সকাল ১০:২৬, সোমবার, ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ইং

আজকের ই-পেপার

করতোয়া ডেস্ক : জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় সম্মিলিত, কার্যকর ও সঙ্গতিপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে বলে জোর তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি একইসঙ্গে পানির জন্য একটি বৈশ্বিক তহবিল গঠনে বিশ্ব নেতাদের প্রতি আহ্বানও পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

শনিবার স্থানীয় সময় বিকেলে জার্মানির মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে ‘ক্লাইমেট সিকিউরিটি: গুড কপ, ব্যাড কপস’ শীর্ষক এক প্যানেল আলোচনায় বক্তৃতা করছিলেন প্রধানমন্ত্রী। ডয়েচে ভেলের চিফ পলিটিক্যাল করেসপন্ডেন্ট মেলিন্ডা ক্রেইনের সঞ্চালনায় আলোচনায় ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট সাউলি নিনিস্তো, সুইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারগোট ওয়ালস্টোম, যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর সেলডন হোয়াইটহাউস অংশ নেন। প্রধানমন্ত্রী বিশ্বনেতাদের সামনে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন একটি বৈশ্বিক ইস্যু এবং এর সমাধান অবশ্যই বৈশ্বিকভাবে হতে হবে। এজন্য প্রয়োজন সম্মিলিত এবং কার্যকর পদক্ষেপ। কোনো একটি দেশের অসহযোগিতা সবার জন্য হুমকি হতে পারে। সেজন্য আমরা অবশ্যই নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য দায়িত্ব ভাগাভাগি করে নেবো। জলবায়ু পরিবর্তন নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সম্পদের ওপর চাপ বাড়ে। এতে অস্থিতিশীলতা, সহিংসতা ও সংঘাত তৈরি হতে পারে- যা মূলত জাতীয় নিরাপত্তা বিপন্ন করে তুলতে পারে। খাদ্য নিরাপত্তাকে প্রধান উপাদান হিসেবে চিহ্নিত করে শেখ হাসিনা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে খাদ্য উৎপাদন এবং মান উভয়ই মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেজন্য জলবায়ু পরিবর্তন সহিষ্ণু চাষাবাদ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা প্রয়োজন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন এবং অন্যান্য কারণে জীবন ও জীবিকার জন্য বিশুদ্ধ ও নিরাপদ পানির সংকট তীব্র হয়ে উঠছে। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তৃতায় জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অভিবাসনকে তৃতীয় উপাদান হিসেবে তুলে ধরে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে লাখ লাখ মানুষ অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিকভাবে অভিবাসনে বাধ্য হচ্ছে। এটি সরাসরি সামাজিকভাবে সম্পদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে, এর ফলে নতুন নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে। শেখ হাসিনা জানান, বাংলাদেশ উন্নয়ন কার্যক্রমে কার্বন নিঃসরণ নিম্নমাত্রায় নিয়ে আসার লক্ষ্য অর্জনে সম্ভাব্য সব ব্যবস্থা নিয়েছে। বাংলাদেশ সরকার নিজস্ব অর্থায়নে ২০০৯ সালে ৪শ’ মিলিয়ন ডলারের ‘জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড গঠন’ করেছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বিশ্বনেতাদের বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের এ সাফল্যে অনেক দেশ তা অনুসরণ করছে। এসময় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় প্রায় ৯শ’ কিলোমিটার উপকূলজুড়ে কোস্টাল গ্রিন বেল্ট প্রকল্প, দেশব্যাপী প্রায় ৪ দশমিক ৫ মিলিয়ন বাড়িতে সৌর বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনসহ প্রভৃতি কার্যক্রমের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
দেশের পথে প্রধানমন্ত্রী

সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে প্রায় ছয় ঘণ্টা যাত্রাবিরতির পর দেশের পথে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জার্মানিতে দুই দিনের সফর শেষে শনিবার স্থানীয় সময় রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় রাত পৌনে ৩টা) মিউনিখ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী। বিমানবন্দরে তাকে বিদায় জানান জার্মানিতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ইমতিয়াজ আহমেদ। প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী উড়োজাহাজটি আবুধাবিতে পৌঁছায় স্থানীয় সময় রোববার সকাল ৭টা ১০ এ। সেখানে যাত্রাবিরতি করে স্থানীয় সময় বেলা ১টা ৩৫ মিনিটে ইতিহাদ এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে তিনি রওনা হন। সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মাদ ইমরান বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান। রাতেই শেখ হাসিনার ঢাকা পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

