রেজি | রাজ ১৩ | ৩৭ তম বর্ষ | সংখ্যা ২৬৯ | বগুড়া শনিবার ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২০ | ৭ রজব ১৪৩৪ হিজরি | ১৮ মে ২০১৩
ব্রেকিং নিউজ
আর্কাইভ
দিন :
মাস :
সাল :
এই সংখ্যার পাঠক
১৫০৮৭১
সার্চ
হাজারো মানুষ খোলা আকাশের নিচে
উপকূলে ত্রাণের অপেক্ষা
করতোয়া ডেস্ক :
ঘূর্ণিঝড় মহাসেনের আঘাতে বিধ্বস্ত দেশের উপকূল। ঝড়ের তা বে নিহত হয়েছে ২০ জন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কয়েক হাজার ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, বিদ্যুতের খুঁটি ও আবাদি ফসল। গতকাল শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হাজার হাজার মানুষ খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন। তাদের কাছে পৌঁছায়নি পর্যাপ্ত ত্রাণ সামগ্রী। স্থানীয় প্রশাসন, ইউনিয়ন পরিষদ ও ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে... বিস্তারিত
ঘূর্ণিঝড় মহাসেনের তান্ডবে পটুৃয়াখালীর নবগঠিত রাঙ্গবালী উপজেলার বেড়িবাঁধের উপর ক্ষতিগ্রস্ত একটি বাড়ি -ফোকাসবাংলা
নির্বাচিত সংবাদ
গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে শেখ হাসিনার অবদান দেশবাসী চিরদিন স্মরণ রাখবে আলহাজ মমতাজ উদ্দিন
বগুড়া জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ্ব মমতাজ উদ্দিন বলেছেন, ৭৫ এর ১৫ই আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্ব-পরিবারে হত্যার সাথে সাথে এদেশের গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থাকেও হত্যা করা হয়েছিল। সে সময় বেঁচে যাওয়া বঙ্গবন্ধুর কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হত্যা করা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে চক্রান্তকারীদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে ১৯৮১ সালের ১৭ মে বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করেছিলেন। তখন থেকে তার নেতৃত্বে দীর্ঘ সংগ্রামের পর এদেশে পুনরায় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। যা এদেশের জনগণ চিরদিন স্মরণ রাখবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে গতকাল বিকালে জেলা আওয়ামীলীগ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি উপরোক্ত কথাগুলি বলেন। সাতমাথাস্থ দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উক্ত আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, জেলা আওয়ামীলীগ নেতা এড. আমানউল্লাহ, এড. তবিবর রহমান তবি, শেরীন আনোয়ার জর্জিস, জাহেদুর রহমান, অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, আসাদুর রহমান দুলু, এড. জাকির হোসেন নবাব, সাজেদুর রহমান শাহিন, আল-রাজি জুয়েল, মাশরাফি হিরো, শহিদুল ইসলাম বাপ্পি, জুলফিকার রহমান শান্ত, কামরুল হাসান ডালিম, নাজমুল কাদির শিপন, নাইমুর রাজ্জাক তিতাস, আলমগীর হোসেন স্বপন প্রমূখ। তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ সংগ্রামের মধ্যদিয়ে অর্জিত এই গণতন্ত্র আবারও নস্যাৎ করে অসাংবিধানিক পন্থায় পিছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতা দখলের চক্রান্ত হচ্ছে। আর চক্রান্তকারীদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এই এজেন্ডা বাস্তবায়নে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির ইন্ধন দিচ্ছেন। কিন্তু দেশপ্রেমিক জনগণ অতীতের মতই শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গণতন্ত্র রক্ষার সংগ্রামে ঐক্যবদ্ধ থেকে সকল চক্রান্ত প্রতিহত করবে। খবর বিজ্ঞপ্তির।
শহীদ জিয়ার মৃত্যুবার্ষিকী পালনে বগুড়ায় বিএনপি'র কর্মসূচি গ্রহণ
বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি ভিপি সাইফুল ইসলাম বলেছেন দেশে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা চালু থাকলেও সরকারের কর্মকান্ডে স্বৈরাচারী মনোভাব ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকার এক নায়কতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার মত স্বৈরাচারী পন্থায় দমন-পীড়ন চালাচ্ছে, যা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে কাম্য নয়। আওয়ামীলীগ অতীতেও এমনই শাসন ব্যবস্থা চালিয়েছিল। আর তখন বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এদেশের মানুষের মাঝে স্বসতি ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। তার রাজনৈতিক আদর্শ এদেশের মানুষ মনে প্রাণে গেঁথে রেখেছেন। তাই আধুনিক বাংলাদেশ গঠনে শহীদ জিয়ার অসমাপ্ত কর্মসূচি বাস্তবায়নের বিকল্প নেই। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৩২তম শাহাদৎ বার্ষিকী পালন উপলক্ষে তিনি গতকাল শুক্রবার বিকাল ৪টায় নওয়াববাড়ী সড়কস্থ দলীয় কার্যালয় প্রাঙ্গণে বগুড়া জেলা বিএনপি\'র আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে এ কথা বলেন। সেই সাথে তিনি শাহাদৎ বার্ষিকী উপলক্ষে সপ্তাহব্যাপি কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এ কর্মসূচি অনুযায়ী ২৪মে শুক্রবার বগুড়া জেলার সকল মসজিদে বাদ জুম্মা দোয়া মাহফিল এবং অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের সকল উপাসনালয়ে প্রার্থনা। ২৬ মে রবিবার শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উপর রচনা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে বিকাল ৪টায় স্থানীয় শহীদ টিটুমিলনায়তনে। ২৮মে মঙ্গলবার জেলা সকল ইউনিয়নে খাদ্য বিতরণ, শহীদ জিয়ার ভাষণ প্রচার ও প্রামান্য চিত্র প্রদর্শন। ২৯ মে বুধবার জেলার সকল পৌরসভার ওয়ার্ড গুলোতে খাদ্য বিতরণ, শহীদ জিয়ার ভাষণ প্রচার ও প্রামান্য চিত্র প্রদর্শন। ৩০ মে বৃহস্পতিবার বগুড়া জেলা বিএনপি\'র আয়োজনে খাদ্য বিতরণ, শহীদ জিয়ার ভাষন প্রচার, আলোচনা সভা এবং রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান। ৩১ মে শুক্রবার ফ্রি চিকিৎসা ও রক্তদান কর্মসূচি। ০১ জুন শনিবার শোকর‌্যালি শহর প্রদক্ষিণ করবে। বগুড়া জেলা বিএনপি\'র সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন চাঁনের পরিচালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু, জানে আলম খোকা, ফজলুল বারী তালুকদার বেলাল, আব্দুর রহমান, মতিউর রহমান মতি, রেজাউল করিম বাদশা, আলী আজগর তালুকদার হেনা, আলহাজ্ব মঞ্জুরুল হক মঞ্জু, মাহবুবর রহমান বকুল, আব্দুর রশিদ শেখ, ডাঃ মামুনুর রশিদ মিঠু, লাভলী রহমান, কাজী এরফানুর রহমান রেন্টু, বি,এইচ,এম কামরুজ্জামান রাফু, ফজলুল হক রতন, এড. রাফি পান্না, এম আর ইসলাম স্বাধীন, শেখ তাহা উদ্দিন নাহিন, এড. নাজমুল হুদা পপন, মাফতুন আহমেদ খান রুবেল, কে,এম তৌহিদুল আলম মামুন, পরিমল চন্দ্র দাস, শহিদ উন নবী সালাম, মাহফুজুর রহমান রাজু, আব্দুল ওয়াদুদ, এড. মাহবুব আলম শাহিন, রাফিউল ইসলাম রুবেল, এ, কে আজাদ, আবুল বাশার, মোখলেছুর রহমান, আহসান বিপ্লব রহিম, খাদেমুল ইসলাম খাদেম, নিলুফা কুদ্দুস, শামিম আকতার পলিন, কহিনুর বেগম, শাহাদৎ হোসেন পল্টন, আরিফুর রহমান মিলন, মশিউর রহমান শিখন, সৈয়দ ফারুক আনোয়ার মিন্টু, শহিদুল ইসলাম বাবলু, পিয়ার হোসেন, দেলোয়ার হোসেন পশারী হিরু, ইঞ্জিনিয়ার হেলাল উদ্দিন, আবু তালেব স্বপন দেওয়ান, ইখতিয়ার উদ্দিন রানা, মাহবুব হাসান লিমন, প্রমুখ।
