দুপুর ২:৫১, শনিবার, ২২শে জুলাই, ২০১৭ ইং
/ সম্পাদকীয় / অভিন্ন নদীর পানি সংকট
অভিন্ন নদীর পানি সংকট
মার্চ ১৯, ২০১৭

নদী মাতৃক বাংলাদেশের নদীগুলো কালের বিবর্তনে মরাখালে পরিণত হচ্ছে। ভারত অভিন্ন নদীগুলোর উজানে বাঁধ দিয়ে পানি প্রত্যাহার করায় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। হারিয়ে যেতে বসেছে নদীগুলোর অস্তিত্ব। আর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে কৃষি, পরিবেশ সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে।

উত্তরের প্রাচীনতম জনপদ রংপুর, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, দিনাজপুর, পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও জেলার প্রায় ৫০টি নদী এখন মৃতপ্রায়। উজানে প্রবাহ না থাকায় নাব্যতা সংকটে শুস্ক মওসুমে কোনো নদীতে হাঁটু পানিও থাকে না।

 তিস্তার বুক জুড়ে এখন ধু ধু বালু চর। মৌসুমের শুরুতেই তিস্তায় এখন হাঁটু পানি। উজানে ভারত ব্যরাজ নির্মাণ করে এক তরফা পানি প্রত্যাহার করে নেওয়ায় বাংলাদেশের ১১২ মাইল দীর্ঘ তিস্তার এই হাল। জেগে উঠছে অসংখ্য চর-ডুবোচর। তিস্তার বুক জুড়ে এখন ফসলের আবাদ হচ্ছে। করতোয়া নদী ও পানি শূন্যতায় অস্তিত্ব সংকটে ধুকছে। প্রসঙ্গত এক সময়, বাংলাদেশে ১২শ’ চলমান নদীর নাম পাওয়া যেত, যা বর্তমানে ২শ’র বেশি হবে না।

শীতকালে চলমান নদীর সংখ্যা কমে ৫০-৬৫টিতে নেমে আসে। নদীর এই পরিস্থিতি বাংলাদেশের সামগ্রিক পরিবেশের ওপর চরম নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। স্বাধীনতা পরবর্তী ৪৬ বছরে বাংলাদেশের প্রায় ২২ হাজার কিলোমিটার নদী পথ বিলুপ্ত হয়ে গেছে।

আসলে ভারতের সঙ্গে অভিন্ন নদীগুলোর স্বাভাবিক প্রবাহের বিকল্প নেই। ভারতের সঙ্গে কার্যকর কূটনৈতিক দর কষাকষি ছাড়া পানির ন্যায্য হিস্যা পাওয়া সম্ভব নয়। ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে যে গঙ্গার পানি বন্টন চুক্তি হয়েছিল, সেই চুক্তিরও বরখেলাপ হয়েছে। পানির ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত হয়েছে বাংলাদেশ। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখার মধ্যেই যে সবার কল্যাণ এ বিষয়টি যত দ্রুত উপলব্ধি করা যাবে ততই মঙ্গল।

 

 



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top