সন্ধ্যা ৭:৫১, বুধবার, ২৬শে এপ্রিল, ২০১৭ ইং
/ রাজনীতি / ইসি গঠনে রাষ্ট্রপতির সংলাপ শুরু আজ
ইসি গঠনে রাষ্ট্রপতির সংলাপ শুরু আজ
ডিসেম্বর ২০, ২০১৬

রাজকুমার নন্দী : অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে নতুন নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপে বসছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। তাদের মতামত শুনে সার্চ কমিটি গঠন করে নতুন ইসি নিয়োগ দেবেন তিনি। আজ রোববার দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করে সংসদের বাইরে থাকা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সঙ্গে সংলাপের মধ্য দিয়ে এ প্রক্রিয়া শুরু করবেন রাষ্ট্রপতি। বিকেল সাড়ে চারটায় বঙ্গভবনে এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে। সংলাপে খালেদা জিয়া বিএনপির প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন। বিএনপির পর ২০ ডিসেম্বর সংসদে প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি, ২১ ডিসেম্বর লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ও কৃষক-শ্রমিক-জনতা লীগ এবং ২২ ডিসেম্বর জাসদের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন রাষ্ট্রপতি।
বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন ও শক্তিশালীকরণে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ১৩ দফা প্রস্তাবনার আলোকেই রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপে বসবে দলটি। সংলাপে প্রস্তাবাবলির একটি সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হতে পারে। এছাড়া ইসি গঠনে সম্ভাব্য সার্চ কমিটির জন্য বিএনপির পক্ষ থেকে দল নিরপেক্ষ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নামের তালিকাও প্রস্তাব করা হতে পারে। আর রাষ্ট্রপতি চাইলে সম্ভাব্য প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও কমিশনার পদে একাধিক ব্যক্তির নামও প্রস্তাব করতে পারে দলটি। পাশাপাশি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে ‘নির্বাচনকালীন একটা সহায়ক সরকার’ গঠনের প্রস্তাবও তুলে ধরা হতে পারে। সেজন্য রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপে খালেদা জিয়া সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েই বঙ্গভবনে যাচ্ছেন। এর অংশ হিসেবে সার্চ কমিটি, প্রধান নির্বাচন কমিশন ও কমিশনারদের বিষয়ে সম্ভাব্য বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ব্যক্তির নাম সঙ্গে নিয়ে যাবেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে বিএনপির একজন ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, সংলাপে বিএনপি মূলত বেগম খালেদা জিয়ার ১৩ দফা প্রস্তাবের ওপরই গুরুত্ব দেবে। তারপরও রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আলোচনাকালে তিনি যদি সার্চ কমিটি গঠনে কোনো নাম চান, বিএনপি তাতে সাড়া দেবে এবং তাৎক্ষণিকভাবে প্রস্তাবিত নাম রাষ্ট্রপতির হাতে তুলে দেবেন। এছাড়া প্রধান নির্বাচন কমিশনার বা কমিশনার পদে কোনো নাম চাইলে বিএনপি তাতেও সাড়া দিবে বলে জানান তিনি।
বিএনপির নেতারা মনে করছেন, নির্বাচনকালীন নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা যেহেতু এখন নেই, সেহেতু স্বাধীন নির্বাচন কমিশন ও অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচনই সে শূন্যতা পূরণ করতে পারে। সেজন্য তারা নিরপেক্ষ, স্বাধীন ও সাহসী নির্বাচন কমিশন চায়, যারা সরকারি প্রভাবমুক্ত হয়ে মেরুদন্ড সোজা করে নির্বাচন পরিচালনা করতে পারবে। আর স্বাধীন কমিশন গঠনে প্রথম ধাপ হচ্ছে দলীয় প্রভাবমুক্ত নিরপেক্ষ সার্চ কমিটি গঠন। এ কারণে বিতর্কমুক্ত এবং দলীয় রাজনীতির সংশ্লেষ নেই এমন বিশিষ্ট ব্যক্তিদের দিয়ে সার্চ কমিটি গঠন করার পক্ষে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব। জানা গেছে, নতুন ইসি গঠনের লক্ষ্যে