নাটোরে মুক্তিপণ আদায়কারী চক্রের দুই নারীসহ গ্রেফতার ৫
নাটোরে মোবাইল ফোনে প্রেমের ফাঁদে ফেলে মুক্তিপণ আদায়কারী চক্রের দুই নারীসহ ওই চক্রের ৫ সদস্যকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে শহরের কান্দিভিটাসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এ সময় খালেক নামে প্রতারিত এক যুবককে পুলিশ উদ্ধার করে। নাটোর থানার এসআই জালাল উদ্দিন জানান, সদর উপজেলার নলডাঙ্গা থানার মাধনগর গ্রামের সোনিয়া এবং শহরের কান্দিভিটা এলাকার নাজমা ওরফে নাগমা নামে দুই নারী মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বিভিন্ন যুবকের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। এরপর তাদের ডেকে নিয়ে আটকে রেখে মুক্তিপণের নামে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিল। এভাবে মোবাইলে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে তারা গত বৃহস্পতিবার গুরুদাসপুর উপজেলার বেড় গঙ্গারামপুর গ্রামের খাদেমুল ইসলাম নামে এক যুবককে শহরের কান্দিভিটা এলাকায় জনৈক বুলির বাড়িতে ডেকে নেয়। খাদেমুল তাদের আস্তানায় যাওয়ার পর তাকে আটকে রেখে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। খাদেমুলের ভাই বিষয়টি থানায় জানানোর পর পুলিশ মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে অবস্থান জেনে বৃহস্পতিবার রাতে অভিযান চালিয়ে সোনিয়া ও নাজমা ওরফে নাগমাসহ ওই চক্রের ৫ সদস্যকে গ্রেফতার করে। এ সময় বুলির বাড়ি থেকে খালেককে উদ্ধার করা হয়। অভিযানের খবর আগে থেকেই জানতে পেরে অপহরণচক্রের মূল হোতা বুলি পালিয়ে যায়। গ্রেফতারকৃতরা হলো নাটোর শহরের কান্দিভিটা এলাকার গোলাম মোস্তফার ছেলে সোহরাব হোসেন (২৫), আলাউদ্দিনের ছেলে হাসান (২৫), মমতাজ আলীর ছেলে মঞ্জু (২৬) ও মৃত আব্দুল কাইয়ুমের মেয়ে নাজমা ওরফে নাগমা (৪০) এবং সদর উপজেলার মাধনগর গ্রামের ওবায়দুল মন্ডলের স্ত্রী ও মোতালেবের মেয়ে সোনিয়া বেগম (২৫)। নাটোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসলাম হোসেন জানান, এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে প্রেমের ফাঁদ পেতে তাদের আস্তানায় ডেকে নিয়ে মুক্তিপণ আদায় করছে। এই চক্রের মূল হোতা শহরের কান্দিভিটা এলাকার আশরাফ আলীর স্ত্রী বুলিসহ অন্যদের আটকের চেষ্টা চলছে।
৭২ বছর বয়সে এসএসসি পাস আব্দুল গফুর নিরক্ষর নন শিক্ষিত হয়ে মরতে চান
বিদেশে থাকা ছেলের পাঠানো চিঠি পুত্রবধূকে পড়ে শুনাতে বলেছিলেন। পুত্রবধূ রিনা বেগম পড়ে শোনাননি। ক্ষুব্ধ হয়েছেন ৬৫ বছরের বৃদ্ধ আব্দুল গফুর। কষ্ট পেয়েছেন নিরক্ষর থাকার। সিদ্ধান্ত নেন মৃত্যুর আগে জ্ঞানার্জন করবেন, শিক্ষিত হয়ে কবরে যাবেন। ভর্তি হন মাদ্রাসায়। এবার এসএসসি পরীক্ষায় তিনি বি-গ্রেড পেয়ে পাস করেছেন। আশা করছেন কামিল পর্যন্ত পড়ালেখা করবেন। আব্দুল গফুর ঝিনাইদহ সদর উপজেলার রতনহাট গ্রামের বাসিন্দা। আব্দুল গফুর জানান, খুব ছোট বেলায় মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে বাবা-মা মারা যান। এতিম হয়ে ছোট বেলা থেকেই কৃষি কাজ করতে হয়েছে। স্কুলে যাওয়া হয়ে ওঠেনি তার। বাবার রেখে যাওয়া দুই বিঘা জমি চাষাবাদ করে সংসার চালাতে থাকেন। ১৯৭২ সালে পার্শ্ববর্তী জয়ারামপুর গ্রামের আকাল উদ্দিনের কন্যা নুর ভানুকে বিয়ে করেন। তিন পুত্র সন্তানের বাবা হন আব্দুল গফুর। কয়েক বছর পূর্বে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান বড় ছেলে শামছুল আলম। মেঝো ছেলে রুহুল আমিন ৯ম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ার পর কাজের সন্ধানে বিদেশে গেছে। ছোট ছেলে আশরাফুল ইসলাম এইচএসসি পর্যন্ত পড়েছে। রুহুল আমিন বিয়ে করেছে। আব্দুল গফুর জানান, ১০/১১ বছর পূর্বে ছেলে রুহুল আমিন বিদেশ থেকে একটা চিঠি পাঠান। তিনি পড়ালেখা না জানার কারনে পুত্রবধূ রিনা বেগমের কাছে নিয়ে যান। পড়ে শোনাবার জন্য বললে কাজের চাপ দেখিয়ে এড়িয়ে যান। ছেলের চিঠি পড়তে না পেরে অনেক কষ্ট পান আব্দুল গফুর। তখনই সিদ্ধান্ত নেন পড়ালেখা করবেন। শিক্ষিত হয়ে কবরে যাবেন। অশিক্ষিত হয়ে থাকতে চান না। ২০০৫ সালে এই ঘটনার পর তিনি বই কিনে বাড়িতে বসে পড়তে শুরু করেন। ২০০৭ সালে আব্দুল গফুর যান ঝিনাইদহ শহরতলির লাউদিয়া আলিয়া মাদ্রাসায়। সেখানে ভর্তি হয়ে নিয়মিত ক্লাস করেছেন। গত এসএসসি (দাখিল) পরীক্ষায় অংশ নেন ৭২ বছর বয়সের আব্দুল গফুর। বি-গ্রেডে পাস করেছেন তিনি। আব্দুল গফুর জানান, তিনি কামিল পর্যন্ত পড়ালেখা করবেন। ইতোমধ্যে ভর্তির বিষয়ে খোঁজ খবর নিচ্ছেন। আব্দুল গফুর আরো জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে তার সমস্ত খরচ দেয়া হয়। কিন্তু পড়ালেখার খরচ দেয়া হয়নি। বাড়ির অন্যরা বলে এই বয়সে পড়ালেখা করে কোন লাভ নেই। যে কারণে নিজের খরচ নিজেকে জোগাড় করে পড়ালেখা করতে অনেক কষ্ট পেতে হয়েছে। অবশ্য পুত্র আশরাফুল ইসলাম জানান, বাড়ি থেকেই তার খরচ চালানো হয়েছে। পরিবারের সকলের সহযোগিতা আছে এ ব্যাপারে। আর পুত্রবধূ রিনা বেগম চিঠি পড়ে না দেয়ার বিষয়টি তার জানা নেই বলে জানান। এ ব্যাপারে আব্দুল গফুরের প্রাইভেট শিক্ষক মইনুর রহমান জানান, তার উদ্যোগ দেখে তিনি খুশি হয়েছেন। তাই টাকা ছাড়াই নিয়মিত প্রাইভেট পড়িয়েছেন। লাউদিয়া আলিয়া মাদ্রাসার সুপার ইয়াসিন আলী জানান, তারা আব্দুল গফুরকে উৎসাহ দিয়েছেন। আশা করছেন সে আরো পড়ালেখা চালিয়ে যাবেন।
ঢাকায় ইরান মহিলা ফুটবল দল
এএফসি এশিয়ান উইমেন্স কাপ কোয়ালিফাইয়ারে অংশ নিতে ঢাকায় পৌঁছেছে ইরান মহিলা ফুটবল দল। গতকাল সকালে ঢাকায় পেঁৗছে দলটি। বিকেলে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের মাঠে প্রথম দিনের অনুশীলনও করেছে ইরানের মহিলারা। আয়োজক বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) জানিয়েছে, রোববারের মধ্যে ঢাকায় পৌঁছবে প্রতিযোগিতার অন্য দুই দল থাইল্যান্ড ও ফিলিপাইনও। এরপর বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ২১ থেকে ২৫ মে পাঁচ দিনে প্রতিযোগিতাটি মাঠে গড়াবে। টুর্নামেন্টের চতুর্থ দল বাংলাদেশ মহিলা দল।
আবারও টেলিফিল্মে জুটিবদ্ধ হলেন তৌকীর আহমেদ-রাখি
