সকাল ৬:০৫, সোমবার, ২৯শে মে, ২০১৭ ইং
/ উপ-সম্পাদকীয় / আধুনিক দেশ গড়তে প্রয়োজন শেখ হাসিনার দৃঢ় নেতৃত্ব
আধুনিক দেশ গড়তে প্রয়োজন শেখ হাসিনার দৃঢ় নেতৃত্ব
মে ১৬, ২০১৭

মাশরাফী হিরো : বর্ষণমুখর এক সন্ধ্যায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন। হাজারো বেদনার্ত মানুষের সাথে কেঁদেছিল বাংলার আকাশ। শেখ হাসিনার অশ্রু সম্ভবত সহ্য করতে পারে নি প্রকৃতি। তাইতো গলাগলি করে কেঁদেছিল বাংলাদেশের হাজারো মানুষ, বঙ্গবন্ধু কন্যা ও বাংলার আকাশ। পিতা-মাতা স্বজন হারানোর বেদনা তাকে যেমন উদ্বেলিত করেছিল তেমনি মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধ ধৈর্য ধরতে বাধ্য করেছিল। যে দেশে তিনি সেদিন পা রেখেছিলেন তা ছিল তাঁর জন্য অগ্নিকূপ। যেখানে নির্ঘাত পুড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা সেখানে প্রত্যাবর্তন করেছিলেন শেখ হাসিনা।


 পিতা বঙ্গবন্ধু, আওয়ামী লীগ এবং গণমানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে। দায়বদ্ধতা তৈরি করে দিয়েছিল আওয়ামী লীগ ১৯৮১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সম্মেলনে তার অনুপস্থিতিতে সভাপতি করে। বঙ্গবন্ধুর ক্ষেত্রেও ঠিক একই ঘটনা ঘটেছিল। তিনি যখন নিরাপত্তা বন্দী তখন তাকে আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক করা হয়েছিল। এই দলের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক অনেকেই ছিলেন।


 মাওলানা ভাষানী, শামসুল হক, আব্দুর রশিদ তর্কবাগীশ, তাজউদ্দীন আহম্মেদ, ক্যাপ্টেন মনসুর, আব্দুল মালেক উকিল, জোহরা তাজউদ্দীন, সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, আব্দুর রাজ্জাক প্রমুখ। অধিকাংশই এখন প্রয়াত। কিন্তু বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার সময়ই আওয়ামী লীগ ঘুরে দাঁড়িয়েছে। দলীয় সংহতি ও ঐক্যবদ্ধ রাখতে সক্ষম হয়েছিলেন তাঁরা। নেতৃত্বের দৃঢ়তা তাদেরকে বারবার নেতৃত্বে নিয়ে এসেছে। তৃতীয় বিশ্বের একটি দেশে নেতৃত্ব দেওয়া যে কত কঠিন তা সবারই জানা।


 মধ্যপ্রাচ্যের অধিকাংশ দেশ চেয়ে থাকে উন্নত বিশ্বের দিকে। ব্যবসা যেদিকে নেতৃত্ব সেদিকে। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী ব্যবসার নামে ভারতবর্ষ দখল করেছিল। তাদের পতন হলেও ব্যবসার পতন হয়নি। বরঞ্চ তা বহুগুণে ফিরে এসেছে এই বাংলাদেশে। ইউনিকল সহ বহু ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান তাঁবু গেঁড়েছে বাংলাদেশে। যার কারণে বাংলাদেশের ক্ষমতায় ওঠানামা। যার কারণ বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ড।


 জাতিসংঘ সবার প্রতিনিধি হলেও তাদের চোখ এড়িয়ে যায় এসব থেকে। ন্যাটোর হামলা তাদের চোখে পড়ে না। ইরাক হামলায় তারা দোষ খুঁজে পায় না। ফিলিস্তিনি নির্যাতনে তারা ব্যাথিত হয় না। এসব সংস্থাকে তোয়াক্কা করে না আগ্রাসী কিছু রাষ্ট্র। যারা গণতন্ত্রের কথা বলে অন্য দেশের অভ্যন্তরে ঢুকে স্বাধীনতা হরণ করে।


