বগুড়া শনিবার | ১০ কার্তিক ১৪২১ | ২৯ জিলহজ ১৪৩৫ হিজরি | ২৫ অক্টোবর ২০১৪
ব্রেকিং নিউজ
আর্কাইভ
দিন :
মাস :
সাল :
এই সংখ্যার পাঠক
১৫৩৫৯৫
সার্চ
আওয়ামী লীগ থেকেও বহিষ্কার লতিফ সিদ্দিকী
স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা অফিস :
সাবেক মন্ত্রী ও দলের সাবেক সভাপতিমন্ডলীর সদস্য আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী এবার আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্য পদ থেকেও বহিষ্কৃত হলেন। গতকাল শুক্রবার রাত ৯টায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসবভন গণভবনে দলের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। বৈঠকে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে দলটির কার্যনির্বাহী সংসদের প্রায় সকল সদস্যই উপস্থিত ছিলেন। দলের... বিস্তারিত
নির্বাচিত সংবাদ
ভুরুঙ্গামারীতে চরাঞ্চলের মানুষের জন্য স্বেচ্ছাশ্রমে তৈরি হচ্ছে মাধ্যমিক বিদ্যালয়
সংকোচ নদী দ্বারা বিচ্ছিন্ন পাইকের ছড়া ইউনিয়নের ছিট পাইকের ছড়া, পাইকডাঙ্গা, ভরতের ছড়া ও গনাইর কুঠি গ্রাম। অব্যাহত নদীর ভাঙন, বালুচর আর কাদামাটির সাথে বসবাস এ অঞ্চলের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের। হাঁটুজল পেরিয়ে কিংবা বর্ষায় সাঁতার কেটে যারা ভুরুঙ্গামারী উপজেলা সদরে লেখাপড়া শিখেছেন তারা চলে গেছেন বাইরে। ফলে যুগের পর যুগ এ এলাকার মানুষ থেকেছে অবহেলিত, অর্ধশিক্ষিত ও অশিক্ষিত। তৎকালিন বিদ্যানুরাগীদের ঐকান্তিক চেষ্টায় গ্রাম ৪টিতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা পেলেও এখন পর্যন্ত প্রায় ১৫ হাজার চরাঞ্চলের মানুষের জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়নি কোন মাধ্যমিক বিদ্যালয়। স্থানীয়ভাবে বসবাসকারী ব্যক্তিরা বিদ্যালয়ের প্রয়োজনীতার কথা চিন্তা করে বৈঠকে সলে সাব-রেজিস্টার রফিকুল ইসলাম, মেজর রায়হান, কফিল উদ্দিন, আজহার আলীসহ অনেকেই বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে অর্থ সাহায্য দেবার প্রতিশ্রুতি দেন। স্পৃহা বেড়ে যায় স্থানীয় বাসিন্দাদের। তারা সরকারি সাহায্য ছাড়াই বিদ্যালয়টির অবকাঠামো তৈরির উদ্যোগ নেয়। মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তা, আব্দুস সাত্তার, খাদেমুল ইসলাম বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য এক একর জমি প্রদান করেন। যাদের টাকা নেই তারা কায়িক পরিশ্রম দেবার প্রতিশ্রিুতি দেন। নারীরাও প্রতিশ্রুতি দেন তারা কাজ করবেন। ভুরুঙ্গামারী ডিগ্রি কলেজের ইংরেজি বিষয়ের প্রভাষক গোলাম ফারুক সরকারকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক করে শুরু হয় বিদ্যালয়ের কার্যক্রম। ১৬ অক্টোবর পাইকের ছড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা স্থানীয় জাতীয় সংসদ সদস্য একেএম মোস্তাফিজুর রহমান, উপজেলা চেয়ারম্যান নুরুন্নবী চৌধুরীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত থেকে নিজস্ব অর্থায়নে বিদ্যালয়ের ভিত্তি প্রস্থর স্থাপন করে তিনতলা ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করেন। আর এ কাজে এগিয়ে আসছে স্থানীয় সকল পেশার নারী ও পুরুষ মানুষ। গতকাল ভবনের ব্যাজমেন্ট ঢালাইয়ের কাজে আসা অজহার আলী (৭৫), ইদ্রিস আলী (৫৫)ও নজির হোসেন (৩০) জানান , আমাগোর গ্রামে হাইস্কুল নাই। ম্যায়েরা (মেয়ে) পড়তে পারে না। তাই আমরা নিজেরা স্কুল তৈরির কাজ করছি। কাজের তদারকী করছেন নবপ্রতিষ্ঠিত ছিট পাইকের ছড়া নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক গোলাম ফারুক। তিনি ভুরুঙ্গামারী ডিগ্রি কলেজের ইংরেজি বিষয়ের প্রভাষক। তিনি জানান, আমি এখানকার বাসিন্দা। লোকজন আমাকে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে সহযোগিতা চেয়েছে। আমি ভারপ্রাপ্ত হিসেবে সহযোগিতা করছি। এখানকার মানুষের বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে ব্যাপক আগ্রহ দেখে বিস্মিত হয়েছি। যারা টাকা পারছে, টাকা দিচ্ছে। যাদের টাকা দেবার সামর্থ্য নেই, তারা কায়িক শ্রম দিচ্ছে। যাদের বাড়িতে গাছ আছে তারা গাছ কেটে নিয়ে আসছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন স্থানীয় ব্যক্তিদের দানেই প্রতিষ্ঠানটির অবকাঠামো হয়ে যাবে। তিনি বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
ফুলবাড়িতে সেতু হলে পাল্টে যাবে ৩০ হাজার মানুষের ভাগ্য
ফুলবাড়ী উপজেলার গোরুকমন্ডপ আনন্দবাজার মরা নদীর ওপর দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসী সেতু নির্মাণের দাবী জানিয়ে আসলেও আজো তা বাস্তবায়ন হয়নি। প্রতিদিন পাঁচ-ছয় হাজার মানুষ চলাচল করলেও নজরে আসেনি সেতুটি বাস্তবায়নের জন্য। ফলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে ৭টি গ্রামের মানুষদের। এ অঞ্চলে কৃষিপণ্য উৎপাদন প্রচুর হলেও বিক্রি করতে পাচ্ছে না যাতায়তের জন্য। ফলে প্রতি চাষাবাদে প্রকৃত মূল্য থেকে বঞ্চিত রয়েছে কৃষকরা। তাছাড়া এ ঝুঁকিপূর্ণ নড়োবড়ো বাঁশের সাকোঁ দিয়ে পারাপার হচ্ছে স্কুল মাদ্রাসা ও কলেজগামী ছাত্রছাত্রীরা। তবে সেতুটি বাস্তবায়ন হলে পাল্টে যাবে ৩০ হাজার মানুষের জীবন যাত্রারমান। ভাগ্য পরিবর্তন হবে এ অঞ্চলের মানুষের। এ এলাকা আমিনুল মিস্ত্রী ও গনি মিয়া জানান, ফুলবাড়ী উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের গোরুকমন্ডপ আনন্দবাজার একটি চরাঞ্চল এলাকা। এখানকার মানুষ কৃষির উপর নির্ভশীল। তাই সব ফসল উৎপাদন করেন কৃষকরা। মরা নদীর ওপর সেতু না থাকায় ব্যবসায়ীরা কাচামাল ক্রয় করার জন্য আসেন না এলাকায়। কাচামাল পচে নষ্ট হওয়ার আশংকায় কৃষকরা পানির দামে বিক্রি করে দিচ্ছেন স্থানীয় বাজারগুলোতে। তবে সেতুটি নির্মাণ করা হলে সঠিক দাম পাবে কৃষকরা। সে সাথে চর গোরুকমন্ডপ, ঝামাকুটি, কান্তাপাড়া, পশ্চিম আবাসন, মোগল হাট, আনন্দবাজার দক্ষিণ আবাসন মানুষের জীবন যাত্রারমান পাল্টে যাবে। স্থানীয়ভাবে চাঁদা উত্তোলন করে বাশের সাঁকো তৈরি করে চলাচল করলেও এখন সাঁকোটি ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম হয়েছে। আনন্দবাজার ঔষধ ব্যবসায়ী নেপাল চন্দ্র ও খোচরা সার ব্যবসায়ী ফরহাদ হোসেনসহ আরও কয়েকজন জানান, ব্যবসা-বাণিজ্যের অবস্থা খুবই করুণ। এর উন্নতির জন্য সেতুর কোনো বিকল্প নেই। এখানে সেতু নির্মাণ করা হলে সবকিছুর চাহিদা পূরণ হবে। নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মুসাব্বের হোসেন মুসা বলেন, এ নদী ওপর সেতু নির্মাণের জন্য উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তাকে তালিকা দেয়া হয়েছে। আশা করি দ্রুত সেতুটি বাস্তবায়ন হবে। বাস্তবায়ন হলে সুযোগ সুবিধা পাবে অবহেলিত এ অঞ্চলের মানুষ। এ প্রসঙ্গে উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা আঃ হাই বলেন, এই সেতুসহ ৬টির তালিকার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। তালিকা অনুমোদন হলে বাস্তবায়নের ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সৎ ও যোগ্য মানুষ দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করা উচিত বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী
বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক জনতালীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেছেন, রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য শৃংঙ্খলা আনা দরকার। সৎ ও যোগ্যমানুষ দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করা উচিত। স্বাধীনতার পর বড়াইগ্রামের মতো এত বড় দুর্ঘটনার খবর কোথাও শোনা যায়নি। অথচ সরকার সামান্য কিছু করেই দায়িত্ব শেষ করতে চায়। হতহত পরিবারের জন্য উল্লেখযোগ্য অনুদান প্রদানের দাবি জানান। গত সোমবার নাটোরে বড়াইগ্রামের রেজুর মোড়ে অথৈই পরিবহন ও কেয়া পরিবহনের সংঘর্ষে ৩৬ জন নিহত ও ৪২ জন আহত হওয়ার চার দিন পর গতকাল শুক্রবার দুপুরে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও নিহত স্বজনদের শান্তনা দিতে গিয়ে উপস্থিত জনতার সামনে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে স্থানীয় জনগণের কাছে কিভাবে দুর্ঘটনা ঘটেছিল সে বিষয়ে ও খোঁজ খবর নেন। সরকারের প্রয়োজনীয় দ্রুত পদক্ষেপ না নেওয়ায় কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, সরকারের মন্ত্রীরা বক্তৃতাকালে সড়ক পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়নের কথা বলেন। অথচ, বড়াইগ্রামের মতই দেশব্যাপী সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত মানুষের লাশের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছেদুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে তিনি এসব কথা বলেন। এরপর তিনি বড়াইগ্রাম থেকে গুরুদাসপুরের সিধুলী গ্রামে যান এবং নিহত শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
আওয়ামী লীগ থেকেও বহিষ্কার লতিফ সিদ্দিকী
সাবেক মন্ত্রী ও দলের সাবেক সভাপতিমন্ডলীর সদস্য আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী এবার আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্য পদ থেকেও বহিষ্কৃত হলেন। গতকাল শুক্রবার রাত ৯টায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসবভন গণভবনে দলের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। বৈঠকে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে দলটির কার্যনির্বাহী সংসদের প্রায় সকল সদস্যই উপস্থিত ছিলেন। দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফ লতিফ সিদ্দিকীর দেয়া জবাব কেন্দ্রীয় কমিটির নেতাদের পড়ে শোনান। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেন, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী লতিফ সিদ্দিকী কারণ দর্শানোর নোটিশের যে জবাব দিয়েছেন তা দলের গঠনতন্ত্র ও ঘোষণাপত্রের সাথে সাংঘর্ষিক। তার বক্তব্য সন্তোষজনক না হওয়ায় দলের প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে চুড়ান্তভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আর কোনো আপিল চলবে না। সংসদ সদস্য পদ সম্পর্কে আশরাফ বলেন, এ ব্যাপারে দলের সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশনকে পাঠানো হবে। নির্বাচন কমিশনই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, রুদ্ধদ্বার বৈঠকে লতিফ সিদ্দিকীর অতীতের বিতর্কিত কর্মকান্ডের একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরেন সৈয়দ আশরাফ। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যার পর খন্দকার মোশতাকের সরকারকে তিনি সমর্থন জানিয়েছিলেন। পরে ১৯৮১ সালেও শেখ হাসিনার বিরোধীতা করেছিলেন বাকশালের সমর্থক এই লতিফ। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় গণভবনে আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকের সূচনা বক্তব্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে রাষ্ট্র ও সরকার বিষয়ে অজ্ঞ। তিনি না জেনে অজ্ঞতার কারণে ভূল কথা বলে যাচ্ছেন। উনার উপদেষ্টারা উনাকে ঠিক মতো পৌরনীতি পড়াননি। বৃহস্পতিবার নীলফামারীতে দেয়া খালেদা জিয়ার বক্তব্যের সমালোচনা করে সৈয়দ আশরাফ বলেন, খালেদা জিয়া বলছেন এ সরকারকে কোন রাষ্ট্রই স্বীকৃতি দেয়নি। একটা রাষ্ট্র আরেকটা রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়। সরকার ও রাষ্ট্রের স্বীকৃতি এক না। যেমন মুক্তিযুদ্ধের সময় ভুটান বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতি দিয়েছিলো। এরপর পৃথিবীর প্রায় সকল রাষ্ট্রই বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছিলো। এত বেশি অজ্ঞতা নিয়ে খালেদা জিয়া কি করে দুই বার প্রধানমন্ত্রী হলেন? এমন প্রশ্ন তুলে আশরাফ বলেন, রাষ্ট্র পরিবর্তন হয় না। সরকার পরিবর্তন হয়। সরকার আসে সরকার যায়। খালেদা জিয়া রাষ্ট্র ও সরকার এক সঙ্গে গুলিয়ে ফেলেছেন। বিএনপিকে অপশক্তি আখ্যা দিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, তথ্য পাওয়ার জন্য এফবিআই এজেন্টকে ঘুষ দিতে গিয়ে হাতে নাতে ধরা পড়েছে। এ অপশক্তি যেখানেই থাকুক সেখানেই অপকর্ম, সেখানেই দূর্নীতি, সেখানেই জালিয়াতি করে। বাংলাদেশেও জালিয়াতি করে, বিদেশে গিয়েও জালিয়াতি করে। বিএনপি সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান এমন একজনকে তার মানবাধিকার বিষয়ক উপদেষ্টা নিয়োগ করেছেন। পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে। যিনি ফৌজদারি মামলা ফেস করছেন। তিনি কি ধরণের উপদেষ্টা নিয়োগ করলেন? একজন ক্রিমিনাল কি করে উপদেষ্টা হয়? আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সূচনা বক্তব্যের পর সভাপতিত্বে দলটির কার্যনির্বাহী সংসদের রুদ্ধদ্বার বৈঠক শুরু হয়। পবিত্র হজ, মহানবী সা. ও তাবলীগ জামায়াত নিয়ে করা মন্তব্য নিয়ে সারা দেশে সমালোচনার মুখে একই কমিটির গত বৈঠকে লতিফকে দলের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। ওই বৈঠকে তাকে কেন দল থেকে চূড়ান্তভাবে বহিষ্কার করা হবে না- তা জানতে চেয়ে কারণ দর্শানোর নোটিস পাঠানো হয়। গত মঙ্গলবার রাজধানীর জিগাতলা পোস্ট অফিস থেকে রেজিস্ট্রি ডাকে লতিফ সিদ্দিকীর টাঙ্গাইলের কালিহাতির স্থায়ী ঠিকানায় ওই নোটিস পাঠানো হয়। সাত দিনের মধ্যে ওই নোটিশের লতিফ সিদ্দিকী একটি জবাব দিয়েছেন। তা নিয়ে গতকাল কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে আলোচনা হয়। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, কার্যনির্বাহী কমিটির গত বৈঠকে দলের সভাপতিমন্ডলীর পদ থেকে লতিফকে যেভাবে বহিষ্কার করা হয় ঠিক সেভাবেই সাধারণ সদস্য পদ থেকেও বহিষ্কার করা হয়। তার জবাব যথার্থ না হওয়ায় গতকালের সভায় লতিফকে দলের সদস্য পদ থেকে সর্বসম্মতিক্রমে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সম্প্রতি কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে তাকে মন্ত্রিসভা থেকে অপসারণের প্রজ্ঞাপন জারি এবং দলের সভাপতিমন্ডলীর পদ থেকে অব্যাহতির সিদ্ধান্ত হয়। লতিফ সিদ্দিকী ২০০৯ সালে শেখ হাসিনার সরকারে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। এবার পেয়েছিলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। কিন্তু এক বছর না পেরোতেই তাকে বিদায় নিতে হয়। গত ২৮ সেপ্টেম্বর প্রবাসে এক অনুষ্ঠানে লতিফ সিদ্দিকী হজ ও তাবলীগ জামাত নিয়ে মন্তব্য করার পর দেশজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। এরই মধ্যে বিভিন্ন জেলায় এই রাজনীতিবিদের বিরুদ্ধে ডজনখানেক মামলা হয়েছে। দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখী করারও দাবি উঠেছে। সম্বিলিত ইসলামী দল ইন্টারপোলের মাধ্যমে লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেফতার করে শাস্তির দাবিতে আগামীকাল রোববার সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছে। টাঙ্গাইল-৪ আসন থেকে নির্বাচিত চার বারের সংসদ সদস্য লতিফ সিদ্দিকী বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন।
খালেদা জিয়ার পায়ের তলার মাটি সরে যাচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী
সরকার উৎখাত করতে গিয়ে খালেদা জিয়ার পায়ের তলার মাটি সরে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। আন্দোলনের নামে মানুষ হত্যা করলে সহজে ছেড়ে দেব না বলেও হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় গণভবনে আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদেও বৈঠকের সূচনা বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। শোকজ নোটিশের জবাবের পর আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে দল থেকে চুড়ান্ত বহিস্কার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে এ বৈঠক ডাকা হয়। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, খালেদা জিয়া হুমকী ধমকী দিচ্ছেন। তিনি সরকার উৎখাত করবেন। আমাদের উৎখাত করতে গিয়ে উনার পায়ের তলায় মাটি সরে যাচ্ছে। সেটা কি উনি দেখতে পারছেন না? দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যারা অতীতে আন্দোলনের নামে সন্ত্রাস, নৈরাজ্য, জ্বালাও পোড়াও, মানুষ খুন, ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে তাদের চিহ্নিত করে রাখুন। ভবিষ্যতে যাতে তারা আর নৈরাজ্য করতে না পারে। কেউ নৈরাজ্য করলে তাদের সরকার ছেড়ে দিবে না। কেউ জনগণের ক্ষতি করতে চাইলে তাদের উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে। আমরা জনগণের পাশে আছি। এটা উনাদের মনে রাখা উচিত। দেশের মানুষ ভালো থাকলে খালেদা জিয়ার ভালো লাগে না মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, মানুষ ভালো ভাবে ঈদ পূজা পালন করেছে। দেশ শিক্ষায় এগিয়ে যাচ্ছে, খাদ্যে স্বয়ংসর্ম্পূণ হয়েছে, সরকার বিনামূল্যে ঔষধ দিচ্ছে, মানুষ স্বাস্থ্য সেবা পাচ্ছে। দেশ সামনে এগিয়ে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে সুদৃঢ় করেছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, আমরা আর্ন্তজাতিক ভাবে নিজেদের শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করে নিয়েছি। সিপিএ এবং আইপিইউ তে মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে সংস্থ্যা দুটির প্রধান পদে বিজয় লাভ করে ইতিহাস সৃষ্টি করেছি। এর আগে এক সঙ্গে দুটি পদে কোন দেশ বিজয় লাভ করে নি। আমি আবারো বলবো এতে আমাদের গণতন্ত্রে বিজয় হয়েছে। আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, আমি জানি এ বিষয়ে সারা দেশের মানুষ আনন্দিত হয়েছে। যারা অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করেছিলো, যারা অবৈধ সরকারের উচ্ছিষ্ট ভোগী তারা গণতন্ত্রের এ বিজয়ে খুশি হতে পারেনি। দেশের উন্নয়ন চিত্র তুলে শেখ হাসিনা বলেন, গণতান্ত্রিক ধারা অব্যহত থাকার ফলে আমরা ৬ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পেরেছি। বাজেট তিনগুণ বাড়িয়েছি। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর কাজ শুরু করেছি। এখন ৬৪ শতাংশ মানুষ বিদ্যুৎ পাচ্ছে। আগামীতে যে সময় আছে তাতে আমরা ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিতে পারবো। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে উন্নয়ন করতে পারে আমরা সে দৃষ্টান্ত তৈরি করেছি। ভিশন ২০২১ মধ্যম আয়ের দেশ হবে আমরা নির্ধারণ করেছি। আমাদের মাথাপিছু আয় ১১৯০ ডলার। আমরা তো প্র্যম আয়ের দেশের কাছাকাছি পৌঁছে গেছি। আওয়ামী লীগ মানুষকে শান্তি ও সমৃদ্ধ দেয়। বিএনপি ক্ষমতায় এলে দূর্নীতি, লুটপাট করে। তারা ক্ষমতায় এলে তাদের ভাগ্য পরিবর্তন করে। কিন্তু তারা মানুষকে কিছুই দিতে পারে না। যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী। খালেদা জিয়ার বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, \'নিম্নবিত্তরা মধ্যবিত্তের পর্যায়ের চলে আসছে। এখন মধ্যবিত্তরা ধনিক শ্রেণীতে পরিণত হচ্ছে। চোখের সামনে কতজনকে দেখলাম। খালেদা জিয়ার কোথায় পেলেন মধ্যবিত্তরা নিম্নবিত্ত হচ্ছে। আর নিম্নবিত্তরা নিস্ব হয়ে যাচ্ছে এটা তিনি কোথায় পেলেন। উনি ওনার নিজের দিকটা দেখুন না। খালেদা জিয়ার শাড়ি, গহনা, ঘরের আসবাব পত্রের দাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, তার একেকটা শাড়ির দাম কয়েক লক্ষ টাকা। উনার বাড়ি পরিবর্তনের সময় দেখেছি তার বাড়ির ঝাড়বাতি, ইটালিয়ান কার্পেট, আসবাবপত্র। তিনি তিন চার লক্ষ টাকা দামের ফ্রেন্স শিপন শাড়ি পরেন। গহনাঘাটির কথা কি বলবো। মহিলা মানুষ গহনাঘাটি তো পরবেনই। মিলিয়ন ডলার দামের গহনাঘাটি পরেন। তিনি এগুলো তিনি কোথা থেকে পেলেন। জিয়াউর রহমান মারা যাওয়ার সময় ভাঙ্গা সুটকেস রেখে গিয়েছিলেন। তার ভাঙ্গা সুটকেস নিশ্চয়ই যাদুর বাক্স হয়েগিয়েছিলো। নইলে তিনি চুরি করে পেয়েছেন। চুরি করেছেন বলেই ভয়ে খালেদা জিয়া আদালতে হাজির হতে ভয় পান মন্তব্য করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, আদালতে গেলে প্রমাণ হয়ে যাবে। এতিমের টাকা চুরি করেছেন বলেই তিনি ভয় পান। ভয় পান বলেই তিনি মামলা থেকে পালানোর পথ খোঁজেন, হরতাল দেন। তিনি বলেন, দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। আর্ন্তজাতিক ভাবমূর্তি উজ্জল হয়েছে। ২০০৯ সালে সরকার গঠন করে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে সুদৃঢ় করেছি। তাই দেশ আর্ন্তজাতিক বিভিন্ন সংস্থায় জায়গা করে নিয়েছে। কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশন (সিপিএ) পদে সংসদ সদস্য দশম সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এবং ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন (আইপিইউ) নির্বাচনে সাবের হোসেন চৌধুরীর নির্বাচিত হওয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই যে দুটি পদ, একটি দেশ, এক সপ্তাহের ব্যবধানে জয়ী হওয়া এটা কিন্তু আর কোনো দেশ পারে নাই। কিন্তু এই জয়ে খুশি হতে পারেন নাই তারাই, যাদের জন্মই হয়েছে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে এবং উচ্ছিষ্টদের নিয়ে দল গঠন করে। বৈঠকে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে দলটির কার্যনির্বাহী সংসদের প্রায় সকল সদস্যই উপস্থিত ছিলেন।
