রাত ৪:৫৩, বৃহস্পতিবার, ২৯শে মার্চ, ২০১৭ ইং

আজকের ই-পেপার

করতোয়া ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফরিদপুরে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ৩১টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন এবং ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন। বুধবার প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রকল্পগুলোর ফলক উন্মোচন করে ২০টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন এবং ১২টি উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। প্রকল্পগুলো উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ও সংসদ উপনেতা বেগম সাজেদা চৌধুরী, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, এলজিআরডি মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেন, নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরসহ সংসদ সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করেন সেগুলো হচ্ছে- ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় নির্মাণ প্রকল্প, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, পল্লীকবি জসিম উদ্দীন সংগ্রহশালা, ফরিদপুর ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজী, শিশু একাডেমী, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপ-মহাপরিদর্শকের কার্যালয় নির্মাণ, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন, আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস ফরিদপুর, ফরিদপুর ৫০ মেগাওয়াট পিকিং পাওয়ার প¬ান্ট, সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের একাডেমিক কাম পরীক্ষা হল, সদর উপজেলাধীন চর কমলাপুর খেয়াঘাট থেকে বিলমামুদপুর স্কুল সড়কে কুমার নদীর ওপর ৯৬ মিটার আরসিসি ব্রিজ, ভাংগা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন, মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপে¬কে ৩১-শয্যা থেকে ৫০-শয্যায় উন্নয়ন প্রকল্প, আঞ্চলিক নির্বাচন অফিস ফরিদপুর, বিএসটিআই ভবন, ভাংগা থানা ভবন, মধুখালী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন, সদর উপজেলা থেকে বাখুন্ডা জিসি হয়ে রসুলপুর ভায়া চর নিখুরদি সড়ক বিসি দ্বারা উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্প, ফরিদপুর সদর উপজেলাধীন ডিক্রিরচর ইউনিয়নের মুন্সীডাঙ্গী কমিউনিটি ক্লিনিক এবং ৩৩/১১ কেভি হারুকান্দি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র (ক্ষমতা ২০/২৬.৬৬ এমভিএ)। এই ২০টি প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হয়েছে ১ হাজার ৩৮ কোটি টাকা। এছাড়া, প্রধানমন্ত্রী যেসব প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন সেগুলো হচ্ছে- কুমার নদ পুনঃখনন প্রকল্প, আলফাডাঙ্গা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রকল্প, ফরিদপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয় নির্মাণ প্রকল্প, পুলিশ হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্প, পুলিশ অফিসার্স মেস, সালথা টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের একাডেমিক কাম প্রশাসনিক ভবন নির্মাণ, চন্দ্রপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র, সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ ফরিদপুরের ছাত্রী নিবাস নির্মাণ, চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত নির্মাণ, ১৫০০-আসনবিশিষ্ট মাল্টিপারপাস হলরুম নির্মাণ, সালথা ফায়ার সর্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন, সদরপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন নির্মাণ প্রকল্প। এই বারটি প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৪২৫ কোটি ৩২ লাখ টাকা।প্রধানমন্ত্রী পরে ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে আয়োজিত এক জনসভায় বক্তব্য রাখেন।

মৌলভীবাজারে ২ জঙ্গি আস্তানা ‘অপারেশন হিট ডেথ’ শুরু

করতোয়া ডেস্ক : সিলেটের আতিয়া মহলের অভিযান শেষ হতে না হতেই নিকটস্থ মৌলভী বাজারে আরো ২ জঙ্গি আস্তানার সন্ধান পাওয়া গেছে। দু’টি আস্তানার বাড়ির মালিক হচ্ছেন একজন। তার নাম সাইফুল ইসলাম। তিনি লন্ডনে থাকেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।  এসব জঙ্গি আস্তানার একটিতে অভিযান শুরু করেছে পুলিশের বিশেষ     সন্ত্রাস বিরোধী স্কোয়াড সোয়াট (স্পেশাল উইপন অ্যান্ড ট্যাকটিস টিম)।

তারা এ অভিযানের নাম দিয়েছে ‘অপারেশন হিট ডেথ’। অপরটি ঘেরাও করে রাখা হয়েছে। উভয় আস্তানা থেকে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে লক্ষ্য করে গ্রেনেড ও গুলি ছোঁড়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে গতরাত ৯ টায় এ রিপোর্ট লেখার সময় পর্যন্ত হতাহতের কোন খবর  পাওয়া যায় নি। এদিকে জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে কুমিল্লার কোর্টবাড়ির একটি বাড়ি ঘেরাও করে রেখেছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। সেখানে আজ কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ভোট গ্রহণ শেষে অভিযান চালানো হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে। খবর বাংলানিউজ ও বিডিনিউজ।