একাদশ সংসদ নির্বাচনে ই-ভোটিং ইভিএম নয়

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদে আগামীতে ই-ভোটিংয়ে যাওয়ার কথা বলায় নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের কাছে বর্তমান সময়ে এটিই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশন (ইসি) বলছে, ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি নিলেও একাদশ সংসদ নির্বাচনে তা সম্ভব নয়। আর ই-ভোটিং আরো পরে বাস্তবায়নে যেতে হবে। এদিকে আজ সোমবার বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সিইসি কে এম নুরুল হুদার প্রথম সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হবে। সেই সাথে সুনামগঞ্জ-২ আসনের উপ-নির্বাচন এবং কুমিল্লা সিটি নির্বাচনের বিষয়েও সিদ্ধান্ত হবে আজ।

রোববার বিকেলে নির্বাচন ভবনে তার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের একথা জানান নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ। তিনি বলেন, আগামীতে নির্বাচনে ইভিএম বা যন্ত্রে ভোটগ্রহণ করা যাবে। আমি জাতীয় নির্বাচন বলছি না। কেননা, ২০১৮ সাল নাগাদ দুই বছর সময় হাতে আছে। সবার সততা ও সহযোগিতা থাকলে এই সময়ের মধ্যে ইভিএম বা যে নামেই ডাকা হোক, ভোটযন্ত্রটি আমরা প্রস্তুত করতে পারবো। এজন্য একটি টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করা হয়েছে। যে কমিটি যন্ত্রে ভোট নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে পর্যালোচনা করে সুপারিশ দেবে। তাদের সুপারিশের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক টেন্ডারের মাধ্যমে ভোটযন্ত্র প্রস্তুত করা হবে। ইসি সচিব বলেন. বর্তমানে যে নষ্ট ইভিএম আছে, আমরা তেমন কোনো ভোটযন্ত্র প্রস্তুত করতে চাই না। এমন একটি যন্ত্র প্রস্তুত করতে চাই, যা হ্যাক করা যাবে না, ম্যানিপুলেট (ফলাফল কারসাজি) করা যাবে না, ব্যাটারি বেকআপ ভালো থাকবে। এটিএম শামসুল হুদার নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন ২০১০ সালে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মাধ্যমে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের প্রচলন করে। কিন্তু ২০১৩ সালের ১৫ জুন রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনের সময় একটি কেন্দ্রে একটি ইভিএম মেশিন বিকল হয়ে পড়ে। সেই যন্ত্রটি এখনো ঠিক করতে পারেনি কমিশন। সচিব বলেন, ‘আমরা এমন কোনো যন্ত্র প্রস্তুত করতে চাই, যা ওইরকম নষ্ট হয়ে যায়। তিনি বলেন, ভোটগ্রহণ শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যন্ত্রটি ত্রুটিমুক্ত রাখতে হবে। এমন হবে যে-সকাল আটটায় ভোটগ্রহণের পূর্বে ওপেন হবে না। আবার বিকেল চারটা বাজার সঙ্গে সঙ্গেই বন্ধ হয়ে যাবে। এছাড়া নষ্ট হলেও ভোটপ্রদানের তথ্যের বেকআপ থাকবে। কাজেই এসব বিষয় নিশ্চিত হলেই তা নির্বাচনে ব্যবহার করা যাবে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, সংসদ নির্বাচনের জন্য ৪০ হাজার ৫শ’র বেশি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এজন্য অন্তত দুই লাখ ইভিএম বা ভোটযন্ত্র প্রস্তুত করতে হবে। ইটস নট অ্যা মেটার জোক। এতো ভোটযন্ত্র তৈরির জন্য অনেক সময় এবং অর্থেরও প্রয়োজন। তাই সবকিছু ঠিকঠাক থাকলেই কেবল নির্বাচনে ব্যবহার করা যাবে। আর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যবহার করতে হলে অনেক পরীক্ষামূলক ব্যবহার করে যন্ত্রটি ত্রুটিমুক্ত বলে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। এছাড়া ভোটারদেরও ব্যবহার বিধি শেখাতে হবে। তাই এই সময়ের মধ্যে একাদশ সংসদ নির্বাচনে ইভিএম বা ভোটযন্ত্র ব্যবহার করা অসম্ভব। তিনি বলেন, ডিজিটাল যুগে যন্ত্রে ভোট নেওয়ার দিকে আমাদের যেতেই হবে। আর ই-ভোটিংয়ের বিষয়টি আরো পরে আসবে। কেননা, যে যেখানেই থাকুক, সেখান থেকেই যেন ভোট দিতে পারেন, এই ব্যবস্থার দিকেও আমাদের যেতেই হবে। প্রযুক্তির ব্যবহারকে পাশ কাটানো যাবে না। তবে যন্ত্রে ভোট নেওয়ার জন্য ভোটার, রাজনৈতিক দল সবাইকেই আগে আস্থায় আনতে হবে। ইভিএমের মতো অন্য কোনো ভোটযন্ত্র যদি তৈরি করা হয়, সেটি কি দেশীয় কোনো প্রতিষ্ঠানই তৈরি করবে- এমন প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, আমরা এজন্য আন্তর্জাতিক টেন্ডার দেবো। দেশের কোনো প্রতিষ্ঠান পারলে কাজ করবে, সমস্যা কোথায়? ২০১০ সালের ইভিএম প্রস্তুতের জন্য বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) কাজ নিয়েছিল। কিন্তু রাজশাহী সিটি নির্বাচনে ইভিএম নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণ খুঁজে বের করা বা তা সমাধানে বুয়েট অস্বীকৃতি জানায়। ফলে সে সময়ের তৈরি করা ভোটযন্ত্রগুলো বাতিল অবস্থায় রয়েছে। প্রায় ৬ কোটি টাকা রাষ্ট্রের গচ্ছা গেছে এর পেছনে। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ২০১৯ সালের ৫ জানুয়ারির আগের ৯০ দিনের মধ্যে।