আজ গোলাম আযমের জানাজা বায়তুল মোকাররমে বাদ জোহর
বাংলাদেশের স্বাধীনতাবিরোধীদের প্রতীক গোলাম আযমের জানাজা ও দাফন হবে আজ শনিবার। তার ছেলে আব্দুল্লাহিল আমান আযমী গতকাল শুক্রবার রাতে সাংবাদিকদের বলেন, শনিবার জোহরের পর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে তার বাবার জানাজা হবে। তিনি নিজেই জানাজা পড়াবেন। জানাজার পর মগবাজারে পারিবারিক কবরস্থানে জামায়াতের সাবেক আমির গোলাম আযমকে দাফন করা হবে বলে জানান তার ছেলে। আযমী জানান, বিদেশে অবস্থানরত তার পাঁচ ভাইয়ের কেউ শনিবারের মধ্যে দেশে পৌঁছাতে পারবেন না। তবে তাদের স্ত্রী সন্তানদের মধ্যে কেউ কেউ আসছেন। মগবাজারের বাসায় শীতাতপনিয়ন্ত্রিত একটি লাশবাহী গাড়িতে তার মরদেহ রাখা হয়েছে। একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে ৯০ বছর কারাদন্ডে দন্ডিত বঙ্গবন্ধু মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। ৯২ বছর বয়সী গোলাম আযমের আরও ৮৯ বছর কারাভোগ বাকি ছিল। বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে শুক্রবার সকালে পরিবারের সদস্যদের কাছে তার লাশ হস্তান্তর করা হয়। দুপুর ২টা থেকে ৪টা পর্যন্ত দলের নেতাকর্মীদের দেখার জন্য বাসার সামনে রাখা হয় জামায়াতের এই তাত্তি্বক নেতার লাশ। গোলাম আযমের আইনজীবী তাজুল ইসলাম আগের রাতেই জানিয়েছিলেন, গোলাম আযমের \'শেষ ইচ্ছা\' অনুযায়ী মগবাজারে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফনের প্রস্তুতি চলছে। সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্ত হওয়া আযমী ওই সময় সাংবাদিকদের বলেন, বাবার শেষ ইচ্ছা ছিল মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী বা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী জানাজা পড়াবেন। কিন্তু তারা দুজনেই কারাগারে থাকায় জানাজা কে পড়াবেন, তা দলের নেতারা ও পরিবারের সদস্যরা আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন। এর প্রতিক্রিয়ায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম শনিবার বলেন, গোলাম আযমের জানাজায় ইমামতির জন্য কারাবন্দি মতিউর রহমান নিজামী বা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর প্যারোলে মুক্তি চাওয়ার কোনো \'যৌক্তিকতা\' নেই। এদিকে গোলাম আযমের লাশ তার পৈতৃক বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যাতে না নেওয়া হয় সেজন্য দুপুরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। পরে গোলাম আযমের প্রতি ঘৃণা জানিয়্থে নবীনগর উপজেলা প্রেসক্লাব চত্বরে সমাবেশ করেন তারা। শীর্ষ যুদ্ধাপরাধী গোলাম আযমকে বাংলাদেশে দাফন না করে তার লাশ পাকিস্তানে পাঠিয়ে দেওয়ার দাবিও তুলেছে অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট ফোরামসহ কয়েকটি সংগঠন। এ দাবিতে শুক্রবার বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে তারা মানববন্ধনও করে। শেষ দেখা দেখতে নেতা-কর্মীদের ভিড় সদ্য প্রয়াত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির গোলাম আযমের মৃতদেহ দেখতে আসা লোকজনের মধ্যে দলটির \'পলাতক\' নেতা-কর্মীদেরও দেখা গেছে। বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা মাথায় নিয়ে আত্মগোপনে থাকা এসব নেতা-কর্মীরা গতকাল শুক্রবার শেষবারের মতো দেখতে আসেন মগবাজারের বাসায়। অন্যদিকে পুলিশ মারমুখি না থাকায় শেষ দেখা দেখেই ফের আত্মগোপনে চলে যান তারা। যদিও জামায়াতের এসব নেতা-কর্মীদের সাথে পুলিশের সম্পর্ক অনেকটা সাপে নেউলে। এর মধ্যেও উভয়পক্ষই শান্তিপূর্ণভাবে একই বাড়িতে লাশের চারপাশে ছিলেন। এছাড়া গোলাম আযমের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে কোন ধরনের সহিংসতা বা নাশকতা যেন সৃষ্টি না হয়- তা ঠেকাতে সতর্ক রয়েছে পুলিশ। গতকাল জুমার নামাজের আগে ও পরে বায়তুল মোকাররম মসজিদ ঘিরে ছিলো কড়া নিরাপত্তা। অন্যদিকে রাজধানীসহ সারা দেশে পুলিশকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকওে বলেছে পুলিশ সদর দফতর। গতকাল শুক্রবার সকালে তার মরদেহ মগবাজারের বাসায় আনার পর থেকে লাশ দেখতে আসা মানুষের ভিড়ের মধ্যে ক্রমশ বাড়ছিলো পলাতক ও আত্মগোপনে থাকা জামায়াতের কেন্দ্রীয় এবং ও মহানগরের নেতাদের উপস্থিতি। গতকাল শুক্রবার মগবাজারের ওই বাসায় গিয়ে দেখা গেছে, মৃতদেহ ঘিরে মানুষের ভিড়। এর মধ্যেই বিভিন্ন মামলার গ্রেফতারি পরোয়ানা ভুক্ত পলাতক আসামী আত্মগোপনে থাকা জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমির মকবুল আহমদ, ঢাকা মহানগর নায়েবে আমির হামিদুর রহমান আযাদ, নুরুল ইসলাম বুলবুল, ডা. আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহেরসহ অন্তত ২০ নেতাকর্মীকে দেখা গেছে। তবে পলাতকদের কেউ গণমাধ্যমে কথা বলতে রাজি হননি। অন্যদিকে মৃতদেহ দেখা শেষে সংবাদপত্র, আইনজীবী লেখা গাড়ি এবং এ্যাম্বুলেন্সে তাদের ওই স্থান ত্যাগ করতে দেখা গেছে।
বগুড়ায় দলীয় কার্যালয়ে জেলা সৈনিক লীগের আহ্বায়ক খুন
অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জের ধরে বগুড়া শহরের প্রাণকেন্দ্র সাতমাথার পাশে টেম্পল রোডে দলীয় কার্যালয়ে জেলা বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের আহবায়ক শিমুল হক রেহান (৩৭) খুন হয়েছেন। এই হত্যার অভিযোগে পুলিশ শহর সৈনিক লীগের যুগ্ম আহবায়ক সবুজ সওদাগরসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে। এ ছাড়া আওয়ামী লীগ অফিসের কেয়ারটেকার আনোয়ার হোসেনকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। নিহত রেহানের বাড়ি বগুড়ার গাবতলী উপজেলার মালিয়ান ডাঙ্গা গ্রামে। তার বাবার নাম আব্দুস সাত্তার। তবে তিনি শহরের মালতিনগরে ভাড়া বাসায় থাকতেন। দলীয় সূত্র জানায়, সম্প্রতি বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির বজলুর রহমান মারা যান। তার মৃত্যুতে জেলা আহবায়ক কমিটি আজ বাদ আসর দলীয় কার্যালয়ে দোয়া মাহফিল ও স্মরণ সভা আয়োজন করে। সেই সভা সফল করতে গতকাল বিকেলে প্রস্তুতি সভা ডাকা হয়েছিল। সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে জেলা আহবায়ক শিমুল হক রেহান কার্যালয়ে প্রবেশ করে তার চেয়ারে বসার চেষ্টা করলে প্রতিদ্বন্দ্বী গ্রুপের নেতা সবুজ সওদাগর ও সহযোগীরা তাকে বাধা দেন। এক পর্যায়ে সবুজ সওদাগর ও তার সহযোগীরা রেহানের উপর হামলা চালায়। এ সময় তার বুকে, পিঠে ও হাতে উপর্যুপরি