সন্ধ্যা ৬:৪৩, বৃহস্পতিবার, ২০শে জুলাই, ২০১৭ ইং
/ তথ্যপ্রযুক্তি / অনশনের হুমকি সিটিসেলকর্মীদের
অনশনের হুমকি সিটিসেলকর্মীদের
নভেম্বর ২৩, ২০১৬

সমস্যা সমাধানের আশ্বাসে কর্মসূচি শিথিল করেছে সিটিসেলের কর্মীরা। আগামী সপ্তাহের প্রথম দিকে বিদ্যমান সমস্যার সমাধান না হলে ‘কাগজে কলমে চালু’ সিটিসেলের কর্মীরা অনশনে যাবেন। এ প্রসঙ্গে সিটিসেল এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের প্রচার সম্পাদক মাহজাবীন মিথিলা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা সিটিসেলের প্রধান নির্বাহী মেহবুব চৌধুরীর কাছ থেকে আশ্বাস পেয়ে কর্মসূচি শিথিল করেছি। আমা করি, ঘোষিত সময়ের মধ্যেই তিনি আমাদের সঙ্গে বসে সমস্যার সমাধান করবেন।’

জানা গেছে, বকেয়া বেতন ও ভাতার দাবিতে মঙ্গলবার (২২ নভেম্বর) মহাখালীস্থ সিটিসেলের প্রধান কার্যালয়ের ১২ তলায় প্রধান নির্বাহীর কক্ষের সামনে কর্মীরা অবস্থান নেন। পরে প্রধান নির্বাহীর আশ্বাস পেয়ে বুধবার বেলা দেড়টার দিকে অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন কর্মীরা। দেশের বাইরে অবস্থানরত সিটিসেলের মালিক পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেই সিটিসেলের প্রধান নির্বাহী কর্মীদের এ আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

মাহজাবীন মিথিলা আরও বলেন, ‘আমরা কিন্তু কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেইনি। আমরা আমাদের ঘোষিত সময়ের আগ পর্যন্ত প্রতিদিন অফিসে অবস্থান কর্মসূচি পালন করব। তবে কোনও কাজ করব না।’

এদিকে সিটিসেল এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের সভাপতি আশরাফুল করিম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সম্প্রতি একটি মামলায় সিটিসেলের মালিকপক্ষকে আদালত আত্মসমর্পণের আদেশ দিলে মূলত ওইদিন থেকেই তারা নিখোঁজ। আমরা জানতে পেরেছি, সিটিসেলের প্রধান নির্বাহী বিদেশে অবস্থানরত মালিক পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেই আমাদের সময় দিয়েছেন। আমরা আশা করছি এই সময়ের মধ্যে সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।’

প্রসঙ্গত, গত ৩১ জুলাই বিটিআরসি এক বিজ্ঞপ্তিতে সিটিসেলের গ্রাহকদের দুই সপ্তাহের মধ্যে বিকল্প সেবা গ্রহণ করতে অনুরোধ জানায়। সে হিসেবে ১৬ আগস্ট পর্যন্ত সময় পান গ্রাহকরা। যদিও ১৪ আগস্ট ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম জানান, ‘বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সিটিসেলের গ্রাহকরা আরও সময় পাবেন।’

এরপরে সিটিসেল উচ্চ আদালতে গেলে বিষয়টি আদালতের সিদ্ধান্তে ওপর চলে যায়। বিটিআরসি ওই নোটিশ দিলে সিটিসেল আপিল বিভাগে যায়। আপিল বিভাগ গত ২৯ আগস্ট সিটিসেলের বকেয়া টাকা পরিশোধ করার শর্তে অপারেশন চালিয়ে যেতে বলে। এজন্য প্রতিষ্ঠানটি দুই মাস সময় পেয়েছিল। সিটিসেলের বকেয়া ৪৭৭ কোটি ৫১ লাখ টাকা দুই কিস্তিতে পরিশোধের কথা বলা হয়।সিটিসেল তরঙ্গ খুলে দেওয়ার আবেদন নিয়ে আপিল বিভাগে গেলে ৩ নভেম্বর শর্ত সাপেক্ষে অবিলম্বে সিটিসেলের তরঙ্গ খুলে দেওয়ার নির্দেশ আসে সর্বোচ্চ আদালত থেকে। দুই দিন পেরিয়ে গেলেও তরঙ্গ ফিরে না পেয়ে, ফের আদালতে যায় সিটিসেল। এর মধ্যে সিটিসেল বকেয়া টাকার মধ্যে ১৪৪ কোটি টাকা পরিশোধ করে।

আপিল বিভাগের আদেশে বলা হয়, ১৯ নভেম্বরের মধ্যে সিটিসেল বকেয়ার ১০০ কোটি টাকা পরিশোধ না করলে আবারও তরঙ্গ বন্ধ করে দিতে পারবে বিটিআরসি। গত ১৭ নভেম্বর ১০০ কোটি টাকা পরিশোধ করে সিটিসেল।

এর আগে বকেয়া টাকা শোধ না করায় ২০ অক্টোবর সিটিসেলের তরঙ্গ স্থগিত করা হয়। বিটিআরসির কর্মকর্তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় সিটিসেলের প্রধান কার্যালয়ে ঢুকে তরঙ্গ বন্ধের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করেন। বিটিআরসি প্রকাশিত (গত ৩১ জুলাই পর্যন্ত) তথ্য অনুসারে সিটিসেলের গ্রাহক সংখ্যা ৬ লাখ ৬৮ হাজার। সংশ্লিষ্টরা বলেছিলেন, সিটিসেলের সক্রিয় গ্রাহকের সংখ্যা প্রায় দেড় লাখ (বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধিত)। ৩১ আগস্ট বিটিআরসি প্রকাশিত এক তথ্যে সিটিসেলের গ্রাহক সংখ্যা ১ লাখ ৪২ হাজার উল্লেখ করা হয়।



লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন :




Go Back Go Top