এসব আস্তানার সন্ধান আতিয়া মহল সূত্রে : জানা যায়, সীতাকু  ও আতিয়া মহলে পাওয়া তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই জানা যায় মৌলভীবাজারের দুই জঙ্গি আস্তানার খবর। আগেই গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্যের সত্যতা পায় পুলিশ। পরে মঙ্গলবার সকাল ১০টার মধ্যে সিলেট থেকে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ও কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের ঊর্ধ্বতনরা সিলেট থেকে মৌলভীবাজারে এসে পৌঁছান। তার আগে সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নাসিরপুর ও বড়হাটের বাড়ি দু’টি ঘিরে রাখেন।

 

রাত ২টায় পুলিশ সরাসরি অভিযানে নামে এবং জঙ্গি আস্তানা ঘিরে ফেলে। এসময় পুলিশের সঙ্গে যোগ দেয় র‌্যাবও। মঙ্গলবার সারাদিন অভিযানের পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই-বাছাই, ঘটনাস্থলের ভৌগলিক অবস্থান, প্রতিবেশীদের অবস্থান বিবেচনায় নিয়ে অভিযানের পরিকল্পনা সাজানো হয়। এ পরিকল্পনা অনুযায়ী রাত দেড়টার মধ্যে আশপাশের সব অধিবাসীকে সরিয়ে নেওয়া হয়। পুলিশের এ বিশেষ তৎপরতা বুঝতে পারেনি জঙ্গিরা। অভিযানে অংশ নেওয়া পুলিশের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা এ তথ্য জানান।


নাসিরপুরে ‘অপারেশন হিট ডেথ’ এ সোয়াট : মৌলভীবাজারের ফতেপুর ইউনিয়নের নাসিরপুরের বাগানবাড়ির জঙ্গি আস্তানায় ঘাপটি মেরে থাকা জঙ্গিদের নির্মূল করতে ‘অপারেশন হিট ডেথ’ শুরু করেছে ঢাকা থেকে যাওয়া পুলিশের বিশেষ সন্ত্রাস বিরোধী স্কোয়াড সোয়াট (স্পেশাল উইপন অ্যান্ড ট্যাকটিস টিম) বাহিনী। গতকাল বুধবার বিষয়টি নিশ্চিত করেন পুলিশের সিলেট জোনের ডিআইজি (উপ-মহাপরিদর্শক) কামরুল আহসান। তিনি বলেন, ঢাকা থেকে সোয়াট টিম পৌঁছানোর পর সন্ধ্যা ৬টার পর থেকে শুরু হয় অপারেশন হিট ডেথ।

 

ঘণ্টাখানেকের কিছু বেশি সময় ওই জঙ্গি আস্তানায় অভিযান পরিচালনা করে সোয়াট টিম। তবে রাত সাড়ে সাতটার পর থেকে সেখানে আর কোনো গুলির আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছে না। তবে অভিযান শেষ হয়েছে তা এখনই বলা যাচ্ছে না। বৃষ্টির মধ্যেই অভিযান শুরুর পর বাগানঘেরা ওই বাংলো ধাঁচের বাড়ির দিক থেকে টানা গোলাগুলির শব্দ পাওয়া যায়।

  পৌর শহরের বড়হাট এলাকার অন্য জঙ্গি আস্তানাও ঘিরে রেখেছেন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। বড়হাট এবং সদর উপজেলার খলিলপুর ইউনিয়নের নাসিরপুরে ওই দুটি বাড়ি বুধবার ভোরে পুলিশ ঘিরে ফেলার পর থেকে সারাদিনই থেমে থেমে গুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যাচ্ছে। প্রায় ১৮ কিলোমিটার ব্যবধানে ওই দুই বাড়িরই মালিক লন্ডন প্রবাসী এক ব্যক্তি। দুই বাড়িতে নারী ও শিশুসহ জনা দশেক লোক রয়েছে বলে ধারণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।

 

নিরাপত্তার স্বার্থে বড়হাটের বাড়ি ঘিরে পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড ও কুসুমবাগ এলাকা এবং খলিলপুর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে আশপাশের দুই কিলোমিটার এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে জেলা প্রশাসন। দুই এলাকাতেই সকাল থেকে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ অবস্থানে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে মাইকিং করে। বিকালে নাসিরপুরের ওই বাড়ির কাছে সিটি করপোরেশনের গাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স, মই, জেনারেটরসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে যেতে দেখা যায়, যেমনটা দেখা গিয়েছিল চট্টগ্রামের সীতাকু  ও সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় অভিযানের আগে।

