রাত ১:১৮, বৃহস্পতিবার, ২৮শে জুন, ২০১৭ ইং

আজকের ই-পেপার

করতোয়া ডেস্ক : পবিত্র ঈদের ছুটির তিনদিনে ১৫ জেলায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৫ জন নিহত ও ২৫ জন আহত হয়েছে। এসব দুর্ঘটনা ঘটে গাইবান্ধা, নাটোর, রাজশাহী, নওগাঁ, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, সিরাজগঞ্জ, কুমিল্লা,নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও ঢাকার ধামরাই, েেগাপালগঞ্জ, চট্টগ্রাম, ফরিদপুর ও বান্দরবানে। প্রতিনিধিদের রিপোটর্ –

গোপালগঞ্জ: বৌলতলী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের আইসি ফরিদুজ্জামান বলেন, সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ভেন্নাবাড়ি বাজার এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি পিকআপ উল্টে পড়লে একজন নিহত হয়। নিহত দিলীপ সরকার (৫০) গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার সাতপাড়া গ্রামের বরদা সরকারের ছেলে। পিকআপটি ২০-২৫ জন যাত্রী নিয়ে গোপালগঞ্জ থেকে টেকেরহাট যাচ্ছিল।

চট্টগ্রাম : পটিয়া হাইওয়ে থানার ওসি এবিএম মিজানুর রহমান জানান, পটিয়া কলেজ বাজার এলাকার চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে মঙ্গলবার রাত দেড়টায় একটি অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে রাস্তার পাশে খালে পড়ে যায়। এ সময় খালে পড়ে থাকা একটি বৈদ্যুতিক তারে জড়িয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়। নিহতরা হলেন – মোহাম্মদ নূর, তার দুই ভাস্তে শাহাদাত হোসেন ও আবদুল মান্নান। তাদের বাড়ি কক্সবাজারের পেকুয়ায় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

ফরিদপুর : ঈদের আগে ফরিদপুরে প্রাইভেটকারের চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে তিনজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন পথচারীসহ আরও পাঁচজন। নগরকান্দা থানার ওসি এফএম নাসিম জানান, রোববার বিকালে নগরকান্দার জিয়াকুলির এলাকার এ দুর্ঘটনায় আহতদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। নিহতরা হলেন, পথচারী ইমরান (৩০), আইয়ুব (৩) ও গাড়ির চালক সোহেল মীর (২৭)। আহতদের নাম তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারেনি পুলিশ।

বান্দরবান : ঈদের দিন বান্দরবানের লামায় একটি মিনিবাস দুর্ঘটনায় পড়ে তিন কিশোরসহ ৪ জন নিহত হয়েছে। লামা থানার ওসি আনোয়ার হোসেন জানান, সোমবার সকাল ১০টার দিকে পর্যটন এলাকা মিরিঞ্জার কাছে এ দুর্ঘটনায় আরও অন্তত ১৩ জন আহত হন। নিহতরা হলেন- আলীকদম উপজেলার নয়াপাড়ার আবদুর রহমানের ছেলে জাহেদুল ইসলাম (১৩), একই এলাকার মো. শফির ছেলে মো. সরোয়ারে (১৫), আলীকদমের পনবাজারের মোজাম্মেল হোসেনের ছেলে রিয়াজুল ইসলাম (১৩) এবং চকরিয়ার ভেউলা মানিকচরের আজিজুর রহমানের ছেলে মঞ্জুরুল আলম (৫০)।

 

 

 

ভ্যাট আইন থাকছে আগের মতই

সংসদ রিপোর্টার : ব্যাপক সমালোচনার মুখে ভ্যাট আইনের কার্যকারিতা আরও দুই বছরের জন্য স্থগিত করছে সরকার।  বুধবার সংসদে বাজেট আলোচনায় সরকার প্রধান শেখ হাসিনা বলেন, এটা নিয়ে যেহেতু নানা ধরনের কথা হচ্ছে, এটা আগের মতোই থাকবে। ব্যাংকের সঞ্চয়ী হিসাবে আবগারি শুল্ক কমছে। ব্যাংক হিসাবে আবগারি শুল্ক ১ লাখ ১ টাকা থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত আগে যেখানে ৫০০ টাকা আবগারি শুল্ক দিতে হতো, এখন তা ১৫০ টাকা করা হবে। ৫ লাখ টাকা থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত যেটা বাজেটে ৮০০ টাকা করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, সেটা ৫০০ টাকা করা হচ্ছে।

আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন ভ্যাট আইন কার্যকরের পক্ষে অনড় ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। সব পণ্য বিক্রির উপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট ধরেই ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জন্য চার লাখ ২৬৬ কোটি টাকার বাজেট গত ১ জুন সংসদে প্রস্তাব করেছিলেন তিনি।

