রাত ১০:৩১, মঙ্গলবার, ২৫শে জুলাই, ২০১৭ ইং

আজকের ই-পেপার

সর্বশেষ খবর
আবারও অশ্লীল সিনেমা!
সাজ্জাদ সুমনের নির্দেশনায় এটিএম শামসুজ্জামান
মাত্র ২৭ ভাগ মার্কিনীর ধারণা ট্রাম্প পূর্ণ মেয়াদে ক্ষমতায় থাকবেন
আল-আকসা থেকে মেটাল ডিটেক্টর সরিয়ে নিয়েছে ইসরায়েল
পাহাড়ে ওঠার কলাকৌশলে সিনেমাটিক মৃত্যু
শ্রীলঙ্কায় ডেঙ্গু কেড়ে নিল ৩০০ প্রাণ
সম্ভাবনার ফুলগুলো যেন ঝরে না যায়
বিতর্কিত ৫৭ ধারা বাতিল করুন
পাহাড় ধসে আর কত প্রাণহানি
নির্বাচনী সংলাপ না হলে আন্দোলনের বিকল্প থাকবে না : দুদু
সারাদেশে ভারী বর্ষণে জনভোগান্তি চরমে
চিরিরবন্দরে ৫ জন আটক
সাঁথিয়ায় নবনির্মিত ব্রিজের ওপর বাঁশের মাচান
দুপচাঁচিয়ায় যুবক-যুবতী আটক
রাজশাহীতে শিশু ধর্ষণ ধর্ষক গ্রেফতার

সাঁথিয়া (পাবনা) প্রতিনিধি : পাবনার সাঁথিয়ায় নবনির্মিত ব্রীজে সংযোগ সড়কে মাটি না দেয়ায় স্থানীয়রা বাঁশের মাচান  তৈরি করে পারাপার হচ্ছে। পাকা রাস্তা ভেঙ্গে ব্রিজ করায় জনদুর্ভোগ বেড়েছে। ব্রিজটি উপজেলার আর-আতাইকুলা ইউনিয়নের কাজিপুর গ্রামের হারুন মৃধার বাড়ীর নিকট খালের উপর।
জানা যায়, উপজেলার আর-আতাইকুলা ইউনিয়নের কাজিপুর গ্রামের হারুন মৃধার বাড়ীর নিকট খালের উপর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতর কর্তৃক সেতু-কালভার্ট কর্মসূচি ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে ৪০ ফুট ব্রিজ নির্মাণে ৩০ লক্ষ ৯০ হাজার ২০ টাকা বরাদ্দ পায়। সাইফুল ইসলাম নামের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ব্রিজটি নির্মাণ করে। যা সাঁথিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) সার্বিক তত্ত্বাবধানে করা হয়। ব্রীজ নির্মান কাজ শেষ হলেও দু’পারে সংযোগ সড়কে মাটি ভরাট না করেই চলে যায় ব্রিজ নির্মাণ কর্তৃপক্ষ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ব্রিজের পূর্ব পাড়ে পাকা রাস্তা ভেঙ্গে ব্রিজ নির্মাণ করে। সেই পাকা রাস্তাসহ ব্রিজের দু-পাড়ে সংযোগ সড়কে মাটি ভরাট না করলে স্থানীয়রা বাঁশের মাচাল তৈরী করে চলাচল করছে। এব্যাপারে ওই গ্রামের আঃ জলিল, শাহেদালী, জহির উদ্দিনসহ অনেকে এ প্রতিবেদককে জানান, আমাদের দুর্ভোগ লাঘবের জন্য সরকারিভাবে ব্রিজ নির্মাণ হয়। কিন্তু এখানে পাকা রাস্তা ভেঙে ব্রিজ করে এবং সেই ব্রিজের দু-পাড়ে মাটি না দেয়ায় দুর্ভোগ বেড়ে গেছে। এলাকাবাসী ব্রিজের পশ্চিম পাড়ে কিছু মাটি দিলেও পুর্ব পাড়ে বাঁশের মাচাল দিয়ে পার হচ্ছে। তারা আরো বলেন, পিআইওকে বারবার বলেও কোন কাজ হয়নি।
প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আবুল কালাম আজাদ বলেন, কাজ শেষ হয়নি বিধায় ফাইনাল বিল দেইনি। সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহাঙ্গীর আলম জানান, ব্রিজটির কথা শুনেছি। কাজ শেষ না করলে বিল দেয়া হবে না। 

দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে থাকতে হবে: ডিসিদের সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী

দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে জেলা প্রশাসকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার নিজ কার্যালয়ে তিন দিনের জেলা প্রশাসক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ আহ্বান জানান তিনি।

জেলা প্রশাসকদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, করাপশন দূর করতে হবে আমাদের। কারণ কোনো কাজ করতে গেলে সেখানে যদি করাপশন হয়, আর সেটুকুই যদি খেয়ে ফেলে তাহলে আমার উন্নয়নের ছোঁয়াটা গ্রাম-বাংলায় বা কোথাও লাগবে না। কাজেই এ ব্যাপারে আপনাদেরকে জনসচেতনতাও সৃষ্টি করতে হবে এবং নিজেদেরকে এ ব্যাপারে কঠোর অবস্থানে থাকতে হবে। শেখ হাসিনা বলেন, দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য, মানুষের ভাগ্য গড়ার জন্য কাজ করবে- এটাই যেন সবার লক্ষ্য হয়। দুর্নীতির বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর একটি উদ্ধৃতি তুলে ধরে তিনি বলেন, করাপশন আমার বাংলার কৃষক করে না। করাপশন আমার বাংলার মজদুর করে না। করাপশন করি আমরা শিক্ষিত সমাজ; যারা তাদের টাকা দিয়ে লেখাপড়া শিখেছে। প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশকে ডিজিটালাইজড করতে তার সরকার যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে তার ফলে দুর্নীতিও নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে। এখন আর ওই টেন্ডারের বাক্স ছিনতাইয়ের ঘটনা খুব বেশি শোনা যাচ্ছে না।

ডিজিটালাইজ করার ক্ষেত্রে কয়েকটা মন্ত্রণালয় এখনো একটু পিছিয়ে আছে। কিন্তু প্রতিটা ক্ষেত্রে আমরা ডিজিটালাইজড করে দেওয়ার ফলে এখন অনেকটা স্বচ্ছতা চলে এসেছে। কাজেই এটা আমাদের অব্যাহত রাখতে হবে। সরকারি কাজের জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা  এবং নতুন নতুন উপায় উদ্ভাবন করে সরকারি সেবা প্রদান সহজ করতে তার দপ্তরের অধীনে ‘গভর্নেন্স ইনোভেশন ইউনিট’ চালু করা হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকারের মূল লক্ষ্য তৃণমুল পর্যায় থেকে উন্নয়ন করা। দেশের একটা মানুষও গৃহহীন থাকবে না। দেশের মানুষের মৌলিক অধিকার পূরণে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়নে মাঠ পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ধন্যবাদ জানিয়ে দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে লক্ষ্য নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

২৩ দফা নির্দেশনা
প্রধানমন্ত্রী জেলা প্রশাসকদের সামনে ২৩ দফা নির্দেশনা তুলে ধরেন: সরকারি সেবা গ্রহণে সাধারণ মানুষ যাতে কোনভাবেই হয়রানি বা বঞ্চনার শিকার না হন, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। তৃণমূল পর্যায়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে একাত্ম হয়ে কাজ করতে হবে। গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করে নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। মানুষ যেন শহরমুখী না হয়; শহরের উপর জনসংখ্যার চাপ যাতে না বাড়ে সে ব্যবস্থা করতে হবে। গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, সম্ভাবনাময় স্থানীয় ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনে ব্রতী হতে হবে। ধনী-দরিদ্র্যের বৈষম্য কমাতে উন্নয়ন কর্মসূচি এমনভাবে গ্রহণ করতে হবে যাতে সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষ উপকৃত হয়। বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণে সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করতে হবে। জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও সাম্প্রদায়িকতা দূর করে সমাজ জীবনের সর্বক্ষেত্রে শান্তি-শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে আরও সতর্কতার সঙ্গে এবং কঠোরভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস নির্মূলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসার শিক্ষক, মসজিদের ইমাম, গ্রামের মুরুব্বি, নেতৃস্থানীয় ব্যবসায়ী, নারী সংগঠক, আনসার-ভিডিপি, গ্রাম পুলিশ, এনজিও কর্মীসহ সমাজের সবাইকে সম্পৃক্ত করতে হবে। প্রতিবন্ধী, অটিস্টিক ও পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর কল্যাণে বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। সাধারণ মানুষকে সহজে সুবিচার প্রদান ও আদালতে মামলার জট কমাতে গ্রাম আদালতগুলোকে কার্যকর করতে হবে। জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছাতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির উন্নয়ন ও বিকাশে নেতৃত্ব প্রদান করতে হবে। শিক্ষার সর্বস্তরে নারী শিক্ষার হার বৃদ্ধি এবং ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের মূলধারায় ফিরিয়ে আনার পদক্ষেপ নিতে হবে। ভূমি প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সরকারি ভূমি রক্ষায় আরও সচেষ্ট হতে হবে। কৃষি-উৎপাদন বৃদ্ধিতে সার, বীজ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ইত্যাদির সরবরাহ নির্বিঘœ করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিতে হবে। পরিবেশবান্ধব কৃষি ব্যবস্থাপনাকে জনপ্রিয় করতে উদ্যোগী হতে হবে। ভেজাল খাদ্যদ্রব্য বাজারজাতকরণ প্রতিরোধে ব্যাপক গণসচেতনতা সৃষ্টি করে এসব অনৈতিক কর্মকাণ্ড কঠোর হস্তে দমন করতে হবে।

সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা ও এসডিজির সফল বাস্তবায়নে মেধা, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বিপর্যয় প্রশমনে সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। পরিবেশ রক্ষার জন্য জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং এই সংক্রান্ত আইন ও বিধি বিধানের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। শিল্পাঞ্চলে শান্তি রক্ষা, পণ্য পরিবহন ও আমদানি-রপ্তানি নির্বিঘœ করা এবং পেশিশক্তি, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও সন্ত্রাস নিমূর্ল করতে ব্যবস্থা নিতে হবে। ভোক্তা অধিকারকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে এবং বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির যে কোনো অপচেষ্টা কঠোর হস্তে দমন করতে হবে।

নারী উন্নয়ন নীতি সুষ্ঠু বাস্তবায়ন করতে হবে। নারীর প্রতি সহিংসতা, নিপীড়ন ও বৈষম্যমূলক আচরণ বন্ধ এবং নারী ও শিশু পাচার রোধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। শিশু-কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের লক্ষ্যে শিক্ষা, ক্রীড়া, বিনোদন ও সৃজনশীল সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। শিশু-কিশোরদের মধ্যে ইতিহাস চেতনা, জ্ঞানস্পৃহা ও বিজ্ঞানমনস্কতা জাগিয়ে তুলতে হবে। কঠোরভাবে মাদক ব্যবসা, মাদক চোরাচালান এবং এর অপব্যবহার বন্ধ করতে হবে। ভূমি প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি করে সরকারি ভূমি রক্ষায় সজাগ থাকবে হবে। পার্বত্য জেলাসমূহের উন্নয়ন ত্বরান্বিতকরণের পাশাপাশি এ অঞ্চলের ভূ-প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও জীব বৈচিত্র্য সংরক্ষণ করতে হবে। পর্যটন শিল্প, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ও ঐতিহ্যবাহী কুটির শিল্পের বিকাশে সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে হবে। এছাড়াও নিজ নিজ জেলার সমস্যা ও সম্ভাবনা চিহ্নিত করে সে বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে জেলা প্রশাসকদের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। একইসঙ্গে উদ্ভাবনী কর্মসূচি প্রণয়ন করতেও মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন তিনি। ডিসিদের জেলা পর্যায়ে বিভিন্ন কমিটি প্রধানের দায়িত্ব পালন করার কথা উল্লেখ করে মানুষের সেবা সহজ করতে এসব কমিটি যাতে আরও ‘সক্রিয়, গতিশীল ও ফলপ্রসূভাবে’ করে সেদিকে বিশেষ দৃষ্টি দেওয়ারও আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেক, প্রধানমন্ত্রী মূখ্য সচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী ও মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলম অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।



বিশেষ প্রতিবেদন

অনুপ্রবেশ: আওয়ামী লীগে শুদ্ধি অভিযান

মাহফুজ সাদি: অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ে বিতর্কের পর এবার ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগে শুরু হচ্ছে ‘শুদ্ধি অভিযান’! এ নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে দলীয় প্রধানের নির্দেশনার পর নড়েচড়ে বসেছে দলটির হাই কমান্ড। দুই কোটি সদস্যের টার্গেট নিয়ে চলমান সদস্য নবায়ন ও নতুন সদস্য সংগ্রহ অভিযানে বিতর্কিত ব্যক্তি বা বিএনপি-জামায়াতের কাউকে দলের সদস্য না করতে তৃণমূলকে ‘কড়া বার্তার চিঠি’ দিতে যাচ্ছে কেন্দ্র। এতে শর্ত জুড়ে দেয়া হয়েছে আগামীতে অন্য দল থেকে কাউকে দলে ভেড়াতে হলে লাগবে কেন্দ্রের অনুমোদন। এছাড়া দলীয় প্রধানের নির্দেশের পর শিগগিরই শুরু হচ্ছে দলে অনুপ্রবেশকারী এবং তাদের সহায়তাকারীদের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের চিহ্নিত করে তালিকা তৈরির কাজ। আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