 পুলিশের বিশেষ বাহিনী সোয়াট ও বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলের সদস্যরা কয়েকটি মাইক্রোবাসে করে বিকাল ৫টার আগে নাসিরপুরে পৌঁছান। তাদের একটি দল পরে বড়হাটে যান বলে পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, এই অভিযানের জন্য সোয়াটই ‘যথেষ্ট’ বলে তিনি মনে করছেন। তবে প্রয়োজন হলে সেনাবাহিনীর সহযোগিতা নেওয়া হবে।

 

মৌলভীবাজেরর ওই দুই আস্তানায় ‘বড় কোনো জঙ্গি’ থাকতে পারে- এমন ধারণার কথা জানিয়ে কামাল বলেন, প্রাণহানি এড়াতে সিলেটে ‘অধিকতর সতর্কতার সঙ্গে’ অভিযান পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল সেনাবাহিনীকে। “এখানে (মৌলভীবাজার) যদি প্রয়োজন হয়ৃ আমরা চাই প্রাণহানী যেন না ঘটে, প্রাণহানি কমাতে যা করা প্রয়োজন তাই করব।


লন্ডন প্রবাসী সাইফুল দুই বাড়ির মালিক : জানা যায়, সাইফুল ইসলাম নামে লন্ডন প্রবাসী এক ব্যক্তি ওই দুই বাড়ির মালিক। এর মধ্যে নাসিরপুরে কয়েক একর জমিতে টিনশেড বাড়িটি তাদের গ্রামের ভিটা। আর শহরের বড়হাটে ডুপ্লেক্স দালানটি তোলা হয় পরে। সাইফুল বিদেশে থাকায় তার দুই বাড়ি দেখভাল করেন সাইফুলের আত্মীয় জুয়েল। তিনি পরিবার নিয়ে নাসিরপুরে ওই বাড়ির সঙ্গেই থাকেন।

 

  জুয়েলের তথ্য অনুযায়ী, মাহফুজ নামের টাঙ্গাইলের এক ব্যক্তি বেসরকারি একটি কোম্পানির চাকুরে পরিচয় দিয়ে তিন মাস আগে নাসিরপুরের বাসাটি ভাড়া নেন। আর বড়হাটের বাড়ির ভাড়াটের নাম বেলাল। তিনিও একটি বেসরকারি কোম্পানির ব্যবস্থাপক পরিচয়ে বাসা ভাড়া নেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেন,শহরের বাড়িতে ৩/৪ জন এবং নাসিরপুরের বাড়িতে আরও দু’চারজন বেশি থাকতে পারে  বলে প্রাথমিক তথ্য পেয়েছেন তারা। নাসিরপুরের আস্তানায় দুই নারী আছেন বলেও তথ্য এসেছে।


যেভাবে শুরু : পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের উপ কমিশনার মহিবুল ইসলাম জানান, সীতাকু  ও সিলেটে জঙ্গি আস্তানার খোঁজ মেলার পর তদন্তে মৌলভীবাজারের এই দুই বাড়ির তথ্য পাওয়া যায়। এর মধ্যে বড়হাটের ওই বাড়ির সন্ধান পাওয়া যায় মঙ্গলবার রাতে। পরে ভোরের দিকে নাসিরপুরের বাড়িটির খোঁজ পাওয়া যায়। “সরকার বাজারের ওই বাসায় যাওয়ার পর ভেতর থেকে গ্রেনেড ও গুলি ছোড়া হয়।

 

পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে।” একই ঘটনা ঘটে বড়হাটের অন্য জঙ্গি আস্তানায়। দুটি বাড়ি ঘিরে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর এই অভিযানের মধ্যেই দিনভর থেমে থেকে গুলির শব্দ পাওয়া যায়। উপ কমিশনার মহিবুল ইসলাম বলেন, সকালের দিকে তারা দুই আস্তানার ভেতরে থাকা সন্দেহভাজন জঙ্গিদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করলেও তারা সাড়া দেয়নি। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী জঙ্গিদের আত্মসমর্পণের আহ্বান জানালে তারা ভেতর থেকে গুলি ছোড়ে এবং গ্রেনেড ফাটায় বলে মৌলভীবাজারের পৌর মেয়র ফজলুর রহমান বড়হাটে সাংবাদিকদের জানান।