কিন্তু বাজেট প্রস্তাবের পর থেকে ভ্যাট আইন নিয়ে সমালোচনায় পড়তে হয় মুহিতকে। ব্যবসায়ীদের আপত্তি এবং জনসাধারণের উদ্বেগের মধ্যে সরকারের শেষ সময়ে এসে ভ্যাট আইন কার্যকরের বিরোধিতা আসে সরকারি দলের নেতা এমনকি মন্ত্রিসভার সদস্যদের মধ্য থেকেও। পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনের দুই বছর আগে এই ভ্যাট আইন কার্যকর না করতে ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্যরা আহ্বান জানান। এর পরিপ্রেক্ষিতে  বুধবার বাজেট আলোচনায় সরকার প্রধান শেখ হাসিনা বলেন, ব্যবসায়ীরা তাতে সাড়া দিচ্ছেন না। সেভাবেই করে দেবেন, আগামী দুই বছরের জন্য। বর্তমান পদ্ধতিতেই ভ্যাট আদায় বজায় রাখবেন। সংসদের পক্ষ থেকে অনুরোধ করেন অর্থমন্ত্রীকে। ফলে ২০১২ সালে প্রণীত ভ্যাট আইনটি আওয়ামী লীগের বর্তমান সরকার আমলে আর কার্যকর হচ্ছে না। বিশাল বাজেটের খরচ মেটাতে দুই লাখ ৪৮ হাজার ১৯০ কোটি টাকা জনগণের কাছ থেকে কর ও শুল্ক হিসেবে আদায়ের পরিকল্পনা ছিল অর্থমন্ত্রীর। এর মধ্যে ৯১ হাজার ২৫৪ কোটি টাকা ভ্যাট বা মূল্য সংযোজন কর থেকে আদায়ের লক্ষ্য ধরেছিলেন তিনি। ফলে এখন তার পরিকল্পনা দৃশ্যত বাধাগ্রস্ত হল।

বক্তৃতায় শেখ হাসিনা ভ্যাট আইন প্রণয়নের ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, মূসক আইনটি ১৯৯১ সালে করা, ২০০৮ সালে সংশোধনের জন্য খসড়া তৈরি হয়। সবার সঙ্গে মতবিনিময় করেই আইনটি আমরা করে দিই ২০১২ সালে। এখন সবাই ভুলেই গেছে যে আইনটি আমরা পাস করে দিয়েছিলাম। এই ভ্যাট আইনটি কার্যকর করে ২০১৬ সালের ১ জুলাই থেকে ১৫ শতাংশ ভ্যাট নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল সরকারের। কিন্তু তখন ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে তা এক বছর পিছিয়ে দিয়েছিল  সরকার, এখন আরও দুই বছর পেছাল। এখন ব্যবসায়ীরা বিক্রির অনুপাতে ভ্যাট দিচ্ছেন না, যা নতুন আইনে দিতে হবে। এখন তারা বাৎসরিক নির্দিষ্ট একটি অঙ্ক ভ্যাট হিসেবে দিচ্ছেন। নতুন আইনে ভ্যাটের হিসাব বের করা ক্ষুদ্র বিক্রেতাদের জন্য দুষ্কর হবে বলে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো দাবি করে আসছিল। অন্যদিকে ভোক্তা সংগঠন ক্যাব বলছিল, ১৫ শতাংশ ভ্যাট দিতে গেলে বাজারে পণ্যমূল্য বাড়বে এবং তাতে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবে ক্রেতারা।

অর্থমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ব্যাংকের সঞ্চয়ী হিসাবে আগে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত শুল্কমুক্ত ছিল।  এবারের বাজেটে অর্থমন্ত্রী তা ১ লাখ টাকা পর্যন্ত শুল্কমুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন। এজন্য অর্থমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই। তবে আবগারি শুল্ক নিয়ে অনেক বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছে। আমি অর্থমন্ত্রীকে এই বিভ্রান্তি দূর করে আরো পরিষ্কার বক্তব্য দেওয়ার জন্য অনুরোধ করব। তিনি বলেন, আমি অর্থমন্ত্রীকে পরামর্শ দিয়েছি, আবগারি শুল্ক ১ লাখ ১ টাকা থেকে ১ কোটি পর্যন্ত তিনটি স্তর করার। এখানে  শুল্ক যাতে আর না বাড়ে অর্থমন্ত্রী সে ঘোষণা দেবেন।  ১ লাখ ১ টাকা থেকে ৫ লাখ টাকা পযর্ন্ত আগে যেখানে ৫০০ টাকা আবগারি শুল্ক দিতে হতো, এখন তা ১৫০ টাকা করা হবে এবং ৫ লাখ টাকা থেকে ১০ লাখ টাকা পযর্ন্ত যেটা বাজেটে ৮০০ টাকা করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, সেটা ৫০০ টাকা করা হবে।