ভাবে ছুরিকাঘাত করা হয়। তখন প্রতিদ্বন্দ্বী দু\'গ্রুপের মধ্যে মারামারিও হয়। এক পর্যায়ে রেহান কার্যালয়ের গলিপথ ধরে বাইরে বেরুনোর চেষ্টা করেন। কিন্তু দলীয় কার্যালয়ের মূল ফটকে এসেই তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে দলীয় কর্মিরা তাকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। কিন্তু পথিমধ্যে তার মৃত্যু ঘটে। মারামারির সময় সবুজ সওদাগরও আহত হন। তদন্তকারী কর্মকর্তা বগুড়া সদর ফাঁড়ির ইনচার্জ এস আই মঞ্জুরুল হক ভুঞা জানান সম্প্রতি রেহান জেলা বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের আহবায়ক কমিটির আহবায়ক নির্বাচিত হন। কিন্তু সৈনিক লীগের অপর অংশের নেতৃত্ব দেওয়া নেতা সবুজ সওদাগর এটা মেনে নিতে পারছিলেন না। তাই বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের নেতা কর্মীরা দু\'ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। স্মরণ সভার কর্মসূচি ঘোষণা করা হলেও কার্যালয় দখলই ছিল দু\'গ্রুপের উদ্দেশ্য। যে কারণে কার্যালয়ে চেয়ারে বসার আগেই রেহানের উপর হামলা করা হয়। বগুড়া ডিবির ওসি মিজানুর রহমান জানান রেহান হত্যার প্রধান আসামী সবুজ সওদাগরসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গত রাত ৮টার দিকে শহরের কলোনী এলাকায় সাবিনা ক্লিনিক থেকে সবুজ সওদাগরকে গ্রেফতার করা হয়। রেহান খুনের সময় সবুজ মাথায় আঘাত পেয়েছেন। এজন্য তিনি ওই ক্লিনিকে ভর্তি হয়ে আত্মগোপনে ছিলেন। সবুজ সওদাগর শহরের মালতিনগরের সিরাজুল ইসলামের পুত্র। এ ঘটনায় তার ভাই সোহান (২০) সহ যে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তারা হলো একই এলাকার সাইফুল ইসলামের পুত্র বিপুল (২২), জামিলনগরের রাহাত ওরফে রিপন (২০), ফুলবাড়ি এলাকার জাহিদুল ইসলামের পুত্র বেল্লাল (২২)। উল্লেখ্য, এই হত্যাকান্ডের পরপরই সাতমাথা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। চারিদিকে ফাকা হয়ে যায। মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশী নিহত
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার জমিনপুর সীমান্তে গতকাল শুক্রবার ভোরে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলিতে সলেমান আলী (২৫) নামে এক বাংলাদেশী যুবক নিহত হয়েছে। নিহত সলেমান শিবগঞ্জ উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের জমিনপুর খাড়োগ্রামের এজাবুল হকরে ছেলে। এই ঘটনায় বিজিবির প্রতিবাদের মুখে দুঃখ প্রকাশ করেছে বিএসএফ। তারা বিষয়টি তদন্ত করার আশ্বাস দিয়েছে। নিহতের পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসী সূত্রে জানা (২ পৃঃ ৬ কঃ দ্রঃ) চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিএসএফের (প্রথম পাতার পর) গেছে, গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে মোবাইলে ফোনে একটি কল আসার পর সলেমান বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। গতকাল শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে বাড়ির পিছনে জমিনপুর সীমান্তের ১৭৯ নম্বর সীমান্ত পিলার সংলগ্ন নোম্যান্সল্যান্ড এলাকায় ভারতের ১২৫ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের চুরি অনন্তপুর বিএসএফ ফাঁড়ির সদস্যদের গুলিতে তার মৃত্যু হয়। সকালে স্থানীয় এলাকাবাসী তার লাশ দেখতে পায়। তবে কালীপূজার রাত থাকায় পটকার শব্দে এলাকাবাসী কিছু টের পাননি। সলেমান আলীর মা হালিমা বেগম জানান, ভারতে শ্বশুরবাড়ি হওয়ায় সলেমান প্রায়ই সীমান্ত পেরিয়ে সেখানে যেত। তবে ঘটনার সময় সলেমান কেন সীমান্তে গিয়েছিল তা তিনি জানাতে পারেননি। তবে স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, নিহত সলেমান ফেনসিডিল চোরাচালানের সাথে জড়িত। চোরাচালান সংক্রান্ত কাজে সীমান্তে গেলে সে বিএসএফের গুলিতে নিহত হয়। এদিকে বিজিবির সহায়তায় গতকাল শুক্রবার দুপুরে নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায় পুলিশ। চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৯ বর্ডার গার্ড ব্যাটলিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আবু জাফর শেখ মোহাম্মদ বজলুল হক জানান, কিরনগঞ্জ বিওপি\'র আর্ন্তজাতিক ১৭৯ নম্বর সীমান্ত পিলার সংলগ্ন এলাকায় সলেমানের বাড়ি। বাড়ির পিছনেই কাঁটাতারের সীমানা প্রাচীরের বাংলাদেশী অংশের ১শ গজ অভ্যন্তর এলাকা থেকে সলেমানের গুলিবিদ্ধ লাশ পাওয়া গেছে। এই ঘটনার জন্য বিএসএফের কাছে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বিজিবি। এরপর শুক্রবার দুপুর আড়াইটায় জমিনপুর সীমান্তে বিজিবি-বিএসএফের মধ্যে কোম্পানী কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পতাকা বৈঠকে বিজিবির পক্ষে নেতৃত্ব দেন কোম্পানি কমান্ডার ইব্রামি। অন্যদিকে বিএসএফের পক্ষে নেতৃত্ব দেন সহকারী কমিশনার রাজেন্দ্র সিং। পতাকা বৈঠকেও বিজিবি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানালে বিএসএফ দুঃখ প্রকাশ করে বলে জানান তিনি। এছাড়াও ঘটনাটি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস বিএসএফ দিয়েছে বলে জানান তিনি।
বহু কাঙ্ক্ষিত সাফল্যের প্রত্যাশায় বাংলাদেশ
আবারও কি ব্যর্থতা, নাকি এবার সাফল্যের সোনার হরিণকে খাঁচায় বন্দি করা? সংশয়ের দোলাচালটা থাকছেই। তবে সিরিজটি যখন নিজ মাটিতে আর প্রতিপক্ষ যখন জিম্বাবুয়ে তখন সাফল্য দিয়েই বছর শেষ করার প্রত্যাশায় গোটা বাংলাদেশ। এই প্রত্যাশায় নিয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে মাঠে নামছে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। শনিবার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে ৩ ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে। ম্যাচ শুরু সকাল ১০টায়। এর আগে হোম সিরিজটি নিয়ে বাংলাদেশী ক্রিকেটপ্রেমী মানুষের প্রত্যাশা আর কৌতুহলের পারদ উচ্চ মাত্রায়। ব্যর্থতার সব কালিমা দূর করে সাফল্য দিয়ে বছর শেষ হবে; সাধারণ ক্রিকেটপ্রেমীদের পাশাপাশি জাতীয় ক্রিকেট দলও রয়েছে তেমন প্রত্যাশায়। \'আন লাকি থার্টিন\' বলে একটা কথা রয়েছে। তবে থার্টিন নয়, বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য যেন ফোরটিন সংখ্যাটি হয়ে গেছে আনলাকি। কারণ ২০১৪ সালটা মোটও ভাল কাটে নি বাংলাদেশের। টানা ১০ মাস হতে চলছে জাতীয় দলের ব্যর্থতার বয়স। তবে শনিবার থেকে শুরু হওয়া প্রথম টেস্ট ম্যাচ দিয়ে বৃর্থতার বৃত্ত ভরাট করতে সমর্থ হবেন মুশফিক-সাকিব-তামিমরা, এমন প্রত্যাশা দেশজুড়ে। প্রায় ১০ বছর পর বাংলাদেশের মাটিতে টেস্ট খেলবে জিম্বাবুয়ে। বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে সিরিজ মানেই অন্যরকম এক উত্তেজনা; ২ দলের ক্রিকেটীয় লড়াইটা সবসময়ই বেশ আকর্ষণীয় বিষয়। একে অন্যকে হারানোর ব্যাপারটি তো রয়েছেই; সঙ্গে সমশক্তির এ ২টি দলের মধ্যে থাকে র‌্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে যাওয়ার লড়াইও। এবারের সিরিজেও এর ব্যতয় ঘটছে না। সিরিজ জয়ের ব্যাপারে যথেষ্ট আশাবাদী বাংলাদেশের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। তবে সতর্ক রয়েছেন প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ের ব্যাপারেও। মুশফিক বলেছেন, \'তারা যে কোন সময় যে কোন কিছু ঘটিয়ে দিতে পারে।