সুনামগঞ্জ-২ আসন ও কুসিক নির্বাচনের সিদ্ধান্ত আজ: এদিকে সদ্য প্রয়াত সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের সুনামগঞ্জ-২ শূন্য আসনের উপ-নির্বাচন নিয়ে সিইসি কে এম নুরুল হুদার নেতৃত্বাধীন বর্তমান নির্বাচন কমিশন (ইসি) আজ সোমবার সিদ্ধান্ত নেবেন। একই দিনে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়েও সিদ্ধান্তে পৌঁছবে কমিশন। ইসি সচিব মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, সোমবার বেলা ১১টায় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম বৈঠকে বসবে নির্বাচন কমিশন। এটিই হবে তাদের প্রথম কমিশন বৈঠক। এতে ওই দুই নির্বাচন ছাড়াও বেশকিছু ইউনিয়ন পরিষদের সাধারণ নির্বাচন ও উপ-নির্বাচন নিয়েও আলোচনা হবে। সামনে এইচএসসি পরীক্ষা ও রমজান রয়েছে। বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারেন কমিশন। এক্ষেত্রে অবশ্যই পরীক্ষার ভেতরেই নির্বাচনের জন্য কোনো ফাঁক খুঁজে বের করা হবে। ইসি সচিব বলেন, হয়তো চলতি মাসের শেষে ও অথবা আগামী মাসের শুরুতে কুমিল্লা সিটি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হতে পারে। তবে সেটা একান্তই কমিশনের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে। তবে সোমবার সুনামগঞ্জ-২ আসনের উপ-নির্বাচনের তফসিল হতে পারে। গত ৫ ফেব্রুয়ারি সংসদ সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত মারা যাওয়ায় সুনামগঞ্জ-২ আসনটি শূণ্য ঘোষণা করে সংসদ সচিবালয়। আর কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের মেয়াদ শেষ হয়েছে গত ৮ ফেব্রুয়ারি। তবে আইনি জটিলতা থাকায় সে নির্বাচন করতে পারেনি রকিব কমিশন। বর্তমান কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর এখন নির্বাচনটি সম্পন্ন করার কথা ভাবছে। তবে ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ওই সিটিতে সরকার সম্প্রতি প্রশাসক নিয়োগ করেছে। তাই নির্বাচনটি সম্পন্ন করতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের প্রয়োজন হতে পারে।

ইসি সচিব আরো বলেন, নুরুল হুদা কমিশনের অধীনে ১৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়ে গেল প্রথম নির্বাচন। রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ির ওই নির্বাচনে কমিশন ব্যাপক গুরুত্ব দিয়েছিলো। একজন নির্বাচন কমিশনারকেও নির্বাচনী এলাকার পর্যবেক্ষণে পাঠানো হয়েছিলো। নির্বাচনটি অত্যন্ত সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এ নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৭৮ শতাংশ।
আইন-শৃঙ্খলা বৈঠক: এদিকে ১৮টি উপজেলায় সাধারণ ও উপ-নির্বাচন রয়েছে আগামী ৬ মার্চ। এই নির্বাচনের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি বিভিন্ন বাহিনীর সঙ্গে বৈঠকে বসবে কমিশন। এই কমিশনের অধীনে এটাই হবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রথম বৈঠক। এদিকে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথবারের মতো জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা জানাতে আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারি গোপালগঞ্জ যাবে নুরুল হুদা কমিশন। আর এমপি লিটনের শূন্য আসনের উপ-নির্বাচনের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সিইসি নুরুল হুদা ও নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে যাবেন ১৪ মার্চ। এসময় তারা গাইবান্ধায় রাত্রি যাপনের কথাও রয়েছে। আগামী ২২ মার্চ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সিইসির প্রথম সাক্ষাৎ আজ: প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদার নেতৃত্বাধীন নবনিযুক্ত নির্বাচন কমিশন (ইসি) আজ সোমবার রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের সঙ্গে প্রথমবারের মতো সাক্ষাৎ করবে। ইসি সচিব মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ জানান, সোমবার বিকেল ৩টায় রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে যাবেন। নবনিযুক্ত কমিশনের এটিই হবে প্রথম সাক্ষাৎ। গত ৬ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ সার্চ কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে কে এম নুরুল হুদাকে সিইসি করে পাঁচ সদস্যের কমিশন নিয়োগ দেন। অন্য নির্বাচন কমিশনাররা হলেন- মাহবুব তালুকদার, মো. রফিকুল ইসলাম, বেগম কবিতা খানম ও ব্রি. জে (অব.) শাহাদত হোসেন। বর্তমান কমিশনের মেয়াদ রয়েছে ২০২২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। এ সময়ের মধ্যে তারা একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ছাড়াও ৬০ হাজারেরও বেশি স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করবেন।

বিশেষ প্রতিবেদন

ছাত্রদলের কমিটি গঠন বিলম্বে বাড়ছে হতাশা-উত্তেজনা

রাজকুমার নন্দী : ভবিষ্যৎ আন্দোলন-সংগ্রামের কথা মাথায় রেখে দ্রুতই দল পুনর্গঠনের কাজ সম্পন্ন করতে চায় দীর্ঘদিন রাজপথের আন্দোলন থেকে বাইরে থাকা বিএনপি। এর অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের কমিটি গঠন করা হয়েছে। দলটির হাইকমান্ড এখন ঢাকা মহানগর বিএনপি ও কৃষক দলের কমিটি গঠন নিয়ে ব্যস্ত। শিগগিরই এই দু’টি কমিটি ঘোষিত হবে। এরপরেই ঘোষণা করা হবে আন্দোলন-সংগ্রামে বিএনপির ‘নিউক্লিয়াস’ হিসেবে পরিচিত জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি। কমিটিতে নেতৃত্বপ্রত্যাশীদের বয়স নিয়ে নানা আলোচনা থাকলেও জুনিয়র-সিনিয়র সমন্বয়েই এ কমিটি গঠন করা হতে পারে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বয়সের কারণে ছাত্রদলের মেয়াদোত্তীর্ণ বর্তমান কমিটির কেউ বাদ পড়লে তাদেরকে স্বেচ্ছাসেবক-যুবদলসহ অন্য অঙ্গসংগঠনে পদায়ন করা হবে। তবে মেয়াদ শেষ হলেও এখনো নতুন কমিটি না হওয়ায় ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা ও উত্তেজনা দুই-ই বিরাজ করছে। দিন যতই যাচ্ছে এ উত্তেজনা ততই বৃদ্ধি পাচ্ছে।