সরকারের ব্যাংকঋণ সীমার মধ্যে থাকবে
বাজেট বাস্তবায়নে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সরকারের ঋণ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়াবে না বলে বেসরকারি খাতকে আশ্বস্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বরাবরেই সরকার ঋণের লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করে যাওয়ায় বেসরকারি খাতের উদ্বেগ প্রকাশের মধ্যে বুধবার সংসদে বাজেট আলোচনায় এই আশ্বাস দেন সরকার প্রধান। শেখ হাসিনা বলেন, সরকারের ঋণের যে সীমা, তার মধ্যেই থাকবে। বাড়তি ঋণ সরকার নেবে না, ফলে আর্থিক খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে না, এটা আমি কথা দিতে পারি। এ নিয়ে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়নে প্রায় সোয়া লাখ কোটি টাকার ঘাটতি মেটাতে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ৬০ হাজার ৩৫২ কোটি টাকা ধারের লক্ষ্য ঠিক করেছে সরকারকে। এর মধ্যে ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে ২৮ হাজার ২০৩ কোটি টাকা। জাতীয় সংসদ ভবনে বৃহস্পতিবার ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বিদায়ী ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ৬১ হাজার ৫৪৮ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য ধরেছিল সরকার। সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় সংশোধিত বাজেটে তা বাড়িয়ে ৬৯ হাজার ৯০৩ কোটি টাকা করা হয়। পরে ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য মূল বাজেটের ৩৮ হাজার ৯৩৮ কোটি টাকা থেকে কমিয়ে ২৩ হাজার ৯০৩ কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয় সংশোধিত বাজেটে।

 

বিশেষ প্রতিবেদন

বিএনপির অধিকাংশ সিনিয়র নেতার এবার ঢাকায় ঈদ

রাজকুমার নন্দী : একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভেতরে ভেতরে প্রস্তুতি গ্রহণ করা বিএনপির অধিকাংশ সিনিয়র নেতাসহ অনেক নেতা এবার রাজধানীতে দলীয় চেয়ারপারসনের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করবেন। অবশ্য ঈদের পরে তাদের অনেকেই নিজ নির্বাচনী এলাকার মানুষের সঙ্গেও দেখা করবেন। বিএনপির সিনিয়র নেতারা প্রায় পুরো রমজান মাসজুড়েই রাজধানীতে খালেদা জিয়ার সঙ্গে ইফতার মাহফিলে ব্যস্ত ছিলেন। তবে দলটির কিছু সিনিয়র নেতা এবং মাঝারী সারি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের অনেক নেতা এবারও নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় ঈদ করবেন। এছাড়া অনেকে আবার দলীয় কর্মী-সমর্থক ও প্রিয়জনকে ছেড়ে বিদেশ-বিভূইয়ে ঈদ উদযাপন করবেন।

এদিকে, বিএনপির যেসব নেতা ঢাকায় ঈদ করবেন তাদের অনেকেই ইতোমধ্যে নিজে অথবা প্রতিনিধির মাধ্যমে নির্বাচনী এলাকার গরিব ও দুস্থদের মাঝে শাড়ি, লুঙ্গি, চিনি-সেমাই বিতরণ করেছেন। এছাড়া আগামী নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের অনেকেই নিজ নির্বাচনী এলাকায় রোজা-ঈদের শুভেচ্ছা সংবলিত পোস্টার সেটে দোয়াও চেয়েছেন। ছোট-বড় ব্যানার-ফেস্টুন লাগিয়ে প্রার্থী হওয়ার আগাম বার্তাও দিয়েছেন অনেকেই। রমজানে এদের অনেকে আবার দলীয় নেতা-কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে নিজ এলাকায় ইফতার অনুষ্ঠানও করেছেন। তাই দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করা বিএনপি এখনো আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না দিলেও ঈদকে ঘিরে তৃণমূলে নেতাকর্মীদের মধ্যে সব মিলিয়ে নির্বাচনী হাওয়াই বইছে।

জানা গেছে, রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ঈদের দিন দুপুর বারোটা থেকে পৌনে একটা পর্যন্ত কূটনীতিকদের সঙ্গে, এরপর বিশিষ্ট নাগরিক এবং দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন তিনি। ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত করবেন। পরে বনানী কবরস্থানে ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর কবর জিয়ারত করবেন খালেদা জিয়া। এরপর বাসায় গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটাবেন। বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিগত কয়েক বছরের ন্যায় এবারো স্ত্রী ও একমাত্র মেয়েকে নিয়ে ইংল্যান্ডে ঈদ উদযাপন করবেন। তবে প্রয়াত ছোট ভাই আরাফাত রহমানের স্ত্রী ও তার দুই মেয়ে এবার তারেক রহমানের পরিবারের সঙ্গেই লন্ডনে ঈদ উদযাপন করবেন। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবার অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী মেয়ের সঙ্গে ঈদ করবেন।

