সকাল ৮:২৬, সোমবার, ১লা মে, ২০১৭ ইং
/ অর্থ-বাণিজ্য / আমদানি-রপ্তানিতে পূর্বমুখী হতে বললেন আতিউর
আমদানি-রপ্তানিতে পূর্বমুখী হতে বললেন আতিউর
ফেব্রুয়ারি ৯, ২০১৭

করতোয়া ডেস্ক : টেকসই উন্নয়নের জন্য  আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে ইউরোপ ও আমেরিকার ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে প্রতিবেশীসহ এশীয় দেশগুলোর দিকে ফেরার পরামর্শ দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আতিউর রহমান।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, সবকিছুতে আমরা পশ্চিমের উপর নির্ভরশীল হয়ে বসে আছি। শিল্পের ৯০ শতাংশই আমরা এক্সপোর্ট করি ইউরোপ কিংবা আমেরিকায়। আমেরিকাতে যিনি ক্ষমতায় এসেছেন, তিনি যে কী কা- করেন সেটা বলা মুশকিল। আমার মনে হয়, আমাদের এই রং হর্স থেকে নেমে পড়তে হবে। এজন্যি আমাদের আশপাশের যে দেশগুলো আছে, এশিয়ার যে দেশগুলো আছে, আমরা রপ্তানি ও আমদানি খাত সেদিকে প্রবাহিত করব। এই ইকোনমিক করিডোরে যদি আমরা যুক্ত হতে পারি, তাহলে টেকসই উন্নয়নের দিকে যেতে পারব। ফারইস্ট ইন্টারন্য্শানাল ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞান এবং প্রকৌশল অনুষদের নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ অনুষ্ঠানে অতিথির বক্তব্যে  বাংলাদেশের অগ্রগতির নানা প্রসঙ্গে কথা বলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যাকলয়ের উন্নয়ন বিভাগের অধ্যাপক আতিউর।

তিনি বলেন, যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, গৌরব করবার মতো দেশ হবে বাংলাদেশ। ২০৫০ সালের মধ্য দ্রুত অগ্রসরমান তিনটি দেশের মধ্যে একটি আমরা। আমাদের সঙ্গে রয়েছে ভারত ও ভিয়েতমান। এর মানে হচ্ছে উন্নয়ন হবে এবং প্রবৃদ্ধিও কমপক্ষে ৫ শতাংশ থাকবে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যাালয়ের শিক্ষামানের ‘হতাশাজনক’ পরিস্থিতি আস্তে আস্তে পরিবর্তন হচ্ছে বলে মন্তব্যে করেন অধ্যাপক আতিউর। আমাদের গুণগত মানের শিক্ষকের ‘খুব অভাব’ রয়েছে মন্তব্য করে উন্নয়ন অধ্যয়নের এই শিক্ষক বলেন, যে হারে কোয়ালিটি শিক্ষকের প্রয়োজন সে অনুসারে আমরা তৈরি করতে পারিনি। বড় কারণ আমাদের ছেলেমেয়েরা অনেকে বিদেশে চলে যাচ্ছে এবং যারা থাকেন দেশে তারাও প্রশাসনিক অন্যন্য কাজে চলে যাচ্ছেন, শিক্ষকতায় সেভাবে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এতোগুলো প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যাসলয়ের জন্য এতোগুলো শিক্ষক যোগাড় করা চাইলেও কিন্তু সম্ভব না। গুণগত শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি এবং শিক্ষকদের উচ্চশিক্ষার জন্যশ যে বিনিয়োগ দরকার সেটাও প্রয়োজন অনুসারে নেই বলে মন্তব্যং করেন এই অর্থনীতিবিদ। তিনি বলেন, জিডিপির ৩ শতাংশের মতো আমরা শিক্ষাখাতে ব্য্য় করি, পৃথিবীর উন্নত দেশ বা উন্নয়নশীল দেশ তারা কিন্তু শিক্ষাখাতে জিডিপির ৬ শতাংশের মতো ব্যবয় করে। আমরা ধীরে ধীরে ব্যিয় বাড়াচ্ছি, কিন্তু এখনো অনেক দূরে পড়ে আছি। চাহিদা মেটাতে চিকিৎসা ও শিক্ষাখাতে বেসরকারি পর্যায়ের প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে উঠেছে মন্তব্যর করে আতিউর রহমান বলেন, সেজন্য একদিকে লাভ হচ্ছে, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্য্লায় কিংবা প্রাইভেট মেডিকেলে যারা আসছেন তারা অর্থনৈতিকভাবে খানিকটা উঁচু; এবং তারা এখানে আসছেন বলে একেবারে যারা নীচে, যাদের আসলে কোনো সক্ষমতা নেই, তারা সরকারিগুলোতে ঢুকতে পারছে। আপনারা স্পেসটা ক্রিয়েট করেছেন, ওই স্পেসটা তারা পাচ্ছে। এটা ব্যেক্তিখাতের সামাজিক দায়িত্বের কারণে হচ্ছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যাটলয়গুলোকে ব্যছবসায়িক চিন্তা বাদ দিয়ে শিক্ষাকে ‘সেবা’ হিসেবে নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার গুণগত মান যেন আমরা সবসময় বজায় রাখি, শিক্ষা কখনোই যেন পণ্যেট পরিণত না হয়। সেবার মধ্িেয নিবদ্ধ থাকি। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে আতিউর রহমান বলেন, মাটিতে দাঁড়িয়ে আকাশ থেকে বায়ু নেব। দরজা-জানালা বন্ধ করে আমরা বিশ্বায়নের চ্যা লেঞ্জ মোকাবেলা করতে পারব না। বিশ্বমানের শিক্ষাব্যকবস্থা অর্জন করতে হবে। পাশাপাশি আমরা একথা যেন আমরা ভুলে না যাই, এ দেশের মানুষ এ মাটির মানুষ। একথাও মনে রাখতে হবে, এমনি এমনি আমরা এ দেশ অর্জন করিনি। বিশ্ববিদ্যােলয়ের উপাচার্য অধ্যাাপক নাজমুল করিম চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যহদের মধ্যের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যাান শেখ মো. কবির হোসেন, ট্রাস্টি মোহাম্মদ আবদুল্লাহ বক্তব্যা দেন।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top