছে। বিশেষ করে অন্যান্য শিক্ষাবোর্ডের তুলনায় কুমিল¬া শিক্ষাবোর্ডের প্রশ্ন ছিল কঠিন। উত্তরপত্র মূল্যায়নেও ত্রুটি ছিল বলে অভিযোগ তাদের। ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে পরীক্ষকরা দুষছেন বোর্ড কর্তৃপক্ষকে। অন্যদিকে বোর্ড কর্তৃপক্ষেরও সোজা-সাপটা জবাব মন্ত্রণালয়ের কঠোর নির্দেশনা তারা বাস্তবায়ন করতে পরীক্ষকদের নির্দেশনা দিয়েছিলেন মাত্র। মাঠ পর্যায়ের পরীক্ষকদের অভিমত শুধুমাত্র বোর্ডের কঠোর নির্দেশনার কিছুটা অনুকম্পা দেখালেই পাসের হার অন্তত ৭৫ অতিক্রম সম্ভব হতো। কিন্তু সর্বনাশ যা-ই হওয়ার তা হয়ে গেছে। তাই বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিক কমিটি কুমিল¬øাসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণিপেশার লোকজন। মন্ত্রণালয়ের কথিত মডেল উত্তরপত্র পরীক্ষকদের কাছে সরবরাহ করে ভয় দেখিয়ে দফায় দফায় খাতার নম্বর কমানোর নির্দেশদাতা হিসেবে জড়িত বোর্ডের কর্মকর্তাদের অপসারণেরও দাবি উঠেছে। সারাদেশে গড় পাসের হার ৮০ শতাংশ অতিক্রম করলেও কুমিল্লা বোর্ডের গড় পাসের হার ৫৯.০৩ শতাংশ। বিগত ১০ বছরের তুলনায় এ বছর কুমিল্লা বোর্ডের ফলাফল তুলনামূলক বিপর্যয় ঘটেছে। এদিকে ফল পরিবর্তন ও ফেল করা শিক্ষার্থীদের শেষ ভরসা হিসেবে ফলাফল পুনঃনিরীক্ষার জন্য অনলাইনে আবেদনের হিড়িক পড়েছে বলে জানা গেছে।

জানা যায়, এ বছর বোর্ডের অধীনে কুমিল¬া, বি-বাড়িয়া, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী ও লক্ষ্মীপুর জেলা থেকে এক লাখ ৮২ হাজার ৯৭৯ জন পরীক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে পাস করেছে এক লাখ ৮ হাজার ১১ জন। প্রায় ৮০ হাজার পরীক্ষার্থীই পাসের মুখ দেখেনি। এর মধ্যে ৬০ সহস্রাধিক পরীক্ষার্থী ফেল করেছে গণিত ও ইংরেজিসহ আরও একাধিক বিষয়ে। বোর্ড কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের উপর দোষ চাপাতে ব্যস্ত থাকলেও এ নিয়ে মুখ খুলেছেন শিক্ষক, অভিভাবক ও বিভিন্ন শ্রেণিপেশার লোকজন।

কাক্সিক্ষত পয়েন্ট না পাওয়া ও ফেল করা একাধিক শিক্ষার্থীদের অভিমত ‘যে নিয়মে এ বোর্ডে খাতা মূল্যায়ন করা হয়েছে সেই নিয়মে অন্য বোর্ডের খাতা মূল্যায়ন করা হলে সেখানে পাসের হার ৪০ এর নীচে নেমে আসত।’ ফল বিপর্যয়ের কারণে দেশের অন্যান্য বোর্ডের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে উচ্চ মাধ্যমিকসহ পরবর্তীতে প্রতিযোগিতামূলক অন্যান্য ভর্তি পরীক্ষায় পিছিয়ে পড়বে বলে হতাশা ও উৎকণ্ঠায় রয়েছে কুমিল্লা বোর্ডের অধীন ৬ জেলার শিক্ষার্থীরা। বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে ফল বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধানে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়া হলে উচ্চ মাধ্যমিকেও ফল বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সচেতন অভিভাবকরা। কুমিল্ল¬ার শতবর্ষী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নবাব ফয়জুন্নেছা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রোকসানা ফেরদৌস মজুমদার বলেন, সৃজনশীলে কঠিন প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, সৃজনশীল বিষয়ে দক্ষ শিক্ষকের সংকট এবং শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল প্রশ্নপত্র বিষয়ে মেধা কম থাকায় ফলাফলে এমন বিপর্যয় ঘটেছে। কুমিল্ল¬া শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কায়সার আহমেদ বলেন, ফলাফল বিপর্যয়ের মূল কারণ পরীক্ষকরা দায়ী। এ জন্য আমরা ব্যবস্থাও নিয়েছি। কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল খালেক বলেন, স্কুলগুলো কেন এত খারাপ করল সে বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ শুরু করেছি। কারণ অনুসন্ধান করছি। তবে খারাপ করার প্রধান কারণ ইংরেজি ও গণিত। গ্রামের স্কুলগুলোতে ভালো মানের শিক্ষক নেই। সঠিক প্রক্রিয়ায় দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়নি। ফলে সমস্যা থেকেই যাচ্ছে।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top