 অন্যের সম্পদ করায়ত্ত করাই এদের কাজ। আর এসব ক্ষেত্রে বেছে নেয় কিছু লোভী মানুষকে। যারা ক্ষমতায় থাকতে ভালবাসে তা যেভাবেই হোক না কেন। তেমনি কিছু ঘটেছিল বাংলাদেশে। বাংলাদেশ স্বাধীন হলেও আইয়ুব, ইয়াহিয়াদের সহোদররা বাংলাদেশের ক্ষমতা দখল করেছিল দীর্ঘকাল। আর তাদের প্রধান অনুসঙ্গ ছিল স্বাধীনতা বিরোধীরা। মুক্তিযোদ্ধারা ছিলো নির্বাসিত। নামেই বাংলাদেশ আসলে পাকিস্তান। এমনি অবস্থা থেকে দেশকে ফিরিয়ে নিয়ে এসেছেন শেখ হাসিনা। আর যাই হোক মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে কথা বলে কেউ নিস্তার পাচ্ছে না।


 দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। প্রশাসন চালনায় শেখ হাসিনা অতীতের যে কোন রাষ্ট্র প্রধানের চেয়ে এগিয়ে। যা তার শত্রুরাও স্বীকার করে। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে তার অবস্থান জিরো টলারেন্স। যা লৌহ মানবের ভূমিকা বলে অনেকে মনে করেন। বিশ্ব ব্যাংক এবং আইএমএফ সারা বিশ্বের ক্ষুদ্র দেশগুলিকে ধ্বংস করেছে। ধ্বংস করেছে তাদের অর্থনীতি। যার বিরুদ্ধে তৃতীয় বিশ্বের কোন নেতা মুখ খুলতে সাহস পান নি।


 কিন্তু, প্রকাশ্যে তাদের বিরুদ্ধে সংসদে বক্তৃতা করেছেন তিনি। কথা বলেছেন ড. ইউনুসের ব্যাপারে। যিনি হতে চেয়ে ছিলেন বাংলার হামিদ কারজাই। ওয়ান ইলেভেন সমস্ত নেতা-নেত্রীদের গ্রেফতার করলেও যুদ্ধাপরাধীদের ছোঁয়ার সাহসও পায়নি। যা করে দেখিয়েছেন শেখ হাসিনা। অপরাধীর কোন ছাড় নেই, তারা যত শক্তিশালীই হোক, শেখ হাসিনা তা প্রমাণ করেছেন। ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে এবং পরে অনেকে মনে করেছিল শেখ হাসিনার সরকার স্থায়ীত্ব পাবে না। কিন্তু তা আর হয় নি। বিএনপি নেতা-নেত্রীরা এটাকে নির্বাচন বলেন।


 আমি মনে করি এটি একটি প্রকাশ্য যুদ্ধ, যাতে জামায়াত-বিএনপি হেরেছে। আওয়ামী লীগ জিতেছে। অনেকে বলেন ভোটার উপস্থিতি কম। যেভাবে বাংলাদেশকে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তাতে যে মানুষ ঘর থেকে বের হয়েছে এটাইতো বড় কথা। অগ্নিযুদ্ধে ভোটার পাবেন কোথায়? এই বুঝি আবার ওয়ান ইলেভেনের মত কিছু একটা এলো। তা আর হয়নি। সমস্ত প্রক্রিয়া ব্যর্থ হয়েছে শেখ হাসিনার কৌশলের কাছে। এখন শেখ হাসিনা কিছুটা অপ্রতিদ্বন্দ্বী ও অপ্রতিরোধ্য। বিএনপি চেয়ে আছে শেখ হাসিনার দিকে।