জানা গেছে, ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠনে তৎপরতা শুরু হওয়ায় দায়িত্বশীল নেতা ও ছাত্রদল নিয়ন্ত্রণকারী তথাকথিত ভাইয়া গ্রুপের ভাইদের কাছে নেতৃত্বপ্রত্যাশীদের দৌঁড়-ঝাপও শুরু হয়েছে। তারা বিভিন্ন মাধ্যমে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছেও পৌঁছে দিয়েছেন রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে নিজেদের সম্পৃক্ততার প্রমাণসহ জীবনবৃত্তান্ত। এছাড়া ছাত্রদলের সাংগঠনিক নেত্রী খালেদা জিয়া ও তার আশপাশের লোকদের কাছেও পৌঁছে দেয়া হয়েছে এসব তথ্য-প্রমাণ। ঢাকা-লন্ডন সমানতালে যোগাযোগ রাখছেন নেতৃত্বপ্রত্যাশীরা। তবে নতুন নেতৃত্ব বাছাইয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক এবং ছাত্রদলের সাবেক কিছু নেতাকে দিয়ে তারেক রহমান নিজেও একটি কমিটি গঠন করেছেন, যারা পদপ্রত্যাশী ছাত্রনেতাদের সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজ-খবর নিচ্ছেন। সাবেক এসব ছাত্রনেতা তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের কাছে পরিচিত।

২০১৪ সালের ১৪ অক্টোবর রাজীব আহসানকে সভাপতি ও  আকরামুল হাসানকে সাধারণ সম্পাদক করে ছাত্রদলের ১৫৩ সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এর ষোল মাস পর ঘোষণা করা হয় ৭৩৬ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি, যেটা বাংলাদেশের ছাত্র রাজনীতির ইতিহাসে সর্ববৃহৎ কমিটি। কমিটি গঠনের পর শীর্ষনেতারা খালেদা জিয়ার কাছে ‘যেকোনো পরিস্থিতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়া ও নিয়মিত অবস্থান করার পাশাপাশি ছাত্রদলকে অন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও ক্রিয়াশীল করার’ অঙ্গিকার করলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন ঘটাতে পারেননি। এমনকি এখন পর্যন্ত কোনো সাধারণ সভাও করতে পারেনি বর্তমান কমিটি। এজন্য ছাত্রদলের শীর্ষ নেতৃত্বের ব্যর্থতাকেই দায়ী করছেন সংগঠনের নেতাকর্মীরা। খসড়া গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, কমিটির মেয়াদ দুই বছর হওয়ায় গত বছরের অক্টোবরে ছাত্রদলের বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হয়।

গত ১ জানুয়ারি ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে সামনে রেখে নতুন কমিটির দাবিতে সোচ্চার হয়েছিলেন পদপ্রত্যাশী ছাত্রনেতারা। এছাড়া সম্প্রতি ছাত্রদলের তিন শতাধিক নেতা নয়াপল্টনের দলীয় কার্যালয়ে একত্রিত হয়ে বর্তমান মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির প্রতি অনাস্থা জ্ঞাপন করে অবিলম্বে নতুন কমিটি গঠনের দাবি জানান। এর আগে, একই দাবিতে ছাত্রদলের বর্তমান কমিটির এক নেতা দলীয় কার্যালয়ের নিচতলায় অনশন কর্মসূচি পালন করেন। নতুন কমিটির দাবিতে সম্প্রতি ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তালা লাগানোর মতো অনাকাক্সিক্ষত ঘটনাও ঘটেছে।

তৃণমূলের নেতাকর্মীদের চাওয়া, নিয়মিত ছাত্রদের দিয়েই ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠন করা হোক। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০০০-০১ সেশনে ভর্তি হওয়া ছাত্রনেতাদের দিয়েই নতুন কমিটি গঠন করা হবে বলে ছাত্রদলে ব্যাপক গুঞ্জন রয়েছে। তবে কোন সেশনকে বিবেচনায় নিয়ে ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠিত হবে সে ব্যাপারে বিএনপির হাইকমান্ড এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।

জানা গেছে, সারাদেশে নেতাকর্মীদের মধ্যে ‘চেইন অব কমান্ড’ বজায় রাখা, খালেদা জিয়ার সাজা হলে বিএনপির ভবিষ্যৎ সঙ্কট মোকাবেলা এবং আগামীর আন্দোলন-সংগ্রামকে সামনে রেখে সিনিয়র-জুনিয়র সমন্বয়েই ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠন করা হতে পারে। সেক্ষেত্রে বর্তমান কমিটির সহ-সভাপতি ও যুগ্ম-সম্পাদকদের মধ্য থেকেই সংগঠনটির নতুন কান্ডারি নির্ধারিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