বিশেষ প্রতিবেদন

দ্রুতই পুনর্গঠন সম্পন্ন করতে চায় বিএনপি

রাজকুমার নন্দী : ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয়ে ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হলেও এক বছরেও গুছিয়ে উঠতে পারেনি দলটি। কাউন্সিলে অনুমোদিত হলেও প্রকাশ হয়নি বিএনপির গঠনতন্ত্র। পুরোপুরি কার্যকর হয়নি ‘এক নেতার এক পদ’ নীতি। দলের মন্ত্রণালয়ভিত্তিক উপ-কমিটিগুলোও এখনো আলোর মুখ দেখেনি। স্থায়ী কমিটিসহ কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির কয়েকটি পদ এখনো শূন্য রয়েছে। এক বছরেও ডাকা হয়নি বিএনপির নির্বাহী কমিটির বর্ধিত সভা। শেষ হয়নি তৃণমূল পুনর্গঠন প্রক্রিয়াও। কিন্তু তারপরেও কাউন্সিলের এক বছরের অর্জনে সন্তুষ্ট বিএনপি। তবে এসব কমিটি গঠনে ধীরগতির জন্য বিএনপির ওপর ক্ষমতাসীনদের দমন-পীড়ন, হামলা-মামলাকে অনেকাংশেই দায়ী করছে দলটি।

বিএনপির নেতারা বলছেন, দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটিসহ ইতোমধ্যে জাতীয়তাবাদী যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দল ও জাসাসের কমিটি দেয়া হয়েছে। ঢাকা মহানগর কমিটিও যেকোনো দিন ঘোষিত হবে। নির্বাচন কমিশন গঠনে একটি সুনির্দিষ্ট রূপরেখাও দেয়া হয়েছে। একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের চেয়ারপারসন শিগগিরই নিরপেক্ষ সহায়ক সরকারের রূপরেখাও দেবেন। এরপর নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের দাবিতে প্রয়োজনে বেগম জিয়া রাজপথেও নামতে পারেন। সেজন্য দ্রুতই পুনর্গঠন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে চায় বিএনপি।

গত বছর রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে অনুষ্ঠিত বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলের দিনই খালেদা জিয়া দলের চেয়ারপারসন এবং তার বড় ছেলে তারেক রহমান সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান পুনর্র্নির্বাচিত হন। এরপর ৩০ মার্চ মহাসচিব পদে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম ঘোষণা করা হয়। কাউন্সিলের সাড়ে চার মাস পর গত ৬ আগস্ট ঘোষণা করা হয় ৫০২ সদস্যের ‘ঢাউস’ জাতীয় কমিটি। তখন ১৯ সদস্যের স্থায়ী কমিটির ১৭ জনের নাম ঘোষণা করে বিএনপি। তবে হান্নান শাহ মারা যাওয়ায় তার পদসহ এখন তিনটি পদ খালি রয়েছে। মৃত্যুজনিত কারণে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের কয়েকটি পদও শূন্য হয়েছে। এছাড়া নির্বাহী কমিটিতে আন্তর্জাতিক সম্পাদকের দুইটি, ছাত্র ও সহ-ছাত্রবিষয়ক দুইটি এবং যুববিষয়ক সম্পাদকের একটি পদ এখনো শূন্য রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দৈনিক করতোয়াকে বলেন, কমিটি গঠন একটি চলমান প্রক্রিয়া। সাংগঠনিক এই প্রক্রিয়ার কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সীমা থাকে না, এটি চলতে থাকে। ইতোমধ্যে দলের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা হয়েছে। কিছু অঙ্গ সংগঠনের কমিটিও হয়েছে, বাকিগুলোও খুব শিগগিরই হবে। জেলা সম্মেলন করছি, কমিটিগুলোও হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, আমাদের মনে রাখতে হবে-দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিও এখন বিএনপির প্রতিকূলে। দলের চেয়ারপারসন থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হাজার হাজার মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ প্রক্রিয়া এখনো চলছে। বিএনপিকে যেভাবে নির্যাতন-নিপীড়নের মধ্য দিয়ে নির্মুল করে দেয়ার চেষ্টা হচ্ছে, সেখানে আমরা যে এখনো সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারছি, মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছি, সেটিই বিএনপির সবচেয়ে বড় ভিত্তি, বড় অর্জন। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত যতটুকু কাজ হয়েছে তাতে আমরা সন্তুষ্ট।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জনের পর দল পুনর্গঠনে নামে বিএনপি। ওই নির্বাচন ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়ার পর ৪ ফেব্রুয়ারি বিএনপির চেয়ারপারসন সংবাদ সম্মেলনে দল পুনর্গঠনের ঘোষণা দেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত তৃণমূল পুনর্গঠন সম্পন্ন হয়নি। বর্তমানে ৮০টি সাংগঠনিক জেলার মধ্যে এখন পর্যন্ত ৩৪টি জেলায় আংশিক কমিটি হয়েছে। এদিকে, দলে এখন পর্যন্ত এক নেতার এক পদের বিধানও পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি। কাউন্সিলের পর নতুন কমিটিতে একাধিক পদধারী ৬১ জন নেতা ছিলেন। তারা কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির পদের পাশাপাশি মহানগর-জেলা-উপজেলা কমিটি অথবা বিএনপির অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পদে রয়েছেন। তবে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল, ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহানসহ প্রায় অর্ধ-শতাধিক নেতা ইতোমধ্যে একাধিক পদ ছেড়ে দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে বিএনপির তৃণমূূল পুনর্গঠনের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা মো. শাহজাহান দৈনিক করতোয়াকে বলেন, দলে ‘এক নেতার এক পদ নীতি’ কার্যকর শুরু হয়েছে। ১০-১২ জন ছাড়া অন্যরা একটি পদ রেখে বাকিগুলো ছেড়ে দিয়েছেন। শিগগিরই এটি পুরোপুরি কার্যকর হবে।

