রাত ৯:০৭, শুক্রবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং
/ জাতীয় / এমপি লিটন ও বিচারপতি বজলুর রহমানের মৃত্যুতে মন্ত্রিসভার শোক
সিডিএ আইনে বাড়ছে সাজা
এমপি লিটন ও বিচারপতি বজলুর রহমানের মৃত্যুতে মন্ত্রিসভার শোক
জানুয়ারি ২, ২০১৭

গাইবান্ধার সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন এবং আপিল বিভাগের বিচারপতি মোহাম্মদ বজলুর রহমান ছানার মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব গ্রহণ করেছে মন্ত্রিসভা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে  সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে দুটি শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হয় বলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বৈঠকের শুরুতেই মন্ত্রিসভা দুটি শোক প্রস্তাব গ্রহণ করে।

গত শনিবার গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে বাড়িতে ঢুকে লিটনকে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়। অন্যদিকে আপিল বিভাগের বিচারপতি মোহাম্মদ বজলুর রহমান ছানা গত রোববার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। ক্যান্সারে আক্রান্ত বিচারপতিকে দুই বছর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসার পর গত ৩০ ডিসে¤॥^র ঢাকায় আনা হয়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর শেষে ১৯৮৪ সালে জেলা আদালত এবং ১৯৮৭ সালে হাই কোর্ট বিভাগের আইনজীবী হিসেবে কাজ শুরু করেন বজলুর রহমান। ২০০১ সালের ৩ জুলাই হাই কোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পেয়ে ২০০৯ সালের ১০ মে হাই কোর্টের স্থায়ী বিচারপতি হন তিনি।


সিডিএ আইনে বাড়ছে সাজা
মন্ত্রিসভা জেল-জরিমানার পরিমাণ বাড়িয়ে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) আইনের খসড়া অনুমোদন দিয়েছে সরকার। আইনটি পাস হলে সিডিএ এলাকায় মহাপরিকল্পনা না মেনে জমি ব্যবহার করলে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা গুণতে হবে। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের বলেন, ১৯৫৯ সালে পাকিস্তান আমলের মার্শাল ল’ আইন দিয়ে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ চলছিল। উচ্চ আদালতের নির্দেশে মার্শাল ল’ আমলের আইনগুলোকে পরিমার্জন করে বাংলা করা হচ্ছে। রাজশাহী ও কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আধুনিক আইন অনুযায়ী গঠিত হয়েছে জানিয়ে শফিউল বলেন, ওই আইনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে সিডিএ আইন হালনাগাদ করা হয়েছে। নতুন আইনে জেল-জরিমানার পরিমাণ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, কর্তৃপক্ষ স্থাপিত দেয়াল, সীমানা খুঁটি বা বাতি অপসারণ করলে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানার প্রস্তাব করা হয়েছে, আগে যা ছিল ২০০ টাকা। কর্তৃপক্ষের সঙ্গে চুক্তির পরেও কোনো স্থাপনা বা স্থাপনার বিশেষ অংশ না সরালে ৫০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হবে। মাস্টার প্ল্যান না মেনে জমি ব্যবহার করলে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা যাবে। এই অপরাধে আগে একসঙ্গে সর্বোচ্চ ১ হাজার টাকা জরিমানা করে প্রতিদিনের জন্য ৫০ টাকা হারে আদায় করা হতো। সিডিএর চেয়ারম্যান বা সদস্যরা পদে থেকে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য করলে সর্বোচ্চ দুই বছর জেল, ১০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দ- দেওয়া হবে। আগের আইনে জেল-জরিমানা আরোপের বিষয়টি জটিল ছিল জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, প্রস্তাবিত আইনে সেগুলো সরলীকরণ করা হয়েছে। সামরিক শাসনামলে ১৯৭৭ সালে প্রণীত অর্ডিন্যান্সকে বদলে বাংলায় হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট আইন করে এই ইনস্টিটিউটের সর্বোচ্চ পদে মহাপরিচালক নিয়োগ দেবে সরকার। মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, প্রতিষ্ঠান প্রধানের পদবি পরিচালক থেকে পরিবর্তন করে মহাপরিচালক করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া পরিচালনা পর্যদের গঠনও পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। ২০ সদস্যের পরিচালনা পর্ষদে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী হবেন চেয়ারম্যন এবং সচিব হবেন ভাইস চেয়ারম্যান। পরিচালনা পর্ষদের মনোনীত সদস্যরা দুই বছরের জন্য নিয়োগ পাবেন বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব। এছাড়া সোমবারের মন্ত্রিসভা বৈঠকে বাংলাদেশ ভেটিরিনারি কাউন্সিল আইনের খসড়াও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, ১৯৮২ সালের একটি অডিন্যান্স অনুসারে ভেটেরিনারি কাউন্সিল চলছিল। এটিকে বাংলায় রূপান্তর করে নতুন আইন করা হচ্ছে। ভেটেরিনারি কাউন্সিল এখন পর্যন্ত পাঁচ হাজার ১৫০ জন ভেটিরিনারি সার্জনকে নিবন্ধন দিয়েছে বলেও জানান শফিউল আলম।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top