বগুড়া শনিবার | ১৫ ভাদ্র ১৪২১ | ৩ জিলকদ ১৪৩৫ হিজরি | ৩০ আগস্ট ২০১৪
ব্রেকিং নিউজ
আর্কাইভ
দিন :
মাস :
সাল :
এই সংখ্যার পাঠক
১৫৫৫২৮
সার্চ
বগুড়া ও সিরাজগঞ্জে বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে অর্ধশতাধিক গ্রাম প্লাবিত
বিভাগীয় কমিশনারের দুর্গত এলাকা পরিদর্শন, ত্রাণ বিতরণ : ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বিপদসীমার উপর
করতোয়া ডেস্ক:
প্রবল বর্ষনে ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে যমুনা নদীর পানির প্রবল তোড়ে বগুড়ার সারিয়াকান্দী ও সিরাজগঞ্জে বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধের প্রায় সাড়ে পাঁচশ' মিটার ভেঙে অর্ধশতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। এসব এলাকা থেকে মানুষজনকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার, ত্রাণ ও পূণর্বাসন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব, জেলা ও... বিস্তারিত
যমুনার স্রোত ও পানির অস্বাভাবিক বৃদ্ধিতে বগুড়ার সারিয়াকান্দির রৌহাদহ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে কয়েকটি গ্রামের মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়ে। ছবিটি গতকাল দুপুরে তোলা -করতোয়া
নির্বাচিত সংবাদ
পাকিস্তানের সংকট নিরসনে সেনাবাহিনী
অনেকের অনুমনাই সত্য হলো। পাকিস্তানের চলমান রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনে হস্তক্ষেপ করেছে \'শক্তিশালী\' সেনাবাহিনী। অবশ্য ক্ষমতাসীন এমএমএল-এন সরকারের অনুরোধের প্রেক্ষিতে সেনাবাহিনী এগিয়ে এসেছে বলে টাইমস অব ইন্ডিয়া এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে। গতকাল রাতভর ইমরান খান ও তাহির-উল-কাদরি সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল রাহিল শরিফের সঙ্গে রাওয়ালপিন্ডিতে বৈঠক করে। বৈঠকে সেনাবাহিনীর তৈরি একটি সমঝোতা চুক্তি মেনে নেওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে এই দুই নেতার পক্ষ থেকে। বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিসার আলী খানও উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের পদত্যাগের দাবিতে দুই সপ্তাহ ধরে পাকিস্তান পিটিআই নেতা ইমরান খান ও পিএটি নেতা তাহির-উলি-কাদরির নেতৃত্বে আন্দোলন সরকার বিরোধী আন্দোলন হচ্ছে। অন্যদিকে সরকারের প্রতিনিধিরা বিক্ষোভকারী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করারও কথা রয়েছে। তারাও মধ্যস্থতাকারী সেনাবাহিনীর চুক্তিতে স্বাক্ষর করবেন বলে ধারনা করা হচ্ছে। বৈঠক শেষে জেনারেল শরিফ বলেন, সঙ্কটে দূর করতে সেনাবাহিনীর নিরপেক্ষ আম্পায়ারের ভূমিকা পালন করছে।
সিরিয়া যুদ্ধে ৩০ লাখ শরণার্থীর দেশত্যাগ
সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে ৩০ লাখেরও বেশি মানুষ শরণার্থী হয়ে দেশ ছেড়েছেন। শুধু তাই-ই নয়, সেখানে চরমভাবে মানবিক বিপর্যয় ঘটেছে। সেখানে জরুরি মানবিক সহায়তা দরকার বলে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। ইউএনএইচসিআর জানায়, সিরিয়া যুদ্ধে সে দেশের প্রায় অর্ধেক জনসংখ্যাই দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। এর মধ্যে ১৪ লাখ নাগরিক পাশের দেশ লেবাননে আশ্রয় শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন। সংস্থাটি জানায়, তিন বছরের গৃহযুদ্ধে সিরিয়ায় এক লাখ ৯০ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। সিরিয়ায় প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের পদত্যাগের দাবিতে ২০১১ সাল থেকে লড়াই করে আসছে বিরোধীরা। তবে সামপ্রতিক মাসগুলোতে সিরিয়ার অবস্থা আরো নাজুক হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়। বিশেষ করে সিরিয়ার সোয়াতের বড় একটি অংশ ও ইরাকের কিছু অংশ দখলে রেখেছে দ্য ইসলামিক স্টেট অব ইরাক অ্যান্ড সিরিয়ার (আইএসআইএস) জঙ্গিরা। আইএসের কারণে সেখানে মানবিক বিপর্যয় চরমে পৌঁছেছে বলে জানায় ইউএনএইচসিআর। সংস্থাটি জানায়, প্রতি আটজনের একজন সিরিয়ান দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। এ ছাড়া দেশের ভেতরেই ৬৫ লাখ সিরিয়ান বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। এর অর্ধেকই শিশু। অনেক পরিবারই বছর ধরে এ গ্রাম থেকে আরেক গ্রাম, সেখান থেকে অন্য গ্রাম পালিয়ে বেড়াচ্ছে। সংস্থাটি বলছে, ইদানীং এটিও বিপদ শঙ্কুল হয়ে উঠেছে। কারণ, এক গ্রাম থেকে আরেক গ্রামে যাওয়ার সময় চাঁদাবাজির কবলে পড়েন। অনেকে আবার অস্ত্রধারীদের কাছে গণধর্ষণের শিকার হন। প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনবছরের গৃহযুদ্ধে ১১ লাখ ৫৫ হাজার পাঁচজন সিরিয়ান শরণার্থী হিসেবে লেবাননে আশ্রয় নিয়েছেন। তুরস্কে আশ্রয় নিয়েছেন, আট লাখ ৩২ হাজার পাঁচশ আটজন, জর্দানে আশ্রয় নিয়েছেন ছয় লাখ ১৩ হাজার দুইশ ৫২ জন, ইরাকে আশ্রয় নিয়েছেন দুই লাখ ১৫ হাজার তিনশ ৬৯ জন, মিশরে আশ্রয় নিয়েছেন একলাখ ৩৯ হাজার ৯০ জন, উত্তর আমেরিকায় ২৩ হাজার তিনশ ৬৭ জন এবং সিরিয়ার ভেতরে উদ্বাস্তু হয়েছেন ৬৫ লাখ মানুষ।
তাদের অন্যরকম আড্ডা
জনপ্রিয় মডেল তারকা সাদিয়া ইসলাম মৌ, দর্শকপ্রিয় অভিনেত্রী তারিন, দেশের প্রতিথযশা বিউটিশিয়ান নাহিন ও নাট্যপ্রযোজক তুহিন এক প্রাণবন্ত আড্ডায় মেতে উঠেছিলেন গত বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) রাতে। মূলত বিউটিশিয়ান নাহিনের জন্মদিনকে সেলিব্রেট করতেই তারা একত্রিত হয়েছিলেন রাজধানীর বনানীর ই বস্নকের ১৭/এ তে অবস্থিত আদি ঢাকা রেস্টুরেন্টে। নাহিনের জন্মদিন আসছে ৯ সেপ্টেম্বর। তবে সেই সময়ে তিনি দেশে থাকছেন না বিধায় তাকে সারপ্রাইজ দিতেই এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এর