নেতাদের পারিবারিক ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম যশোরে, আব্দুল মঈন খান নরসিংদী ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী চট্টগ্রামে ঈদ করবেন। স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ঈদের দিন সকালে তার নির্বাচনী এলাকা কেরাণীগঞ্জে সাধারণ মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করে ঢাকায় চেয়ারপারসনের অনুষ্ঠানে অংশ নেয়ার কথা রয়েছে। মওদুদ আহমদের ঢাকায় বেগম জিয়ার সঙ্গে ঈদ করে পরেরদিন নোয়াখালী নিজ নির্বাচনী এলাকায় যাওয়ার কথা রয়েছে। অন্যদিকে, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, জমিরউদ্দিন সরকার, মাহবুবুর রহমান, এমকে আনোয়ার, রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস ও নজরুল ইসলাম খান ঢাকায় ঈদ করবেন।

এছাড়াও কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে ঢাকায় ঈদ করবেন আবদুল মান্নান, হাফিজউদ্দিন আহমেদ, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, সেলিমা রহমান, খন্দকার মাহবুব হোসেন, রুহুল আলম চৌধুরী, এনাম আহমেদ চৌধুরী, ডা. জাহিদ হোসেন, সাবিহউদ্দিন আহমেদ, আমানউল্লাহ আমান, আবদুস সালাম, রুহুল কবির রিজভী, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, আসাদুজ্জামান রিপন প্রমুখ নেতৃবৃন্দ। চট্টগ্রামে নিজ নির্বাচনী এলাকায় ঈদ করবেন ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল¬াহ আল নোমান, মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন, কেন্দ্রীয় নেতা গোলাম আকবর খন্দকার, মাহবুবের রহমান শামীম। নির্বাচনী এলাকা নোয়াখালীতে ঈদ করবেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান ও যুগ্ম-মহাসচিব মাহবুবউদ্দিন খোকন। এছাড়াও কেন্দ্রীয় নেতা ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু সিরাজগঞ্জ, শামসুজ্জামান দুদু চুয়াডাঙ্গা, শওকত মাহমুদ কুমিল্লা, মিজানুর রহমান মিনু রাজশাহী, মজিবুর রহমান সারোয়ার বরিশাল, হারুনুর রশিদ চাপাইনবাবগঞ্জ, খায়রুল কবির খোকন নরসিংদী, এমরান সালেহ প্রিন্স ময়মনসিংহ, সাখাওয়াত হোসেন জীবন সিলেট, নজরুল ইসলাম মঞ্জু খুলনা, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু নাটোর, আসাদুল হাবিব দুলু লালমনিরহাট, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী ও শফিউল বারী বাবু লক্ষ্মীপুর এবং তাইফুল ইসলাম টিপু নাটোরের লালপুরে নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঈদ করবেন।

বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী শহীদুল ইসলাম বাবুল, আবদুল আউয়াল খান, হাসান মামুন, আবদুল মতিন, অধ্যক্ষ বাহাউদ্দিন বাহার, সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম (দিনাজপুর-৩), মেহেদী হাসান সুমন (দিনাজপুর-১), ইয়াজ্জেম হোসেন রোমান (মাদারীপুর) এবং মিজানুর রহমান মাসুম (গাইবান্ধা-৩) নিজ নিজ এলাকায় ঈদ করবেন। এদের অনেকেই ইতোমধ্যে ঢাকা ছেড়েছেন।

নওগাঁ-৪ (মান্দা) আসন থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক আবদুল মতিন দৈনিক করতোয়াকে বলেন, সামনে নির্বাচন। নিজ এলাকার দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে ইফতারসহ নানা কর্মকান্ডের মধ্যদিয়ে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করছি। এছাড়া এলাকার অসহায় মানুষদের পাশে সাধ্যমতো দাঁড়ানোরও চেষ্টা করছি, যাতে তারা খুশি মনে ঈদ উদযাপন করতে পারেন।

বিএনপির অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাদের মধ্যে সাইফুল আলম নীরব, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, আবদুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল, রাজিব আহসান, আকরামুল হাসানসহ অনেকেই ঢাকায় ঈদ করবেন।

কারাগারে ঈদ করবেন অনেকে : বিগত বছরের তুলনায় এবার কারাগারে ঈদ করা বিএনপির নেতাদের সংখ্যা অনেক কম। দলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুস সালাম পিন্টু, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর বেশ কয়েক বছর ধরেই কারাবন্দিদের সঙ্গে ঈদ করছেন। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্ল¬াহ বুলু ও যুগ্ম-মহাসচিব আসলাম চৌধুরীসহ তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মী এবার কারাগারে ঈদ করবেন।

বিদেশে ঈদ যাদের : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ ভারতে, ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এহসানুল হক মিলন যুক্তরাষ্ট্র এবং ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি এমএ কাইয়ুম মালয়েশিয়ায় ঈদ করবেন।

