দুপুর ২:৩৮, বুধবার, ২৬শে জুলাই, ২০১৭ ইং
/ দেশজুড়ে / উত্তরাঞ্চলে চালের বাজার লাগামহীন
* দিশেহারা মধ্য ও নিম্নআয়ের মানুষ * ব্যবসায়ীরা দুষছেন একে অপরকে
উত্তরাঞ্চলে চালের বাজার লাগামহীন
এপ্রিল ১৮, ২০১৭

করতোয়া রিপোর্ট: উত্তরাঞ্চলের বাজারে মাত্র দশদিনের ব্যবধানে কেজি প্রতি চালের দাম বেড়েছে ৫ থেকে ৮ টাকা। হঠাৎ করে এই খাদ্য পণ্য চালের দাম বাড়ায় দিশেহারা মধ্য ও নিম্নআয়ের মানুষ। কোন কোন জেলায় ধানের অভাবে বন্ধ হয়ে গেছে বেশিরভাগ চাতাল। ক্ষুদ্র চাল ব্যবসায়ী ও চাতাল মালিকরা দুষছেন ধান সংকট ও অটোমিল মালিক সিন্ডিকেটকে। আর ধান-চাল ব্যবসায়ী নেতারা মনে করছেন, ভারত থেকে আমদানি করা চালের ওপর ভ্যাট কমালে স্থিতিশীল হতে পারে চালের বাজার। পাশাপাশি সরকারিভাবে নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা হয় না। তবে যাই হোক, এমুহুর্তে চালের বাজার মূল্য না কমলে গরিব ও সাধারণ মানুষের কষ্টের সীমা থাকবে না।

প্রতিনিধিদের রিপোর্ট –
পাবনা : উত্তরাঞ্চলের সবচেয়ে বড় ধান চালের মোকাম হিসেবে পরিচিত পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার ধানের চাতালগুলোতে এখন শুনসান নিরবতা। অথচ এখানে শ্রমজীবী মানুষদের পদচারণায় মুখর থাকার কথা। এই উপজেলার ৬শ’র বেশি ধানের চাতালের মধ্যে চালু রয়েছে মাত্র দেড়শ’টি চাতাল। বাকি প্রায় সাড়ে ৪শ’ চাতাল এখন বন্ধ। ধানের সরবরাহ না থাকায় দেখা দিয়েছে চালের সংকট। তাই পাবনার পাইকারী ও খুচরা বাজারে হু হু করে করে বাড়ছে চালের দাম। গত দশদিনের ব্যবধানে মোটা ও চিকনসহ সব ধরনের চালের দাম বেড়েছে কেজি প্রতি ৫ থেকে ৬ টাকা। যা গত দশ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

ঈশ্বরদী উপজেলা ধান চাল ব্যবসায়ী সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক সাদেক আলী বিশ্বাস বলেন, বিগত কয়েক বছরের মধ্যে এবারই প্রথম ধানের সংকট দেখা দিয়েছে। কৃষকের ঘরে ধান নেই। অসাধু অটো মিল মালিকের সিন্ডিকেট ঘরে ধান মজুত করে রেখেছে। তাদের কাছ থেকে বেশি দামে ধান কিনে চাতাল মালিকরা চাল তৈরি করে বেশি দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। তিনি বলেন, ঈশ্বরদী জয়নগর আই কে রোডে প্রায় ৬শ’ চাতালের মধ্যে সাড়ে ৪শ’ চাতাল বন্ধ। খুড়িয়ে চলছে মাত্র দেড় শতাধিক চাতাল।
ঈশ্বরদী উপজেলা চাল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব খায়রুল ইসলাম বলেন, গত ১০ বছরের মধ্যে চালের দাম এত বাড়তে দেখিনি। ঈশ্বরদীতে কোনো মিল মালিকদের কাছে চাল নেই। মনে হচ্ছে হঠাৎ করে উধাও হয়ে গেছে। এটার কারন সরকার ভারত থেকে চাল আমদানীতে ভ্যাট বেশি ধরায় আমদানি খুব কম হয়েছে। আর আমাদের দেশের চাল বেশি বিক্রি হয়ে গেছে। এ কারণে চালের দাম বেড়েছে। চালের দাম কমাতে সরকারকেই উদ্যোগী হতে হবে বলে মনে করেন তিনি। সরকার ভারত থেকে চল আমদানিতে ২৮ শতাংশ ভ্যাট থেকে ৮ শতাংশ ভ্যাট কমিয়ে দিলে একদিনেই চালের দাম অনেক কমে আসবে বলে মনে করেন ব্যবসায়ী নেতারা।

নীলফামারী: অস্থির হয়ে পড়েছে নীলফামারীর চালের বাজার। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজি প্রতি ২ থেকে ৫ টাকা বেড়েছে চালের দাম। শহরের বিভিন্ন চালের আড়ত ঘুরে দেখা গেছে, গুটি স্বর্ণা চাল গত সপ্তাহে ৩২ থেকে ৩৩ টাকা কেজি বিক্রি হলেও মঙ্গলবার সে চাল বিক্রি হয়েছে ৩৫ টাকা কেজি দরে। এছাড়াও ২৮ চাল ৪০ থেকে ৪২ টাকা দরে বিক্রি হলেও এখন সে চাল ৪৫ থেকে ৪৬ টাকা, গত সপ্তাহে ২৯ চাল ৩৬ টাকা কেজি বিক্রি হলেও বর্তমানে ৩৮ টাকা, ৪২/৪৩ টাকার মিনিকেট এখন ৪৫ টাকা, ৩৪/৩৫ টাকার পাইজাম বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৩৮ থেকে ৪০ টাকা দরে।