রাজীব, মামুনুর রশিদ মামুন ও আকরামকে গত বছর বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য করা হয়েছে। রাজীব ছাত্রদলের নতুন কমিটিতে পুনরায় প্রতিদ্বন্দ্বী না হলেও আকরাম ও মামুন সভাপতি পদের জোরালো প্রার্থী। এছাড়া শীর্ষপদে ঘুরেফিরে আলোচিত অন্য নামগুলো হলো : বর্তমান সহ-সভাপতি এজমল হোসেন পাইলট, আলমগীর হাসান সোহান, নাজমুল হাসান, মামুন বিল্লাহ, ইখতিয়ার রহমান কবির, আবু আতিক আল হাসান মিন্টু ও জহিরুল ইসলাম বিপ্লব। আলোচনায় আরো রয়েছেন-বর্তমান সিনিয়র যুগ্ম-সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, মিয়া মো. রাসেল, মিজানুর রহমান সোহাগ, নুরুল হুদা বাবু, আব্দুর রহিম হাওলাদার সেতু, বায়েজিদ আরেফিন, সামছুল আলম রানা, করিম সরকার, মির্জা ইয়াছিন আলী, বিএম নাজিম মাহমুদ, মেহবুব মাসুম শান্ত, ওমর ফারুক মুন্না, গোলাম মোস্তফা, সম্পাদকীয় পদের মিনহাজুল ইসলাম ভুইয়া, সৈয়দ মাহমুদ, আরাফাত বিল্লাহ খান ও তরিকুল ইসলাম। সরকারবিরোধী বিগত দু’টি আন্দোলনে এরা সবাই রাজপথের কর্মসূচিতে সামনের কাতারে ছিলেন।

মেহবুব মাসুম শান্ত ও গোলাম মোস্তফা উভয়েই দৈনিক করতোয়াকে বলেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে ও পরে সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনেই সম্পৃক্ত থেকেছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলন করতে গিয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে নির্যাতিতও হয়েছি। আশা করি, নতুন কমিটি গঠনে এই ত্যাগের মূল্যায়ন করা হবে।

ছাত্রদল সভাপতি রাজীব আহসান দৈনিক করতোয়াকে বলেন, বর্তমান কমিটির মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে, এটা দলের সবাই জানেন। সাংগঠনিক নেত্রী (খালেদা জিয়া) যখন ভালো ও উপযুক্ত মনে করবেন, তখনই ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণা করবেন। আমরা এখন আমাদের স্বাভাবিক কাজ-কর্ম চালিয়ে যাচ্ছি।

তিনি আরো বলেন, আমাদের ছোটখাট কিছু ব্যর্থতা থাকতেই পারে। তবে ১১ বছর পর ঢাবির হল কমিটি দেয়াসহ অনেক সফলতাও রয়েছে। ছাত্রদলের নতুন কমিটিতে স্বাভাবিক নেতৃত্বই আসবে বলে মনে করেন রাজীব আহসান।

রাজশাহী বিভাগ

রাজশাহীতে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ সন্ত্রাসী নিহত

রাজশাহী প্রতিনিধি : রাজশাহী মহানগরীতে র‌্যাবের সাথে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ কাওসার আলী (৪০) নামে এক সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। গত শনিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে নগরীর মতিহার থানার বুধপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত কাওসার চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার পিয়ারাপুর গ্রামের ইয়াসিন আলীর ছেলে।

র‌্যাব-৫ এর মেজর এএম আশরাফুল ইসলাম জানান, রাতে র‌্যাবের একটি নিয়মিত টহলদল নগরীর বুধপাড়া এলাকায় টহলে যায়। এ সময় কয়েকজন সন্ত্রাসী আমবাগান থেকে র‌্যাব সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। আত্মরক্ষার্থে র‌্যাবও গুলি ছোড়ে। একপর্যায়ে সন্ত্রাসীরা পিছু হটে। এরপর ঘটনাস্থলে কাওসারকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি জানান, এ ঘটনায় দুই র‌্যাব সদস্যও আহত হয়েছেন। তারা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। আর ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশী পিস্তল, চার রাউন্ড গুলি, একটি ম্যাগজিন, একটি ছোরা ও একটি বড় হাসুয়া উদ্ধার করা হয়েছে।

