রাত ১১:৪৯, রবিবার, ২৩শে এপ্রিল, ২০১৭ ইং
/ জাতীয় / ইসি গঠনে আইন করতে রাজি আওয়ামী লীগ
রাষ্ট্রপতিকে ৪ প্রস্তাব ও ১১ সুপারিশ, সংলাপ ফলপ্রসূ: কাদের
ইসি গঠনে আইন করতে রাজি আওয়ামী লীগ
জানুয়ারি ১১, ২০১৭

নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনে রাষ্ট্রপতিকে সিদ্ধান্ত গ্রহণে একক এখতিয়ার দিয়েছে আওয়ামী লীগ। সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ইসি গঠন করার প্রস্তাব দিয়েছে দলটি। সংবিধানের বিধান অনুযায়ী ‘এখনই’ নির্বাচন কমিশন গঠনে আইন প্রণয়ন করতে সম্মতির কথা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপে জানিয়েছেন তারা।

বুধবার রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে সংলাপ শেষে সন্ধ্যায় দলটির সভাপতির ধানমন্ডিস্থ রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি জানান, নির্বাচন কমিশন গঠনে রাষ্ট্রপতিকে চারটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা এবং অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য আরও ১১টি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে। দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের ১৯ সদস্যের প্রতিনিধি দল বুধবার বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে এই আলোচনায় অংশ নেয়।

চার প্রস্তাবাবলী হচ্ছে- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১৮-এর বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা ও অন্য কমিশনারদের নিয়োগ দেবেন, প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা ও অন্য কমিশনারদের নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি যা উপয্ক্তু বিবেচনা করবেন, সে প্রক্রিয়ায় তিনি নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ দেবেন, প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা ও অন্য কমিশনারদের নিয়োগের লক্ষ্যে সম্ভব হলে এখনই একটি উপযুক্ত আইন প্রণয়ন অথবা অধ্যাদেশ জারি করা যেতে পারে। সময় স্বল্পতার কারণে ইসি পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে তা সম্ভব না হলে পরবর্তী নির্বাচন কমিশন গঠনের সময় যেন এর বাস্তবায়ন সম্ভব হয়, সংবিধানের নির্দেশনার আলোকে এখন থেকেই সেই উদ্যোগ গ্রহণ করা এবং অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য বিরাজমান সব বিধিবিধানের সঙ্গে জনগণের ভোটাধিকার অধিকতর সুনিশ্চিত করার স্বার্থে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ই-ভোটিং চালু করা।

১১ সুপারিশ : সুনির্দিষ্ট এসব প্রস্তাবের বাইরেও একটি অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য আরও ১১টি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ রাষ্ট্রপতির কাছে তুলে ধরেছে আওয়ামী লীগ। এগুলো হচ্ছে: একটি স্বাধীন ও কার্যকর নির্বাচন কমিশন, নির্বাচনকালীন সময়ে নির্বাহী বিভাগের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/সংস্থার দায়িত্বশীলতা, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় ও এর মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা/কর্মচারীদের দায়িত্বশীলতা ও নিরপেক্ষ আচরণ, ছবিযুক্ত একটি নির্ভুল ভোটার তালিকা এবং ভোটগ্রহণের দিন নির্বাচন কেন্দ্রের সার্বিক নিরাপত্তা, নির্বাচন পরিচালনায় বেসরকারি সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা/কর্মচারীদের পরিবর্তে কেবলমাত্র প্রজাতন্ত্রের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা/কর্মচারীদের প্রিজাইডিং অফিসার থেকে পোলিং অফিসার পদে নিয়োগ করা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত সদস্যদের নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল আচরণ, দেশি/বিদেশি পর্যবেক্ষক থেকে শুরু করে মিডিয়া ও সিভিল সোসাইটির সদস্যদের নির্মোহ তৎপরতা, নির্বাচনে পেশিশক্তি ও অর্থের প্রয়োগ বন্ধ এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়সহ সকল পর্যায়ের ভোটারের অবাধ ভোটদানের সুযোগ নিশ্চিত করা, নির্বাচনের পূর্বে ও পরে এবং নির্বাচনের দিন ভোটারসহ সর্ব সাধারণের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নির্বাচনকালীন সময়ে প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীসহ নির্বাচন পরিচালনার জন্য আবশ্যকীয় সকল সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানকে নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে ন্যস্ত করা এবং নির্বাচনকালীন সরকারের কর্মপরিধি কেবলমাত্র আবশ্যকীয় দৈনন্দিন (রুটিন) কার্যাবলীর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা। এসময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন ইস্যুতে বিএনপিসহ সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ঐকমত্য হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

এদিকে বঙ্গভবনের দরবার হলে দেড় ঘণ্টার এই সংলাপের পর রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন সাংবাদিকদের কাছে আলোচনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। আওয়ামী লীগের প্রস্তাবগুলো রাষ্ট্রপতির কাছে তুলে ধরেন দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা। প্রস্তাবে বলা হয়, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের লক্ষ্যে সম্ভব হলে এখনই একটি উপযুক্ত আইন প্রণয়ন অথবা অধ্যাদেশ জারি করা যেতে পারে। প্রধানমন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে প্রেস সচিব বলেন, ভবিষ্যতে নির্বাচন নিয়ে কোনো বিতর্ক হোক এটা সরকার বা আওয়ামী লীগ চায় না। তিনি বলেন, ‘সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি যা উপযুক্ত মনে করবেন, সে প্রক্রিয়ায় তিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ দেবেন। নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনে রাষ্ট্রপতির গৃহীত যে কোনো ন্যায়সঙ্গত উদ্যোগের প্রতি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পূর্ণ সমর্থন থাকবে’। নির্বাচনকে স্বচ্ছ করতে আওয়ামী লীগ ই-ভোটিং চালুর প্রস্তাব করেছে বলেও রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব জানান। আওয়ামী লীগের প্রস্তাবে বলা হয়, সুষ্ঠু অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য বর্তমানে বিরাজমান সকল বিধিবিধানের সাথে জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার স্বার্থে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘ই-ভোটিং’ এর প্রবর্তন করা হোক। জয়নাল আবেদীন বলেন, আলোচনায় অংশ নেওয়ার জন্য রাষ্ট্রপতি আওয়ামী লীগ প্রতিনিধি দলকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশন গুরুত্বপূর্ণ। অবাধ নির্বাচনে সুষ্ঠু আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ। সকল রাজনৈতিক দলের সহযোগিতায় একটি শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠন সম্ভব হবে বলেও রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন।

আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, আবুল মাল আবদুল মুহিত, এইচ টি ইমাম, ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, মোহাম্মদ জমির, সভাপতিমন্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম, মতিয়া চৌধুরী, সাহারা খাতুন ও সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দীপু মনি, জাহাঙ্গীর কবীর নানক, দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, আইন বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল মতিন খসরু, প্রচার সম্পাদক হাছান মাহমুদ ও আইনমন্ত্রী আনিসুল হকও ছিলেন প্রতিনিধি দলে। এদিকে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সঙ্গে নতুন নির্বাচন কমিশন নিয়ে প্রায় দেড় ঘন্টা সংলাপ শেষে বঙ্গভবন ত্যাগকালে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বের হওয়ার সময় জানিয়েছেন, বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছে।

 



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top