ঠাকুরগাঁও : জেলার বাজারগুলোতে নতুন মৌসুমের চাল ও পুরোনো চালের সরবরাহ ভালো থাকলেও পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে ঠাকুরগাঁওয়ে সকল বাজারে সব ধরনের চালের দাম বেড়েই চলেছে। মঙ্গলবার ঠাকুরগাঁওয়ের কালিবাড়ী, ঠাকুরগাঁও রোড, শিবগঞ্জ, মাদারগঞ্জ, খোচাবাড়ি, রামনাথসহ বিভিন্ন হাটবাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি চালের দাম ৭/৮টাকা বেড়েছে।

রংপুর: রংপুরের চালের বাজারে মূল্য বৃদ্ধির পর আর না কমায় বিপাকে পড়েছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্যরা।
নগরীর সিটি বাজার, কামালকাছনা বাজার, সিগারেট কোম্পানী বাজার ও মাহিগঞ্জ বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে মোটা চালের মধ্যে গুটি স্বর্ণা, মামুন স্বর্ণা ও ঝুমুর মালা চালের বস্তা (৫০ কেজি) গত সপ্তাহে ১৭৫০ থেকে ১৮শ’ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে ১৯শ’ থেকে ১৯৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অপরদিকে চিকন চালের মধ্যে বস্তা প্রতি (৫০ কেজি) স্বর্ণা ৫ গত সপ্তাহে ১৮৫০ থেকে ১৯শ’ টাকা বিক্রি হলেও বর্তমানে ২ হাজার, রণজিত গত সপ্তাহে ১৯৫০ থেকে ১৯৭৫ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে ২১শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

নওগাঁ : নওগাঁয় গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে মোটা চালের দাম কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে চিকন চালের দাম যা ছিল তাই রয়েছে। খুচরা বাজারের চাল ব্যবসায়ীরা বলছেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই বোরো ধানের নতুন চাল বাজারে আসবে। তখন কমে যাবে সবরকম চালের দাম।  মঙ্গলবার নওগাঁর খুচরা চাল বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মোটা (স্বর্ণা-৫) চালের দাম ৩৮ টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা কেজি দরে। মোটা হাইব্রিড চাল প্রতি কেজি ২৫ টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে বিক্রি হচ্ছে ৩৩ টাকা কেজি দরে। অপর দিকে চিকন চালের মধ্যে জিরা ৪৫/৪৬ টাকা, পায়জাম ৪৮/৫০ টাকা এবং রনজিত চাল বিক্রি হচ্ছে ৪০/৪২ টাকা কেজি দরে।

দিনাজপুর : অস্থির হয়ে উঠছে চালের বাজার। তবে নি¤œশ্রেণীর মানুষের একমাত্র মোটা চাল (হাইব্রিড) এখনও ক্রয় ক্ষমতা নিয়ন্ত্রনে রয়েছে। দিনাজপুর শহরের বিভিন্ন চাল আড়ৎ ও খোলা বাজার পরিদর্শন করে দেখা গেছে, বিআর-২৮ গত সপ্তাহে ২২৫০ (৫০ কেজি বস্তা) বিক্রি হয়েছে। বর্তমানে ২৩০০ টাকা বস্তা বিক্রি হচ্ছে। আর খোলা বাজারে প্রতি কেজি ৪৮ টাকা বিক্রি হচ্ছে। মিনিকেট গত সপ্তাহে ২৩০০ টাকা (৫০ কেজি বস্তা) বিক্রি হয়েছে। বর্তমানে ২৫০০ টাকা বস্তা বিক্রি হচ্ছে। খোলা বাজারে ৫০ থেকে ৫২ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। তবে গুটি স্বর্ণ গত সপ্তাহে ১৮৪০ টাকা (৫০ কেজি বস্তা) বিক্রি হলেও বর্তমানে ১৮৬০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। খোলা বাজারে ৩৯ টাকা কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে। বস্তায় ২০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।
.
পঞ্চগড় : দেশের বিভিন্ন স্থানে বোরো ধান কাটা শুরু হলেও পঞ্চগড়ে বেড়েই চলেছে চালের বাজার। গত কয়েক দিনের ব্যবধানে আবারও প্রতি কেজি চালের দাম বেড়েছে দুই থেকে তিন টাকা পর্যন্ত।  মঙ্গলবার বিকেলে পঞ্চগড় জেলা শহরের পাইকারি চালের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি বস্তা চালের দাম বেড়েছে একশ’ থেকে দেড়শ’ টাকা পর্যন্ত।
সিরাজগঞ্জ : সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন হাটবাজারে চাল ও আটার দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। গত এক সপ্তাহের মধ্যে দুইদফা চালের দাম বাড়ায় সকল শ্রেণির মানুষের মধ্যে অস্বস্থি বিরাজ করছে।   সিরাগঞ্জ জেলা শহরের বড়বাজার, কালিবাড়ী বাজারসহ কয়েকটি চালের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সব ধরনের চাল ও আটার দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।

 

 

 



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top