সন্ধ্যা ৭:৫২, বুধবার, ২৬শে এপ্রিল, ২০১৭ ইং
/ দেশজুড়ে / এমপি লিটন হত্যা গ্রেফতারকৃত ২৭ জনের ২১জনই জামায়াত ও আল্লার দলের সদস্য
লিটনের স্ত্রী-পুত্রের পুলিশি নিরাপত্তা
এমপি লিটন হত্যা গ্রেফতারকৃত ২৭ জনের ২১জনই জামায়াত ও আল্লার দলের সদস্য
জানুয়ারি ৫, ২০১৭

গাইবান্ধা জেলা ও সুন্দরগঞ্জ প্রতিনিধি : সুন্দরগঞ্জের আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন হত্যা ঘটনায় জামায়াত-শিবিরের ক্যাডারদের একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র হিসেবে গুরুত্বারোপ করছে পুলিশ।  ঘটনার সাথে জড়িত থাকা সন্দেহে যে ২৭ জনকে আটক করা হয় তারা সকলেই জামায়াত-শিবির নয়তো আল্লার দলের কর্মী বা সমর্থক। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আটককৃতদের মধ্যে থেকে ২১ জনকে গ্রেফতার দেখিয়ে পুলিশ তাদের জেলহাজতে পাঠিয়েছে। পুলিশির তদন্তে  একাধিক বিষয় স্থান পেলেও হত্যার ঘটনা নিয়ে সুন্দরগঞ্জের মানুষের মনে এখনও নানা জল্পনা কল্পনা চলছে।

গ্রেফতার দেখানো জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা হলেনÑ মহসিন আলী, সিরাজুল ইসলাম, রাতুল ইসলাম, লাল মিয়া, আইয়ুব আলী, আলম মিয়া, সানু মিয়া, ভুট্টু মিয়া, আমজাদ হোসেন, রুবেল মিয়া, আজিজুর রহমান, গোলাম মোস্তফা, মাহাতাব হোসেন, হাফিজ উদ্দিন, মোজাম্মেল হক, নুরুন্নবী, গোলাম বারী, মমিন উদ্দিন, আব্দুল মালেক, মঈন উদ্দিন ও আব্দুল খালেক।

এদিকে বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সমেস উদ্দিন বাবু জানান, লিটনের খুনের সাথে জামায়াত-শিবির চক্র জড়িত। ২০১৫ সালের ২ অক্টোবর ভোরে শিশু শাহাদত হোসেন সৌরভের পায়ে গুলি করাকে কেন্দ্র করে জামায়াত-শিবিরের মদদে যেভাবে একটি মহল লিটনের ভাবমূর্তি বিনষ্টে ব্যাপকভাবে তৎপর হয়ে উঠেছিল। তেমনি একই কায়দায় আবারও লিটনের হত্যাকে কেন্দ্র করে তার পরিবারকে জড়ানোর সুপরিকল্পিত তৎপরতা শুরু হয়েছে। এই ষড়যন্ত্র লিটন বা তার পরিবারকে নিয়েই নয় বরং এটি সুন্দরগঞ্জ উপজেলাকে আবারও জামায়াত-শিবির ও জঙ্গিবাদের আখড়ায় পরিণত করবে।

খুনি শনাক্ত করতে ডিএনএ টেস্ট : লিটন হত্যার দিন তার বাড়ির সামনে গাব গাছের দক্ষিণ দিকে একটি কালো রংয়ের ক্যাপ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ওইদিন বাড়ির সামনে মাঠে সেসময় যেসব ছেলে ভলিবল খেলছিল তারাই ক্যাপটি কুড়িয়ে পেয়ে পুলিশকে দেয়। এই ক্যাপটির বর্তমানে ডিএনএ টেস্টের জন্য ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে। উল্লে¬খ্য, যে ২ জন খুনি লিটনকে হত্যা করার জন্য ঘরের ভেতর ঢোকে তাদের গায়ে ছিল কালো রংয়ের জ্যাকেট এবং পরনে ছিল কালো প্যান্ট আর মাথায় কালো রংয়ের ক্যাপ। ধারণা করা হচ্ছে গুলি চালিয়ে দ্রুত বেরিয়ে যাওয়ার সময় ঘাতকদের কারো মাথা থেকে ক্যাপটি পড়ে যায়। খুনিকে শনাক্ত করতে ডিএনএ টেস্টের গুরুত্ব দিচ্ছে তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তারা।  

লিটনের সন্তানকে নিরাপত্তা : লিটনের স্ত্রী খুরশিদ জাহান স্মৃতি এবং তার একমাত্র সন্তান রাতিন লিটনের বোনদের সাথে এখন ঢাকায় অবস্থান করছেন। রাতিন ঢাকার একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এ লেভেলের ৯ম শ্রেণীতে পড়াশোনা করছে। স্কুলে যাতায়াতের ক্ষেত্রে তার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন লিটনের স্ত্রী। তিনি গাইবান্ধার পুলিশ সুপারকে বিষয়টি অবহতি করলে ঢাকা থেকে পুলিশি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয় বলে জানা গেছে।

প্রতিবাদ সভা অব্যাহত : লিটন হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে উপজেলার সর্বত্রই প্রতিবাদ সভা, বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন অব্যাহত রয়েছে।  বৃহস্পতিবার উপজেলার ধুবনী কঞ্চিবাড়ি হাইস্কুল মাঠে ৮ ইউনিয়নের আ’লীগ ও অঙ্গ সংগঠন প্রতিবাদ সভা ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে। আ’লীগের ইউনিয়ন সভাপতি গোলাম রব্বানীর সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন রাজু  মিয়া, ফজলার রহমান, মোস্তাফিজুর রহমান, ডাক্তার শফিউল আলম, স্বপন কুমার, ওসমান গণি প্রমুখ।

এছাড়া  সোনারায় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের উদ্যোগে মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশে ইউনিয়ন সভাপতি রনজিৎ কুমার সরকারের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, পৌর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি মাসুদ উল ইসলাম চঞ্চল, পূজা উদ্যাপন কমিটির সভাপতি দীপক কুমার বাবলু প্রমুখ।

 



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top