তারা বলছেন, আওয়ামী লীগ রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকায় সুবিধাবাদী অনেকে দলে অনুপ্রবেশ করেছে এবং করতে চেষ্টা চালাচ্ছে। অনেকে আগামী নির্বাচন সামনে রেখে আওয়ামী লীগের ইমেজ ক্ষুন্ন করতে দলে ভিড়ছে। কেউ কেউ শাস্তি থেকে বাঁচতে অনুপ্রবেশ করছে। আওয়ামী লীগের স্থানীয় এক শ্রেণির অসাধু নেতারা তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছেন। এতে তৃণমূলে নানা ধলেনর সমস্যা দেখা দিচ্ছে। তাই এসব অনুপ্রবেশকারীদের বিষয়ে এখনই সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।

সর্বশেষ শুক্রবার দলের স্থানীয় সরকার নির্বাচন মনোনয়ন বোর্ডের সভায় দলে অনুপ্রবেশকারীদের বিষয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান খোদ আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভিন্ন দল থেকে আসা নেতাকর্মীদের আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়াসহ পদ-পদবি পাওয়ার ঘটনায় তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন। বৈঠকসূত্রে জানা যায়, অনুপ্রবেশের ঘটনা নিয়ে দলীয় নেতাদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘যারা বিভিন্ন দল থেকে আওয়ামী লীগে ঢোকেন, তারা বিশেষ একটি উদ্দেশ্য নিয়ে এসে নানা অপকর্ম করেন। আর দোষ পড়ে দলের ওপরে।’ তিনি বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘দল ভারী করে বদনাম কেনার দরকার নেই। এমন এলাকা আছে, শুধু দলেই নেওয়া হয়নি, দলের গুরুত্বপূর্ণ পদও দিয়ে দেওয়া হয়েছে এই অনুপ্রবেশকারীদের।’

কারা, কোথায় অনুপ্রবেশ করেছেন, কার মাধ্যমে দলে ঢুকেছেন, দলীয় পদ পেয়েছেন, তাদের একটি তালিকা করে জমা দেওয়ার জন্য দলের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে নির্দেশ দেন শেখ হাসিনা। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বৈঠকে উপস্থিত আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক ও ফারুক খান বলেন, দলের অনেক বিষয় নিয়ে বৈঠকে কথা হয়েছে। অনুপ্রবেশকারীদের বিষয়ে দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলের সাধারণ সম্পাদককে একটি তালিকা করার নির্দেশ দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর ছবি বিকৃতির অভিযোগে বরগুনার ইউএনওর বিরুদ্ধে বরিশালে এক ‘নব্য আওয়ামী লীগারের’ মামলাকে কেন্দ্র করে সারা দেশে তোলপাড় তৈরি হয়। ওই ব্যক্তি দলে নতুন এবং অত্যুৎসাহী হয়ে মামলা করেছেন বলে বোর্ডে আলোচনা হয়। দলে অনুপ্রবেশকারীদের ব্যাপারে দ্বীর্ঘদিন ধরে ক্ষোভ প্রকাশ করে আসা ওবায়দুল কাদের বৈঠকের পর অনুপ্রবেশকারী নিয়ে দলীয় কড়া অবস্থানের কথা জানান। সর্বশেষ রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, নতুন সদস্য সংগ্রহ অভিযানের সময় সবাইকে সদস্যপদ নবায়ন করতে হবে। এ কর্মসূচির মাধ্যমে যারা অনুপ্রবেশকারী, তাদের বাদ দেয়া হবে। কিন্তু এর বাস্তবায়ন দেখা যায়নি কোথাও।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক বলেন, অনুপ্রবেশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হবে। কাউকে দলে নেয়ার বিষয়ে তার সম্পর্কে সতর্কতার সাথে খোঁজ-খবর নেয়া এবং কেন্দ্রকে জানানোর বাধ্যবাধকতা দিয়ে তৃণমূলে চিঠি দেয়া হবে। দলের সব পর্যায়ের নেতাদের নতুন সদস্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে যাতে কোনো অনুপ্রবেশকারী ঢুকতে না পারে, সেদিকে লক্ষ রাখতে নির্দেশনা দেয়া হবে। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, যাদের হাত ধরে দলে অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটছে, তাদের তালিকাও করতে বলেছেন দলীয় প্রধান। শিগগিরই এ নিয়ে কাজ শুরু হবে। কোথায়, কীভাবে অনুপ্রবেশ ঘটছে, তা খুঁজে বের করা হবে। দলের সভাপতির নির্দেশনা অনুসারে দলে কাউকে নেয়ার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হবে।

