দুপুর ২:৩৭, বুধবার, ২৬শে জুলাই, ২০১৭ ইং
/ জাতীয় / আজ প্রধানমন্ত্রীর উদ্ধোধন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের স্থায়ী ভবনে ‘শিখা চির-অম্লান’
আজ প্রধানমন্ত্রীর উদ্ধোধন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের স্থায়ী ভবনে ‘শিখা চির-অম্লান’
এপ্রিল ১৬, ২০১৭

রাজধানীর সেগুনবাগিচার মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে প্রজ্বলিত ‘শিখা চির-অম্লান’ আগারগাঁওয়ের নতুন স্থায়ী ভবনে ঠাঁই পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ রোববার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে নতুন এই স্থায়ী ভবনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।

শনিবার ভোর সাড়ে ৬টায় মুক্তিযুদ্ধে শহীদ পরিবারের চতুর্থ প্রজন্মের সদস্যরা ‘শিখা চির-অম্লান’ থেকে অগ্নি মশাল জ্বালিয়ে অভিযাত্রী দলের হাতে তুলে দেন। পর্বতারোহী নিশাত মজুমদারের নেতৃত্বে অভিযাত্রী দল মশালটি বয়ে নিয়ে যান আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘরের নতুন ভবনে। পথে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, স্বাধীনতা স্তম্ভ, বঙ্গবন্ধু জাদুঘর, কলেজ গেইটের মুক্তিযোদ্ধা টাওয়ার-১ ঘুরে যায় অগ্নিমশাল। অগ্নিমশালটি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পৌঁছালে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের পক্ষ থেকে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। সেখানে যোগ দেন প্রবীণ আইনজীবী রফিকুল হক, নাট্যব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ। সংক্ষিপ্ত পর্ব শেষে অগ্নিমশাল নিয়ে অভিযাত্রী দল ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গেলে কে এম সফিউল্লাহর নেতৃত্বে সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের নেতারা যোগ দেন। এক মিনিট নীরবতা পালন শেষে কে এম সফিউল্লাহ বলেন, এই মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর একাত্তরের প্রতিনিধিত্ব করে। মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যবহার্য দুর্লভ সব সংগ্রহ এখানে নতুনভাবে সংযুক্ত হতে যাচ্ছে, যা নতুন প্রজন্মের কাছে আমাদের মুক্তিযুদ্ধকে আরও বিস্তৃতভাবে তুলে ধরবে। তারা মুক্তিযুদ্ধকে আরও ভালোভাবে জানতে পারবে। এর পর ‘শিখা চির-অম্লান’ নিয়ে অভিযাত্রী দল চলে ধানমণ্ডিতে বঙ্গবন্ধু জাদুঘরে। সেখানে সকাল সাড়ে ৮টায় মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হকের উপস্থিতিতে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করা হয়। সেখান থেকে মশাল নিয়ে মোহাম্মদপুরের কলেজ গেটে অবস্থিত মুক্তিযোদ্ধা টাওয়ার-১ এ পৌঁছে অভিযাত্রী দল যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। ৮ নম্বর সেক্টরের মুক্তিযোদ্ধা আতিকুর রহমান, ২ নং সেক্টরের তারা মিয়া, ফরিদ মিয়া ও হানিফ সরকার; ৬ নং সেক্টরের জি এম জুলফিকার, ৭ নং সেক্টরের অনিল কুমার রায় এবং ২ নং সেক্টরের বিশেষ বাহিনীর সদস্য বীরবিক্রম মো. গোলাম মোস্তফা এসময় উপস্থিত ছিলেন। এরপরই অগ্নিমশাল চলে আসে আগারগাঁওয়ের নতুন ভবনে; ৭১ জন মুক্তিযোদ্ধার হাত ধরে ‘শিখা চির অম্লান’ ঠাঁই পায় নতুন ঠিকানায়।

১৯৯৬ সালে ২২ মার্চ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে ‘শিখা চির অম্লান’ স্থাপিত হয়েছিল ছয় বছর বয়সী অর্চি হাসানের হাত ধরে। বুয়েটের তড়িৎ কৌশল বিভাগের শিক্ষক অর্চি এখন পিএইডি করছেন যুক্তরাষ্ট্রের পারডু বিশ্ববিদ্যালয়ে। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের নতুন ভবন উদ্বোধনের ডাক তিনিও পেয়েছেন, ছুটে এসেছেন তার প্রিয় মাতৃভূমিতে। ওই ২১ বছর আগের ওই দিনের স্মৃতিচারণ করে অর্চি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে শিখা চির-অম্লান স্থাপনের দিনে খুব বৃষ্টি হচ্ছিল। খুব মনে পড়ে। সেদিনের পর থেকে জাদুঘরের সব বড় আয়োজনের কার্ড যেত আমার নামে। আমার কী গর্ব হত!

 



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top