জানা যায়, কাউন্সিলে গঠনতন্ত্র অনুমোদনের পর তা প্রকাশ করার দায়িত্ব দেয়া হয় স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানকে। তবে সমন্বয়কের দায়িত্বে থাকায় তিনি এখন কুমিল্লা সিটি নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত। নির্বাচন শেষে ঢাকায় ফিরলেই দলীয় গঠনতন্ত্র প্রকাশ করা হবে। বিএনপির গঠনতন্ত্র প্রকাশ প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, এটা প্রায় প্রস্তুত হয়ে আছে। কিন্তু একটু সময় লাগছে। আওয়ামী লীগও তো তাদের গঠনতন্ত্র প্রকাশ করেনি। আশা করছি, আমরা শিগগিরই তা প্রকাশ করতে পারব। এদিকে, বিএনপি এখনো মন্ত্রণালয়ভিত্তিক উপ-কমিটিও দিতে পারেনি। গঠনতন্ত্রে ২৬টি উপ-কমিটির কথা রয়েছে। সেখানেও প্রায় ৩০০ নেতার ঠাঁই মিলবে। উপ-কমিটি গঠনের কাজ চলছে জানিয়ে বিএনপির মহাসচিব বলেন, এসব কমিটি গঠনে আমরা ইতোমধ্যে কিছু কাজ করেছি, কিন্তু তা ঘোষণা করা হয়নি। ইতোমধ্যে রিসার্চ সেল গঠিত হয়েছে। বাকি কাজও খুব শিগগিরই সম্পন্ন হবে।

 

 

রাজশাহী বিভাগ

আত্রাইয়ে পুকুর খননের সময় মূর্তি উদ্ধার

আত্রাই (নওগাঁ) প্রতিনিধি : নওগাঁর আত্রাই থানা পুলিশ ৬৫ কেজি ৫০০ গ্রাম ওজনের একটি মূর্তি উদ্ধার করেছে। গত মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার মনিয়ারী ইউনিয়নের দিঘীরপাড় গ্রাম থেকে এটি উদ্ধার করা হয়।

জানা যায়, আত্রাই-পতিসর পাকা সড়কের দিঘীরপাড় নামক স্থানে কয়েকদিন থেকে একটি পুকুর খননের কাজ চলছিল। ওই পুকুর খননের এক পর্যায় গত মঙ্গলবার সেখানে একটি মূর্তির সন্ধান পাওয়া যায়। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আল্লামা শের-ই-বিপ্লব ও ইউপি সদস্য রবিউল ইসলাম রতন মূর্তিটি আটিয়ে রেখে আত্রাই থানা পুলিশে সংবাদ দিলে পুলিশ রাত ৯টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে মূর্তি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। আত্রাই থানার ওসি বদরুদ্দোজা বলেন, এটি আসলে কি পাথরের মূর্তি তা আমরা নিশ্চিত হতে পারিনি। উদ্ধারকৃত মূর্তিটি প্রতœতত্ত্ব অধিদফতরের নিকট হস্তান্তর করা হবে।