মেজর আশরাফুল ইসলাম জানান, নিহত কাউসার হোসেনের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সদরের পিয়ারাপুর এলাকায়। গত বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি দুপুর ১টা থেকে ২টার মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানার দক্ষিণসহ নামক জায়গায় পিয়ারাপুর এলাকায় বাসেদ (৬০) নামের একজনকে জবাই করে মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে নৃশংসভাবে হত্যা করে। সে চাঁপাইনবাবগঞ্জের একজন দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী এবং ডাকাত হিসেবে পরিচিত। সে খুন ও ডাকাতিসহ ৪টি মামলার প্রধান আসামি।

 

আজকের ই-পেপার
ফেইসবুক

মাগুরায় ট্রাকচাপায় কলেজছাত্র নিহত সড়ক অবরোধ

মাগুরা প্রতিনিধি : মাগুরা স্টেডিয়াম গেট এলাকায় ট্রাকের চাপায় বিশ্বজিৎ বিশ্বাস নামে এক কলেজছাত্র নিহত হয়েছেন।  রোববার দুপুরে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনার প্রতিবাদে ও ঘটনাস্থলে স্পিড ব্রেকার নির্মাণের দাবিতে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক আবরোধ করে রাখে। পরে দাবি বাস্তবায়নে পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে আধাঘণ্টা পরে তারা অবরোধ তুলে নেয়। বিশ্বজিৎ সদর উপজেলার রাঘবদাইড় ইউনিয়নের বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের বিরেন বিশ্বাসের ছেলে এবং মাগুরা সরকারি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের অ্যাকাউন্টিং বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র।

শেষ বলে হার সাকিব-তামিমদের

আগের ম্যাচে ব্যাট হাতে আলো ছড়ানো তামিম ইকবাল এবার ফিরলেন দ্রুত। আঁটসাঁট বোলিংয়ে ১ উইকেট নেওয়া সাকিব আল হাসান ব্যাটিং-ফিল্ডিংয়ে করলেন হতাশ।

সাকিবের হাতে ব্যক্তিগত ৪৫ রানে জীবন পাওয়া ডোয়াইন স্মিথের ব্যাটে ভর করে পেশাওয়ার জালমিকে শেষ বলে ৫ উইকেটে হারিয়েছে ইসলামাবাদ ইউনাইটেড।

শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শনিবার টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ৯ উইকেটে ১৩৬ রান করে পেশাওয়ার। ৮ বলে ৪ রান করে ফিরেন তামিম। ৭ বলে ৫ রান করেন সাকিব। জ্বলে উঠতে পারেননি অন্যরাও।

সর্বোচ্চ ২৮ রান ওয়েন মর্গ্যানের। শেষের দিকে ২৩ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন ওয়াহাব রিয়াজ।

২৬ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ইসলামাবাদের সেরা বোলার মোহাম্মদ সামি। দুটি করে উইকেট নেন রুম্মান রাইস ও শাদাব খান।

লক্ষ্য তাড়ায় শেষ বলে লক্ষ্যে পৌঁছায় ৫ উইকেট হারানো ইসলামাবাদ।

এক প্রান্তে অবিচল ছিলেন স্মিথ। কিন্তু অন্য প্রান্তে দ্রুত ফিরেন রাফাতুল্লাহ মোহাম্মদ, ব্র্যাড হ্যাডিন, স্যাম বিলিংস ও মিসবাহ-উল-হক। ৭ ওভার স্থায়ী ৬৩ রানের জুটিতে দলকে জয়ের কাছে নিয়ে যান স্মিথ-শেন ওয়াটসন।

জয়ের জন্য শেষ ওভারে ইসলামাবাদের প্রয়োজন ছিল ৬ রান। জুনায়েদের দারুণ বোলিংয়ে জেগেছিল আশা। পঞ্চম বলে দুই দলের স্কোর সমান হওয়ার পর ওয়াটসন (৩০) রান আউট হলে বেঁচে থাকে সুপার ওভার রোমাঞ্চের আশা। কিন্তু আমাদ বাট শেষ বলে ১ রান নিয়ে দলকে দারুণ জয় এনে দেন।

৭২ রানে অপরাজিত থাকেন স্মিথ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানের ৫৯ বলের ইনিংসটি গড়া ৬টি চার ও ৪টি ছক্কায়।

৪ ওভারে ২৪ রানে ১ উইকেট নেন সাকিব।

 

আইন-আদালত
আর্ন্তাজাতিক
তথ্যপ্রযুক্তি

জন্মদিনে শুটিং-এ নুসরাত ইমরোজ তিশা

 