 


রাজশাহী বিভাগ

সাঁথিয়ায় নবনির্মিত ব্রিজের ওপর বাঁশের মাচান

সাঁথিয়া (পাবনা) প্রতিনিধি : পাবনার সাঁথিয়ায় নবনির্মিত ব্রীজে সংযোগ সড়কে মাটি না দেয়ায় স্থানীয়রা বাঁশের মাচান  তৈরি করে পারাপার হচ্ছে। পাকা রাস্তা ভেঙ্গে ব্রিজ করায় জনদুর্ভোগ বেড়েছে। ব্রিজটি উপজেলার আর-আতাইকুলা ইউনিয়নের কাজিপুর গ্রামের হারুন মৃধার বাড়ীর নিকট খালের উপর।
জানা যায়, উপজেলার আর-আতাইকুলা ইউনিয়নের কাজিপুর গ্রামের হারুন মৃধার বাড়ীর নিকট খালের উপর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতর কর্তৃক সেতু-কালভার্ট কর্মসূচি ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে ৪০ ফুট ব্রিজ নির্মাণে ৩০ লক্ষ ৯০ হাজার ২০ টাকা বরাদ্দ পায়। সাইফুল ইসলাম নামের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ব্রিজটি নির্মাণ করে। যা সাঁথিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) সার্বিক তত্ত্বাবধানে করা হয়। ব্রীজ নির্মান কাজ শেষ হলেও দু’পারে সংযোগ সড়কে মাটি ভরাট না করেই চলে যায় ব্রিজ নির্মাণ কর্তৃপক্ষ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ব্রিজের পূর্ব পাড়ে পাকা রাস্তা ভেঙ্গে ব্রিজ নির্মাণ করে। সেই পাকা রাস্তাসহ ব্রিজের দু-পাড়ে সংযোগ সড়কে মাটি ভরাট না করলে স্থানীয়রা বাঁশের মাচাল তৈরী করে চলাচল করছে। এব্যাপারে ওই গ্রামের আঃ জলিল, শাহেদালী, জহির উদ্দিনসহ অনেকে এ প্রতিবেদককে জানান, আমাদের দুর্ভোগ লাঘবের জন্য সরকারিভাবে ব্রিজ নির্মাণ হয়। কিন্তু এখানে পাকা রাস্তা ভেঙে ব্রিজ করে এবং সেই ব্রিজের দু-পাড়ে মাটি না দেয়ায় দুর্ভোগ বেড়ে গেছে। এলাকাবাসী ব্রিজের পশ্চিম পাড়ে কিছু মাটি দিলেও পুর্ব পাড়ে বাঁশের মাচাল দিয়ে পার হচ্ছে। তারা আরো বলেন, পিআইওকে বারবার বলেও কোন কাজ হয়নি।
প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আবুল কালাম আজাদ বলেন, কাজ শেষ হয়নি বিধায় ফাইনাল বিল দেইনি। সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহাঙ্গীর আলম জানান, ব্রিজটির কথা শুনেছি। কাজ শেষ না করলে বিল দেয়া হবে না। 

সিলেট সুরমা সিক্সার্সে সাব্বির

এক মৌসুমের বিরতিতে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের(বিপিএল)পঞ্চম আসরে ফিরেছে সিলেট। আগের নাম বদলে এবার রাখা হয়েছে ‘সিলেট সুরমা সিক্সার্স’। আসন্ন মৌসুমে দলটিতে আইকন খেলোয়াড় হিসেবে খেলবেন সাব্বির রহমান। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফ্র্যাঞ্চাইজিটির সমন্বয়ক শফিকুল ইসলাম।

