রাত ১০:৫৫, শনিবার, ২২শে জুলাই, ২০১৭ ইং
/ রাজনীতি / আবারো একতরফা নির্বাচনের ষড়যন্ত্রে সরকার : বিএনপি
আবারো একতরফা নির্বাচনের ষড়যন্ত্রে সরকার : বিএনপি
এপ্রিল ১৮, ২০১৭

সরকার আবারও একতরফা ভাবে নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। একইসঙ্গে ক্ষমতাসীনরা হেফাজতকে বশে এনে কাছে টানার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ দলটির। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এসব অভিযোগ করেন। উজানের ঢল ও ভারী বর্ষণে হাওর অঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি এই সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা হয়।

মির্জ ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ওয়ান ইলেভেনের সময়কার আওয়ামী লীগের সব মামলা তুলে নেওয়া হয়েছে। অথচ বিএনপির প্রত্যেকটি মামলা আবার নতুন করে চালু করা হচ্ছে। এই সরকার রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে গেছে বলেই এই মামলা-মোকদ্দমা করে বিএনপিকে মোকাবিলা করতে চায়। আমরা সরকারকে বার বার বলেছি, আসুন- খোলা ও সমান্তরাল ময়দানে একসাথে খেলি। সেটার মধ্যে তারা নেই। আমাদের সবাইকে জেলের মধ্যে ঢুকিয়ে রেখে দিয়ে তারা একতরফা খেলতে চায়। কিন্তু এই খেলা কখনই এদেশের মানুষ গ্রহণ করবে না। হেফাজতের সঙ্গে সরকারের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপির মহাসচিব বলেন, হেফাজতে ইসলাম ও বিএনপি আগের অবস্থানেই আছে। হেফাজতের সব নয়, কিছু কিছু দাবিকে যুক্তিসঙ্গত মনে করায় আমরা সেগুলোকে সমর্থন দিয়েছিলাম। বিএনপি এখনো সেই অবস্থানেই আছে। এ ব্যাপারে বিএনপির অবস্থান ডাবল স্ট্যান্ড (দ্বৈত নীতি) না। বরং ক্ষমতাসীনরা হেফাজতকে পিটিয়ে-পুটিয়ে এখন বলছে, এসো-বন্ধুত্ব করি। সরকার এখন তাদেরকে বিভিন্নভাবে বশ করে কাছে টানার, সখ্যতা গড়ার চেষ্টা করছে।


মির্জা ফখরুল দেশের হাওর অঞ্চলকে ‘দুর্গত এলাকা’ ঘোষণা করার দাবি জানিয়ে বলেন, কৃষকেরা তাদের একমাত্র ফসল হারিয়ে এখন দিশেহারা। এখন পর্যন্ত বিএনপির প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী- নেত্রকোনা, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, সিলেট ও কিশোরগঞ্জ জেলার প্রায় সাড়ে তিন লাখ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব এলাকায় লাখ লাখ লোকজন ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে চরম মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যে আছেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, উজানের ঢল ও ভারী বর্ষণে হাওর অঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সরকার কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। কোনো মন্ত্রীও ওই এলাকায় যাননি। সরকারি ত্রাণ তৎপরতা লোক দেখানো ও অপ্রতুল। মির্জা ফখরুল সেখানে দ্রুত ত্রাণ সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি পুরোনো কৃষিঋণ মওকুফ, সুদবিহীন কৃষিঋণ প্রদান, বিনামূল্যে সার-বীজ বিতরণসহ কয়েকটি দাবি জানান। গত ১৫ এপ্রিল বিএনপি মহাসচিব ক্ষতিগ্রস্ত ওইসব এলাকা পরিদর্শন করে দুর্গত মানুষের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করেন।

আগামী নির্বাচন প্রসঙ্গে ফখরুল বলেন, আমরা নির্বাচনে যেতে চাই। সব দল যাতে নির্বাচনে অংশ নিতে পারে সেজন্য পরিবেশ তৈরি, ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে হবে। আমাদের হাজার হাজার নেতাকর্মীকে জেলে রাখবেন, মিথ্যা মামলা দেবেন- আর বলবেন যে, তোমরা নির্বাচনে যাও। তাহলে আমরা নির্বাচনে কিভাবে যাব? আমাদের নেতাকর্মীদের মুক্তি দিলে এবং নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় সুষ্ঠু নির্বাচন হলে, নির্বাচনে যাওয়ার বিষয়ে আমরা সিদ্ধান্ত নেব। তবে সকল দলের সমান সুযোগ ছাড়া নির্বাচনে যাওয়ার প্রশ্নই উঠে না। প্রধানমন্ত্রীর ভুটান সফর নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভুটানের সঙ্গে আমাদের একটা জরুরি বিষয় আছে, সেটা হচ্ছে-জলবিদ্যুৎ। যদি দেখি ভারতের মতো উনি (প্রধানমন্ত্রী) খালি হাতে ফিরে আসলেন, দিয়ে আসলেন সবকিছু- তখন সেটা আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন-বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ মো. আলমগীর, আতাউর রহমান ঢালী, সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, সাখাওয়াৎ হোসেন জীবন প্রমুখ।

 



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top