 

 

 

রাজশাহী বিভাগ

আদমদীঘিতে পৃথক মারপিট ঘটনায় ৩০ জন আহত

আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি : আদমদীঘিতে পূর্বশত্রুতার জের ধরে ও পারিবারিক পৃথক মারপিট ঘটনায় নারীসহ ১৫ জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে গুরুতর ১৮ জনকে আদমদীঘি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতরা হলেন- পারইল গ্রামের সোহাগ, পালোয়ানপাড়ার সাহিদা বেগম, আরজিনা, ছাতনি গ্রামের শিরিন, স¤্রাট, লাবলু, রফিকুল, লক্ষীপুর গ্রামের রোস্তম, নাজমা, কাদের, ছাতিয়ানগ্রম অন্তাহারের রেজাউল করিম তার ভাই এখলাস, তালশন গ্রামের শাহিনুর রহমান, বিহিগ্রামের মোজাম্মেল হক, গোড়গ্রামের ছামছুন্নাহার, পাইকপাড়া গ্রামের রেজাউল ইসলাম ও তার স্ত্রী মনিরা খাতুন ও নসরতপুর গ্রামে মিঠুন।

গত মঙ্গলবার ও বুধবার রাতে ও দিনে পৃথক মারপিট ঘটনায় ৩০ জন আহত হয়। এসব ঘটনায় থানায় অভিযোগ করা হলে লক্ষীপুর গ্রাম থেকে সেজদা, ফেরদৌস, ভুট্টু আমিরুলসহ ৭ জনকে আটক করেছে বলে উপ-পরিদর্শক আকবর হোসেন জানান।

 

আজকের ই-পেপার
ফেইসবুক

সৈয়দপুরে ভিজিএফের গমসহ ট্রাক আটক

সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি : সৈয়দপুরে একটি ট্রাকে করে ৫০২ বস্তা ভিজিএফের গম পাচারকালে আটক করা হয়েছে। গত শনিবার সন্ধায় সৈয়দপুর শহরের বিসিক শিল্প নগরীর সামনে থেকে ট্রাকটি আটক করে পুলিশ। পরে সেটি সৈয়দপুর থানায় রাখা হয়েছে।জানা গেছে, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সরকারিভাবে সারাদেশে অসহায়, গরিব ও দুস্থ পরিবারের মাঝে বিনামূল্যে ভিজিএফের গম বিতরণ করা হয়।

 এবারে নীলফামারী জেলার ৬ উপজেলার ৬০ ইউনিয়ন ও চার পৌরসভার চার লাখ ৪ হাজার ৩১৫ জন কার্ডধারীর মধ্যে এ গম বিতরণের জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়। এবারের চালের পরিবর্তে প্রতিজন ১৩ কেজি ২৭২ গ্রাম করে গম পাওয়ার কথা। শনিবার জেলার ৬টি উপজেলার অনেক ইউনিয়নে ভিজিএফ কার্ডধারীদের মধ্যে গম বিতরণ করা হয়। সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আমিরুল ইসলাম গম আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

ঢাকার পথে দুর্ঘটনায় ক্রিকেটার রাজ্জাক

গ্রামের বাড়ি বাগেরহাটের ফকিরহাটে ঈদ করে পরিবার নিয়ে ঢাকা ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন ক্রিকেটার আব্দুর রাজ্জাক। তিনি শঙ্কামুক্ত বলে তার এক স্বজন জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার বিকালে গোপালগঞ্জের ভাটিয়াপাড়ার কাছে এই দুর্ঘটনা ঘটে কাশিয়ানি থানার ওসি একেএম আলী নূর জানান। দুর্ঘটনার পর রাজ্জাক ও পরিবারের সদ্যসরা খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে রাত ১২টার দিকে গ্রামের বাড়িতে ফেরেন বলে সে সময় তার সঙ্গে থাকা বেয়াই  আব্দুল্লাহ বনি জানিয়েছেন।

তিনি  বলেন,  রাজ্জাকের বাড়ি ফকিরহাটের সৈয়দপাড়া গ্রামে। ঈদ করতে স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে বাড়ি এসেছিলেন তিনি।  দুপুরের পর স্ত্রী ইশরাত জাহান অনি, দুই বছরের ছেলে আদিয়ান এবং এক বোন ও দুই ভাগ্নিকে নিয়ে ঢাকার পথে রওয়ানা হন।

“রাজ্জাক নিজেই গাড়ি চালাচ্ছিলেন।  বিকাল ৫টার দিকে গোপালগঞ্জের ভাটিয়াপাড়ার কাছে গাড়ির চাকা পাংচার  হয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে খাদে পানিতে পড়ে।”

