সকাল ১০:৪৪, শুক্রবার, ২৮শে জুলাই, ২০১৭ ইং
/ অর্থ-বাণিজ্য / ‘অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজি’ বেড়েছে মসলার দাম
‘অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজি’ বেড়েছে মসলার দাম
মে ১২, ২০১৭

স্টাফ রিপোর্টার: পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে প্রতিবছরই দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম বেড়ে যায়। এবারো যেন ব্যতিক্রম ঘটছে না। এরই মধ্যে মসলার বাজার ঊর্ধ্বমুখী। বেড়েছে এলাচ, লবঙ্গ, দারুচিনি, রসুন, আদা, শুকনো মরিচ, হলুদ, জিরা ও তেজপাতার দাম। খুচরা বিক্রেতাদের অভিযোগ, উৎসব মৌসুমের অতিরিক্ত চাহিদার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়াচ্ছেন পাইকারি ব্যবসায়ীরা।

 

অন্যদিকে পাইকাররা বলছেন, আমদানি পণ্য হওয়ায় এ সময়ে চাহিদা বেড়ে যায়, তাই দামও বেড়ে যায়। তবে ক্রেতা ও সাধারণ জনগণের মতে, এর সবই অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজি। সরকার তদারকি কার্যক্রম জোরদার করলে এ ধরনের অসাধু দৌরাত্ম বন্ধ হয়ে যেত।


তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, রমজান মাস এবং কোরবানির ঈদ এলেই দেশে মসলার দাম বেড়ে যায়। অন্য সময়ে বরং কিছু কিছু মসলার দাম কমতেও দেখা যায়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, ২০১১ সালের নভেম্বরে দেশে এলাচ ১২শ’ থেকে ২ হাজার টাকা, জিরা ৪৪০ টাকা, দারুচিনি ২৪০ টাকা, লবঙ্গ ১ হাজার ৪৫০ টাকা, সাদা গোলমরিচ ১ হাজার ২৮০ টাকা, কালো গোলমরিচ ৮৬০ টাকা, জয়ফল ১২শ’ টাকা, আলু বোখারা ৫৫০ টাকা, কিসমিস ৬শ’ টাকা, পেস্তা বাদাম ৬২০ টাকা এবং শাহজিরা ১ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। তখন দেশে কোরবানির ঈদের বাজার চলছিল। এরপর ২০১২ সালের জানুয়ারিতেই অর্থাৎ ঈদের দেড় মাস পর প্রায় সব পণ্যের দাম কমে আসে।


এলাচ বিক্রি হয় এক হাজার থেকে ১৮শ’ টাকায়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত কয়েকদিনের ব্যবধানে দেশে এলাচের দাম বেড়েছে। এর কারণ হিসেবে পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাংলাদেশে বিক্রি হওয়া বেশির ভাগ এলাচ আসে ভারত থেকে। বর্তমানে দেশটিতে এলাচের দাম বাড়তি, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশে। রমজান মাস শুরু হতে এখনো দু’সপ্তাহ বাকি।

 গত কয়েক দিন রসুনের পাইকারি বাজারে কিছুটা স্বস্তি থাকলে হঠাৎ পণ্যটির দর বেড়েছে। চার-পাঁচ দিনের ব্যবধানে বাজারে এক কেজি রসুন ২০ টাকারও বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহ আগেও পাইকারি বাজারে চায়না রসুনের দাম ছিল কেজি প্রতি ২০০ থেকে ২০৫ টাকা। কিন্তু হঠাৎ করেই কেজি প্রতি রসুন বিক্রি হচ্ছে ২২৫ থেকে ২৩০ টাকার মধ্যে।

 ভারতীয় রসুন ১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে মানভেদে ৮৫ থেকে ৯০ টাকায়। তবে দেশি রসুন আগের মতোই ৯০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। সামগ্রিক বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মুন্সী সফিউল হক বলেন, ‘রমজান মাসকে টার্গেট করে কোনো ব্যবসায়ী একতরফাভাবে বা সিন্ডিকেট করে মুনাফা করলে অবশ্যই তা ঠেকাতে হবে। এ জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একাধিক মনিটরিং টিম মাঠে কাজ করছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘অধিকাংশ মসলাই আমদানি নির্ভর। তাই দামের ক্ষেত্রে ততটা নিয়ন্ত্রণ থাকে না। তবে চোরাই পথে মসলার অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।’

 



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top