অভি মঈনুদ্দীন : ইচ্ছে থাকা’র পরেও আজকের দিনটিতে ছুটি কাটাতে পারছেন না তিশা। আজ নন্দিত এই অভিনেত্রীর জন্মদিন বলে ইচ্ছে ছিলো নিজের মতো করে সময়টা কাটাতে। কিন্তু সবমিলিয়ে একটি ভালো স্ক্রিপ্টের নাটকের সিডিউল দেয়া হয়ে যায় আজকের দিনটিতেই। তাই জন্মদিনের অধিকাংশ সময় নুসরাত ইমরোজ তিশার কাটবে আজ কালিয়াকৈর জমিদার বাড়িতে। সেখানে তিনি সাইমুর রহমান সোহান রচিত ও পরিচালিত ‘ইলিশ কথা’ নাটকের শুটিং করবেন আজ। সহশিল্পী হিসেবে থাকবেন সেখান আবুল হায়াত ও ইন্তেখাব দিনার।

 নাটকে তিশা অভিনয় করবেন ফুলমতি চরিত্রে। তিশার বাবা এনামুল হক যতোদিন বেঁচেছিলেন ততোদিন পর্যন্ত তিশার জন্মদিন উদযাপিত হতো টানা দু’দিন ধরে। কিন্তু ২০০৩ সালের ৭ সেপ্টেম্বরেরর পর থেকে এভাবে তিশার জন্মদিন আর উদ্যাপিত হয়নি। ২০০৩ সালের ২০ ফেব্রুয়ারিই ছিলো বাবার সঙ্গে তিশার শেষ জন্মদিন। সেই জন্মদিনে মেয়ের জন্য এনামুল হক একটি ফ্ল্যাট কিনেছিলেন। প্রতিবারই জন্মদিনে তিশাকে তার বাবা বলতেন,‘আজকের দিনে আজকের পৃথিবীতে তুমি নতুন এক মানুষ। এইদিনে তোমার যাতে খুশি লাগে তাই করবে’।

 বাবার সেই কথা প্রতি জন্মদিনেই কানে বেজে উঠে তিশার। যেহেতু নিজের জন্মদিনের পরের দিনই একুশে ফেব্রুয়ারি, তাই জন্মদিনে সাধারণত কোন টিভি চ্যানেলের অনুষ্ঠানেও অংশ নেননা তিশা। নিজের জন্মদিন এবং বর্তমান কাজ প্রসঙ্গে নুসরাত ইমরোজ তিশা বলেন,‘ আল্লাহর অশেষ মেহেরবাণীতে আমি খুব ভালো একটি পরিবারে জন্মেছি, বেড়ে উঠেছি। আমার পরিবার আমাকে যে শিক্ষা দিয়ে বড় করেছেন তাতে আমি নিজেকে সারাজীবন একজন পজিটিভ মানুষ হিসেবেই গড়ে তুলেছি। জন্মদিন এলে স্বাভাবিকভাবেই বাবার কথা বেশি মনেপড়ে। তবে এটা সত্য যে আজকে আমার যে অবস্থান তার পেছনে আমার একার কোন ভূমিকা নেই। আমার মা শাহীন মাহফুজা হক আমার জন্য অনেক কষ্ট করেছেন। তিনি চাইলেই অনেক বড় ডাক্তার হতে পারতেন।

 কিন্তু আমাকে সময় দিতে গিয়ে আমাকে মানুষ করতে গিয়ে তিনি নিজের পেশাকে বিসর্জন দিয়েছেন। আমি, আমার মা অনেক কষ্ট করেই আজকের এই অবস্থানে এসেছি। পাশাপাশি আমাকে চারপাশ থেকে অনেকেই সহযোগিতা করেছেন, তাদের কাছে ঋণী আমি। আমার সাংবাদিক ভাই বোনেরা, আমার পরিচালকেরা ধৈর্য্য ধরে আমাকে নিয়ে কাজ করেছেন। সত্যিই আমি তাদের কাছে কৃতজ্ঞ।’ এদিকে চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে তিশা পরমব্রতের বিপরীতে তাহের শিপন এবং মুকুল রায় চৌধুরীর নির্দেশনায় ‘হলুদবণি’ চলচ্চিত্রের শুটিং শুরু করবেন কলকাতায়। ছবি ঃ মোহসীন আহমেদ কাওছার।

শিক্ষা
অর্থ-বাণিজ্য
ধর্ম
সাহিত্য
লাইফস্টাইল
স্বাস্থ্য