বিএনপি সংলাপে দল নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের দিয়ে সার্চ কমিটি গঠন করতে রাষ্ট্রপতির কাছে পাঁচ-সাতজন বিশিষ্ট নাগরিকের নাম প্রস্তাব করতে পারে। সম্ভাব্য ওই সার্চ কমিটিতে একাধিক সাবেক প্রধান বিচারপতি, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার নাম প্রস্তাব করা হবে। এছাড়া সার্চ কমিটিতে নারী প্রতিনিধিত্ব রাখতে এক বা একাধিক বিশিষ্ট নারী ব্যক্তিত্বের নামও প্রস্তাব করা হতে পারে। এ প্রস্তাব থেকে সম্ভাব্য সার্চ কমিটিতে ন্যূনতম দুইজনকে রাখার অনুরোধ জানাবে বিএনপি। সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক করে সম্ভাব্য এসব ব্যক্তির নামের তালিকা চূড়ান্ত করেন খালেদা জিয়া।
কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ নেতৃত্বাধীন বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ শেষ হবে আগামী ফেব্রুয়ারিতে। সংবিধান অনুযায়ী নতুন ইসি গঠনের এখতিয়ার রাষ্ট্রপতির। সেজন্য তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত শুনে সার্চ কমিটি গঠন করে নতুন ইসি নিয়োগ দেবেন। এর অংশ হিসেবে গত ১২ ডিসেম্বর বঙ্গভবন থেকে চিঠি পাঠিয়ে সংলাপের জন্য বিএনপির কাছে ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নাম চাওয়া হয়। সে অনুযায়ী ১৫ ডিসেম্বর চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নামের তালিকা বঙ্গভবনে পৌঁছে দেয় বিএনপি। ওই তালিকায় আরো রয়েছেন-মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, জমিরউদ্দিন সরকার, মাহবুবুর রহমান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তবে ওই প্রতিনিধি দলে স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম, মির্জা আব্বাস ও রফিকুল ইসলাম মিয়ার নাম যোগ করার অনুরোধ জানিয়ে বঙ্গভবনে চিঠি পাঠিয়েছে বিএনপি।
বিএনপি চেয়ারপারসন গত ১৮ নভেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন ইসি ও সার্চ কমিটি গঠন নিয়ে তার দলের ১৩ দফা প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। যার মূল কথা ছিল- ‘সব নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল অথবা স্বাধীনতার পর প্রথম জাতীয় সংসদ থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময়ে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেছে এমন সকল রাজনৈতিক দলের’ মতৈক্যের ভিত্তিতে নতুন ইসি গঠন করতে হবে। ইসি গঠন ও শক্তিশালীকরণে খালেদা জিয়ার এ প্রস্তাবনা গত ৬ ডিসেম্বর বঙ্গভবনে পৌঁছে দেয় বিএনপি। সংলাপে এ প্রস্তাবনার একটি সারসংক্ষেপ রাষ্ট্রপতির কাছে তুলে ধরবে দলটি।
খালেদা জিয়ার ১৩ দফা প্রস্তাবনার আলোকেই বিএনপি রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপে বসবে জানিয়ে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই সংলাপের মাধ্যমে নিরপেক্ষ ও যোগ্য নির্বাচন কমিশন গঠন হবে। সংলাপে নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের প্রস্তাব তুলে ধরা হবে কি-না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে আমাদের প্রস্তাবাবলি দেওয়া আছে। ওই প্রস্তাবের মধ্যে নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের কথাও বলা আছে। সহায়ক সরকারের নামের প্রস্তাব করা হবে কি-না জানতে চাইলে বিএনপির মহাসচিব বলেন, আগে মহামান্য রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আমাদের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরব। রাষ্ট্রপতি নাম চাইলে তখন তা দেখা যাবে।
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার বলেন, রাষ্ট্রের অভিভাবক রাষ্ট্রপতি। জাতি তার কাছে বিরাজমান সংকট সমাধানে একটি নিরপেক্ষ ভূমিকা আশা করে। আমরা মনে করি, এবারের সংলাপে সবার প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটবে।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top