বিকাল ৩:০৪, শনিবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং
/ সম্পাদকীয় / অভিন্ন নদীর পানি প্রত্যাহার নয়
অভিন্ন নদীর পানি প্রত্যাহার নয়
এপ্রিল ১১, ২০১৭

নদী অধ্যুষিত বাংলাদেশের মানুষের জীবিকা প্রধানত কৃষিনির্ভর। এদেশের তিন-চতুর্থাংশ মানুষ সরাসরি কৃষির সঙ্গে জড়িত। আমাদের কৃষিজমির পরিমাণ প্রায় ৮ দশমিক ৫২ মিলিয়ন হেক্টর। এবার শুষ্ক মৌসুম আসার আগেই কৃষকদের মধ্যে চিন্তার ছাপ পড়েছে। কারণ ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নামছে। ভূগর্ভস্থ পানির অপরিকল্পিত এবং নদীর নাব্য কমে যাওয়ায় কোথাও কোথাও ২৫-৩০ ফুট গভীরেও পানি মিলছে না।

 

 যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় মহাকাশ সংস্থা (নাসা) বলেছে, পৃথিবীর ভূগর্ভে পানির যত মজুদ আছে তার এক-তৃতীয়াংশই মানুষের কর্মকান্ডের কারণে দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে। ভূগর্ভের বাকি দুই-তৃতীয়াংশ পানির সঠিক পরিমাণ কত তা স্পষ্টভাবে জানা না থাকায় তা জানা এবং সে পানি কত সময় পর্যন্ত ব্যবহার করা যাবে তা বের করার চেষ্টা করছেন বিজ্ঞানীরা। কয়েক বছর আগে থেকে থাইল্যান্ডে নিষিদ্ধ করা হয়েছে ডিপটিউবওয়েল, শ্যালোটিউবওয়েল। সেখানে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন করতে গেলে বিশেষ অনুমতির প্রয়োজন হয়। আমাদের দেশের বছর দশেক আগে থেকে কৃষিবিজ্ঞানীরা এ কথাগুলো বলতে শুরু করেন।

 

 কিন্তু তাতে পানি উত্তোলন বন্ধ, জলাধারের পানি ব্যবহার বা বর্ষায় পানি সঞ্চয় বিষয়ে কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বাংলাদেশ যে পানির সংকটের সম্মুখীন হচ্ছে তার প্রধান কারণ উজানে পানি প্রত্যাহারের ঘটনা। নদ-নদীর পানি ধারণক্ষমতা হ্রাসও এ বিপদের জন্য দায়ী। নদী দূষণ অবস্থাকে ভয়াবহভাবে বিপজ্জনক করে তুলছে। অস্তিত্বের স্বার্থে উজানে পানি প্রত্যাহার রোধে সরকারকে সক্রিয় হতে হবে।

 

 তিস্তার পানি সংকট এখন একতরফা বিষয় নয়। এ ব্যাপারে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার তাগিদ দিচ্ছে বাংলাদেশ। কিন্তু পার্শ্ববর্তী দেশের অনাগ্রহের কারণে সফল হচ্ছে না। বিকল্প তিস্তা ব্যারেজ সৃষ্টি হয়েছিল এ সমস্যা সমাধানের জন্য। ১৫ হাজার কোটি টাকার এ প্রকল্প কার্যত কোনও কাজেই লাগছে না। আমাদের নদ-নদীর পানি প্রবাহ ফিরে পেতে হলে প্রতিবেশি দেশের পানি প্রত্যাহার বন্ধ করতে হবে। না হলে আমাদের নদ-নদীগুলোতে পানি আসবে না।

 



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top