\' সদা সতর্ক মুশফিক। অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসের কারণে জিম্বাবুয়ের কাছে বলি হতে চান না বাংলাদেশের দলপতি। এদিকে এই সিরিজ দিয়েই আবার ক্রিকেটে ফিরছেন সাকিব আল হাসান। তিনি তো বলিই দিয়েছেন, \'হয়তো ফিল্ডিংটা ৫০-৫০ অথবা ৪০-৪০ হবে। তবে আমরা তাদের থেকে অন্য সবদিক দিয়েই এগিয়ে।\' যতটুকু আত্মবিশ্বাস নিলে জয় পেতে সুবিধা হবে ঠিক ততটুকু আত্মবিশ্বাস নিয়েই মাঠে ঝাঁপিয়ে পড়তে চান বিশ্বের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার সাকিব। বাংলাদেশের এই দুই অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের বক্তব্যেই একটি বিষয় স্পষ্ট-সাফল্যের খোঁজে ভীষণ ক্ষুধার্ত বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়েকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেবে না জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা। সাফল্যের খোঁজে দলের সেরা অস্ত্রগুলোও মজুদ করে রেখেছে বাংলাদেশের টিম ম্যানেজম্যান্ট। জিম্বাবুয়েকে কোনঠাসা করতেই হবে! এর আগে বিভিন্ন সিরিজের শুরুতে প্রস্তুতি ম্যাচগুলোতে দলের সোর অস্ত্রগুলোকেও ব্যবহার করেছিলেন তারা। তবে এবারে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে দলের সেরা খেলোয়াড় ও \'বিশেষ অস্ত্র\' স্পিনারদের আড়াল করে রেখেছে ম্যানেজমেন্ট। বাংলাদেশের এমন পরিকল্পনায় অবশ্য অবাক নন জিম্বাবুয়ের কোচ ও অধিনায়ক। অতিথিদের দলপতি ব্রেন্ডন টেলর মনে করছেন এটা স্বাভাবিক ব্যাপার। হোম কন্ডিশনে স্বাগতিক দল এমন সুবিধা গ্রহণ করবে, এটাই স্বাভাবিক। তিনি আরও মনে করছেন, মাঠের খেলায় বাংলাদেশের স্পিন আক্রমণই তাদের প্রধান বাধা হবে। এ ক্ষেত্রে যতটুকু সম্ভব প্রস্তুতি নিয়েই লড়াইয়ে নামবে জিম্বাবুয়ে। টেলর বলেছেন, \'আমাদের দলেও বেশকিছু ভাল মানের স্পিনার ও পেস বোলার রয়েছে; যাদের ঘরোয়া ক্রিকেটে ভাল খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে।\' জিম্বাবুয়ে জাতীয় দল গত শুক্রবার বাংলাদেশ এসেছে। মাঝের সময়টায় দুই দিন বিশ্রাম নিয়ে ৩ দিনের একটি প্রস্তুতি ম্যাচও খেলেছে তারা। এখন চূড়ান্ত লড়াইয়ের অপেক্ষায় দলটি। বাংলাদেশও প্রস্তুত। \'এবার নাহি দেব ছাড়\' মনোভাব নিয়েই তৈরী হয়ে রয়েছেন মুশফিক-সাকিব-তামিমরা। মিরপুর টেস্ট দিয়ে অভিষেক হতে পারে বাংলাদেশের লেগ স্পিনার জুবায়ের হোসেন লিখনের। দলের নতুন এই সদস্যটিও প্রস্তুত; বলেছেন, \'বেশ কিছুদিন ধরে ভাল ক্রিকেট খেলছি বিধায় নির্বাচকরা আমাকে দলে সুযোগ দিয়েছে। আমি নির্বাচকদের আস্থার প্রতিদান দিতে চাই।\' উল্লেখ্য, ঢাকা টেস্টের পর খুলনা ও চট্টগ্রামে আরও দুটি টেস্ট খেলবে দুই দল। টেস্টে বাংলাদেশের রেটিং পয়েন্ট এখন ১৯। জিম্বাবয়ের পয়েন্ট ৩৯। যদি মুশফিকরা ৩ ম্যাচের এই টেস্ট সিরিজ ৩-০ ব্যবধানে জিততে পারে তাহলে র‌্যাংঙ্কিয়ে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ। তখন বাংলাদেশের রেটিং পয়েন্ট হবে ৫৩। ২-০ সিরিজ জিতলেও এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ। তখন বাংলাদেশের রেটিং পয়েন্ট হবে ৪৮। এমনকি বাংলাদেশ ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জয় করলেও ৪১ রেটিং পয়েন্ট পাবে বাংলাদেশ। তবে রেটিং নিয়ে এখন ভাবনা-চিন্তায় নেই বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। মুশফিক তো বলেই দিয়েছেন, \'আগে জয়, এরপর রেটিং।\' খুবই যুক্তিযুক্ত কথা বলেছেন বাংলাদেশের দলপতি। যেখানে বছরজুড়ে ব্যর্থতার গ্লানি বয়ে বেড়াতে হচ্ছে সেখানে রেটিং দিয়ে কি আসে যায়! আগে তো ব্যর্থতার বোঝা ঝেড়ে ফেলতে হবে সাফল্য দিয়ে। মিরপুরের মাটিতে তাই বুহকাঙি্ক্ষত একটি জয়ের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে বাংলাদেশ; যে জয় ফের প্রশান্তির হাওয়া বইয়ে দিবে এ দেশের ক্রিকেটে। বাংলাদেশ দল : মুশফিকর রহিম (অধিনায়ক), তামিম ইকবাল (সহ-অধিনায়ক), সাকিব আল হাসান, মুমিনুল হক, রুবেল হোসেন, শুভাগত হোম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, শফিউল ইসলাম, যুবায়ের হোসেন লিখন, শাহাদাত হোসেন, মার্শাল আইয়্যুব, আল-আমিন হোসেন ও তাইজুল ইসলাম। জিম্বাবুয়ে দল : ব্রেন্ডন টেলর (অধিনায়ক) , সিকান্ডার রাজা, রেগিস চাকাবভা, ব্রায়ান চারি, টেন্ডাই চাটারা, এল্টন চিগুম্বুরা, ক্রেইগ আরভিন, টাফাডজওয়া কামুঞ্জোজি, হ্যামিল্টন মাসাকাডজা, শিনগিরাই মাসাকাডজা, ওয়েলিংটন মাসাকাডজা, নাটসাই এম\'শানগিউ, রিচমন্ড মুটুম্বামি, জন এনউম্বু, টিনাশে পানিয়ানগারা, ভুসিমিজি সিবান্ডা ও মালকম ওয়ালার।
এবার ৩৫ কোটি টাকার বাণিজ্য চলনবিলের সুস্বাদু শুঁটকির সমাদর দেশে-বিদেশে
উত্তরাবাংলার মিঠে পানির মৎস্যভান্ডার চলনবিলের বাতাসে এখন শুঁটকি মাছের মৌ মৌ গন্ধ। আর বিলে-নদীতে মৎস্যখেকোদের নিষিদ্ধ সোঁতিতে মাছ ধরার নগ্ন উৎসব চলছে। বিল থেকে পানির সাথে ছুটছে মাছ নদীর দিকে। এখন চলছে মাছধরা ও মাছ শুকানোর ভরা মওসুম। এই বিলের সুস্বাদু শুঁটকি মাছের চাহিদা বেড়েছে দেশে-বিদেশে। এখন রফতানি হচ্ছে আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে। একটা সময় ছিল যখন চলনবিলের মাছ স্থানীয় অর্থনীতি ও জীবনযাত্রায় বিপুল প্রভাব ফেলত। তখন মাছ বিক্রি করে আর্থিকভাবে সচ্ছল হতো বিলাঞ্চলের মানুষ। ১৯১৪ সালে চলনবিলের মাঝ দিয়ে প্রথম ঈশ্বরদী-সিরাজগঞ্জ রেলপথ নির্মাণ করে ব্রিটিশ কোম্পানি সরকার। তখন চলনবিলের সাথে কলকাতার যোগাযোগ স্থাপিত হয়। ওই সময় ট্রেনে করে মাছ যেত কলকাতায়। স্বাধীনতার পরে ১৯৭৭ সালে চলনবিলের মাঝ দিয়ে বাঘাবাড়ী থেকে সিংড়া পর্যন্ত বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ করা হয়। ২০০২ সালে চলনবিলের বুক চিরে নির্মাণ করা হয় ৫৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যর বনপাড়া-হাটিকুমরুল-যমুনা সেতু সংযোগ সড়ক। \'ইম্পেরিয়াল গেজেটিয়ার অব ইন্ডিয়া\' থেকে জানা যায়, এক সময় চলনবিল নাটোর জেলার বড়াইগ্রাম, গুরুদাসপুর, সিংড়া, নওগাঁ জেলার রানীনগর, আত্রাই, সিরাজগঞ্জ জেলার তাড়াশ, রায়গঞ্জ, উল্লাপাড়া, পাবনা জেলার চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া, ফরিদপুর, বেড়া এবং বগুড়া জেলার দক্ষিণাঞ্চল মিলে চলনবিলের অবস্থান ছিল বিশাল আয়তনের। কিন্তু ১৯১৪ সালে ঈশ্বরদী-সিরাজগঞ্জ রেলপথ স্থাপনের পর থেকে রেলপথের উত্তর ও পশ্চিম ও দক্ষিণ অংশে চলনবিল বিভক্ত হয়ে যায়। চলনবিলাঞ্চলে জেলে, ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা মাছ ধরা ও শুকানোয় ব্যস্ত