বিপিএলের পঞ্চম আসর শুরু হবে আগামী ২ নভেম্বর। এবারে সিলেটে ডাক পেলেও গতবার রাজশাহীর হয়ে খেলেছেন হার্ডহিটার ব্যাটসম্যান সাব্বির রহমান। গত আসরে দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরিতে নিজেকে জানান দিয়েছিলেন তিনি। সম্প্রতি ফর্মহীনতায় ভুগলেও বিপিএলের আসন্ন আসরে তাকে চেনারূপে দেখা যাবে এমনটাই প্রত্যাশা সিলেটি সমর্থকদের।

সাব্বিরকে দলে নেওয়া প্রসঙ্গে সিলেট সুরমা সিক্সার্সের সমন্বয়ক শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বিপিএলের আসন্ন আসরের জন্য সাব্বির রহমানকে আমরা আইকন হিসেবে পেলাম। তাকে পেয়ে আমরা বেশ খুশি। তার কাছ থেকে ভালো কিছুর প্রত্যাশায় রয়েছি।’

মারমুখী স্বভাবের জন্য সাব্বির রহমান টি-টোয়েন্টিতে বেশ জনপ্রিয় একজন তারকা। এখন পর্যন্ত টি-টোয়েন্টিতে ১০৩টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি। ৯৪ ইনিংসে ২৮.৭১ গড়ে তার স্কোরবোর্ডে জমা রয়েছে ২ হাজার ২১১ রান। প্রায় ১২২ স্ট্রাইক রেটে এই ফরম্যাটে তার ১০টি ফিফটি ও ১ টি সেঞ্চুরি রয়েছে।

 

আইন-আদালত
আর্ন্তাজাতিক
তথ্যপ্রযুক্তি

আবারও অশ্লীল সিনেমা!

বিনোদন প্রতিবেদক : আন্দোলন, নিষেধাজ্ঞা আর কাদা ছোড়াছুড়ি নিয়ে ব্যস্তরয়েছেন ঢাকাই চলচ্চিত্র শিল্পের ধারক-বাহকরা। এ সুযোগে আবার আসন পাতছে অশ্লীল ছবিগুলো। কম বাজেটে মানহীন গল্প, নির্মাণ ও নায়ক নায়িকা নিয়ে শুটিং করেই মুক্তি দিচ্ছেন অনেক ছবি। ছবির পোস্টার আর ট্রেলার দেখেই আন্দাজ করা যায় কেমন হবে ছবিগুলো। সম্প্রতি মুক্তির ঘোষণা দেয়া ‘মধু হই হই বিষ খাওয়াইলা’ নামের একটি ছবির বিরুদ্ধে এমন অভিযোগই করেছেন দর্শকরা। ছবির আইটেম গান ও ট্রেলার দেখে অনেকেই অভিযোগ তুলেছেনÑ আবারও আসছে অশ্লীল সিনেমা।

 এটি পরিচালনা করেছেন জসীম উদ্দিন জাকির। ছবিটির নাম নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। ছবির এমন একটি নাম কেন? দর্শকরাও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনা করছেন ছবির ট্রেলার, নাম ও গানগুলো নিয়ে। বিশ্বায়নের যুগে এসে এমন ছবি নির্মাণ না ঠেকালে ঢাকাই ছবি দর্শক শূন্যতায় ভুগবে বলে মন্তব্য করছেন তারা। ছবিটি ২৮ জুলাই দেশব্যাপী মুক্তি পাবে। তবে অশ্লীলতার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ছবিটির পরিচালক। তিনি বলেছেন, ‘পোস্টার বা আইটেম গান ও ট্রেলার দেখে যারা এটাকে অশ্লীল বলছেন তাদের অনুরোধ করব, হলে গিয়ে সিনেমাটা দেখার জন্য।

 এটি সম্পূর্ণ মৌলিক গল্পের সিনেমা। শেষ দৃশ্য পর্যন্ত থাকবে টানটান উত্তেজনা।’ সিনেমাটি ৭০ থেকে ৮০টি হলে মুক্তি পাবে বলে জানান নির্মাতা। ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন সাইফ খান, জেফ ও নবাগতা রোদেলা তিথী। এ ছাড়া বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন মিথিলা, কাবিলা, ববি, জ্যাকি, ডলার, বৈদ্য, বাঘা মন্টু, নিশা, সোহেল রশিদ, বাদল, রেবেকা, সিরাজ হায়দার প্রমুখ।

শিক্ষা
অর্থ-বাণিজ্য
ধর্ম
সাহিত্য
লাইফস্টাইল
স্বাস্থ্য
Go Top