\'একজন অভিনেত্রী হিসেবে রাখি খুব ভালো করছে। যেহেতু তার বয়স কম তাই যদি সে এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আরো সিরিয়াস হয়ে মনোযোগ দিয়ে কাজ করে যায় তাহলে আগামী দিনের একজন প্রধান শিল্পী হতে পারবে রাখি।\' জনপ্রিয় অভিনেত্রী লাক্সতারকা রাখি সম্পর্কে এমনই বললেন জনপ্রিয় নাট্যাভিনেতা ও নির্মাতা তৌকীর আহমেদ। তৌকীর আহমেদ ও রাখি চতুর্থবারের মতো একটি টেলিফিল্মের কাজ শেষ করেছেন গত ১৬ মে বৃহস্পতিবার। টেলিফিল্মের নাম \'একটি গোপন কথা ছিলো বলবার\'। এটি নির্মাণ করেছেন সৈয়দ জামিম। টেলিফিল্মটি রচনা করেছেন আসাদুজ্জামান সোহাগ। এর আগে তৌকীর আহমেদ ও রাখি একসাথে কাজ করলেও সৈয়দ জামিমের পরিচালনায় এবারই প্রথম তারা দুজন একসাথে কাজ করলেন। টেলিফিল্মটিতে তৌকীর-রাখি স্বামী (আদনান)-স্ত্রী (অর্পিতা) চরিত্রে অভিনয় করেছেন। আবারো তৌকীর আহমেদের সাথে জুটিবদ্ধ হয়ে অভিনয় প্রসঙ্গে রাখি বলেন, \' তৌকীর ভাই ভীষণ রকম সহযোগিতা পরায়ণ একজন শিল্পী। মানুষ হিসেবেও তিনি চমৎকার। অভিনয়ে আরো পরিপক্ক হবার ক্ষেত্রে তিনি আমাকে বেশ সহযোগিতা করেন। আমাকে নানান রকম উপদেশও দেন তিনি। তার এই আন্তরিকতা আমাকে মুগ্ধ করে। \' আগামী ঈদে একটি স্যাটেলাইট চ্যানেলে প্রচারের লক্ষ্যে টেলিফিল্মটি নির্মিত হয়েছে। এতে আরো অভিনয় করেছেন দীপা খন্দকার, মার্শাল, রাহুল, প্রমুখ। তৌকীর আহমেদ পরিচালিত সমরেশ মজুমদারের গল্প অবলম্বনে নির্মিত ধারাবাহিক নাটক \'ছায়াবৃতা\' নিয়মিতভাবে এটিএন বাংলায় প্রচার হচ্ছে। তৌকীর আহমেদ নির্মাতা হিসেবে প্রথম নির্মান করেন ধারাবাহিক নাটক \'তোমার বসন্তদিনে\'। তার নির্মিত প্রথম খন্ড নাটক \'লন্ডনী কইন্যা\'। অন্যদিকে রাখি এরইমধ্যে শেষ করেছেন চয়নিকা চৌধুরী পরিচালিত খন্ড নাটক \'তুমি আমার\' ধারাবাহিক নাটক \'আপনার চেয়েও আপন\' নাটকের কাজ। ২০১১ লাক্স তারকা হবার পরপরই রাখি বিপাশা হায়াতের রচনায় ও তৌকীর আহমেদের পরিচালনায় একুশে ফেব্রুয়ারির নাটক \'বিস্ময়\' তে অভিনয় করেন। এরপর একই পরিচালকের \'বিহঙ্গ কথা\' টেলিফিল্মেও অভিনয় করেন। সর্বশেষ আবুল হায়াতের নির্দেশনায় তৌকীর রাখি \'অরন্য মঞ্জুরী \' টেলিফিল্মে অভিনয় করেন। ছবি : আলিফ হোসেন ।
'স্বামীকে সাথে নিয়ে বাবার বাড়ি যাচ্ছি'
অনেকক্ষন ধরেই মুঠোফোনে রিং হচ্ছিল; ধরছিলেন না কেন? শুটিং শেষ করে এই মাত্র বাসায় ফিরেছি। এখন বাবার বাড়িতে যাচ্ছি। সেখানেই স্বামী আমির হাসানকে নিয়ে রাতের খাবার খাব। এদিকে মুঠোফোন সাইলেন্টে ছিল। তাই রিংয়ের বিষয়টি খেয়াল করিনি। কি উপলক্ষ্য দাওয়াত ছিল? আসলে বিশেষ কোন উপলক্ষ্যে এ দাওয়াত নয়। মায়ের আবদার পূরন করতে প্রায়ই সেখানে যাই। আজও সেখানে আমার বেশ কিছু আত্মীয়-স্বজন আসবেন। রাতে কি সেখানেই থাকবেন? না, রাতে সেখানে থাকব না। কারণ খুব ভোরেই শুটিং রয়েছে। তাই সবার সঙ্গে দেখা করে রাতেই চলে আসব। শুনেছি; আপনি কক্সবাজারে গিয়েছিলেন? \'চান্দের গাড়ি\' শিরোনামের একটি ধারাবাহিকের শুটিং করতে কক্সবাজারে গিয়েছিলাম। নাটকটি নির্মান করেছেন আল হাজেন। এ ধারাবাহিকে আমাকে আনিসুর রহমান মিলনের বিপরীতে দেখা যাবে। \'চান্দের গাড়ি\' শিরোনামটা বেশ কাল্পনিক মনে হচ্ছে- এ ধারাবাহিকে লোহার তৈরী একটি গাড়ির নাম রাখা হয়েছে \'চান্দের গাড়ি\'। গাড়িটির নানা ঘটনা নিয়ে ধারাবাহিকের পটভূমি গড়ে উঠেছে। গাড়ির চালক হচ্ছেন আনিসুর রহমান মিলন। এ ধারাবাহিকে আরো অভিনয় করেছেন- ফজলুর রহমান বাবু, বন্যা মির্জা, দিহান, জর্জ প্রমুখ। \'চান্দের গাড়ি\' ধারাবাহিকে আপনার চরিত্রটি প্রসঙ্গে বলুন- এ ধারাবাহিকে আমার বাবা-মা নেই। আমি ভাইয়ের কাছেই মানুষ হয়েছি। ভাই আমাকে তার নিজের সন্তানের মতো করে মানুষ করেছেন। এমনকি আমাকে লেখাপড়া শিখিয়ে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করছেন। কিন্তু আমি অশিক্ষিত একজন ড্রাইভার মিলন ভাইয়ের প্রেমে পরে যাই। এরপরই আমার প্রেমিকের পরিবারের সঙ্গে ভাইয়ের নানা দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়। এভাবেই নানা ঘটন-অঘটনের মধ্যে দিয়ে ধারাবাহিকটি এগিয়ে যাবে।
বিশ্বকবির জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আমরা ক'জন শিল্পী গোষ্ঠীর অনুষ্ঠান
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫২তম জন্ম বার্ষিকী উপলক্ষে আমরা ক\'জন শিল্পী গোষ্ঠী বগুড়ার উদ্যোগে গতকাল শুক্রবার শহীদ টিটু মিলনায়তনে এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। আব্দুস সামাদ পলাশের সভাপতিত্বে এবং আব্দুল মোবিন জিন্নাহ\'র পরিচালনায় অনুষ্ঠানে রবি ঠাকুরের সৃষ্টি নিয়ে আলোচনা করেন ইঞ্জিঃ রমজান আলী, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট বগুড়ার সভাপতি মনোয়ারুল ইসলাম, ব্র্যাক ব্যাংকের ম্যানেজার দাউদুর রহমান, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ শোয়েব শাহরিয়ার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল ওয়ারীশ, এএসপি বি সার্কেল আশরাফুল ইসলাম প্রমুখ। আলোচনা শেষে সংগঠনের শিল্পীদের পরিবেশনায় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। খবর বিজ্ঞপ্তির।
হাজারো মানুষ খোলা আকাশের নিচে
ঘূর্ণিঝড় মহাসেনের আঘাতে বিধ্বস্ত দেশের উপকূল। ঝড়ের তা বে নিহত হয়েছে ২০ জন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কয়েক হাজার ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, বিদ্যুতের খুঁটি ও আবাদি ফসল। গতকাল শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হাজার হাজার মানুষ খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন। তাদের কাছে পৌঁছায়নি পর্যাপ্ত ত্রাণ সামগ্রী। স্থানীয় প্রশাসন, ইউনিয়ন পরিষদ ও ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। মহাসেনের আঘাতে কক্সবাজারে তিন শতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলার মহেশখালী উপজেলার দলঘাটা ইউনিয়ন, মহেশখালীর সোনাদিয়া, ঘটি ভাঙ্গা, কুতুবদিয়ার তবলারচর, উত্তর ধুরুং, দক্ষিণ ধুরুং, টেকনাফের শাহা ফরিরদ্বীপ, সেন্টমার্টিন ও মিলার কিছু অংশে মহাসেনের প্রভাবে ৫ থেকে ৭ ফুট পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকার তিন শতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জেলা প্রশাসক রুহুল আমিন জানিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, \'ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী মজুদ রয়েছে। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধিদেরকে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা চূড়ান্ত করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। শুক্রবার বিকেলের মধ্যে ওই তালিকা চূড়ান্ত হবে। তালিকা অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ত্রাণসমাগ্রী পৌঁছানো হবে।\' ঝড়ের আঘাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পটুয়াখালী। জেলা খেপুপাড়া ও গলাচিপা উপজেলার এখন পর্যন্ত রয়েছে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। রাস্তায় উপছে পড়া গাছপালা পড়ে থাকায় সেখানে এখনো ত্রাণসামগ্রী পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। জেলা প্রশাসক অমিতাভ ভৌমিক জানান, ঝড়ে জেলার আংশিক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৮ হাজার ২৩৮টি। সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৭ হাজার ৫৪০টি কাঁচা ঘরবাড়ি। ক্ষতিগ্রস্ত ইউনিয়নের সংখ্যা ৭২। প্রথামিকভাবে দুর্গতের জন্য ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা ও ২শ\' মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছেনি। মহাসেনের তা বে নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় এক হাজারের মত কাঁচা ঘরবাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তিনশতাধিক। সেখানেও পৌঁছায়নি ত্রাণসামগ্রী। দ্বীপের তমরুদ্দি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান (ইউপি) আলাউদ্দিন বাবু বলেন, \' বৃহস্পতিবারের ঘূর্ণিঝড়ে তার ইউনিয়নের তিনটি গ্রামের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ৭০টি পরিবার খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে। শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে কোন ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছানো হয়নি।\' খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার হাতিয়া উপকূল দিয়ে বয়ে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় মহাসেনের আঘাতে হাতিয়া দ্বীপের তিন শতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্থ হয়। বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত আশ্রয়কেন্দ্র থেকে ক্ষতিগ্রস্তরা তাদের তাদের ঘরবাড়িতে যেতে শুরু করেন। কিন্তু যাদের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তারা সবাই এখন খোলা আকাশের নিচে বাস করছেন। হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহিদুর রহমান শুক্রবার সকালে বলেন, \'ঝড়ে দ্বীপের বিচ্ছিন্ন নিঝুমদ্বীপ, নলের চর, কেয়ারিং চর, ঢালচর, জাগলার চর, নঙ্গলিয়ার চর, চর বাসারসহ মূল ভূ-খ ের ১২টি ইউনিয়নে এক হাজারের মতো কাঁচা ঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঝড়ে রাস্তাঘাট, গাছপাল্লার ও ফসলি জমির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। শুক্রবারের মধ্যে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা চূড়ান্ত করা হচ্ছে। খুব দ্রুত ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছানো হবে।\' এদিকে ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের খোঁজ-খবর নিতে হাতিয়ায় যাচ্ছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও আজিম গ্রুপ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোহাম্মদ ফজলুল আজিম। তিনি ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দিতে স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন। নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খালিদ মেহেদি হাসান জানান, উপজেলার মোহাম্মদপুর, চরক্লার্ক, চরবাটা, চরজুবলি ইউনিয়নে ঘুর্ণিঝড় মহাসেন আঘাত হানে। এ সময় কয়েক শতাধিক কাঁচাঘর বিধ্বস্ত হয় এবং শতাধিক গাছ উপড়ে পড়ে। বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে ফসলের মাঠে পানি জমেছে- যার কারণে কৃষকরা অনেকটা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তবে ক্ষতিগ্রস্তদের পরিমাণ যাচাই করে সহযোগিতা করা হবে।\' কোম্পানিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুল আউয়াল জানান, ঝড়ের আঘাতে উপজেলার প্রায় কয়েকশ\' কাঁচাঘর বিধ্বস্ত ও বেশ কিছু গাছপালা উপড়ে পড়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে এখনো পর্যন্ত কোন ত্রাণসামগ্রী পৌঁছেনি বলে জানিয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ। সার্বিক বিষয়ে শুক্রবার সকালে নোয়াখালী জেলা প্রশাসক মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, আমাদের আগাম প্রস্তুতি থাকায় জানমালের তেমন ক্ষতি হয়নি। তবুও যেটুকু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা নিরূপনের কাজ চলছে। ক্ষতিগ্রস্তদের সরকারিভাবে সাহায্য সহযোগিতা করা হবে। মৎস্য খাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি পিরোজপুর প্রতিনিধি জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড় মহাসেনে পিরোজপুরে মৎস্য খাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ভেসে গেছে প্রায় দুইশ\' ঘের ও পুকুরের মাছ। পিরোজপুর সদর, জিয়ানগর ও মঠবাড়িয়া উপজেলার এই ক্ষয়ক্ষতির তথ্য দিয়েছেন জেলা মৎস্য বিভাগের উপপরিচালক মো. অলিউর রহমান। তিনি জানান, প্রবল বর্ষণ ও জোয়ারের কারণে পিরোজপুর সদর, জিয়ানগর ও মঠবাড়িয়া উপজেলার ১ হাজার সাতশ\' ৬৮টি ঘের ও পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। ঘূর্ণিঝড়ে ওই তিনটি উপজেলাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে দুশ্চিন্তার মধ্যে রয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। পুনর্বাসনে সরকারের হস্তক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন তারা। অবশ্য ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্য চাষিরা কবে নাগাদ মৎস্য পুনর্বাসনের আওতায় আসবেন সে ব্যাপারে তেমন কিছু জানাতে পারেননি জেলা মৎস্য বিভাগের উপপরিচালক মো. অলিউর রহমান। কক্সবাজারে ঘর গোছাতে ব্যস্ত মানুষ কক্সবাজার প্রতিনিধি: ঘূর্ণিঝড় \'মহাসেন\' আতঙ্ক কেটে যাওয়ার পর ঘরে ফিরেছে উপকূলের মানুষ। এখন পুরোদমে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে ঘর গোছাতে। সরিয়ে নেয়া জিনিসপত্র বাড়িতে আনাসহ আনুষঙ্গিক কাজে সারাদিন পার করেছে তারা। অনেকটা উৎফুল্লও দেখা যাচ্ছে তাদের কাজে। বড়দের পাশাপাশি শিশুরাও এতে অংশ নিচ্ছে। যেন নতুনভাবে বসতি গড়ছেন তারা। কথা বলে জানা গেছে, চরম ঝুঁকিতে থাকা সত্ত্বেও মহাসেনের আক্রমণ থেকে রক্ষাই এ উৎফুল্লতার কারণ। শুক্রবার সরেজমিনে কক্সবাজার শহরের সমিতিপাড়া এলাকা ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে। সমিতি পাড়া ওয়ার্ড কাউন্সিলর আকতার কামাল জানান, ঘূর্ণিঝড় মহাসেন আঘাত হানলে সমিতিপাড়ার সব বসতি বিলীন হয়ে যেত। আঘাত থেকে রক্ষা পাওয়ায় নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে যে কষ্ট পোহাতে হয়েছে তা এখানকার লোকজনের ওপর প্রভাব ফেলেনি। সোনাদিয়ার পশ্চিম পাড়ার বাসিন্দা পরিবেশকর্মী গিয়াস উদ্দিন জানান, মূল ভূ-খ ের সাথে সোনাদিয়া ও বড়দিয়ার সংযোগ বিচ্ছিন্ন। এ কারণে জিনিসপত্রসহ দীর্ঘ দু\'কিলোমিটার হেঁটে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে এখানকার মানুষের অসহ্য কষ্ট পোহাতে হয়েছে। তারপও মহাসেনের আঘাত থেকে রক্ষা পাওয়ায় সবাই শ্রষ্ঠার কাছে শুকরিয়া আদায় করেছেন এবং খুশি মনে ঘর গোছাচ্ছেন। ধলঘাটার ইউপি সদস্য নবী হোসেন আজাদ জানান, ধলঘাটার মূল ভূখন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ায় নৌ-পথই একমাত্র মাধ্যম। ফলে জিনিসপত্রসহ পরিবার-পরিজন নিয়ে নৌপথ পাড়ি দিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে এখানকার মানুষের সীমাহীন কষ্ট পোহাতে হয়েছে। তারপরও মহাসেন থেকে রক্ষা পেয়েছে এটাই বড় কথা। শুক্রবার সকাল থেকে সবাই ঘরে ফিরে ঘর গোছাচ্ছে। এদিকে মহাসেন থেকে রক্ষা পাওয়ায় জেলাব্যাপী শুক্রবার জুমার নামাজে শুকরিয়া আদায় করে মোনাজাত হয়েছে বলে জানা গেছে। কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের উপসহকারী পরিচালক নাজমুল হাসান জানান, আতঙ্ক একেবারেই কেটে গেছে। সন্ধ্যার পর সতর্ক সংকেত পুরোপুরি তুলে নেয়া হবে। জেলা প্রশাসক মো. রুহুল আমিন বলেন, \'কয়েকদিন ধরে উপকূলের মানুষসহ পুরো জেলাবাসী চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন পার করেছে। উপকূলের মানুষকে বসতবাড়ি ছেড়ে আসতে নিদারুণ দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। তারপরও আল্লাহ যে মহাসেনের কবল থেকে এ এলাকার মানুষকে বাঁচিয়েছে এ জন্য হাজার হাজার শুকরিয়া।\' ডিসি আরও বলেন, \'মহাসেনের আশঙ্কা কেটে যাওয়ার পর সবাইকে ঘরে ফিরে যেতে বলা হয়েছে। আশ্রয় নেয়া সব মানুষ ফিরে ঘর গোছাচ্ছে।\' ঘূর্নিঝড়ে পটুয়াখালীতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি পটুয়াখালী প্রতিনিধি : বৃহস্পতিবারের ঘূর্ণিঝড় মহাসেনে উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালীর ৪০ হাজার হেক্টর জমির ফসলের ক্ষতি হয়েছে। এদিকে,ফসলের ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে কৃষি বিভাগ কাজ শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন জেলা কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক এ জেড এম মোমতাজুর করিম। তবে, আনুমানিক ৪০ হাজার হেক্টর জমির ফসলের ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি ধারণা করছেন। এসব জমিতে উড়তি কাচা মরিচ, তিল, ঢেড়শ, সূর্যমূখী, মিষ্টি আলু, খেসারী ও মুখ ডাল এবং বিভিন্ন জাতের সবজি আর আউশ এবং বোরোর বীজতলা নষ্ট হয়েছে। এর ফলে চলতি মৌসুমে গোটা জেলায় উল্লেখিত ফসলের তীব্র সংকট দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে তিনি আশঙ্কা করছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা হলেন-রাঙ্গাবালী উপজেলার চরবাংলার কৃষক আবু হানিফ, দশমিনা উপজেলার চর বাশবাড়িয়া এলাকার কৃষক সোবাহান, কলাপাড়ার লতাচাপলি ইউনিয়নের ইয়াসিন মৃধা। পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক অমিতাভ সরকার জানান, কৃষকের ক্ষতির ব্যাপারটি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এছাড়া কৃষি বিভাগকে সব প্রকার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরুপণ করে তালিকা দিতে বলা হয়েছে। সাতক্ষীরায় বেড়িবাঁধ নিয়ে শঙ্কা সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : ঘূর্ণিঝড় মহাসেনের আঘাত থেকে রক্ষা পেলেও সাতক্ষীরার উপকূলীয় এলাকার মানুষের মধ্যে বেড়িবাঁধ নিয়ে দেখা দিয়েছে নতুন শঙ্কা। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার আগে শ্যামনগর ও আশাশুনি উপজেলার ২০ হাজার আশ্রিত মানুষ আশ্রয়কেন্দ্র থেকে নিজ বাড়িতে ফিরেছে। শ্যামনগর উপজেলার পদ্মপুকুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমজাদুল ইসলাম জানান, ওয়াপদার বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ায় তিনটি পয়েন্ট ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। পশ্চিম পাতাখালী ও ঝাপার মধ্যবর্তী স্থান, পূর্ব পাতাখালী বাজারের উত্তর পাশে এবং কামালকাঠি প্রাইমারি স্কুলের দক্ষিণ পাশের বেড়িবাঁধ রয়েছে বেশি ঝুঁকিতে। ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব অর্থায়নে মাটি ভর্তি বস্তা ফেলে ও বাঁশ দিয়ে বাঁধ রক্ষার চেষ্টা করছে এলাকাবাসী। এদিকে, সাতক্ষীরা সুন্দরবন সংলগ্ন কপোতাক্ষ, খোলপেটুয়া, আড়পাঙাশিয়া নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন কমপক্ষে ৩০টি স্থানে বেড়িবাঁধ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এসব ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ সংস্কারের জন্য অর্থ বরাদ্দ চেয়ে মন্ত্রণালয়ে আবেদন জানানো হলেও কোনো অর্থ বরাদ্দ না পাওয়ায় বাঁধগুলো মেরামত করা সম্ভব হচ্ছে না। ঝালকাঠিতে ঘূর্ণিঝড়ে ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত ফসলের ক্ষতি ঝালকাঠি প্রতিনিধি : ঝালকাঠিতে ঘূর্ণিঝড় মহাসেনের আঘাতে সহগ্রাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি, অসংখ্য গাছপালা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও চলতি মৌসুমের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিভিন্ন সূত্র জানায়, জেলার বিভিন্নস্থানে বিধ্বস্ত হয়েছে কাঁচা ঘরবাড়ি, উপড়ে পড়েছে অসংখ্য গাছপালা ও বিদ্যুতের খুঁটি। বিরামহীন বৃষ্টিতে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। ধসে পড়েছে সুগন্ধা ও বিষখালির বেড়িবাঁধ, দেখা দিয়েছে ভাঙন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. তাওফিকুল আলম জানান, বিভিন্ন ধরনের সবজি, মুগ, তিল, আউশ ধান, সূর্যমুখী ও ভুট্টার বেশ ক্ষতি হয়েছে। তবে দ্রুত পানি নেমে যাওয়ায় ক্ষতি কম হয়েছে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) একেএম সোহেল জানান, নদী নিকটবর্তী মানুষকে আগেই সরিয়ে নেওয়ার কারণে এ জেলার হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। মহাসেনের কারণে জেলার ক্ষয়ক্ষতির পরিসংখ্যান করে শিগগিরই ক্ষতিগ্রস্তদের সহযোগিতা করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চুয়াডাঙ্গায় কাল বৈশাখী ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি : চুয়াডাঙ্গায় কালবৈশাখী ঝড়ে পাকা ধান, কলাবাগান, পেঁপে বাগান, পানের বরজ ও গাছের আমসহ কাঁচা ঘর-বাড়ি ভেঙে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। গতকাল শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টা থেকে ৬টা পর্যন্ত জেলার দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা ও জীবননগর উপজেলায় কালবৈশাখী ঝড় আঘাত হানে। চুয়াডাঙ আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ জাহিদুল ইসলাম জানান, বৃষ্টির সঙ্গে বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৭০ থেকে ৮০ কিলোমিটার। ঝড়ে জেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হন। চুয়াডাঙা কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক হরিবুলা সরকার জানান, কালবৈশাখী ঝড়ে পাকা ধান, কলা বাগান, পেঁপে বাগান, আমসহ পানের বরজের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তবে কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা এখনই বলা যাচ্ছে না। ৪০ ঘণ্টা পরেও বরগুনা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন বরগুনা প্রতিনিধি : ঘূর্ণিঝড় মহাসেনের প্রভাবে বরগুনার চারটি উপজেলা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। বুধবার রাত ১টা থেকেই সদর, বামনা, বেতাগী ও পাথরঘাটা উপজেলা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। শুক্রবার বিকাল ৫টা পর্যন্ত তা স্বাভাবিক হয়নি। আজ শনিবার সন্ধ্যা নাগাদ এই চার উপজেলার বিদ্যুৎ ব্যবস্থা সচল হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের বরগুনা জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি জানান, বৈদ্যুতিক লাইনের উপর প্রচুর গাছ পড়েছে। এতে করে অসংখ্য জায়গায় বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে গেছে। তা ঠিক করতে একটু সময় লাগবে। ঝড়ের পর পরই বিদ্যুৎ বিভাগের একশ\' কর্মী কয়েকটি টিমে ভাগ হয়ে কাজ শুরু করেছে বলে জানান নির্বাহী প্রকৌশলী। জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল ওয়াহাব ভূঁইয়া জানান, বিষয়টি তারা তদারকি করছেন। এদিকে বিদ্যুৎ না থাকায় এ চার উপজেলার মানুষকে চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হচ্ছে। ইতোমধ্যে এসব জায়গায় ইন্টারনেট ব্যবস্থাও নাজুক হয়ে পড়ায় সংবাদকর্মীদের ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হচ্ছে বলে জানান দেশের প্রথম কমিউনিটি রেডিও স্টেশন লোকবেতারের স্টেশন ব্যবস্থাপক মনির হোসেন কামাল। লক্ষ্মীপুরে বিধ্বস্ত অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি, ফসলের ব্যাপক ক্ষতি লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি : ঘূর্ণিঝড় মহাসেনের কারণে লক্ষ্মীপুর সদর ও রামগতি উপজেলায় অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। নষ্ট হয়েছে কয়েক হাজার একর জমির ফসল। বৃহস্পতিবারের এ ঝড়ে রামগতি উপজেলার চরগজারিয়া ও সদরের চররমনী মোহন ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ের প্রভাবে ভারী বৃষ্টিপাত এবং স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক ফুট উচ্চতার নদীর জোয়ারের পানিতে রামগতি, কমলনগর, রায়পুর ও চররমনীতে সয়াবিন, বাদাম, মরিচ, মুগ-মুশুরী, ফেলনসহ অন্যান্য ডাল জাতীয় ফসল, বরবটিশীম, জিঙ্গা, চিচিঙ্গা, শসা, ঢেঁড়স, বেগুন, ডাটা শাক, পুঁইশাকসহ বিভিন্ন জাতের শাকসবজি নষ্ট হয়ে যায়। জেলা কৃষি অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. ওসমান খান বলেন, এখনো ক্ষয়ক্ষতির পুরো হিসাব দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে বেশ কয়েক হাজার একর জমির ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। পরিসংখ্যান শেষ হলে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত হিসাব পাওয়া যাবে। জেলার বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা যায়, ঝড়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে সয়াবিন ও বাদামের, আর কয়েকটা দিন বাদেই যেগুলো ওঠার কথা ছিল কৃষকের ঘরে। গত বছর বেশি লাভ আসায় এবার বেশিরভাগ জমিতে সয়াবিনের আবাদ করেন বলে জানান অনেক কৃষক। স্থানীয়রা জানান, মহাসেনের প্রভাবে মেঘনা নদীতে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে চার-পাঁচ ফুট বেশি উচ্চতার পানি উঠে চর গজারিয়া, তেলীরচর, বয়ারচর, মেঘারচরসহ নিম্নাঞ্চলের চরগুলো প্লাবিত হয়। বরিশালে পৌণে ২ লাখ হেক্টর জমি তলিয়ে গেছে বরিশাল প্রতিনিধি : ঘূর্ণিঝড় মহাসেনের প্রভাবে প্রবল বৃষ্টিপাত হওয়ায় বরিশাল বিভাগের প্রায় পৌণে দুই লাখ হেক্টর জমির ফসল পানির নীচে চলে গেছে। দুই-একদিনের মধ্যে পানি নেমে গেলে ফসলের তেমন ক্ষতি হবে না বলে জানিয়েছে কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তর। কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক দেবাংশু কুমার সাহা জানান, প্রাথমিকভাবে বিভাগের ৬ জেলার মোট ১ লাখ ৮২ হাজার ৬০৪ হেক্টর ফসল পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে ধান, তিল, চীনা বাদাম, মিষ্টি আলু, ভূট্টা, মরিচসহ বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজি। কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুসারে জানা যায়, বরিশালের ৫ জেলায় ১২ হাজার ৪৬৯ হেক্টর জমির বীজতলার মধ্যে ৮ হাজার ৬২২ হেক্টর পানির নীচে। ৬ জেলার ৮৯ হাজার ৬৭৮ হেক্টর জমির আউশ ধানের মধ্যে পানির নীচে আছে ৫৭ হাজার ৫৪৬ হেক্টর। পিরোজপুরে ১৯ হাজার ১৮০ হেক্টর এবং পটুয়াখালীতে ২ হাজার ৮৭৫ হেক্টর জমির আউশ ধান ক্ষেতের কোন ক্ষতি হয়নি। বরিশাল কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা গাজী হারুন অর রশিদ জানান, কিছু কিছু ফসলের ক্ষতি হবে। তবে তা তেমন ব্যাপক আকার ধারণ করবে না। ইতোমধ্যে ক্ষেতে জমে থাকা পানি সরে যেতে শুরু করেছে। ২/১ দিনের মধ্যে বাকী পানিও সরে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন কৃষি কর্মকর্তা হারুন। চরফ্যাশন ও মনপুরায় সহস্রাধিক কাঁচাঘর বিধ্বস্ত ভোলা প্রতিনিধি : ঘূর্ণিঝড় মহাসেনের আঘাতে ভোলার চরফ্যাশন ও মনপুরায় সহস্রাধিক কাঁচাঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। এছাড়াও বৃহস্পতিবারের এ ঝড়ে এ দুই দ্বীপ উপজেলায় অন্তত ২০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্ষতির পাশাপাশি উপড়ে পড়েছে দুই সহস্রাধিক গাছ। চরফ্যাশনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য ৫০ মেট্রিক টন চাল ও নগদ দুই লাখ টাকা এবং মনপুরার জন্য ৪০ মেট্রিক টন চাল ও নগদ দুই লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। চরফ্যাশনের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নূর ই আলম ও মনপুরার ইউএনও আবদুল্লাহ হেল বাকি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। চরফ্যাশনের ইউএনও নূর ই আলম জানান, সেখানকার মুজিবনগর চর মানিকা, ঢালচর ও চর কুকরি মুকরিতে বেশি ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া মনপুরার কলাতলীর চর ও চর নিজামের মানুষেরা বেশি ক্ষতির শিকার হয়েছেন বলে জানান সেখানকার ইউএনও আবদুল্লাহ হেল বাকি। চরফ্যাশনে সরজমিনে দেখা যায়, সেখানকার আইচা সড়কের উপরে ঝড়ে পড়া গাছ সরিয়ে নিচ্ছে সড়ক বিভাগের লোকজন। তবে নজরুল নগরের নলুয়া বেড়িবাঁধ সড়কে শত শত গাছ এখনো সরানো হয়নি। ফলে লোকজনের চলাচলে অসুবিধা হচ্ছে। এদিকে চরফ্যাশনে গত তিন দিন যাবত বিদ্যুৎ নেই বলে জানিয়েছেন সেখানকার বাসিন্দারা। চরফ্যাশনের রসুলপুর এলাকার আবদুল গণি (৩৫), চরমানিকার বিধবা নূর চেহারা বেগম (৬৫), চর মানিকারবেড়ি বাঁধের বিবি কুলসুম (৪৫),জাহানার বেগম (৩৫) জানান, তাদের ঘর ঝড়ে সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে। কিন্তু এখনো তারা কোন সাহায্য পাননি। চরফ্যাশনের মানিকা ইউপি চেয়ারম্যান রেজাউল করিম জানান, তার এলাকায় ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে তিন শতাধিক পরিবার। চাল বরাদ্দ হয়েছে এক টন। কোন টাকা বরাদ্ধ হয়নি। মনপুরার ইউপি চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন হাওলাদার জানান, তার এলাকায় পাঁচ শতাধিক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখনো কোন বরাদ্ধ পাননি তিনি। ঝড়ে ফসলেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুই উপজেলার মানুষ। ভোলার জেলা প্রশাসক খোন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান জানান, কৃষি বিভাগ ফসলের ক্ষতির তালিকা করছে। ২/১ দিনের মধ্যে তা জানা যাবে।
আশুলিয়ার সব কারখানা চালু, শ্রমিকরা কাজে