আজকের ই-পেপার
ফেইসবুক

ঠাকুরগাঁওয়ের যুব সমাজকে বাঁচাতে পুলিশ সুপারের বিশেষ উদ্যোগ

ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি : ঠাকুরগাঁওয়ে যুব সমাজকে মাদকের ভয়াল গ্রাস থেকে বাঁচাতে জেলা পুলিশ সুপার ফারহাত আহমেদের মাদক বিরোধী বিশেষ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন সুশীল সমাজসহ সকল শ্রেণিপেশার মানুষ।

এই অভিযান অব্যাহত থাকলে পুলিশের এই মহতী কাজে সব ধরনের সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছেন ঠাকুরগাঁওবাসী ।
ইতোমধ্যে ঠাকুরগাঁও জেলায় মাদকবিরোধী অভিযানে সফল পুলিশ। পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানে ‘মাদক  জোন’ বলে পরিচিত এলাকাগুলো এখন মাদক শূন্য বলা চলে। এ অবস্থায়  জেলার মাদক ব্যবসায়ীরাও আতঙ্কে রয়েছে।

গত এক মাস যাবৎ ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপার ফারহাত আহমেদের নেতৃত্বে জেলায় প্রতিদিন বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
পুলিশের তথ্য মতে, চলতি মার্চ মাসের ২৮ তারিখ পর্যন্ত ঠাকুরগাঁও জেলার ৬টি থানায় মাদকদ্রব্য সংক্রান্ত ১২৭টি মামলা দায়ের করা হয় এবং ১৩৮ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এসব মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ  থেকে ১৬ লাখ ১৫ হাজার ২৫০ টাকা মূল্যের ভারতীয় ফেনসিডিল, ভারতীয় মদ, ইয়াবা ট্যাবলেট, গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়।
এর মধ্যে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় মাদকদ্রব্যের ৩৭টি মামলা, ডিবি পুলিশের মাধ্যমে ১০টি মামলা, রুহিয়া থানায় ৬টি মামলা, বালিয়াডাঙ্গী থানায় ১৭টি মামলা, পীরগঞ্জ থানায় ২৮টি মামলা, রাণীশংকৈল থানায় ১৬টি মামলা এবং হরিপুর থানায় ১৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
জানা গেছে, পুলিশের তালিকা মতে ঠাকুরগাঁও জেলায় প্রায় সাড়ে ৫শ’ মাদক ব্যবসায়ী রয়েছে। পুলিশ এসব মাদক ব্যবসায়ীদের ধরতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। অনেক সময় ওইসব মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এসব মাদক ব্যবসায়ীদের রুখতে ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপার ফারহাত আহমেদ ব্যাপক ব্যবস্থা নিয়েছেন। এ কাজে সফল হতে অব্যাহত মাদক বিরোধী অভিযানের দাবি করেছেন ঠাকুরগাঁওবাসী।

শহরের সিরাজ উদ্দীন বলেন, এক সময়  জেলায় মাদক ব্যবসায়ীদের সংখ্যা যে হারে বৃদ্ধি পেয়েছিল এতে আমরা সন্তানদের নিয়ে খুব দুশ্চিন্তায় ছিলাম। এমনকি রাতে ভালো করে ঘুমাতেও পারতাম না।

শাহাপাড়ার মহল্লার মিজানুর রহমান বলেন, আগে যেখানে সেখানে দিনদুপুরে মাদক ব্যবসায়ীদের মাদকদ্রব্য বিক্রি করতে দেখা যেতো। এতে যুব সমাজ ধ্বংসের দিকে ঝুঁকে পড়েছিল। বর্তমানে পুলিশের তৎপরতায়  জেলায় মাদক ব্যবসা অনেকাংশে কমে গেছে।
 জেলাকে মাদক মুক্ত রাখতে হলে আদালতের আইনজীবীদের সতর্ক হতে হবে উল্লেখ করে ঠাকুরগাঁওয়ে সমাজসেবক ও ভাষা সৈনিক আকবর হোসেন বলেন, অনেক সময় দেখা যায় পুলিশ মাদকসহ আসামি আটক করার পর সিনিয়র আইনজীবীর মাধ্যমে মাদক বিক্রেতারা আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে আবার মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে। আইনজীবীরা এ ব্যাপারে সতর্ক হলে এমনটা আর ঘটবে না।

সদর থানার ওসি মশিউর রহমান বলেন, জেলায় মাদক ব্যবসায়ীদের আটক করতে পুলিশ নাওয়া খাওয়া ভুলে দিনরাত ২৪ ঘন্টা কাজ করে যাচ্ছে এবং মাদক ব্যবসায়ীদের আটক করে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার ফারহাত আহমেদ বলেন, মাদক ব্যবসা বন্ধে পুলিশ সর্বদা কাজ করে যাচ্ছে। মাদক ব্যবসায়ীরা যে দলের  হোক না  কেন কোন ছাড় দেয়া হবে না। মাদকের বিরুদ্ধে আমরা জিহাদ  ঘোষণা করেছি। আমরা  যেভাবে কাজ করছি এতে খুব শিগগিরিই ঠাকুরগাঁও জেলা মাদকমুক্ত হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

