রাত ৮:০৪, বৃহস্পতিবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং
/ জাতীয় / আপন জুয়েলার্সের পাঁচ বিক্রয় কেন্দ্রে অভিযান, একটি সিলগালা
একটি সিলগালা
আপন জুয়েলার্সের পাঁচ বিক্রয় কেন্দ্রে অভিযান, একটি সিলগালা
মে ১৪, ২০১৭

আপন জুয়েলার্সের মালিকের অবৈধ সম্পদের খোঁজে দেশের শীর্ষস্থানীয় এই অলঙ্কার ব্র্যান্ডের পাঁচটি বিক্রয় কেন্দ্রে অভিযান চালিয়ে একটি শোরুম সিলগালা করে দিয়েছে শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ।  রোববার এই অভিযান চালানো হয়। শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মইনুল খান বলেছেন, স্বর্ণ ও রতœ সংগ্রহের তথ্যে অস্বচ্ছতা এবং মালিকের অবৈধ সম্পদের’ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে আপন জুয়েলার্সে এই অভিযান চালানো হচ্ছে।
আমাদের কাছে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আছে, আপন জুয়েলার্স যে সোনা ও ডায়মন্ড বিক্রি করে, তা সংগ্রহের সোর্স স্বচ্ছ নয়। অভিযোগ আমলে নিয়েই এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদ বনানীতে দুই ছাত্রী ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি সাফাত আহমেদের বাবা।এই পরিবারের বিরুদ্ধে সোনা চোরাচালানের অভিযোগ থাকায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নির্দেশে একটি অনুসন্ধান কমিটি করে এই তদন্ত চালাচ্ছে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তর। এর অংশ হিসেবে রোববার বেলা ১১টার দিকে আপন জুয়েলার্সের মৌচাক, উত্তরা, জিগাতলার সীমান্ত স্কয়ার এবং গুলশানের দুটি বিক্রয় কেন্দ্রে একযোগে অভিযান শুরু হয়। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ শাখার ভ্যাট কর্মকর্তারা ছাড়াও র‌্যাব সদস্যরা যোগ দেন এই অভিযানে। বেলা সোয়া ১২টার দিকে গুলশানের সুবাস্তু টাওয়ারের শোরুমটি বন্ধ করে দেওয়ার পর এ বিভাগের যুগ্ম কমিশনার শাফিউর রহমান বলেন, ‘আমরা এটা সিলগালা করেছি। এখন এটা খুলতে হলে তাদের প্রতিনিধি আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করবে। আমরা দেখব- সেখানে তাদের কী পরিমাণ মালামাল মজুদ আছে।’ বিষয়টি ব্যাখ্যা করে মহাপরিচালক মইনুল খান বলেন, ‘শো রুমগুলোতে আমরা স্টক চেকিং করছি। দেশে তো স্বর্ণের আমদানি নেই। তারপরও তারা এগুলো কোথা থেকে কীভাবে এনেছে বৈধ উপায়ে আনলে ভাল, না হলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নেব।’ দিলদার আহমেদের নামে দেশে-বিদেশে যাবতীয় লেনদেনের হিসাব চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংককে গত বৃহস্পতিবার একটি চিঠিও পাঠিয়েছে শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ। অভিযানের বিষয়ে দিলদার আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন কেটে দেন। দিলদারের বড় ছেলে সাফাত আহমেদের জন্মদিনের পার্টির কথা বলে গত ২৮ মার্চ ঢাকার বনানীর একটি বিলাসবহুল হোটেলে নিয়ে দুই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীকে ধর্ষণ করা হয় বলে বনানী থানায় একটি মামলা হয় এক সপ্তাহ আগে। ওই মামলার অপর আসামিদের মধ্যে দুজন সাফাতের বন্ধু, বাকি দুজন তার দেহরক্ষী ও গাড়িচালক। গত বৃহস্পতিবার সাফাত ও তার বন্ধু সাদমান সাকিফকে সিলেট থেকে গ্রেফতার করার পর পুলিশ তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। ধর্ষণের শিকার এক ছাত্রী বলেছেন, ‘ধর্ষণের পর সাফাত তাকে বলেছিলেন, তারা সোনা চোরাচালান করেন। দুই একটা খুন বা ধর্ষণ করে পুলিশকে টাকা দিলে তাদের কেউ কিছু করতে পারবে না।’



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top