আশুলিয়ার সব গার্মেন্টস কারখানা খুলে দেয়া হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে পুরোদমে কাজ শুরু হয়েছে কারখানাগুলোয়।চারদিন বন্ধ থাকার পর শুক্রবার কাজ শুরু হলো। তবে শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় যেসব শ্রমিক কাজে যোগ দিয়েছেন তাদের ওভারটাইম দেয়া হবে। এদিকে, শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে শ্রম মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর সঙ্গে বিজিএমইএ নেতাদের বৈঠকে শুক্রবার থেকে সব কারখানা খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সংগঠনের সহসভাপতি শহীদুল্লাহ আজিম জানান, সরকারের পক্ষ থেকে নিরাপত্তার আশ্বাস দেয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর, নৌপরিবহণমন্ত্রী শাজাহান খান, বিজিএমইএ সভাপতি আতিকুল ইসলাম, এফবিসিসিআই\'র সাবেক সভাপতি একে আজাদ প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।বিষয়টি নিয়ে এর আগে মঙ্গলবারও শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজুর সঙ্গে বৈঠক করেন পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ এর নেতারা। সোমবার সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলন করে আশুলিয়ায় সব পোশাক কারখানা অনির্দিষ্টকাল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা জানিয়েছিলেন বিজিএমইএ সভাপতি আতিকুল ইসলাম।এর আগে পোশাক শ্রমিকরা রোববার ও সোমবার আশুলিয়ায় বিক্ষোভ ও কয়েকটি কারখানা ভাঙচুর করে। কর্মস্থলে নিরাপত্তা ও বেতন-ভাতা বড়ানোসহ বিভিন্ন দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভের কারণে সোমবার সকালে কয়েকটি কারখানা ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল। সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলনে মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ পোশাক কারখনা অনির্দিষ্টকাল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের কথা জানায়। গতকাল দুপুরে সরেজমিনে দেখা গেছে, শিল্পাঞ্চলের ডিইপিজেডসহ আশুলিয়ার পল্লী বিদ্যুৎ, পলাশবাড়ী, বাইপাইল, জিরানি, জামগড়া, নরসিংহপুর, জিরাবো, ঘোষবাগ, শ্রীপুর ও কবীরপুরসহ সব এলাকার কারখানা খোলা হয়েছে। কোথাও কোনো প্রকার শ্রমিক অসন্তোষ লক্ষ্য করা যায়নি। এ বিষয়ে আশুলিয়া শিল্প পুলিশের পরিচালক মুস্তাফিজুর রহমান জানান, মালিকপক্ষের সম্মতিক্রমে সকাল থেকেই বিশেষ ব্যবস্থায় আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের বন্ধ কারখানাগুলো খোলা রয়েছে এবং শ্রমিকরা শান্তিপূর্ণভাবে কাজে যোগ দিয়েছে। এছাড়া যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে গার্মেন্ট কারখানাগুলোর সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি র‌্যাব-পুলিশ ও বিজিবিকে টহল অবস্থায় রাখা হয়েছে।
বাজারে মাছ সবজির দাম অস্থিতিশীল
রাজনৈতিক সহিংসতা, হরতাল আর ঘূর্ণিঝড় \'মহাসেন\'র প্রভাবে রাজধানীসহ সারাদেশের বাজারে মাছ ও সবজির দাম বেড়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে পেঁয়াজের দামও। ঘূর্ণিঝড় মহাসেনের প্রভাবে সৃষ্ট দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকার সঙ্গে রাজধানীর পরিবহন ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটে। ফলে গত দুই দিন বন্ধ থাকে রাজধানীর সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ। বঙ্গোপসাগর থেকে ধেয়ে আসা ঘূর্ণিঝড় মহাসেনের প্রভাবে বৃহস্পতিবার সারাদিন রাজধানীতে ছিল অঝোর ধারায় বৃষ্টি। এতে গতকাল শুক্রবার দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পণ্য সরবরাহ কম থাকায় রাজধানীর বাজারগুলোয় ক্রেতাদের সংখ্যা ছিল হাতেগোনা। যারা একান্ত বাধ্য হয়ে বাজার করেছেন তারা আগের সপ্তাহের চেয়ে বেশি দামে সবজিসহ বিভিন্ন কাঁচা বাজারের পণ্য কিনতে বাধ্য হয়েছেন। তবে পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায়কয়েকটি সবজির দাম কিছুটা কমেছে। তবে সরবরাহ কমের অজুহাতে মাছের দাম বেড়েছে। একইসঙ্গে মসুর ডালের দামও কেজিতে ১০ টাকা করে বেড়েছে। খাসির মাংস ও ডিমের দাম কমেছে। আর অন্যান্য নিত্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। সবজি বিক্রেতারা বলছেন, ঝড়ের কারণে দুই দিন ধরে দেশের দক্ষিণাঞ্চল থেকে বিভিন্ন শাকসবজি রাজধানীতে আসতে না পারায় পণ্য সরবরাহ কমে যায়। আর এতে পাইকারি ও খুচরা বাজারে বেড়েছে এসবের দাম। তবে কোনো কোনো বাজারে বিভিন্ন অজুহাতে দোকানিদের বেশি দাম রাখতে দেখা গেছে। বাজারগুলোয় আগের সপ্তাহের চেয়ে আলু, কাঁচামরিচ, পেঁপেসহ বিভিন্ন সবজির দাম বেড়েছে কেজিতে ৩-১০ টাকা। আর পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ৩-৫ টাকা। তবে চাল, ডাল, তেল, চিনি, লবণসহ মুদি সামগ্রীর দাম ছিল আগের মতো। রাজধানীর রায়সাহেব বাজার, সেগুনবাগিচা, ফকিরাপুল, মালিবাগ, মগবাজার, মোহাম্মদপুরসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৩-৪ টাকা বেড়ে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩২-৩৫ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ২৮-৩০ টাকা। আর আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ২৮-৩০ টাকায়। বাজারগুলোয় প্রতি কেজি আলুর দাম ১৫-১৬ টাকা। কাঁচামরিচ ৫৫-৬০ টাকা, পেঁপে ৩২-৩৫ টাকা, বেগুন ৩৫-৪০ টাকা, করলা ৪৫ টাকা, শসা ১৮-২০ টাকা, গাজর ২৩-২৫, কাকরোল ৪৫ টাকা, বরবটি ৪৮-৫০ টাকা, টমেটো মান ভেদে ২৫-৩০ টাকা, ঢেঁড়স ৪০ টাকা, চিচিঙ্গা ৪৫-৫০ টাকা, পটল ৩০-৩৫ টাকা, লালশাক ২০ টাকা এবং পুঁইশাক ২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এদিকে, সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবে বেড়েছে দেশি পেঁয়াজের দাম। সংস্থাটির বাজার দরের তালিকা থেকে দেখা যায়, দেশি রসুন কেজিতে ২ টাকা বেড়ে ৩০-৩২ টাকা হয়েছে। যার আগের দাম ছিল ২৮-৩০ টাকা। এছাড়া মসুর ডাল (ক্যাঙ্গারু) ১৩৫ টাকা, দেশি ১৩০ টাকা, মোটা ডাল ৯০ টাকা, মুগ ১১৫-১২০ টাকা, ছোলা ৮০ টাকা, খেসারি ৮৫ টাকা এবং কলাই ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ছোট দেশি রসুন বিক্রি হচ্ছে ৬০-৬৫ টাকা, আমদানি করা বড় রসুনের কেজি ১০০ টাকা। আদা বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়। খোলা চিনি আমদানি করা ৪৮ টাকা, দেশি ৫২ টাকা, প্যাকেট চিনি ৫৪ টাকায়, আটা দুই কেজির প্যাকেট ৭৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে স্থিতিশীল রয়েছে মাংসের বাজার। বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার ১৫০-১৫৫ টাকা, ৩৫০-৪০০ গ্রামের প্রতিটি দেশি মুরগি ২৫০-৩৫০ টাকা, লেয়ার প্রতি কেজি ১৮০ টাকা। গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে হাঁড়সহ ২৮০ টাকা, হাঁড় ছাড়া ৩৫০ টাকা, খাসি ৪৩০-৪৫০ টাকা। ডিমের বাজারে প্রতি হালি ব্রয়লার মুরগির লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ৩৫-৩৬ টাকায়। আর দেশি মুরগি ও হাঁসের ডিমের হালি ৩৮-৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক জোড়া ইলিশ বিক্রি হচ্ছে এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকায়। রুই কেজি ৩০০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। আর তেলাপিয়া মাছ বিক্রি হচ্ছে ১৮০-২০০ টাকা, নলা ( ছোট রুই) ১৫০-১৬০ টাকা, বড় কাতলা প্রতি কেজি ৩০০-৩৫০ টাকা, ছোট ২২০-২৫০ টাকা, পাঙ্গাস ১২০-১৪০ টাকা, কাঁচকি ২০০-২৪০ টাকা, কই ২২০-৩০০, সরপুঁটি ১৬০-২০০ টাকা, শিং ৫০০-৫৫০ টাকা এবং চিংড়ি আকার ভেদে প্রতি কেজি ৩০০-৬০০ টাকায় বিক্রি হয়। রাজশাহীতে কমেনি সবজির দাম রাজশাহী প্রতিনিধি : রাজশাহীর বাজারে কমেনি সবজির দাম। গত সপ্তাহে অধিকাংশ সবজিপণ্যের দাম একদফা বৃদ্ধি পায়, তবে এ সপ্তাহে এসেও সেসব সবজির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। শুক্রবার নগরীর সাহেববাজার ও শালবাগান বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, একই সবজিপণ্য বাজারের বড় দোকানগুলোতে যে দামে বিক্রি হচ্ছে, ফুটপাতের দোকানগুলোতে সেই পণ্যই কম দামে বিক্রি করতে দেখা গেছে। এসব পণ্যের গুণগত মান একই বলে ক্রেতারা জানান। শুক্রবার বাজারে প্রতিকেজি শসা ১৫-১৮ টাকা, পুঁইশাক ৮-১০ টাকা, কাঁচামরিচ ২৪ টাকা, ঝিঙ্গা ২০-২৪ টাকা, বরবটি ২০ টাকা, পেঁয়াজ ২৬ টাকা, ঢেঁড়স ১৬ টাকা, পটোল ১৬ টাকা, আলু ১০-১৪ টাকা, রসুন ৩০-৪০ টাকা, আদা ৮০ টাকা, গাজর ২০ টাকা, ডাঁটা ১০-১৬ ও কচুরলতি ৪০-৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে এসব পণ্যের দাম একই ছিল। দাম বেড়েছে বেগুনের। গত সপ্তাহে বেগুন ২৪ টাকা দরে বিক্রি হলেও এ সপ্তাহে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮-৩০ টাকায়। এছাড়া গত সপ্তাহে টমেটো রকমভেদে আট টাকা দরে বিক্রি হলেও এ সপ্তাহে তা বেড়ে ১৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লালশাকের দাম কমেছে। গত সপ্তাহে লালশাক ১৬ টাকা দরে বিক্রি হলেও এ সপ্তাহে তা কমে ১২ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এ সপ্তাহে ইলিশ ৪৫০-৫৫০ টাকা এবং ছোট মাছ ১৬০-১৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংসের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। প্রতিকেজি গরুর মাংস ২৬০-২৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শাকসবজিসহ নিত্যপণ্যের দাম সাধারণ ক্রেতাদের ক্রয়সীমার বাইরে। বিশেষ কোনো কারণ ছাড়াই দাম বাড়ছে এসব পণ্যের। ক্রেতাদের অভিযোগ, ব্যবসায়ীরা ইচ্ছামতো জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন। ফলে এর মাশুল গুনছেন সাধারণ মানুষ। এ ব্যাপারে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও বিক্রেতাদের সাফ জবাব, পাইকারদের কাছ থেকে সবজিসহ বিভিন্ন পণ্য বেশি দামে কিনলে আমাদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হয়। পাইকাররা দাম কম নিলে আমরাও খুব সামান্য লাভেই তা বিক্রি করে থাকি। ময়মনসিংহে সবজির দাম কমেছে ময়মনসিংহ প্রতিনিধি : ঘূর্ণিঝড় মহাসেনের প্রভাবে গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টির কারণে শাকসবজি নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয়ে চাষিরা ব্যাপকহারে বাজারে নিয়ে আসছেন। ফলে ময়মনসিংহের বাজারে বেশিরভাগ সবজির দাম কমে গেছে। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে টমেটো, বেগুন, করলা, শিম, ঢেঁড়স ও শসার দাম কমেছে কেজিপ্রতি পাঁচ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত। বাজারে প্রতিকেজি করলা ১৫-২০ টাকা, ঢেঁড়স ১৮-২২, বেগুন ও শসা ৮-১০, পটোল ১২-১৮, চিচিংগা-ঝিঙ্গা ছয়-আট, গাজর ১৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। লাউ, পালং ও লালশাক বিক্রি হচ্ছে পাঁচ থেকে আট টাকা কেজি। কমেছে লেবুর দাম। প্রতিহালি লেবু বিক্রি হচ্ছে আট থেকে ১০ টাকা। সবজির দাম কমলেও সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাজারে সব ধরনের মাছের দাম বেড়েছে। বাজরে সরপুঁটি ১৩৩-১৪৫ টাকা, রুই, কাতল ১৪০-২৮০, দেশী সিং ৬০০-৬৫০, মাগুর ৫৫০-৬০০, কই ৩৫০-৩৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা জানান, আকার ও প্রকারভেদে মাছের দাম কেজিতে ২০-১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বাজারে দেশী মুরগি ও খাসির মাংসের দাম বেড়েছে। দেশী মুরগি ৩৮০-৪২০ ও খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ৪৬০ টাকা কেজি। কেজিতে দাম বেড়েছে ৫০ টাকা। তবে ব্রয়লার ও গরুর মাংসের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ব্রয়লার ১৩০-১৪০ এবং গরুর মাংস ২৮০ টাকা কেজি।
 
 
 
বিএনপির হিংসাত্মক কর্মকান্ড শিক্ষাকে বাধাগ্রস্ত করছে : শিক্ষামন্ত্রী
করতোয়া ডেস্ক :
জ্বালাও-পোড়াও, ভাঙচুর, হত্যাকা ের মাধ্যমে হরতাল পালন করে জনগণের স্বার্থ রক্ষা করা যায় না বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। বরং বিরোধী দল এ ধরনের হিংসাত্মক কর্মকা চালিয়ে ভবিষ্যৎ তরুণ প্রজন্মের শিক্ষাকে বাধাগ্রস্ত করে দেশের উন্নয়নের পথে বাধা সৃষ্টি করছে বলেও জানান তিনি। তিনি... বিস্তারিত
 
হঠাৎ আলোচনায় 'নাইকো' মোশাররফ!
সংলাপে বসতে চাইলে সংসদে আসুন : নানক
ঢাবি প্রতিনিধি :
সংবিধান অনুযায়ী আগামী নির্বাচন হবে বলে উল্লেখ করে স্থানীয় সররকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবীর নানক খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, আগামী নির্বাচনের জন্য যদি সংলাপে বসতে চান তাহলে আগামী ৩ই জুন থেকে শুরু হওয়া জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে যোগ দিন। যদি সংবিধানের... বিস্তারিত
 
টেকনাফে ৩১ লাশের দাফন সম্পন্ন
কক্সবাজার প্রতিনিধি :
কক্সবাজারের টেকনাফ উপকূলে ভাসমান অবস্থায় শুক্রবার আরো ৭ মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। এই নিয়ে দু'দিনে ৩১ জনের লাশ উদ্ধার করা হলো। উদ্ধার হওয়া লাশগুলির দাফন সম্পন্ন হয়েছে। বঙ্গোপসাগরের টেকনাফ উপকূলীয় এলাকার তুলাতুলী, লম্বরী, মিটাপানির ছড়া, দরগার ছড়া, হাবিরছড়া, রাজারছড়া, বাহারছড়া ও নোয়খালী পাড়া থেকে বৃহস্পতিবার... বিস্তারিত
 
 
ভিডিও
রাশিচক্র আজ ঢাকায় আজ বগুড়ায়
 
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের চরমপন্থিরা আত্মসমর্পণের আহ্বানে সাড়া দেবে বলে মনে করেন কি?
হ্যাঁ
উত্তর নেই
না
 
 
 
আজকের ভিউ
নামাজের সময়সূচী
ওয়াক্ত
সময়
ফজর
05:25
জোহর
12:14
আছর
04:03
মাগরিব
5:43
এশা
7:00
 
Jobs in Bangladesh
Kaspersky in Bangladesh
 

সম্পাদকঃ মোজাম্মেল হক, সম্পাদক কর্তৃক ন্যাশনাল প্রিন্টিং প্রেস, শিল্পনগরী বিসিক বগুড়া এবং ১৬৭ ইনার সার্কুলার রোড, (আরামবাগ) ইডেন কমপ্লেক্স, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত ও চকযাদু রোড, বগুড়া হতে প্রকাশিত।
ফোন ৬৩৬৬০,৬৫০৮০, সার্কুলেশন বিভাগঃ ০১৭১৩২২৮৪৬৬, বিজ্ঞাপন বিভাগঃ ৬৩৩৯০, ফ্যাক্সঃ ৬০৪২২। ঢাকা অফিসঃ স্বজন টাওয়ার, ৪ সেগুন বাগিচা। ফোনঃ ৭১৬১৪০৬, ৯৫৬০৬৬৯, ৯৫৬৮৮৪৬, ফ্যাক্সঃ ৯৫৬৮৫২২ E-mail : dkaratoa@yahoo.com . . . .

Powered By: orangebd