তখন পুলিশ সবাইকে উদ্ধার করে বলে ওসি জানান। গাড়িটি দুমড়ে-মুচড়ে গেছে জানিয়ে রাজ্জাকের বেয়াই বনি বলেন, ওই গাড়িতে থাকা সবাই কম-বেশি আহত হন। রাজ্জাকের কয়েক জায়গায় ছিলে গেছে।

বাংলাদেশের ক্রিকেট অনুরাগীদের কাছে পরিচিত মুখ বাঁ হাতি স্পিনার রাজ্জাক এক দশক ধরে জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন।  ১৫৩টি ওয়ানডেতে ২০৭ উইকেট রয়েছে তার। এছাড়া ১২ টেস্টে ২৩ উইকেট এবং ৩৪টি টি-টোয়েন্টিতে ৪৪ উইকেট পান রাজ্জাক।

২০০৪ সালে অভিষেক হওয়া রাজ্জাক সর্বশেষ জাতীয় দলের হয়ে মাঠে নামেন ২০১৪ সালের অগাস্টে।

 

আইন-আদালত
আর্ন্তাজাতিক
তথ্যপ্রযুক্তি

বিশিষ্ট সংগীতজ্ঞ সুধীন দাশের আজ শেষ শ্রদ্ধা ও অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া

বিনোদন রিপোর্টার : বাংলা গানের বিশিষ্ট সংগীতজ্ঞ, স্বরলিপিকার ও নজরুল গবেষক সুধীন দাশ আর নেই। গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টায় রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৮৭ বছর। তিনি  দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন। কিছুদিন ধরে তার হজমে সমস্যা হচ্ছিল। মঙ্গলবার সকালে হাসপাতালে নেয়া  হলে চিকিৎসকরা তাকে লাইফ সাপোর্টে নিয়ে যান। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর শেষ রক্ষা হলো না। তার মৃত্যুতে সঙ্গীতাঙ্গনে নেমে আসে শোকের ছায়া। তার মৃত্যুতে বিশিষ্ট সঙ্গীতশিল্পী শাহীন সামাদ বলেন, ‘তার সর্বশেষ জন্মদিনে পরপর দুদিন তার পাশে থেকেই জন্মদিনটি উদ্যাপন করেছি। সে সময় ভাবিনি যে তারসঙ্গে এটাই হবে শেষ দেখা।

 

 তার চলে যাওয়ায় মনটা ভীষণ খারাপ। তিনি আমার ওস্তাদ। কতো যে স্মৃতি আজ চোখের সামনে ভেসে উঠছে বারবার। আমরা সত্যিই অভিভাবক শূণ্য হয়ে পড়ছি। গুণী গুণী ব্যক্তিত্বরা একে একে চলে যাচ্ছেন। কাউকেই ধরে রাখতে পারছি না। তার আতœার শান্তি কামনা করছি।’ বিশিষ্ট নজরুল সঙ্গীতশিল্পী সাদিয়া আফরিন মল্লিক বলেন,‘ কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টিকে শ্রোতার কাছে শুদ্ধরূপে পৌঁছে দেওয়ার জন্য স্বরলিপি তৈরির মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজটি তিনিই করেছেন। সুরগুরো হারিয়েই যাচ্ছিলো।

 

কিন্তু যে সময়টাতে হারিয়ে যাচ্ছিলো সেই সময়টাতে সুধীন দা একা হাতে এই কাজটি করেছেন নিবিষ্ট মনে। এই স্বরলিপির জন্য তিনি নিজেকে বিলীনই করে দিয়েছেন। তার প্রতি আমরা সত্যিই অশেষ কৃতজ্ঞ। আরেকটি কথা না বললেই নয় কাজী নজরুল ইসলামকে তার যোগ্য আসন ফিরিয়ে দেবার পেছনে সুধীন দাস ইতিহাসে এক স্মরণময় অধ্যায় রেখে গেছেন শুদ্ধ স্বরলিপিকার হিসেবে। তিনি চলে গেছেন, আজ তাকে ঘিরে অনেক ঘটনা মনে পড়ছে। তিনি তার শান্তির জায়গা চলেগেছেন। তিনি যেন চিরকাল শান্তিতে থাকেন-এই আমার প্রার্থনা।


  মৃত্যুকালে হাসপাতালেই সুধীন দাসের পাশে ছিলেন তারই ছাত্রী বিশিষ্ট নজরুল সঙ্গীতশিল্পী ফেরদৌস আরা। সুধীন দাসের হাসপাতালে ভর্তির খবর শুনামাত্রই তিনি চলে যান গুরুজিকে দেখতে। সুধীন দাসের চলে যাওয়ায় মানসিকভাবে অনেকটাই ভেঙ্গে পড়েছেন তিনি। ফেরদৌস আরা বলেন, ‘বাংলা গানে বিশেষত স্বরলিপিকার এবং নজরুল গবেষক হিসেবে তার যে অবদান তা অস্বীকার করার কোনই উপায় নেই। ওস্তাদ জি’র আশীবার্দ পেয়েছি আমি এ যে আমার জন্য পরম পাওয়া। তার শিক্ষার্থী হিসেবে আমি সবসময় গর্বিত। তার প্রয়াণে একজন সত্যিকারের সঙ্গীতপ্রেমী গুণীজন হারালো বাংলাদেশ, বাংলা গানপ্রেমী শ্রোতা। আমি তার আতœার শান্তি কামনা করছি।’ সুধীন দাসের একমাত্র ছেলে নিলয় ছিলেন একজন প্রখ্যাত গিটারিস্ট।