এমন অবস্থা আগে ছিল না। আওয়ামী লীগ চেয়ে থাকতো অন্যান্য সরকারগুলির দিকে। কারণ তারা সমর্থন পেত ঐসব ক্ষমতাধর রাষ্ট্রের। এই প্রথম তার ব্যত্যয় ঘটেছে। ১৯৭১ আর ২০১৪ একে অপরের পরিপুরক। একটির নেতা পিতা বঙ্গবন্ধু আরেকটির নেতা বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। মাঝখানে পেরিয়ে গেছে বহু বছর। ৭৫, ৭৮, ৮১, ৮২, ৮৬, ৮৮, ৯০, ৯১, ৯৬, ২০০১ ও ২০০৭ সাল। ৯৬ সাল ব্যাতিত সবগুলিই ছিল আওয়ামী লীগের জন্য দুর্ভোগের। আজ সে দুর্ভোগ শেষ হয়েছে। আওয়ামী লীগের প্রতিদ্বন্দ্বী আজ আওয়ামী লীগ, নৌকার জয়গান আজ সর্বত্র।


 প্রাচীন এই দলটিকে সেকেলে বলে চিহ্নিত করার চেষ্টা করা হতো। কোট-টাই পরা নেতারা পাঞ্জাবী-পায়জামা ও মুজিব কোটের সমালোচনা করতেন। আর এখন মুজিব কোটের আদলে কোট পরা ফ্যাশন। ডিজিটাল বাংলাদেশের সুফল আজ ঘরে ঘরে। প্রাচীন হলেও আধুনিক হয়ে ওঠায় প্রাণবন্ত আওয়ামী লীগ। আগে জন্ম হলেই সেকেলে হয় না। তার প্রমাণ আওয়ামী লীগ। শেখ হাসিনা আজ বাংলাদেশের গন্ডি পেরিয়ে তৃতীয় বিশ্বের নেতায় পরিণত হয়েছেন পিতা বঙ্গবন্ধুর মত।

 

বৈশ্বিক উষ্ণতা, যুদ্ধের বিরুদ্ধে অবস্থান, জঙ্গিবাদের জিরো টলারেন্স আজ সমস্ত বিশ্বের জন্য উদাহরণ। আমরা এখন ভঙ্গুর দেশ পাকিস্তানের চেয়ে অনেক এগিয়ে। শেখ হাসিনার অর্থনীতি আজ যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনার বিষয়। আফ্রিকা মহাদেশের ক্ষুদ্র দেশগুলির জন্য অনুস্মরণীয়। তবে শেখ হাসিনার নীতি নৈতিকতা বাংলাদেশের জন্য শুভ হলেও তার জন্য ক্ষতিকর। কারণ উন্নত বিশ্ব চাইবে না তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলিতে এত শক্তিশালী নেতৃত্ব থাকুক। যেমন চায়নি বঙ্গবন্ধুর সময়ে। কারণ নেতৃত্ব শক্তিশালী হলে ব্যবসার ক্ষতি। স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছাড় দেওয়া।


যা তারা দীর্ঘসময় দিতে চাইবে না। তাই দরকার সুশিক্ষিত একটি জাতি। কর্মিবান্ধব ও সৎ নেতৃত্ব। প্রয়োজন রাজনৈতিক সচেতনতা। বঙ্গবন্ধু হারিয়ে গেছেন তাতে তাঁর কোন ক্ষতি হয়নি। ক্ষতি হয়েছে বাংলাদেশ ও বাঙালির। শেখ হাসিনা হারিয়ে গেলেও ক্ষতি তাঁর নয়, ক্ষতি বাংলাদেশের। আমাদের প্রয়োজনেই বাঁচতে হবে শেখ হাসিনাকে। সুখি-সমৃদ্ধশালী, আধুনিক বাংলাদেশে প্রয়োজন তাঁর মত দৃঢ় নেতৃত্ব। যা আজ পরীক্ষিত। বাঙালি-বাংলাদেশ হারাতে চায় না পথ। তাই স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে সবার চাওয়া হোক তাঁর দীর্ঘায়ু।
লেখক ঃ উপ-দপ্তর সম্পাদক
বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগ
০১৭১১-৯৪৪৮০৫



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top