সিরিজ জয়ের স্বপ্ন নিয়ে কলম্বোর পথে বাংলাদেশ

বৃষ্টির কারণে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে পরিত্যক্ত হওয়ায় শেষ ম্যাচের দিকে নজর সবার। এ ম্যাচে জিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথমবারের মত সিরিজ জয়ের স্বপ্ন টাইগারদের মনে। আর সেই স্বপ্ন নিয়ে শেষ ম্যাচের ভেন্যু কলম্বোর দিকে যাত্রা করেছে বাংলাদেশ দল। স্থানীয় সময় দুপুর ১.৩০ মিনিটে কলম্বো পৌঁছাবে মাশরাফিবাহিনী।

প্রথম ম্যাচে জয়ের পর ডাম্বুলাতেই দ্বিতীয় ম্যাচ জিতে সিরিজ জয়ের আনন্দের মাততে চেয়েছিল টাইগাররা। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে থারাঙ্গার হাফ সেঞ্চুরি আর মেন্ডিসের সেঞ্চুরিতে ভর করে শেষ পর্যন্ত ৪৯.৫ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ৩১১ রান তোলে লঙ্কানরা। শেষ মুহূর্তে দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক করেন বাংলাদেশের পেসার তাসকিন আহমেদ। এরপর সিরিজ জয়ের জন্য বাংলাদেশের সামনে ৩১২ রানের লক্ষ্য দাঁড়ায়।


বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা প্রস্তুত হচ্ছিলেন ব্যাট করতে নামার জন্য। টাইগারদের লক্ষ্য ছিল, সিরিজ জয়; কিন্তু বৃষ্টি সেটা আর হতে দিল না। মাঝে প্রায় ২০-২৫ মিনিট যে মুষলধারে বৃষ্টি পড়েছে, সেটা শেষ পর্যন্ত কমে এলেও পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা কম। বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ৮টায়ও ইলশে গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছিল ডাম্বুলার রণগিরি স্টেডিয়ামে। শেষ পর্যন্ত বৃষ্টির কাছে হার মেনে ম্যাচটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়।

এদিকে এ ম্যাচেও বাংলাদেশের জয়ের সম্ভাবনা ছিল বলে জানান টাইগার অধিনায়ক মাশরাফি। কলম্বোর উদ্দেশ্যে হোটেল ছাড়াও আছে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মাশরাফি জানান, স্কোর তিনশোর উপরে দেখেও আমি একটুও ঘাবরাইনি। উইকেট ছিল ব্যাটিং বান্ধব। আমরা সাকিব-তামিমকে ছাড়াই প্রস্তুতি ম্যাচে সাড়ে তিনশো করেছিলাম। আর এ ম্যাচে তো ওরা দুইজনও ছিল। তাই আমার বিশ্বাস ছিল, ম্যাচ হলে জিততাম।


এদিকে সিরিজের তৃতীয় ম্যাচ নিয়ে বাংলাদেশ অধিনায়ক আরও বলেন, যতটুক খবর নিয়ে জেনেছি শেষ ম্যাচের উইকেটও ব্যাটিং বান্ধব হবে। ওই মাঠে ২৮০-২৯০ চেজ করেও জেতা সম্ভব।

উল্লেখ্য, দ্বিতীয় ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ায় এটা বলা যায়, বাংলাদেশ আর সিরিজ হারতেছে না। ওই ম্যাচে শ্রীলঙ্কা জিতলে সিরিজ হবে ড্র।

আইন-আদালত
আর্ন্তাজাতিক
তথ্যপ্রযুক্তি

আফজাল হোসেনের সঙ্গে এবারই প্রথম সাবি

অভি মঈনুদ্দীন : আফজাল হোসেন, সহজেই যাকে চিরসবুজ অভিনেতা হিসেবে তাকে দর্শক চিনেন জানেন। অভিনয় ক্যারিয়ারের শুরু থেকে আজ পর্যন্ত কিংবদন্তী এই অভিনেতা সুবর্ণা মুস্তাফা থেকে শুরু করে বিপাশা হায়াত, আফসানা মিমি, তারিন এমন কী এই প্রজন্মের মেহজাবিন চৌধুরী’র বিপরীতে সেই নায়কের ভূমিকাতেই অভিনয় করছেন এখনো। একজন অভিনেতার জীবনে এটাও নিঃসন্দেহে অনেক বড় প্রাপ্তি সময় পেরিয়ে যাবার সাথে সাথে নিজেকে অভিনয়ে অভিজ্ঞ করে তোলা, সেই সাথে সময়ের সাথে নিজেকে মানিয়ে নিয়ে চলমান সময়ের তরুণ অভিনেত্রীদের সঙ্গে নায়কের ভূমিকাতে অভিনয় করা।

 এমনটা সবাই পারেন না, কিন্তু পেরেছেন শুধু আফজাল হোসেনই। আর তাই তিনি অন্যদের চেয়ে আলাদা, ব্যতিক্রম। সেই ধারাবাহিকতায় আফজাল হোসেনের বিপরীতে এবার অভিনয় করেছেন এই প্রজন্মের অভিনেত্রী শায়লা সাবি। মাতিয়া বানু শুকু, একজন গুণী নাট্যকার। পাশাপাশি একজন দক্ষ নির্দেশকও বটে। তার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিলো আফজাল হোসেনকে নিয়ে নাটক কিংবা টেলিফিল্ম নির্মাণ করার। অবশেষে আফজাল হোসেনকে নিয়ে তিনি নির্মাণ করলেন বিশেষ টেলিফিল্ম ‘অসীম আকাশ’। এর রচয়িতা তিনিই। টেলিফিল্মটিতে আফজাল হোসেনকে দেখা যাবে একজন বিখ্যাত পেইন্টার রইস আহমেদ’র চরিত্রে।

 যেহেতু আফজাল হোসেন আর্ট কলেজে পড়াশুনা করেছেন, তাই শুকু তেমন ভাবনা মাথায় রেখেই তাকে নিয়ে চরিত্র লিখেছেন। গল্পে দেখা যাবে আর্ট কলেজে পড়াশুনা কালীন সময়ে মডেল হিসেবে যে ব্যক্তিকে সামনে রাখতেন সেই মডেলরই মেয়ে রং তার কাছে ছবি আঁকা শিখতে আসে। ছবি আঁকা শিখতে গিয়ে একসময় রং তার শিক্ষকের প্রেমে পড়ে যায়। রং নতুন করে পথ চলতে শিখে, নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করে। এতে অভিনয় প্রসঙ্গে আফজাল হোসেন বলেন,‘ অভিনয়টা আসলে এখন আমি নিয়মিত করিনা। তবে এটা সত্য যে অভিনয় ছেড়ে দিয়ে একজন শিল্পী আনন্দে থাকেন না।

 আমি নানান কাজে ব্যস্ত থাকি বিধায় অভিনয়ে সময় দেয়া হয়ে উঠেনা। নতুন একজন নির্মাতার সঙ্গে কাজ করার অর্থ হলো এই যে একজন নির্মাতার নতুন ভাবনার সাথে পরিচিত হওয়া। আর যেহেতু আমি , শুকু আর্ট কলেজেরই শিক্ষার্থী। তাই কাজ করার সময় একই পরিবারের মানুষ আমরা এই বিষয়টি অনুভব করেছি। অন্যদিকে সাবি এই প্রজন্মের, তারসঙ্গে কাজ করাটাও আনন্দের, উপভোগের।

 শায়লা সাবি বলেন,‘ আমি এখন বলা যায় খুব কমই কাজ করছি। যখন স্ক্রিপ্টটি হাতে পেলাম এবং জানলাম যে আমি আফজাল ভাইয়ের সঙ্গে কাজ করতে যাচ্ছি তখন থেকেই অনেক উচ্ছসিত ছিলাম আমি। কারণ এমন গুণী একজন শিল্পীর সঙ্গে অভিনয় করার সুযোগটা হাতছাড়া করাই যাবেনা। আমি সত্যিই অভিভূত আফজাল ভাইয়ের সঙ্গে কাজ করে। আমার স্বপ্ন ছিলো আর্ট কলেজে পড়ার। কিন্তু আফজাল ভাই, শুকু আপার সঙ্গে কাজ করে সেই স্বপ্ন কিছুটা হলেও কাছে থেকে ছুঁয়ে দেখেছি।’ নির্মাতা জানান এপ্রিলের যেকোন সপ্তাহে টেলিফিল্মটি এটিএন বাংলায় প্রচার হবে।

শিক্ষা
অর্থ-বাণিজ্য
ধর্ম
সাহিত্য
লাইফস্টাইল
স্বাস্থ্য
Go Top