 বেশ কয়েকবছর আগে তিনি পরলোকগমন করেন। তারই খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন আইয়ূব বাচ্চু। সুধীন দাসের সর্বশেষ জন্মদিনে চ্যানেল আইতে এবং সুধীন দাসের বাসাতে গিয়েছিলেন আইয়ূব বাচ্চু। পরপর দু’দিন সময় দিয়েছিলেন সুধীন দাসকে। নিলয়ের অভাব যেন না বুঝতে পারেন সে কারণেই জন্মদিনে পাশে ছিলেন আইয়ূব বাচ্চু। কিন্তু তার হঠাৎ মৃত্যুর খবর শুনে নিশ্চুপ হয়েগেছেন তিনি। আইয়ূব বাচ্চু বলেন, ‘যখন খবরটা শুনেছি তখনই আমার যাওয়া উচিত ছিলো। কিন্তু আমি আমার নিজের বাবাকে নিয়েই একটু বেশি ব্যস্ত ছিলাম। ভাবছিলাম যে সব কাজ শেষ করে হাসপাতালে যাবো। কিন্তু যেতে যেতে দেরীই হয়ে যাচ্ছিলো। মনটাকেও মানাতে পারছিলাম না। হঠাৎ শুনলাম কাকু আর নেই। সবকিছু এলোমেলো হয়েগলো মুহুর্তে। মানুষ এভাবেই চলে যায়।

 কিন্তু এই চলে যাওয়া মেনে নিতে কষ্ট হয়। মাত্র কয়েকদিন আগের স্মৃতি, জন্মদিনের স্মৃতি চোখে ভাসছে। নিলয়ের করা গানের সিডি আমার হাতে দিয়ে বলেছিলেন এটা যেন বাজারে প্রকাশ করি। হয়তো নিলয়ের সিডি বাজারে আসবে। কিন্তু কাকু দেখে যেতে পারলেন না। এই আফসোস রয়ে যাবে সারাটা জীবন আমার। কাকুর আতœার শান্তি কামনা করছি।’ সঙ্গীতশিল্পী মেহরীন সুধীন দাসের ছাত্রী। মেহরীন বলেন,‘ সর্বশেষ জন্মদিনে আমার নানান ব্যস্ততার কারণে ওস্তাদ জি’কে শুভেচ্ছা জানাতে যেতে পারিনি। ভাবছিলাম শিগগিরই মিরপুরে তার বাসায় যাবো। কিন্তু যাবার আগেই ওস্তাদ জি চলে গেলেন। কী যে অপরাধ বোধ কাজ করছেন নিজের ভেতর বলে বুঝাতে পারবোনা।

 শেষ দেখাটা হলো না তারসঙ্গে। মনের গহীন কোনে তার জন্য সারাটা জীবন শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা থাকবে। তিনি নেই, এটা সত্যি, কিন্তু তিনি থাকবেন আমার স্মরণে, কর্মে আর পথচলায়।’ উপমহাদেশের প্রখ্যাত সংগীতজ্ঞ ও সংগীত গবেষক  সুধীন দাশ তাঁর জীবনের পুরোটা সময় দিয়ে গেছেন গানের পেছনে। সুর করেছেন, সংগীত পরিচালনা করেছেন সংগীত নিয়ে গবেষণার কাজটিও করে গেছেন তিনি।  লালনগীতির ক্ষেত্রেও তাঁর অবদান সর্বজন স্বীকৃত। সঙ্গীত সাধনার পাশাপাশি তার বহুমুখী কর্ম দিয়ে এদেশের সঙ্গীতাঙ্গনকে সমৃদ্ধ করেছেন তিনি। গেলো ৩০ এপ্রিল বরেণ্য এই সঙ্গীত ব্যক্তিত্ব ৮৭ বছরে পা রেখেছিলেন। কুমিল্লা শহরের তালপুকুরপাড়ের বাগিচাগাঁওয়ে জন্মেছিলেন সুধীন দাস। সেটা ১৯৩০ সালের কথা।

 তিন বোন আর ছয় ভাইয়ের পর মায়ের কোলজুড়ে এসেছিলেন তিনি। বাবা নিশিকান্ত দাশ ও মা হেমপ্রভা দাশের আদর-স্নেহের বড় একটা অংশই তাঁর নামে বরাদ্দ ছিল। বড় ভাইবোনদের আদরও কম পাননি। কুমিল্লা জিলা স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করে ভর্তি হয়েছিলেন ভিক্টোরিয়া কলেজে। কলেজের চৌহদ্দি পেরোলে আসে বিএ পরীক্ষার ডাক। তবে তত দিনে পড়াশুনার চেয়ে অন্য বিষয়ে বেশি মন দিয়েছেন তিনি। এ সময় দাবা খেলাটাও প্রায় নেশার মতো হয়ে গিয়েছিল।

 

তাই পরীক্ষাটা আর দেওয়া হলো না শেষমেশ! ছেলেবেলা থেকে চঞ্চল প্রকৃতির হলেও গানের ব্যাপারে দারুণ আগ্রহ ছিল। সংগীতের প্রতি ভালোবাসার বীজ বপন করেছিলেন তারই দাদা সুরেন দাশ। তিননিই সুধীন দাশের প্রথম গানের গুরু। পাকিস্তান বেতারে ১৯৪৮ সালের ৮ মার্চ দুটি গান গাওয়ার মধ্যদিয়ে বেতারে সুধীন দাশের গান গাওয়া শুরু।  ১৯৫৪-৫৫ সালের দিকে পাকিস্তান রেডিওতে নজরুলের গান আলাদাভাবে মর্যাদা পেল ‘নজরুলগীতি’ হিসেবে। সঙ্গে সঙ্গে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে উঠে যায় নজরুলগীতি। তবে সর্বনাশের শুরুটাও সেখান থেকেই। বারোটা বেজে যায় নজরুলের গানের কথা ও সুরের।

 যাঁরা জীবনেও নজরুলের গান করেননি, তাঁরাও নজরুলগীতি গাইতে শুরু করলেন জনপ্রিয়তার মোহে। নজরুল অসুস্থ থাকাকালীন তাঁর গানের প্রচার-প্রসার পুরোপুরি বন্ধ ছিল। নজরুলসংগীতের অন্ধকার সময় বলা যায় সে সময়টাকে। ছেলেবেলা থেকে নজরুলের গানের আদি গ্রামোফোন রেকর্ড শুনে শুনে নজরুলসংগীত আত্মস্থ করেছিলেন সুধীন দাশ। নজরুলের গানের আদি ও অকৃত্রিম রূপটা ভালো করেই জানতেন।

 

স্বভাবতই ভুলে ভরা স্বরলিপি দেখে আঁতকে ওঠেন তিনি। প্রতিবাদের ভাষা খুঁজতে থাকেন মনে মনে। তাই সুধীন দাশ নেমে পড়েন নজরুলের গানের আদি রেকর্ড সংগ্রহের কাজে। সংগৃহীত রেকর্ডের সঙ্গে স্বরলিপি মেলাতেই দেখেন, প্রতিবাদের জন্য যথেষ্ট শক্তপ্রমাণ তাঁর হাতে। কিন্তু নানান ঘটনার পর ১৯৮২ সালের জানুয়ারি মাসে ২৫টি স্বরলিপি নিয়ে নজরুল সুরলিপির প্রথম খন্ডটি প্রকাশ করে নজরুল একাডেমি।


স্বরলিপির অকৃত্রিমতা প্রমাণের জন্য গ্রামোফোনের আদি রেকর্ডগুলোর লেবেলে লেখা নম্বর, শিল্পীর নাম, নজরুলের কিছু কিছু গান অন্য সুরকারেরাও করেছিলেন, সে ক্ষেত্রে তাঁদের নাম এবং গ্রামোফোন কোম্পানির নামও উল্লেখ করা হয়েছিল তাতে। শুদ্ধ স্বরলিপি প্রকাশের পরপরই সুধীন দাশকে নিয়ে ব্যাপক সাড়া পড়ে যায় চারপাশে। সুধীন দাশ’র ছেলে নিলয়ও খুব ভালো গিটার বাজাতেন। গান শিখেছিলেন তিনি বাবার কাছেই।

 

নিজেই লিখতেন, সুর করতেন। একটা অ্যালবামও বেরিয়েছিল। ২০০৬ সালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা যান। সুধীন দাশের স্ত্রী নীলিমা দাশ, মেয়ে মিতু সুপর্ণা। মেয়ে রবীন্দ্র্রসংগীত শিল্পী। মিতুর দুই সন্তান, মেয়ে পারসা মাহমুদ ও ছেলে আবিত।  সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তার মরদেহ আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় নেয়া হবে নজরুল ইন্সটিটিউটে এবং সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের উদ্যোগে ১১টায় রাখা হবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। পরে তার অন্তেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হবে পোস্তগোলা শ্মশানে।

শিক্ষা
অর্থ-বাণিজ্য
ধর্ম
সাহিত্য
লাইফস্টাইল
স্বাস্থ্য
Go Top