সময় পার করছেন। দেশী মাছকে কেন্দ্র করে চলনবিলে গড়ে উঠেছে ২৫০টি অস্থায়ী শুঁটকির চাতাল। গুরুদাসপুরের সাতগাড়ী গ্রামের ব্যবসায়ী নান্নু মিয়া শুঁটকির চাতাল গড়েছেন তাড়াশের মহিষলুটি মাছের আড়তের পাশে। তিনি জানান, গত বছর তার চাতালে ৬৫০ থেকে ৭০০ মণ শুঁটকি উৎপাদন হয়েছিল। সৈয়দপুর, নীলফামারীসহ বিভিন্ন এলাকার শুঁটকি ব্যবসায়ীরা এসে চাতাল থেকেই শুঁটকি কিনে নিয়ে যান। তবে এ বছর তার চাতালে কী পরিমাণ শুঁটকি উৎপাদন হবে তা তিনি জানাতে পারেননি। জানা যায়, চলতি মওসুমে এসব চাতালে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা মূল্যের ১১০ থেকে ১২৫ মেট্টিক টন শুঁটকি উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের বড় বড় ব্যবসায়ীরা সরাসরি চাতাল থেকে পছন্দের শুঁটকি কিনে নিয়ে যান। শুঁটকির মান ভেদে \'এ\', \'বি\' ও \'সি\' গ্রেডে বাছাই করা হয়। \'এ\' গ্রেডের (ভালো মানের) শুঁটকি মাছ আমেরিকা, মালয়েশিয়া, সৌদি আরব, কাতার, ওমান, বাহরাইন, দুবাই, ইরাক, কুয়েত, লিবিয়া, ইন্দোনেশিয়াসহ ২৫টি দেশে রফতানি করা হচ্ছে। সাধারণত এসব দেশে বসবাসরত প্রবাসী বাঙালিদের মধ্যে রয়েছে চলনবিলের সুস্বাদু শুঁটকির ব্যাপক সমাদর। তা ছাড়া \'সি\' ও \'বি\' গ্রেডের শুঁটকি মাছ দেশের ভিতরে দিনাজপুর, সৈয়দপুর, নীলফামারী, রংপুর, রাজশাহী, খুলনা, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামে উচ্চমূল্যে বিক্রি হয়ে থাকে চলনবিলের শুঁটকি। সৈয়দপুরের শুঁটকি ব্যবসায়ী এখলাছ উদ্দিন মিয়া জানান, চলনবিলের শুঁটকির মান ভালো। তাই দেশের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। চলতি মওসুমে চলনবিলে প্রায় ২৫০টি অস্থায়ী চাতালে মাছ শুঁটকি করা হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা শুঁটকি তৈরির চাতাল মালিকেরা এখানে আস্তানা গেড়েছেন। সাধারণত তিন থেকে ছয় লাখ টাকা পুঁজি নিয়ে এ ব্যবসা শুরু করা যায়। পানি কমতে থাকায় চলনবিলের বিভিন্ন স্থানে জেলেদের জালে ধরা পড়ছে পুঁটি, খলসা, চেলা, টেংরা, কই, মাগুর, শিং, বাতাসি, চিংড়ি, নলা, টাকি, গুচিবাইম, বোয়াল, ফলি, কাতল, নলা, শোল, গজারসহ নানা জাতের মাছ। এসব মাছ কিনে অথবা নিজেরা চাতালে শুকিয়ে উৎপাদন করছে শুঁটকি। পরে এই শুঁটকি পাঠানো হচ্ছে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। জানা যায়, চলনবিলের দুই সহস্রাধিক পরিবার মৌসুমী শুঁটকি তৈরির কাজে জড়িত রয়েছেন। এসব পরিবারের নারী-পুরুষ দিন হাজিরায় কাজ করছেন শুঁটকি চাতালে। কাজের ধরন অনুয়ায়ী তারা মজুরি পাচ্ছেন ২৫০ থেকে সাড়ে ৩৫০ টাকা। এ কাজ করে তারা আর্থিকভাবে সচ্ছল হচ্ছেন। শুঁটকি তৈরির কাজে নিয়োজিত ননুয়াকান্দি গ্রামের সবিতা, তাহমিনা, রমজান আলী, সমশের মিয়াসহ বেশ কয়েকজন নারী-পুরুষ শ্রমিক জানান, তিন কেজি তাজা মাছ শুকিয়ে এক কেজি শুঁটকি তৈরি হয়। প্রকার ভেদে শুঁটকির বাজারমূল্য ২০০ টাকা থেকে এক হাজার ২০০ টাকা। চলতি মৌসুমে চলনবিলে আহরিত মাছ থেকে ১১০ থেকে ১২৫ মেট্টিক টন শুঁটকি উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ৩৫ কোটি টাকা হবে বলে সংশ্লিষ্ট জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে। বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কের তাড়াশ উপজেলার মহিষলুটির শুঁটকির আড়তদারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এই মহাসড়ক নির্মাণের আগে চলনবিল থেকে আহরিত বিপুল পরিমাণ মাছ অবিক্রীত থাকত। এসব মাছ পরে শুঁটকি করা হতো অথবা ফেলে দেয়া হতো। তখন উদ্ধৃত মাছ স্বল্পমূল্যে কিনে শুঁটকি তৈরি করে উচ্চমূল্যে বিক্রি করে অনেক শুঁটকি চাতাল মালিক বড় অঙ্কের টাকা উপার্জন করতেন। আর এখন ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ব্যাপারীরা চলনবিলের মাছ ও শুঁটকি কিনে ট্রাকে ভরে নিয়ে যান দেশের বিভিন্ন জেলায়। চলনবিলের দেশী প্রজাতির মাছের শুঁটকি তৈরির চাতালগুলো অগ্রহায়ণ মাস পর্যন্ত চালু থাকে। চলনবিলের শুঁটকি ব্যবসায়ীরা জানান, শুঁটকি ব্যবসায় জড়িত হয়ে তারা আর্থিকভাবে সচ্ছলতার দেখা পেয়েছেন ঠিকই; তবে এ ব্যবসায় ঝুঁকিও অনেক বেশি। ঠিকমতো শুঁটকির পরিচর্চা করতে না পারলে অনেক ক্ষেত্রে শুঁটকি নষ্ট হয়ে যায়। আর এ ধরনের সমস্যায় পড়লে মূলধন খোয়ানো ছাড়া কোনো উপায় থাকে না। সরকারিভাবে ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা করা হলে তারা এ ব্যবসায়ে আরও উপকৃত হবেন বলে জানিয়েছেন।
পদ্মায় জেগে উঠেছে চর কমে গেছে মাছ
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার উপর বয়ে যাওয়া পদ্মা নদীতে ছোট বড় চর জেগে উঠেছে। কমে গেছে মাছের উৎপাদন। এতে করে পদ্মা নদীর পাড়জুড়ে এলাকার বসবাসকারী মানুষের জীবন যাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বেকার হয়ে পড়েছে শত শত জেলে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব পড়ায় এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা জানান। পদ্মার পাড়ে বসবাসকারী লোকজন জানান, গত ১০-১২ বছর ধরে শুষ্ক মৌসুমে নদীর পানি কমে গিয়ে জেগে উঠছে অসংখ্য ছোট বড় চর। আর নদীর গভীরতা কম হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে অল্প পানিতে নদী ভরে গিয়ে বন্যা দেখা দিচ্ছে। নদীর এই পারে অর্থাৎ গোদাগাড়ী শহর এলাকায় নদী ভাঙন রোধে নদীর তীর সংরক্ষণ বাঁধ রয়েছে। নদীর ওপারে অর্থাৎ চর আষাড়িয়াদহ এলাকায় প্রতি বছর বর্ষায় নদীর পাড় ব্যাপকভাবে ভাঙছে। গত ১২ বছরে নদী ভাঙনের কারণে ভিটা মাটি ছাড়া হয়েছে প্রায় ২ হাজার পরিবার। এসব মানুষ নদী ভাঙনে সর্বস্বান্ত হওয়ার পর বরেন্দ্র এলাকায় জীবিকা শেষ সম্বল কৃষি জমি নষ্ট করে বাড়িঘর নির্মাণ করেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার প্রেমতলী বিদিরপুর, ভাটোপাড়া, রেলবাজার, ভগবন্তপুর হাটপাড়া ও সুলতানগঞ্জ খেওয়া ঘাট দিয়ে হাজার হাজার মানুষ পদ্মা নদী পারাপার হয়। এ জন্য পদ্মা নদীতে শ্যালো ইঞ্জিনচালিত প্রায় ২ শতাধিক নৌকা চলাচল করে। নদীর মাঝে চর পড়ায় নৌকা খেয়া ঘাটের পাড়ে ভেড়ানো যাচ্ছে না বলে নৌকার মাঝিরা জানান। আবার নদীতে অসংখ্য ডুবো চর জেগে ওঠায় নৌকা চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। ডুবো চরের সাথে ধাক্কা লেগে শ্যালোচালিত নৌকার ফ্যান ভেঙে যাচ্ছে। পদ্মা নদীর গভীরতা ও পানি কমে যাওয়ার কারণে প্রতি বছর মাছের উৎপাদন কমে যাচ্ছে। পদ্মা নদীতে মাছ আহরণ করে ৫ শতাধিক জেলে জীবিকা নির্বাহ করে। জেলেরা জানান, ইলিশ, পাঙ্গাশ, বোয়াল, চিংড়িসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ বিপুল পরিমাণ জেলেদের জালে ধরা পড়ত। চলতি মৌসুমে এসব প্রজাতির মাছ পাওয়া গেলেও পরিমাণে খুবই কম। নদীতে মাছ না পাওয়ার কারণে ২ শতাধিক জেলে বেকার হয়ে পড়েছে। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফারজানা হোসেন বলেন, ২০১৩ সালে পদ্মা নদীতে ১ হাজার ৬৮৭ মেট্রিক টন মাছ উৎপাদন হয়। চলতি বছর এর অর্ধেকেও মাছ উৎপাদন হয়নি। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের কারণে নদীর গভীরতা ও পানির প্রভাবও কম, বেশি পরিমাণে মাছ আহরণ ও নিষিদ্ধ কারেন্ট জালে বেশির ভাগ মা মাছ আটকে পড়ায় বছরজুড়ে মাছের উৎপাদন কম হওয়ার কারণ হিসাবে তিনি চিহ্নিত করেন। এদিকে শুল্ক মৌসুমে পদ্ম নদীতে পানি কমে যাওয়ায় বিরূপ প্রভাব বরেন্দ্র অঞ্চলে কৃষি ব্যবস্থাপনায় পড়েছে। প্রতি বছর বরেন্দ্র অঞ্চলে সেচের জন্য বসানো গভীর নলকূপ গুলোতে পানি কম উঠছে। এ প্রসঙ্গে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী অসিত কুমার বলেন, নদীতে পানি কমে যাওয়ার সাথে বরেন্দ্র অঞ্চলের পানির স্তর নিচে নেমে যায়। নদীতে পানি বাড়তে থাকলে পানির স্তর উপরের দিকে উঠে আসছে। গোদাগাড়ী নাগরিক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক শান্ত কুমার মজুমদার বলেন, পদ্মা নদীতে ড্রেজিং করার মধ্যদিয়ে গভীরতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব। নাগরিক কমিটির পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি আবেদন করা হয়েছে পদ্মা নদীতে ড্রেজিং এর জন্য। পানি উন্নয়ন বোর্ড আবেদনের প্রেক্ষিতে জরিপ করে ড্রেজিং করার জন্য পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে একটি রিপোর্ট পাঠিয়েছ। কিন্তু জরিপ কাজ করার ৬ বছর পার হলেও ড্রেজিং করার ব্যাপারে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে কোন উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি বলে তিনি জানান। এ প্রসঙ্গে রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডে নির্বাহী প্রকৌশলী হারুন-অর-রশিদ বলেন, পদ্মা-মহানন্দার মোহনার সামনে অর্থাৎ আলাতুলী-সারাংপুর এলাকায় ড্রেজিং করা হবে। প্রকল্প অনুমোদন হলে শিগগিরই ড্রেজিং এর কাজ শুরু হবে বলে তিনি জানান।
সড়ক দুর্ঘটনারোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে প্রয়োজনে আইন সংশোধন ওবায়দুল কাদের
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সড়ক দুর্ঘটনার বিরুদ্ধে বর্তমান সরকার যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। এসামাজিক আন্দোলনে যুব সমপ্রদায়সহ সকলকেই অংশগ্রহণ করতে হবে। বিদ্যমান আইনে যদি কাজ না হয় প্রয়োজনে আইন পরিবর্তন করা হবে। কারণ, মানুষের প্রয়োজনেই আইন_ আইনের প্রয়োজনে মানুষ নয়। গতকাল শুক্রবার বিকেলে নাটোরের বড়াইগ্রামে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারে প্রধানমন্ত্রী প্রদত্ত অনুদানের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নাটোরের মানুষকে ধন্যবাদ দিয়ে মন্ত্রী আরও বলেন, গত ২০অক্টোবর বড়াইগ্রামে স্মরণকালের ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনায় অনেক লোক হতাহত হলেন। কিন্তু নাটোরের মানুষ অত্যন্ত ধৈর্য্য ধরে অপেক্ষা করেছেন। তারা কোন মানববন্ধন বা বিক্ষোভ করেননি। দেশের মানুষের কাছে তারা একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। তিনি বলেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এ ঘটনায় বিচলিত। তিনি নিহত ও আহতদের প্রতি অত্যন্ত সহানুভুতিশীল। সে কারণে মাত্র চারদিনের মাথায় তিনি তার ঘোষণার অনুদানের চেক বড়াইগ্রামের দুর্ঘটনায় নিহত ৩৬ জনের মধ্যে ৩৫ জনের পরিবারের হাতে হস্তান্তর করালেন। জেলা প্রশাসক মশিউর রহমানের সভাপতিত্বে বড়াইগ্রাম উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস, নাটোর-১ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ, জেলা পরিষদ প্রশাসক এডভোকেট সাজেদুর রহমান খান প্রমুখ। সভায় উপস্থিত ছিলেন নাটোর জেলা পুলিশ সুপার বাসুদেব বনিক, বড়াইগ্রাম ও গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার যথাক্রমে শরিফুন্নেসা ও ইয়াসমিন আক্তার, বনপাড়া পৌর মেয়র কেএম জাকির হোসেন, বড়াইগ্রাম ও গুরুদাসপুর উপজেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, কর্মচারী, হতাহত পরিবারের আত্মীয়স্বজন, উভয় উপজেলার সুধীবর্গ, বড়াইগ দুর্ঘটনায় জড়িত সন্দেহে হানিফ পরিবহন বাস সম্পর্কে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাসটি সনাক্তকরনের প্রক্রিয়া চলছে। গত ২০অক্টোবর বড়াইগ্রামে স্মরণকালের ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনা ঘটলে তিনি সেদিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও হতাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানোর সময় দেয়া প্রতিশ্রুতি অনুসারে গতকাল শুক্রবার নিহত প্রত্যেক পরিবারকে এক লাখ টাকা করে ৩৫ লাখ টাকার চেক হস্তান্তর করেন। অপর ফেনীর নিহত একজনের চেক নাটোর জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে পৌছানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
 
 
 
সিলেটে গুলিতে যুবলীগ কর্মী নিহত
সিলেট প্রতিনিধি
: সিলেটের সীমান্তবর্তী কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে যুবলীগ কর্মী নিহত হয়েছেন। নিহত আবদুল আলী উপজেলার কোম্পানীগঞ্জ গ্রামের আবদুল মনাফের ছেলে। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় উপজেলার কাটাগাঙ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, আবদুল আলী নৌকাযোগে কাটাগাঙ এলাকায় আসার পথে ওৎপেতে থাকা সন্ত্রাসীরা... বিস্তারিত
 
নিজামী-সাঈদীকে চাওয়ার যৌক্তিকতা নেই : নাসিম
স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা অফিস :
সাবেক মন্ত্রী ও বহিষ্কৃত আওয়ামী লীগ নেতা লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেফতার করে বিচারের মুখোমুখী করার দাবিতে সম্মিলিত ইসলামী দলের রোববারের হরতাল অযৌক্তিক বলে মন্তব্য করেছেন ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মাদ নাসিম। হরতালে নৈরাজ্য সৃষ্টি করলে কঠোর ব্যবস্থা নিতে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি অনুরোধও করেছেন তিনি। জামায়াতে ইসলামীর... বিস্তারিত
 
 
 
ভিডিও
রাশিচক্র আজ ঢাকায় আজ বগুড়ায়
 
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের চরমপন্থিরা আত্মসমর্পণের আহ্বানে সাড়া দেবে বলে মনে করেন কি?
হ্যাঁ
উত্তর নেই
না
 
 
 
আজকের ভিউ
নামাজের সময়সূচী
ওয়াক্ত
সময়
ফজর
03:50
জোহর
12:7
আছর
04:42
মাগরিব
06:54
এশা
08:20
 
 

সম্পাদকঃ মোজাম্মেল হক, সম্পাদক কর্তৃক ন্যাশনাল প্রিন্টিং প্রেস, শিল্পনগরী বিসিক বগুড়া এবং ১৬৭ ইনার সার্কুলার রোড, (আরামবাগ) ইডেন কমপ্লেক্স, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত ও চকযাদু রোড, বগুড়া হতে প্রকাশিত।
ফোন ৬৩৬৬০,৬৫০৮০, সার্কুলেশন বিভাগঃ ০১৭১৩২২৮৪৬৬, বিজ্ঞাপন বিভাগঃ ৬৩৩৯০, ফ্যাক্সঃ ৬০৪২২। ঢাকা অফিসঃ স্বজন টাওয়ার, ৪ সেগুন বাগিচা। ফোনঃ ৭১৬১৪০৬, ৯৫৬০৬৬৯, ৯৫৬৮৮৪৬, ফ্যাক্সঃ ৯৫৬৮৫২২ E-mail : dkaratoa@yahoo.com . . . .

Powered By: