সকাল ১১:৫৯, বৃহস্পতিবার, ১৭ই আগস্ট, ২০১৭ ইং

আজকের ই-পেপার

সর্বশেষ খবর
তাদের ইয়াহিয়া খানের ভাষণ পড়তে বললেন প্রধানমন্ত্রী
পদ্মায় তীব্র ভাঙন : নওগাঁয় বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত
এই সময়ে ব্যস্ত আসিফ
আবারও ঈদ ধারাবাহিকে শখ
আজ এনটিভিতে ভাওয়াইয়া গাইবেন শিল্পী মোস্তাফিজুর
দিলীপ কুমারকে দেখে এলেন শাহরুখ
জন্মদিনে শবনম
জেদ্দার ছয়টি বহুতল ভবনে আগুন
নর্থ ক্যারোলিনায় বর্ণবাদি জেনারেলের স্ট্যাচু ভেঙে ফেলেছে বিক্ষোভকারীরা
লাদাখ সীমান্তে চীন-ভারত সেনা সংঘর্ষ
নাইজেরিয়ায় আত্মঘাতী হামলায় নিহত ২৮
ইতিহাসের সর্বোচ্চ ‘লাইক’ পেল যে টুইট’টি
অবশেষে আদালতের রায় চ্যালেঞ্জ শরীফের
মুগাবের স্ত্রীকে খুঁজছে পুলিশ
মরিচ খাওয়ার অদ্ভূত প্রতিযোগিতা

স্টাফ রিপোর্টার, : বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্ব নিয়ে যারা প্রশ্ন তোলেন তাদের পাকিস্তানের তৎকালীন শাসক ইয়াহিয়া খানের বক্তব্য পড়ে দেখতে বললেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ষোড়শ সংশোধনী বাতিলে আপিল বিভাগের রায়ের পর্যবেক্ষণের কিছু অংশের বিষয়ে তিনি বলেছেন, যারা বলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা একজনের নেতৃত্বে হয়নি, তাদের পাকিস্তানের তৎকালীন শাসক ইয়াহিয়া খানের বক্তব্য পড়ে দেখতে বলবো। তিনি তার বক্তব্যে একজনকে শুধু জাতির পিতাকেই দোষারোপ করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী আক্ষেপ করে বলেন, অপরাধীদের দেশাবাসী কেনো ঘৃণা করবে না? খুনীদের ক্ষমতায় বসাতে বারবার কেনো ষড়যন্ত্র হবে? খুনীদের নিয়ে বারবার কেনো খেলা হবে। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর এক স্মরণসভায় সভাপতির     বক্তব্যে আওয়ামী লীগ সভাপতি একথা বলেন।

 রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ ‘কাঁদো আকাশ, কাঁদো বাতাস, কাঁদো কোটি বাঙালির প্রাণ, চেতনায় তুমি জাগরুক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’ শীর্ষক স্মরণ সভায় সভাপতিত্ব করেন শেখ হাসিনা। ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে আওয়ামী লীগ আয়োজিত এ সভায় আরও বক্তব্য রাখেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, তথ্য মন্ত্রণালয় সর্ম্পকিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সিমিন হোসোন রিমি, সাংবাদিক আবেদ খান, নাট্যব্যাক্তিত্ব আতাউর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের প্রাক্তন চেয়ারম্যান সৈয়দ আনোয়ার হোসেন। কবি নির্মলেন্দু গুণের লেখা থেকে পাঠ করে শোনান সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, শোক সংগীত গেয়ে শোনান ইয়াফেস ওসমান।

 সভা সঞ্চালনা করেন যথাক্রমে ড. হাছান মাহমুদ ও আমিনুল ইসলাম আমিন।  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু এখনও কিছু লোক আছে দেশকে পিছিয়ে নেওয়ার চেষ্টায়। দেশবাসীকে সতর্ক থাকতে হবে। জনগণের উন্নত, সুন্দর ও সম্ভাবনাময় জীবন গড়ে তুলতে চলেছি। এটা যেন কেউ ব্যাহত করতে না পারে। টানা দুইবারের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা শেখ হাসিনা বলেন, আমার মাঝে মাঝে মনে হয়, এদেশের মানুষের কল্যাণে যেই কাজ করুন, তাকেই খেসারত দিতে হয়। সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলে উচ্চ আদালদের আপিল বিভাগের রায়ে দুটি পর্যবেক্ষণের বিষয়ে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি তার বক্তব্যে রায়ের বিষয়টি উল্লেখ না করে বলেন, কেউ নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।

 কেউ যদি নির্বাচনে না এসে থাকে, সেখানে আমাদের করার কী আছে। এটা তো যার যার রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। কেউ যদি রাজনৈতিক পদক্ষেপে ভুল করে সেই ভুলের খেসারত তাকে দিতেই হবে। কোনো নেতা যদি ভুল করে সেই খেসারত তার দলকে দিতে হবে। তার জন্য এদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ধ্বংস করতে হবে কেনো? আজকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অব্যাহত আছে বলেই দেশে এতো আর্থসামাজিক উন্নতি হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব বিষয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ইয়াহিয়া খান তার ২৬ মার্চের বক্তব্যে জাতির পিতাকেই তো অভিযুক্ত করেছেন। কেউ কেউ বলতে চেষ্টা করেন একজনের দ্বারা দেশ স্বাধীন হয় নি, একজনের নেতৃত্বে দেশ স্বাধীন হয় নি। একজন তো নেতৃত্ব দিয়েছে। জাতির পিতার নেতৃত্বেই আওয়ামী লীগ সংগঠন গড়ে উঠেছে। এই সংগঠনের নেতৃত্বে দেশের মানুষ স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়েছে। ইয়াহিয়া তার বক্তব্যে একজনকেই দ্বোষারোপ করেছিল, সেটা হল জাতির পিতা।


তিনি আরও বলেন, তাহলে যারা বলেন, একজনের নেতৃত্বে দেশ স্বাধীন হয় নি, তারা কী ইয়াহিয়ার ভাষণা পড়েন নাই। হ্যা এটা ঠিক, একজন তো দেশ স্বাধীন করতে পারেন নাই। তিনি নির্দেশনা দিয়েছেন, সেই র্নিদেশনা মেনেই দেশ স্বাধীন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে আরও বলেন, এখন অনেক কথায় শুনছি। সব কথার জবাব দেয়ার সময় আসে নি। দেশে খুনীদের ক্ষমতায় বসাতে বারবার ষড়যন্ত্র হয়েছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, এখন কোনো হত্যাকান্ড হলে সবাই সোচ্চার হন, বিচার চান।

কই একথা তো কেউ বলেন না, যারা জাতির পিতাকে হত্যা করেছে, নিরাপরাধ শিশুদের হত্যা করেছে, তাদেরকে যারা পুরস্কৃত করেছিল, অপরাধীকে যারা পুরস্কৃত করে তাদের কেনো বিচার হবে না। তারা কেনো দেশের রাজনীতির মূল নেতৃত্ব দেবে? আর তাদেরকে ক্ষমতায় আনার জন্য বারবার চক্রান্ত হবে। কেনো? খুনীদের নিয়ে বারবার কেনো খেলা হবে? বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যা শেখ হাসিনা বলেন, আমার কাছে সবাই বিচারের জন্য আসেন।

 আমি তো বিচার চাইতে পারি নি। আমার বিচার চাওয়ার অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। ১৯৭৯ সালে রেহানা প্রথম জাতির পিতার হত্যাকান্ডের প্রতিবাদ করে সুইডেনে। আমি ১৯৮০ সালে লন্ডনে যাই। সেইসময় ব্রিটিশ কয়েকজন এমপিকে নিয়ে একটি তদন্ত কমিশন গঠন করি আমরা। তাদেরকে বাংলাদেশে এসে বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের তদন্ত পর্যন্ত করতে দেয় নি জিয়াউর রহমান। আমার প্রশ্ন যে, জিয়াউর রহমান যদি দ্বোষী না হতেন, তাহলে নিশ্চয় তিনি তদন্ত করতে দিতেন।

কিন্তু তিনি ব্রিটিশ এমপিদেরকেও আসতে দেন নি দেশে। সরকার প্রধান বলেন, এমনকি এই দেশে জাতির পিতার নামটা পর্যন্ত মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়। তার সেই ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ শুনতে দেওয়া হয় নাই ২১ বছর। মুক্তিযুদ্ধের মনগড়া তথ্য প্রচার করা হয়। সঠিক তথ্য জাতিকে জানতে দেওয়া হয় নি। ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট থেকে ১৯৯৬ পর্যন্ত বাংলাদেশ দেখে মনে হয়, মুক্তিযুদ্ধ করাটাই ছিল অপরাধ, বাংলাদেশ স্বাধীন করাটাই ছিল অপরাধ।

অতি সূক্ষভাবে জাতির পিতাকে নিয়ে অপপ্রচার চালানো হয়। যারা ২৭ মার্চ পাকিস্তানী শাসকদের চাকরি করে তাদেরকে পর্যন্ত স্বাধীনতার ঘোষক বানানোর চেষ্টা করা হয়। তিনি বলেন, ৭৫ এর ১৫ আগস্ট শুধু জাতির পিতাকে হত্যা করায় মূল উদ্দেশ্য ছিল না। মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে নস্যাৎ করা, স্বাধীনতার চেতনাকে খর্ব করাই ছিল উদ্দেশ্য। অশ্রুসজল চোখে শেখ হাসিনা বলেন, আমার মা কী অপরাধ করেছিল, আমি এখনো বুঝে উঠতে পারি নাই। আমার দুই ভাই শেখ কামাল, শেখ জামাল কী অপরাধ করেছিল আমার জানা নাই। পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকান্ড চালিয়েছিল খুনিরা।

এই হত্যাকান্ডের পরিকল্পনাকারী ছিল মোশতাক আহমেদ আর জিয়াউর রহমান। এরা শুধু ১৫ আগস্টে হত্যাকান্ডই চালায় নি, পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর দোসর ছিল। আমরা দুটো বোন বিদেশে ছিলাম বলে বেচে গিয়েছিলাম। আমরা বাংলাদেশে আসতে পারে নি। রেহানার পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছিল। আমি দিল্লীতে ছিলাম। দিল্লীর হাইকমিশনার আমার পাসপোর্টের মেয়াদ বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। তার জন্য তাকে খেসারত দিতে হয়েছিল।

 আমরা দুই বোন শরনার্থী হিসেবে বিদেশে ছিলাম। আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ৭৫ এর পর যারা ক্ষমতায় আসে, তারা খুনিদের রেহাই দিয়ে বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দিয়ে পুরস্কৃত করে। শুধু তাই নয়, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, যেটা বঙ্গবন্ধু শুরু করেছিলেন, তাদের বিচার বন্ধ করে দেয়। তিনি আরও বলেন, জাতির পিতার খুনীদের বারবার পুরস্কৃত হতে আমরা দেখেছি। কেউ কেউ এদেরকে দিয়ে সংগঠন খোলার চেষ্টা করেছেন। ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেন খুনী হুদা এবং শাহরিয়ারকে ডেকে প্রগতিশীল রাজনৈতিক দল নামের একটি দল গঠন করেন।

 ইত্তেফাক অফিসে খুনিদের নিয়ে রাজনৈতিক সংগঠন খোলেন। জিয়াউর রহমান এদের কাউকে প্রধানমন্ত্রী, কাউতে উপদেষ্টা করেছিলেন, জেনারেলর হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ এদেরকে দিয়ে ফ্রিডম পার্টি তৈরি করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় বসিয়েছিলেন, খালেদা জিয়া ১৫ ফ্রেব্রুয়ারি ভোটারবিহীন নির্বাচন করে দুই খুনিকে সংসদ সদস্য করে বিরোধী দলের চেয়ারে বসিয়েছিল। জেলহত্যা মামলার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৩রা নভেম্বর জেলহত্যার মামলা করতে পারি একটা জিডির ভিত্তিতে। আমরা ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে এই মামলার কার্যক্রম শুরু করি। সেই বিচারের রায় যেদিন ঘোষণা হয়, সেদিন সারাদেশে হরতাল ডাকে খালেদা জিয়া, যাতে বিচারক আদালতে যেতে না পারেন।

আমার প্রশ্ন, কেনো বিএনপি ওইদিন হরতাল দিল? যদি তারা অপরাধী না হয়, ওইদিনই হরতাল কেনো দেবে? বিএনপির প্রতি অভিযোগ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রশ্ন তোলেন, তাহলে তারা খুনী ছাড়া আর কী? জাতির পিতাকে হত্যা করে ভেবেছিল এই দেশ ব্যর্থ রাষ্ট্র হবে। কিন্তু আমরা ২১ বছর পর ক্ষমতায় এসে দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন শুরু করি। তিনি দেশের সুশীল সমাজের প্রতি ঈঙ্গিত করে বলেন, নিজেদেরকে তারা জ্ঞানী-গুণি মনে করে আর অপরাধীদেরকেই তারা প্রশ্রয় দেয়। কেনো? এদেশের মানুষের কী বেচে থাকার অধিকার নাই। বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করাই নিজের জীবনের লক্ষ্য জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগের প্রত্যেকটা নেতাকর্মীর এটাই সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত, জাতির পিতার অসমাপ্ত কাজ বাস্তবায়ন করা।

পদ্মায় তীব্র ভাঙন : নওগাঁয় বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত

করতোয়া ডেস্ক : চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গা ও দেবীনগর ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে পদ্মা নদীতে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভিটেমাটি হারিয়ে সর্বশান্ত হয়ে পড়েছেন এসব এলাকার অনেক মানুষ। বগুড়ার সারিয়াকান্দি পয়েন্টে যমুনায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রুপ নিয়েছে। শিবগঞ্জ উপজেলার মহাস্থান ব্রিজের উপর নির্মিত বেইলী ব্রিজে ফাটল দেখা দিয়েছে। এর ফলে যানবাহন চলাচল সীমিত করা হয়েছে। এদিকে নওগাঁ আত্রাই নদীর ৫টি পয়েন্টে বাঁধ ভেঙ্গে উপজেলার বিস্তীর্ণ     এলাকা প্লাবিত হয়েছে। দিনাজপুরে বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে। ফলে বেড়েছে বানভাসী মানুষের দুভোর্গ।


এদিকে টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে বাড়ার পর পানি কমতে শুরু করেছে উত্তরাঞ্চলের প্রধান দুই নদী তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্রে। একে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতির লক্ষণ বলছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হোসেন। তবে পানি বাড়ছে গঙ্গা অববাহিকার নদীগুলোতে, যা মধ্যাঞ্চলে বন্যার বার্তা দিচ্ছে। চলতি বর্ষা মৌসুমে এখন ২০টি জেলা বন্যার কবলে রয়েছে বলে সরকারের হিসাব; এর মধ্যে অধিকাংশই তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র পাড়ের। কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর, দিনাজপুরে বহু এলাকা প্লাবিত হয়ে  কয়েক লাখ মানুষ এখন বন্যাদুর্গত।


বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র গতকাল বুধবার সকালে জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্রের পানি কুড়িগ্রামের নুনখাওয়া পয়েন্টে ১১ সেন্টিমিটার কমেছে। তবে তা এখনও বিপদসীমার ৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে বইছে। ব্রহ্মপুত্রের পানি ৮ সেন্টিমিটার পানি কমেছে কুড়িগ্রামের চিলমারী পয়েন্টে। তবে তা এখনও বিপদসীমার ৭৯ সেন্টিমিটার উপরে। বাহাদুরাবাদ এবং ফুলছড়ি পয়েন্টে পানি স্থিতিশীল আছে। বাহাদুরাবাদ পয়েন্টে এখনও বিপদসীমার ১৩৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে বইছে। তিস্তার পানিও কমছে বলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. রিয়াজ আহমেদ জানান। তিনি বলেন, তিস্তায় পানি কমছে। নুনখাওয়া ও চিলমারী পয়েন্টে (ব্রহ্মপুত্র) পানি কমেছে। এ কারণে লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, নীলফামারীসহ কয়েকটি জেলায় পানি কমে যাচ্ছে বলে আমরা জেনেছি। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সাজ্জাদ হোসেন বলেন, উজানের তিস্তা, ব্রহ্মপুত্রের পানি কমতে শুরু করেছে। এ কারণে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি শুরু হয়েছে বলা যায়। তবে যমুনার পানি বাড়ায় সিরাজগঞ্জ ও জামালপুর জেলা বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে।

 সেখানেও পানি দু-একদিনের মধ্যে কমবে বলে আশা করছেন রিয়াজ। যমুনার পানি জামালপুরের সারিয়াকান্দিতে ৯ সেন্টিমিটার, সিরাজগঞ্জে ২০ সেন্টিমিটার এবং আরিচা পয়েন্টে ২৩ সেন্টিমিটার বেড়েছে। সারিয়াকান্দিতে পানি বিপদসীমার ১২৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে বইছে। মেঘনা অববাহিকার ভারতীয় অংশে পানি হ্রাস অব্যাহত রয়েছে। এ কারণে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে মেঘনা অববাহিকার অধিকাংশ নদীর পানিও কমছে। গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি আগামী ৭২ ঘণ্টায় বাড়লেও তা বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হবে বলে জানায় বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর জানায়, বন্যায় এখন পর্যন্ত উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ২২ লাখের বেশি মানুষ, বিভিন্ন জেলায় মারা গেছে ৩৯ জন। এদিকে রাজধানীতে গতকাল বুধবার সকাল থেকেই বৃষ্টিপাত হয়েছে। বৃষ্টিতে সকাল থেকেই কাবু হয়ে পড়েন রাজধানীবাসী। নগরীর নিচু এলাকার রাস্তাঘাট পানি জমে যান চলাচলে বিঘœ ঘটেছে। ছিল যানজট। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃহস্পতিবার থেকে বৃষ্টিপাতের অবস্থার উন্নতি ঘটবে। তবে দেশের মধ্যাঞ্চলে পানি বেড়ে প্লাবিত হবে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
প্রতিনিধিদের পাঠানো বন্যার আরও খবর :


চাঁপাইনবাবগঞ্জ :
চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গা ও দেবীনগর ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে পদ্মা নদীতে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভিটেমাটি হারিয়ে সর্বশান্ত হয়ে পড়েছেন এসব এলাকার অনেক মানুষ। ইতিমধ্যে শতাধিক ঘরবাড়ি, আমবাগান, আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। হুমকির মধ্যে রয়েছে সরকারি-বেসরকারি অনেক স্থাপনা। ভাঙ্গনের তীব্রতা বাড়ায় ঘর-বাড়ি সরিয়ে নিচ্ছেন নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষরা।

পদ্মা নদীতে পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে নদীভাঙন দেখা দিয়েছে বিভিন্ন এলাকায়। সদর উপজেলার হড়মা এবং চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের গোয়ালডুবি থেকে ভারতীয় সীমান্ত পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে চলছে তীব্র নদীভাঙন। এরই মধ্যে দেবীনগরের হড়মা গ্রামের লোকজন বাড়িঘর সরিয়ে নিয়েছেন। এছাড়া চরবাগডাঙ্গার রোডপাড়া গ্রাম পুরোটায় পদ্মাগর্ভে বিলিনী হয়ে গেছে। দেবীনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক বিশ্বাস জানান, বেশ কিছু দিন ধরেই হড়মা এলাকায় নদী ভাঙ্গন চলছে। এরইমধ্যে আমবাগান ও আবাদী জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। নদীতীরবর্তী এলাকার মানুষজন ঘরবাড়ি নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিচ্ছেন বলে জানান তিনি। বিষয়টি নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ শহিদুল আলম জানান, চরবাগডাঙ্গা এলাকায় পদ্মার ভাঙ্গন রোধে একটি প্রকল্প গ্রহন করা হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদিত হলে তীর সংরক্ষণ কাজ শুরু হবে।

সারিয়াকান্দি (বগুড়া)  : সারিয়াকান্দি পয়েন্টে যমুনায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রুপ নিয়েছে। গতকাল দুপুর নাগাদ যমুনার পানি বিপদসীমার ১২৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় পাউবোর বগুড়া পরিচালন ও সংরক্ষণ বিভাগের নিয়ন্ত্রণাধীন ৪৫ কিলোমিটার ব্রক্ষ্রপুত্র বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের (বিআরই) বিভিন্ন পয়েন্ট হুমকির মুখে পড়েছে। র‌্যাটহোল, ফাটল এবং সিপেস হওয়ায় বাঁধ ক্রমশ ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। এমতাবস্থায় বাঁধের ওপর বসবাসকারী ১৩ হাজার পরিবার আতঙ্ক উৎকন্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

গোদাখালি, ইছামারা, সহরাবাড়ি, ভান্ডারবাড়ী, রৌহাদহ, কুতুবপুর, শেখপাড়া, দিঘলকান্দি, হাটশেরপুর, পাকুল্লা, পারতিতপরল পয়েন্টে বাঁধের নাজুক অবস্থা। কান্ট্রি সাইড থেকে রিভার সাইডের পানির লেবেল৭/৮ ফুট উচ্চতা থাকায় উক্ত পয়েন্টে দুর্বল বাঁধ ভেঙে যেকোন মুহূর্তে পানি প্রবেশ করে জনপদের জানমালের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছে নদী পারের মানুষ। এদিকে ইর্মাজেন্সি কাজের নামে দায়সারাভাবে কাজ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার জন্য মাইকিং করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। এ ব্যাপারে পাউবো বগুড়ার নির্বাহী প্রকেশলী রুহুল আমীনের সাথে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

সিরাজগঞ্জ : সিরাজগঞ্জের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। শহরের রানী গ্রাম বটতলা-খোকশাবাড়ী রিং বাধ মারাত্মক ঝুকির মধ্যে পড়েছে। সেনাবাহিনী একটি দল সার্বক্ষণিকভাবে এই বাঁধ পর্যবেক্ষণে রয়েছে। যেকোন সময় এই বাঁধ ভেঙে পানি ভিতরে প্রবেশ করার আশংকা দেখা দিয়েছে। অপরদিকে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে যমুনার পানি বাঁধ উপচে পড়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে বাধের তিনটি দুর্বল পয়েন্টে জরুরি মেরামত কবাজ চলছে। এদিকে শাহজাদপুরের গোপালপুর বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধের প্রায় তিনশ ফুট পানির তোড়ে ভেঙ্গে গেছে।

শিবগঞ্জ (বগুড়া) প্রতিনিধি : বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মহাস্থান ব্রিজের উপর নির্মিত বেইলী ব্রিজে ফাটল দেখা দিয়েছে। এর ফলে যানবাহন চলাচল সীমিত করা হয়েছে। অন্যান্য যানবাহন বিকল্প সড়ক দিয়ে পারাপার করার কারনে আবারও জনসাধারনকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এদিকে গতকাল সকালে ব্রিজের উপর দিয়ে একটি মাছ বোঝাই যান বাহন পারাপারের সময় কর্তব্যরত পুলিশ সার্জন এর সাথে চালকের বাকবিতন্ডা হয়। এর ফলে মাছ ব্যবসায়ীরা সড়ক অবরোধ এর চেষ্টা করলে স্থানীয় পুলিশ দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ বিষয়ে থানার ওসি অপারেশন জাহিদ হোসেন বলেন, সকালে পুলিশ সার্জনের সঙ্গে চালকের কথাকাটা হয়েছিল। পরে তা উভয়ের মধ্যে মীমাংসা হয়ে যায়। অপরদিকে অবিরাম বর্ষণের ফলে উপজেলার ময়দানহাট্টা ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে বন্যা দেখা দিয়েছে। সেখানে কুপা মহাবালা প্রাথমিক বিদ্যালয় এ বন্যার পানি প্রবেশ করায় বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষনা করা হয়েছে।

গতকাল বুধবার উপজেলা নির্বাহী অফিসার গোলাম মোঃ শাহনেওয়াজ বিদ্যালয় এবং আশপাশের বন্যা এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান এস এম রুপম, প্রকল্প কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। সেখানে মহাবালা ও মীরাপুর ব্রিজের দুপাশে অসংখ্য কচুরীপানা থাকায় পানি পারাপারের বিঘœ ঘটছে। এদিকে  গত কয়েক দিন ভারী যানবাহন চলাচল করায়  উপজেলার প্রায় ১শ কিলোমিটার পাকা সড়ক ভেঙ্গে গেছে। এর ফলে যান চলাচলসহ জন সাধারণের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। অবিরাম বৃষ্টি ও গত কয়েক দিন মহাস্থান ব্রিজ অকেজো হওয়ায় বিকল্প সড়ক হিসেবে সড়কগুলো ব্যবহার করায় সড়কগুলোর অবস্থা বেহাল হয়। এসময় ৫/৬টি কালভাট দেবে গেছে।

নন্দীগ্রাম (বগুড়া) : বগুড়ার নন্দীগ্রামে উজানের উওর দিক ধেয়ে আসা পানিতে তলিয়ে গেছে ১৮ গ্রামের ফসলী মাঠগুলো। প্রায় এক সপ্তাহ যাবৎ পানিতে ডুবে আছে আমন আবাদী ধান। উপজেলার ১৮টি গ্রামের মাঠের এক হাজার বিশ হেক্টর জমির আমন ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। ভারি বৃষ্টি, উজানের ঢলে বন্যার পানি নাগর নদী ভরে উঠায় এলাকায় পানি ঢুকে এ ধান ডুবে নিমজ্জিত হয়েছে বলে কৃষকদের অভিযোগ। দিনাজপুর : দিনাজপুরে বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে।

ফলে বেড়েছে বানভাসী মানুষের দুভোর্গ। পুনর্ভবা ও আত্রাই নদীর পানি বিপদ সীমার নিচে ও ইছামতি, গর্ভেশ্বরি বিপদ সীমা অতিক্রম করে প্রবাহিত হচ্ছে। পানিবন্দী ৬ লাখ ২১ হাজার বানভাসী মানুষ বিভিন্ন উঁচু স্থান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ৩শ ৮৪টি আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছে। পানি নেমে যাওয়ার সাথে বেড়েছে বিশুদ্ধ পানি ও খাবার সংকট। শুরু হয়েছে হাহাকার। গোবাদিপশুর খাদ্যেরও চরম সংকট দেখা দিয়েছে। জ্বর-সর্দি, আমাশয়, ডাআরিয়া, পেটের পীড়াসহ বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে বানভাসী মানুষের। এ জন্য স্থানীয় প্রশাসন একশ ২৫টি স্বাস্থ্য ক্যাম্প খুলেছে ।

 বেসামরিক প্রশাসনের পাশাপাশি সেনাবাহিনী এবং বিজিবিও চালিয়ে যাচ্ছে বানভাসী মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসা। দিনাজপুরে বন্যায় এ পর্যন্ত ২৩ জনের মৃত্যুর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন জেলা প্রশাসক মীর খায়রুল আলম। বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার জন্য সেনাবাহিনী রাতভর বন্যা দুর্গত মানুষের সাহায্যে কাজ করে যাচ্ছে। ৫০ মিটার ভেঙে যাওয়া দিনাজপুর শহররক্ষা বাঁধের নির্মাণ কাজও চালিয়ে যাচ্ছে সেনাবাহিনীর বিশেষ দল। এতে দিনাজপুর জেলার সঙ্গে বিভিন্ন উপজেলাসহ ঢাকার সাথে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। রেললাইন ডুবে যাওয়ায় ৫ দিন ধরে বিচ্ছিন্ন রয়েছে পাবর্তীপুর-পঞ্চগড় রেল যোগাযোগ। হিলি স্থলবন্দর পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় গত শনিবার থেকে বন্ধ রয়েছে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম। বন্যা পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় এক জরুরি সভার আয়োজন করেন। জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম, দিনাজপুর ১-আসনের সাংসদ মনোরঞ্জন শীল গোপালসহ সেনাবাহিনীর ঊধর্বতন কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

কুড়িগ্রাম : কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, দুধকুমারসহ অন্যান্য নদ-নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকলেও দুর্ভোগ বেড়েছে বানভাসীদের। ধরলার পানি সামান্য হ্রাস পেলেও ব্রহ্মপুত্রের পানি অপরিবর্তিত রয়েছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে ৯ উপজেলার ৬০ ইউনিয়নের ৭শ ৬৩ গ্রামের প্রায় ৪ লক্ষাধিক মানুষ। ঘর-বাড়ী ছেড়ে বানভাসীরা আশ্রয় নিয়েছে পাকা সড়ক উচু বাঁধ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। গত তিন দিনে বন্যার পানিতে ডুবে ও সাপের কামড়ে ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছে দুই জন।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক মোঃ শফিকুল ইসলাম জানান, গত ১২ ঘন্টায় সেতু পয়েন্টে ধরলার পানি ১৫ সেন্টিমিার হ্রাস পেয়ে বিপদসীমার ৮৬ সোন্টিমিটার, চিলমারী পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদসীমার ৮৫ সেন্টিমিটার, নুন খাওয়া পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি ১ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়ে বিপদসীমার ১৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানির প্রবল স্রোতে ভেসে গেছে প্রায় চার শতাধিক ঘর-বাড়ি। বানভাসীরা গবাদি পশু নিয়ে পাকা সড়ক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও উঁচু জায়গায় আশ্রয় নিয়ে গাদাগাদি করে বসবাস করছে। বন্যাদুর্গত মানুষের মাঝে দেখা দিয়েশে খাদ্য ও বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট। সরকারি বে-সরকারিভাবে সামান্য ত্রাণ তৎপরতা শুরু হলেও তা পৌঁছেতা পারছে না দুর্গম এলাকাগুলোতে। ত্রাণ না পাওয়ার অভিযোগ বন্যাদুর্গত এলাকার বেশিরভাগ মানুষের।  


কুড়িগ্রামের টগরাইহাট এলাকায় বন্যার পানির তোড়ে রেল সেতুর গার্ডার দেবে যাওয়ায় সারা দেশের সাথে রেল যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।  কুড়িগ্রাম-ভুরুঙ্গামারী সড়ক তলিয়ে ৪টি পয়েন্টে ধসে যাওয়ার বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে সোনাহাট স্থল বন্দরসহ নাগেশ্বরী, ভুরুঙ্গামারী ও ফুলবাড়ী উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা।
বন্ধ করে দেয়া হয়েছে সাড়ে ৫ শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠন। তলিয়ে গেছে ৫০ হাজার হেক্টর জমির রোপা আমন ক্ষেত।সদরের কাঠালবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রেদওয়ানুল হক দুলাল জানান, ধরলার এমন বন্যা আমার জীবনে আমি দেখিনি। কাঁঠালবাড়িসহ পার্শ¦বর্তী সব ইউনিয়নের মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। বানভাসী মানুষের পাশে দ্রুত সরকারি সহায়তা কামনা করছি। সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আমান উদ্দিন মঞ্জু বলেন, সদর উপজেলার ৯০ ভাগ মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।

আমরা সাধ্যমত চেয়ারম্যান মেম্বারদের মাধ্যমে আশ্রয় নেয়া মানুষদের খাবার ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছি। যাতে করে কেউ না খেয়ে না থাকে। কুড়িগ্রাম ৪৫ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের পরিচালক লে. কর্ণেল আউয়াল উদ্দিন আহমেদ বিজিবি’র পক্ষ থেকে প্রতিদিন ১শ ৫০ প্যাকেট করে প্যাকেজ ত্রাণ বিতরণ শুরু করেছেন। ত্রাণ তৎপরতা অব্যাহত থাকবে বলে জানান বিজিবি’র পরিচালক। বন্যার্তদের জন্য স্বল্প পরিসরে ত্রাণ তৎপরতা চললেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।  কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মোহাম্মদ ফেরদৌস খান জানান, এ পর্যন্ত বন্যার্তদের জন্য সাড়ে ১৭ লাখ ৫ হাজার টাকা, ৬শ ৫১ মেট্রিক টন চাল ও ২ হাজার শুকনো খাবার প্যাকেট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

ফুলছড়ি (গাইবান্ধা) : গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার সার্বিক বন্যাপরিস্থিতির অপরিবর্তিত রয়েছে। এদিকে বন্যাকবলিত এলাকার গো-চারণ ভূমি তলিয়ে থাকায় গো-খাদ্যের চরম সংকট দেখা দিয়েছে। আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে ত্রাণ সামগ্রী না পৌঁছানোর অভিযোগ তুলেছেন আশ্রিতরা। গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ড ও রেলওয়ে মেরিন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বুধবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘন্টায় ফুলছড়ি তিস্তামুখঘাট পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ৩ সেন্টিমিটার কমলেও এখনও বিপদসীমার ১০০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

লালমনিরহাট : লালমনিরহাটের পাটগ্রাম, হাতীবান্ধা, আদিতমারী উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও বেড়েছে বানভাসী মানুষের দুর্ভোগ। জেলায় প্রায় ২ লাখ বানভাসী মানুষ এখনও খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছেন। দুর্ভোগ কাটিয়ে উঠতে গতকাল বুধবার সকাল থেকে লালমনিরহাট বিজিবিসহ সেনাবাহিনীর তিনটি টিম কাজ করছে। এদিকে বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে ধরলা নদীর পানি। বানভাসী এসব মানুষের মাঝে বিশুদ্ধ পানি ও শুকনো খাবারের সংকট দেখা দিয়েছে। বন্যার কারণে বিভিন্ন রাস্তাঘাট, ব্রিজ কালাভার্ট ভেঙে যাওয়ায় জেলা ও উপজেলা শহরের সঙ্গে দুর্গত এলাকার মানুষদের যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ভেঙে পড়েছে। লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ বলেন, ত্রাণ তৎপরতার পাশাপাশি চিকিৎসা সেবা দিতে সেনাবাহিনী এসেছে। ত্রাণ হিসেবে ২৪২ মে.টন চাল ও নগদ ৮ লাখ টাকা বন্যার্তদের মাঝে বিতরণ কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।

নওগাঁ : নওগাঁয় বন্যাপরিস্থিতি আরও অবনতি হয়েছে। জেলার প্রধান দুই নদী আত্রাই ও ছোট যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় আত্রাই নদীর পানি ১১ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে বিপদসীমার ২১৪ উপর দিয়ে এবং ছোট যমুনা নদীর পানি ১০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৬৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।  জানা গেছে, এ পর্যন্ত জেলার ৯টি উপজেলার ৫৩টি ইউনিয়নের ২৫৬টি গ্রাম বন্যাকবলিত হয়েছে। উপদ্রুত এলাকার ৩৯ হাজার ১৭৫টি পরিবারের মোট ১ লাখ ৮৬ হাজার ৬৫০ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে সরকারী ভাবে ঘোষিত ৫টি আশ্রয় কেন্দ্রে মোট ১৫৬টি পরিবার আশ্রয় গ্রহণ করেছেন। সম্পূর্ণভাবে ৯৬০টি এবং আংশিকভাবে বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৭ হাজার ৬০৪টি। ১৬ হাজার ৫৯৯ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রায় দেড় হাজার পুকুরের মাছ বন্যার পানিতে ভেসে গেছে।

জেলা প্রশাসক ড. মোঃ আমিনুর রহমান জানান, জেলায় খাদ্য মজুদ আছে সাড়ে ৭৪ মেট্রিকটন এবং নগদ টাকা মজুদ আছে ৪ লাখ ৪৮ হাজার টাকা। প্রয়োজনীয় চাহিদা সরকারের নিকট দাখিল করা হয়েছে। তাৎক্ষনিক ভাবে উপদ্রুতদের মধ্যে ৩৩ মেট্রিকটন চাল এবং ৫২ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে।
ধামইরহাট (নওগাঁ) : নওগাঁর ধামইরহাটে আত্রাই নদীর ৫টি পয়েন্টে বাঁধ ভেঙ্গে উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পানিতে ডুবে গেছে বাড়ীঘর ও ক্ষেতের ফসল। এখনও উপদ্রুত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ শুরু হয়নি। বর্তমানে বৃষ্টি না হলেও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পানির ঢলে উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে বাড়ীঘর, আমন ধান ক্ষেত, কলা বাগান, সবজি ক্ষেত পানিতে ডুবে গেছে। এছাড়া উপদ্রুত এলাকার অসংখ্য পুকুরের মাছ পানিতে ভেসে গেছে।

বর্তমানে আত্রাই নদীর শীমুলতলী পয়েন্টে বিপদসীমার ২ দশমিক ২৩ মিটার উপরে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।
এদিকে ছোট যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ইসবপুর ইউনিয়নের ২৯টি মৌজার কমবেশী সকল এলাকার আমন ধান ও শাকসবজি পানিতে তলিয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত ইউনিয়নের অসংখ্য পুকুর পানিতে ডুবে যাওয়ায় লক্ষ লক্ষ টাকা মাছ ভেসে গেছে। এছাড়া ঘুকসি নদী, আমাইতাড়া কলকলিয়া খাড়ী, চিরি নদীর দু’পাশে  বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এতে ওইসব এলাকার হাজার হাজার হেক্টর জমির ফসল পানির নিচে ডুবে রয়েছে।

বদলগাছী (নওগাঁ): নওগাঁর বদলগছীতে ছোট যমুনা ও তুলশী গঙ্গা নদীর ভয়াবহ রূপ। বিভিন্ন স্থানে  বেরী বাধে বাঁধে ফাঁটল। আতংকিত এলাকবাসী দিন রাত পাহারা দিচ্ছে বাঁধ। এলাকা ঘুরে জানাযায় গত কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিপাতে মাঠ ঘাঠ তলিয়ে যায়। হাজার হাজার বিঘা রোপা আমন ধাঁন সহ বেগুন, পটল, মরিচ সহ অন্যান্য শাক সব্জির ক্ষেত নষ্ট হয়ে যায়।  নদীর পানি ভয়াবহ বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

টাঙ্গাইল : টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের নওগাঁও গ্রামে গত মঙ্গলবার রাতে বাঁধ ভেঙ্গে পানি প্রবেশ করেছে। এতে নতুন নতুন এলাকার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বন্ধ হয়ে গেছে ৫২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১৪টি মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। গবাদি পশু নিয়ে বানভাসী মানুষ চরম ভোগান্তি পড়েছে। গো খাদ্য সংকটে এবং আশ্রয়স্থল না থাকায় পানিতে পড়ে গবাদি পশুগুলো মারা যাচ্ছে। গতকাল বুধবার ভূঞাপুরে যমুনা নদীতে বিপদসীমার ১৪৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। যা মঙ্গলবার ছিল ১৩৬ সেন্টিমিটার।

নাটোর : উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে এবার বন্যার কবলে পড়েছে নাটোরের চলনবিল অধ্যুষিত সিংড়া উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন। বন্যা কবলিত এলাকার প্রায় তিন শতাধিক বাড়ি-ঘরে পানি প্রবেশ করেছে। এই পানি এখন সিংড়া  পৌর এলাকার নিম্নাঞ্চল সহ চলনবিলের বিভিন্ন গ্রামে প্রবেশ করছে। ইতিমধ্যে সিংড়া পৌর এলাকাসহ  শেরকোল, ডাহিয়া, কলম, তাজপুর ইউনিয়ন এলাকার অনেক এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বুধবার (১৬ আগষ্ট) সরজমিনে গিয়ে এই চিত্র দেখা যায়। ফলে আত্রাই নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় বিলের মধ্যে দিয়ে যাওয়া ওই নদী তীরবর্তী জনসাধারনের মধ্যে এখন আতঙ্ক বিরাজ করছে। পানিতে তলিয়ে যাওয়ার কারনে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে সিংড়া-বলিয়াবাড়ি স্থানীয় সড়কের যান চলাচল।



বিশেষ প্রতিবেদন

আওয়ামী লীগ ব্যতীত অন্য দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা নেই

প্রদীপ কুমার গোস্বামী মিঠাপুকুর (রংপুর) : জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে রংপুর-৫ মিঠাপুকুর আসনে আওয়ামী লীগ ব্যতীত অন্য দলগুলোর মনোনয়ন প্রত্যাশী সম্ভাব্য  প্রার্থীদের দৃশ্যমান তৎপরতা নেই। তবে ১১তম সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সচেতন নাগরিকদের নানা সংশয়ের পাশাপাশি প্রার্থিতা নিয়ে চলছে কর্মী, সমর্থক ও ভোটারদের মাঝে জল্পনা কল্পনা।  

রংপুর-৫ মিঠাপুকুর আসনটি একটি আলোচিত আসন। ১৭টি ইউনিয়নের ৩১৫টি গ্রাম নিয়ে গঠিত এই আসনে ভোটার প্রায় ৩ লাখ ৭৫ হাজার। নির্বাচন এলেই অনাকাক্সিক্ষত এবং চমকপ্রদ ঘটনার অবতারণা ঘটে এই আসনে। এবারেও ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা অনেকের। আসন্ন সংসদ নির্বাচন নিয়ে মনোনয়ন প্রত্যাশী সম্ভাব্য প্রার্থীদের তুলনায় সরব আলোচনায় ব্যস্ত কর্মী সমর্থক ও সচেতন ভোটাররা। বিশেষ করে এই আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থিতা নিয়ে নিজ দলের বাইরেও বিরোধী দলের নেতা কর্মীদের মাঝে চলছে নানা রকম জল্পনা কল্পনা। কারণ এই আসনে আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট প্রার্থী দলের কেন্দ্রীয় কোষাধ্যক্ষ এইচ.এন আশিকুর রহমানের অতীতে কোন প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল না। আসন্ন নির্বাচনে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জাকির হোসেন সরকার মনোনয়ন চাইতে পারেন বলে কানাঘুষা চলছে। ইউনিয়ন কমিটি বাতিল এবং নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের চাপা বিরোধ দৃশ্যমান বিরোধে পরিণত হয়েছে। ইউনিয়ন কমিটি ভেঙে নতুন কমিটি গঠন দলের গঠনতন্ত্র মোতাবেক করা হয়নি। এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ২২ মে রংপুর জেলা কমিটির সভায় মিঠাপুকুর উপজেলার ভেঙে দেয়া ইউনিয়ন কমিটিকে পুনর্বহাল করা হয়েছে।

গত ৩০ জুলাই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের পুরাতন কমিটির অংশ গ্রহণে উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বর্ধিত সভাকে কেন্দ্র করে দলাদলি শুরু হলে বর্ধিত সভা স্থগিত করে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ। বর্ধিত সভা স্থগিত করা হলেও ওই দিন (৩০ জুলাই) উপজেলা আওয়ামী লীগ নতুন কমিটির প্রতিনিধিদের নিয়ে কর্মী সভা করে। কর্মী সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় এমপি এইচ এন আশিকুর রহমানের পুত্র ও কেন্দ্রীয় উপ কমিটির সাবেক সহ সম্পাদক টক শো ব্যক্তিত্ব রাশেক রহমান। বর্ধিত সভা স্থগিত করা হলেও ওই দিন কর্মী সভা করায় রাশেক রহমানকে শো-কজ করা হয়েছে বলে কয়েকটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। যা হোক আসন্ন সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে আওয়ামী লীগ তৎপর হলেও বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জাসদসহ অন্য দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৃশ্যমান কোন তৎপরতা নেই। তবে কারা কারা প্রার্থী হতে পারেন, কে দলের মনোনয়ন পাবেন, এনিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা কল্পনা।

রংপুর- ৫ মিঠাপুকুর আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে পারেন দলের কেন্দ্রীয় কোষাধ্যক্ষ এইচ এন আশিকুর রহমান এমপি। ৯ম সংসদ নির্বাচনে তিনি নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করে ১,২৪,৮৯৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১০ম নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১০ম নির্বাচনসহ তিনি ৪ বার এমপি নির্বাচিত হন এবং একবার বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি দলের কোষাধ্যক্ষের পাশাপাশি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। অন্যান্য দলের প্রার্থীরা এইচ এন আশিকুর রহমানকে একজন শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করেন। তার মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। কারণ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সর্বশেষ কাউন্সিলে এইচ.এন আশিকুর রহমানকে ৫ম বারের মত কোষাধ্যক্ষ মনোনীত করেন।

এছাড়াও এ যাবৎ তার নামে কোন ধরনের বিরূপ ধারণা কেউই উত্থাপন করতে পারেনি। তবে কানাঘুষা চলছে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন সরকার মনোনয়ন চাইতে পারেন। তিনিও ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতা কর্মীদের সাথে নিয়ে জনসংযোগ করছেন। মঙ্গলবার জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বিশাল শোক র‌্যালি করেছেন। র‌্যালিটি ৩ কিঃ মিঃ দূর থেকে পায়ে হেঁটে মিঠাপুকুর উপজেলা সদরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। তিনি উপজেলা কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতির এবং একবার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। মনোনয়ন প্রত্যাশী কি না জানতে চাইলে মুঠো ফোনে জাকির হোসেন সরকার দৈনিক করতোয়াকে বলেন দলীয় নেতাকর্মীরা প্রার্থী হওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করছেন। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে আমি দলের হয়ে কাজ করবো এতে কোন সন্দেহ নেই। এই আসনে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশী সম্ভাব্য প্রার্থীদের মাঝে দুই জনের নাম বেশি আলোচিত হচ্ছে। একজন হলেন দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক এস এম ফখর উজ জামান জাহাঙ্গীর। তিনি ৯ম সংসদ নির্বাচনে লাঙ্গল প্রতীকে ১,০০,১২৯ ভোট পেয়ে ছিলেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হিসেবে উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল হালিম মন্ডলের নাম শোনা যাচ্ছে।

তিনিও গ্রাম পর্যায়ে জাতীয় পার্টির কর্মী সমর্থকদের সাথে যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি দৈনিক করতোয়াকে বলেন, অনেকে নির্বাচনের সময় এলাকায় থাকেন। কিন্তু নির্বাচন হয়ে গেলে নেতাকর্মীরা তাদের নাগাল পায় না। আর আমি নেতাকর্মী সমর্থকদের পাশে আছি, আগামীতেও থাকব। জাতীয় পার্টির সংগঠনিক কর্মকান্ড না থাকায় হতাশা সাধারণ কর্মী সমর্থকরা। ইতোমধ্যে উপজেলা জাপার সদস্য সচিব বাবর আলী স্বীয় পদ থেকে অব্যাহতি চেয়ে জেলা কমিটির নিকট আবেদন করেছেন।

অনেকেই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, নেতারা নির্বাচনের সময় আসে কিন্তু ৫ বছর আর তাদের দেখা মেলে না। সাংগঠনিক তৎপরতা না থাকায় বিগত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মহাবিপর্যয় ঘটে।

বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক খাজানুর রহমানের নাম আলোচিত হচ্ছে। তিনি উপজেলা ছাত্রদলেরও সভাপতি ছিলেন। বর্তমানে একটি মহিলা কলেজে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করছেন। তার মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে। বিএনপির নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক একাধিক নেতাকর্মী জানান, বিএনপি যদি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে তাহলে এখানে নতুন মুখ প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবচনা অনেক বেশি। এক্ষেত্রে অবসর প্রাপ্ত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. মমতাজ হোসেনের নামও আলোচিত হচ্ছে। উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক রুহুল উল্যাহ জুয়েলও মনোনয়ন প্রত্যাশী বলে জানা গেছে। তিনি বিগত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করেছিলেন।

৯ম নির্বাচনে তৃতীয় অবস্থানে ছিলেন জামায়াত প্রার্থী শাহ মোঃ হাফিজুর রহমান। ৯ম নির্বাচনে ৫৬ হাজার ভোট পেয়েছিলেন। ১১তম সংসদ নির্বাচনে দল নিবন্ধন না পাওয়ায় নির্বাচন করতে পারবে কি পারবে না এ বিষয়টি প্রাধান্য  পেয়েছে। তবে দলীয় ভাবে না হলেও জামায়াত থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে পারেন বলে কানাঘুষা চলছে। জামায়াতের সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে শাহ্ মোঃ হাফিজুর রহমান, গোলাম রব্বানী ও বর্তমান আমির মাওঃ এনামুল হকের নাম শোনা যাচ্ছে। কলেজ শিক্ষক গোলাম রব্বানী বিগত উপজেলা নির্বাচনে বিপুল ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। কিন্তু নাশকতার মামলা থাকায় তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। বিষয়টি বর্তমানে উচ্চ আদালতে বিচারাধীন। মাওঃ এনামুল হক বর্তমানে জামায়াতের উপজেলা আমিরের দায়িত্ব পালন করছেন। মামলা থাকায় তাকে দৃশ্যমান জনসংযোগে দেখা যাচ্ছে না।

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ থেকে উপজেলা সভাপতি সালেক হাসনাত বুলবুল ও সাধারণ সম্পাদক আইনুল কবির লিটন মনোনয়ন প্রত্যাশী বলে জানা গেছে। এ প্রসঙ্গে আইনুল কবির লিটন বলেন, আমরা ১৪ দলীয় জোটে আছি। জোটের মনোনীত প্রার্থীর পক্ষেই আমাদের অবস্থান থাকবে। ৯ম নির্বাচনে বাসদের প্রার্থী ছিলেন মমিনুল ইসলাম।

তিনি মই প্রতীকে ৮৭১ ভোট পেয়েছিলেন। এদিকে মিঠাপুকুর উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও রংপুর জেলা স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি ডা. সৈয়দ আবু তালেবের স্ত্রী মওদুদা আখতার দিনা স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে পারেন বলে তার পরিবার সূত্রে জানা গেছে। কিছুদিন আগে প্রচার চলছিল যে, তিনি  জাতীয় পার্টির মনোনয়ন পাচ্ছেন!  ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন থেকে শফিউল আলম ভোলা মন্ডল দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী।

বাসদ ও সিপিবি যৌথভাবে প্রার্থী দিতে পারেন। এখনও প্রার্থী চূড়ান্ত হয়নি বলে জানা গেছে। মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রার্থীরা কেন্দ্র নেতৃবৃন্দের সাখে লবিং চালালেও মাঠ পর্যায়ে তৎপরতা কম। তবে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এইচ.এন আশিকুর রহমান এলাকায় বিভিন্ন ভাবে জনসংযোগে ব্যস্ত। তার ছেলে টকশো ব্যক্তিত্ব রাশেক রহমানও এলাকায় দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন। সব মিলে আগামী নির্বাচন কেমন হবে এই অপেক্ষায় দিন গুনছেন নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটাররা।

 

 

 

 


রাজশাহী বিভাগ

দুপচাঁচিয়ার খলিশ্বর সড়কে মুক্তিযোদ্ধা আয়েজ উদ্দিনের নামফলক ভাঙচুর

দুপচাঁচিয়া (বগুড়া) প্রতিনিধি : বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার জিয়ানগর খলিশ্বর সড়কে বুধবার ভোরে কে বা কারা স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা আয়েজ উদ্দিনের নামফলক ভাঙচুর করেছে।

জানা গেছে, মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তক্রমে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলার বিভিন্ন সড়ক মুক্তিযোদ্ধাদের নামে নামকরণ করা হয়। জিয়ানগর ইউনিয়নের খলিশ্বর বাজার সংলগ্ন স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে জিয়ানগর খলিশ্বর সড়কটি স্থানীয় খলিশ্বর মধ্যপাড়া গ্রামের মৃত কিনা প্রামানিকের পুত্র মুক্তিযোদ্ধা আয়েজ উদ্দিন এর নামে নামকরণ করা হয় এবং খলিশ্বর বাজারের সামনে নামফলক স্থাপন করা হয়।

কিন্তু কে বা কারা ইট, বালু, সিমেন্টের তৈরি উক্ত নামফলকটি ভেঙে ফেলে। এ ব্যাপারে  উপজেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কামান্ডার অধ্যক্ষ আব্দুল মজিদ বিষয়টির নিন্দা জ্ঞাপন করে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক তদন্ত সাপেক্ষে বিষয়টি আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৩৩ লাখ মানুষ, মোট নিহত ১০৭

উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে এই পর্যন্ত ১০৭ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। মোট ২২ জেলা এখন বন্যার কবলে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা এখন ৩৩ লাখ ২৭ হাজার বলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের তথ্য। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজনীন শামীমা  বুধবার জানান, বিকাল ৫টা পর্যন্ত মাঠ কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত ২২ জেলার তথ্য পেয়েছেন তারা।

এসব জেলায় বন্যায় ৮ লাখ ৭০ হাজার ৫২টি পরিবারের ৩৩ লাখ ২৬ হাজার ৮৬৪ জন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, রংপুর, সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোণা, নীলফামারী, গাইবান্ধা, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, খাগড়াছড়ি, দিনাজপুর, জামালপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, ময়মনসিংহ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, রাজবাড়ী, নওগাঁ, জয়পুরহাট, যশোর ও রাঙামাটি জেলার ১২২টি উপজেলা ও ৩৮টি পৌরসভা এখন বন্যায় প্লাবিত। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে দিনাজপুর জেলায়। এ জেলার ১৩টি উপজেলার সবগুলোয় বন্যাকবলিত।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বন্যাজনিত কারণে গত জুলাই মাস থেকে এ পর্যন্ত ১০৭ জনের মৃত্যুর খবর বুধবার জানানো হয় মহাখালীতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে। অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদ জানান, বন্যায় গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে ৯ জনের এবং ৪৮ ঘণ্টায় মৃতের সংখ্যা ২৪ জন। বন্যায় মারা যাওয়া ১০৭ জনের মধ্যে ৯২ জনেরই মুত্যু হয়েছে পানিতে ডুবে। আর সাপে কাটায় মুত্যু হয়েছে ১০ জনের, বজ্রপাতে মারা গেছেন দুজন, এছাড়া অন্যান্য কারণে মৃত্যু হয়েছে ৩ জনের। বন্যাদুর্গত জেলাগুলোর মধ্যে জামালপুরে মৃতের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি বলে জানান আবুল কালাম। এ জেলায় ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এছাড়া সিরাজগঞ্জে ২৩ জন, কুড়িগ্রামে ১৯ জন, গাইবান্ধায় ১১ জন, দিনাজপুরে ৭ জন, লালমনিরহাটে ৬ জন, নীলফামারীতে ৫ জন ও কক্সবাজারে ৩ জন মারা গেছেন। বন্যা আক্রান্ত ২১ জেলায় ১ হাজার ৮২৪টি মেডিকেল টিম কাজ করছে বলে জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক। তিনি বলেন, গত মাস থেকেই আমরা প্রস্তুতি নিয়েছি। প্রত্যেকটি বন্যা কবলিত এলাকায় সবার ছুটি বাতিল করা হয়েছে। পর্যাপ্ত ওষুধের মজুদ রয়েছে আমাদের, কোনো সঙ্কট নেই। স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বন্যাকবলিত এলাকার মেডিকেল টিমের সঙ্গে প্রয়োজনীয় ওষুধ পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

 

 

দেশে ফিরেছেন সাকিব-মিরাজ

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজের প্রস্তুতির জন্য ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (সিপিএল) মাঝ পথেই দেশে ফিরেছেন টাইগার দুই তারকা সাকিব আল হাসান ও মেহেদী হাসান মিরাজ। সাকিব সোমবার রাতেই আর মিরাজ ফিরেন মঙ্গলবার সকালে।

সিপিএলে জ্যামাইকা তালাওয়াহসের হয়ে খেলেছেন সাকিব। তিন ম্যাচে করেছেন ৬১ রান। পাশাপাশি ২টি উইকেটও নিয়েছেন তিনি। অপরদিকে মিরাজ ছিলেন ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্সে। তবে কোন ম্যাচেই খেলার সুযোগ হয়নি তার।

এদিকে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে আগামী ১৮ তারিখ ঢাকায় পা রাখবে স্মিথ বাহিনী। আর ২৭ আগস্ট থেকে মিরপুরের শেরে বাংলায় শুরু হবে দুই দলের প্রথম টেস্ট। আর চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় টেস্ট শুরু হবে ৪ সেপ্টেম্বর। তবে এর আগে ২২ আগস্ট দুই দিনের একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে অস্ট্রেলিয়া।

আইন-আদালত
আর্ন্তাজাতিক
তথ্যপ্রযুক্তি

এই সময়ে ব্যস্ত আসিফ

বিনোদন প্রতিবেদক :  সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজেকে এগিয়ে নিতে বরাবরই ভালোবাসেন জনপ্রিয় কন্ঠশিল্পী আসিফ আকবর। আর তাইতো সাম্প্রতিক সময়ে তিনি নানামাত্রায় নিজেকে মেলে ধরছেন ভক্ত-শ্রোতা-দর্শকদের সামনে। চলতি বছর ধ্রুব মিউজিক স্টেশন থেকে প্রকাশ পায় তার ‘আগুন’ শিরোনামের মিউজিক ভিডিও। এ ভিডিওতে অন্য এক আসিফকেই আবিষ্কার করেছেন দর্শক। গানটির অডিও-ভিডিও দুটির মাধ্যমেই বাজিমাত করেছেন এ শিল্পী। এখন পর্যন্ত এটি চলতি বছরের সর্বাধিক জনপ্রিয় গানও বটে। ইউটিউবে গানটি উপভোগ করেছেন ৪৫ লাখেরও বেশি দর্শক। তবে চলতি বছরের আসিফ চমক এখানেই শেষ নয়। খুব শিগগিরই তাকে দেখা যাবে নতুন রূপে। এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

 প্রকাশ করেছেন নিজের এক ভিন্নধর্মী লুকের ছবি। নতুন একটি গান করেছেন এ শিল্পী। আসিফ ইকবালের কথায় ও অটমনাল মুনের সুর ও সংগীতে ‘সাদা আর লাল’ শীর্ষক এ গানটি ঈদে প্রকাশ পাবে গানচিল মিউজিকের ব্যানারে। এ গানের ভিডিওতে সত্তরের দশকের লুক নিয়েছেন আসিফ। আর তা করতে গিয়ে সাজ-পোশাক, হেয়ার স্টাইল ও পারফর্মে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছেন তিনি। এ গানে তার মডেল চিত্রনায়িকা পপি। গত কয়েকদিনে আসিফের এ সত্তরের দশকের লুকের ছবি ভাইরাল হয়ে গেছে নেটদুনিয়ায়। সবাই তার এমন নয়া লুকের প্রসংশা করেছেন। তার ভক্তরাও অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন এই গানের ভিডিও মুক্তির। এদিকে এর বাইরে খুব শিগগির রোমান্টিক আসিফকেও নতুনভাবে আবিষ্কার করতে পারবেন শ্রোতা-দর্শক।

 ‘কি করে বোঝাই’ শিরোনামের একটি নতুন গান করেছেন এ শিল্পী। এ গানটির সুর করেছেন নাজির মাহমুদ। আর সংগীতায়োজনে ছিলেন মুশফিক লিটু। এ গানের ভিডিওর শুটিং হয়েছে কক্সবাজারে। গানটিতে আসিফের সহশিল্পী কর্নিয়া। এ গানেও অন্যরূপে দেখা যাবে আসিফকে। তবে বিষয়টি এখনই প্রকাশ করতে নারাজ তিনি। গানটি আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই ধ্রুব মিউজিক স্টেশনের ব্যানারে প্রকাশ হবে। সাম্প্রতিক সময়ে নানামাত্রিক আসিফের রহস্যটা কী? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, নানামাত্রিকতা শুরু থেকেই আমার পছন্দ। একটি গ-ি কখনোই আমি পছন্দ করি না। শ্রোতাদের জন্যই সব সময় গান করি। আমি তাদের শিল্পী। তাই তাদের প্রত্যাশা পূরণের চেষ্টা সব সময় থাকে।’

শিক্ষা
অর্থ-বাণিজ্য
ধর্ম
সাহিত্য
লাইফস্টাইল
স্বাস্থ্য
Go Top