সন্ধ্যা ৬:২৬, বুধবার, ২৮শে জুন, ২০১৭ ইং
/ সম্পাদকীয় / অর্থনৈতিক সচ্ছলতা অর্জন
অর্থনৈতিক সচ্ছলতা অর্জন
মার্চ ১৬, ২০১৭

স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে একটি দেশ চিহ্নিত করা হয় তিন কারণে- কম আয়, মানব সম্পদের উন্নয়ন না হওয়া ও অর্থনীতির ভঙ্গুরতা। এই তিন সূচকের ওপর ভিত্তি করে স্বল্পোন্নত দেশ তা নির্ধারণ করা হয়। সে হিসেবে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ। তবে দক্ষিণমুখী দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণের মাধ্যমে আগামী ২০২৭ সালের মধ্যে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে অচিরেই বের হয়ে আসতে পারবে বাংলাদেশ। সে জন্য মানব সম্পদ ও অভ্যন্তরীণ সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে হবে এবং এসব ক্ষেত্রে সূচকের উন্নয়ন ছাড়া এ লক্ষ্য অর্জন আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।

 যে কোনো দেশেরই মূল লক্ষ্য থাকে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন। আর দেশের সার্বিক উন্নয়ন নির্ভর করে সে দেশের জনসাধারণের জীবনযাপনের আর্থিক নিরাপত্তার ওপর। অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হলে দেশের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান করা সম্ভব হয়ে ওঠে। আর তা না হলে, দারিদ্র্যাঘাতে, নানা রকম সমস্যায় দেশের সব ক্ষেত্রই অস্বাভাবিক হয়ে পড়ে। যা দেশের জন্য কোনোভাবেই শুভফল বয়ে আনে না। তাই এসব বিষয় বিবেচনা করে রাষ্ট্রের উচিত সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক সচ্ছলতা অর্জনে সচেষ্ট থাকা। এই দেশ এত অল্প সময়ের মধ্যে এমন কিছু অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে যা বিশ্বের কাছে অবশ্যই অভিনন্দন পাওয়ার দাবি রাখে।

বিশ্বব্যাংককেও বলেছে বাংলাদেশে দারিদ্র্য ও বৈষম্য দুটিই কমেছে এবং গত এক দশকে ১ কোটি ৬০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যের বেড়াজাল থেকে বেরিয়ে এসেছে। এ তথ্য মোতাবেক বলা যায় – এ ধারাকে আরো এগিয়ে নিতে পারলে বাংলাদেশ একটি দারিদ্র্য ও বৈষম্যমুক্ত দেশ হিসেবে গড়ে উঠবে, এই দিন খুব বেশি দূরে নয়। বিশ্বব্যাংক বলছে, প্রধানত দুটি কারণে বাংলাদেশ এ সফলতা অর্জন করেছে। এর একটি হলো মজুরি বৃদ্ধি, আরেকটি জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমে আসার ফলে উপার্জনক্ষম লোকের সংখ্যা একাধিক হওয়া। দারিদ্র্য সহ বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি প্রাকৃতিক বিপর্যয়, স্বাস্থ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক ঝুঁকি, লিঙ্গ এবং সংখ্যা লঘু সম্প্রদায় বৈষম্য ইত্যাদি সমস্যা মোকাবেলা করতে পারলে তা হবে জাতিগত দিক থেকেও একটি অন্যতম অর্জন।

 



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top