মূল পরিকল্পনাকারী নাহিনেরই ছোট বোন অভিনেত্রী তারিন ও নাহিনের স্বামী বাপ্পী। পরিবারের সদস্যসরা ছাড়াও এই অনুষ্ঠানে নাহিনের বন্ধু বান্ধবরাও উপস্থিত হয়ে নাহিনকে আশীর্বাদ করেন। মডেল কাম অভিনেত্রী সাদিয়া ইসলাম মৌ অনুষ্ঠানে নাহিন আসার বেশ কিছু সময় আগেই এসে অনুষ্ঠানকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেন। আড্ডায় মেতে উঠেন মৌ এবং তারিন। সেইসাথে নির্ধারিত সময়ে যখন অনুষ্ঠানে নাহিন প্রবেশ করেন তখন নাহিন বড় বোন তুহিন, ছোট বোন তারিন, মডেল মৌসহ আরও প্রিয় প্রিয় মুখ দেখে সত্যিই সারপ্রাইজড হয়ে পড়েন নাহিন। নাহিন বলেন ,\' আমার জন্মদিন আসছে ৯ সেপ্টেম্বর। কিন্তু এভাবে আমি সারপ্রাইজড হবো ভাবিনি। আমি সত্যিই এতো খুশি হয়েছিলাম যে ভাষায় বলে বুঝাতে পারবোনা। \' পুরো অনুষ্ঠানটির সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন তারিন ও নাহিনের স্বামী বাপ্পী। মৌ বলেন,\' আমি মনেকরি নাহিন কিংবা তারিন কিংবা তুহিন আপু আমার পরিবারেরই একজন। এই ধরনের পারিবারিক অনুষ্ঠানে সময় দিতে, আড্ডা দিতে সত্যিই ভীষণ ভালোলাগে। \' তারিন বলেন ,\' অনেকদিন পর নিজেদের মতো করে সময় কাটালাম। তবে আব্বু , আম্মুকে ভীষণ মিস করেছি। তারা থাকলে হয়তো অনুষ্ঠানটি আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠতো।\' এদিকে দুইবোন তুহিন ও নাহিনের যৌথ প্রযোজনা সংস্থা \'তানা\' থেকে সর্বশেষ \'উত্তম কুমার সুচিত্রা সেন\' নাটকটি নির্মিত হয়। এটি নির্মাণ করেছিলেন চয়নিকা চৌধুরী। অভিনয় করেছিলেন অপূর্ব ও অপি করিম। মৌ এবং তারিন আসছে ঈদ উপলক্ষ্যে খন্ড নাটকে কাজ করা নিয়েই ব্যস্ত রয়েছেন।
শিবগঞ্জে তিন হাজার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ
সরকার যায়, সরকার আসে চেয়ারম্যান মেম্বারাও আসেন আর যান। কিন্তু বগুড়ার শিবগঞ্জে উপজেলা রায়নগর ইউনিয়নের টেপাগাড়ী গ্রামের মানুষের দাবি পূরণ হয় না। ভোটের আগে সবাই তাদের দাবি পূরণ করার কথা বললেও স্বাধীনতার পর থেকে কেউ তাদের কথা রাখেনি। অবশেষে রায়নগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফিরোজ আহম্মেদ রিজু গ্রামবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবায়ন করলেন। তিনি গ্রামবাসীর সহযোগিতায় ৪শ\' হাত লম্বা একটি বাঁশের সাঁকো তৈরি করে দিলেন টেপাগাড়ী অাঁচলাই নদীর উপর। টেপাগাড়ীসহ আশপাশের লোকজনের দীর্ঘদিনের দাবি পুরণ হলো। এর ফলে তাদের আর ১০/১২ কিঃ মিঃ ঘুরে উপজেলা সদরে আসতে হবে না। এই সাঁকো নির্মাণে গ্রামের অনেক মানুষ কেউ বাঁশ দিয়ে, কেউ শ্রম দিয়ে চেয়ারম্যানকে সহযোগিতা করেন। গতবৃহস্পতিবার এই সাঁকোর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ইউপি চেয়ারম্যান রিজু। এসময় তিনি বলেন, আমরা বই পুস্তকে পড়েছিলাম দশের লাঠি একের বোঝা, আজ সেই কথা বাস্তবে প্রমাণিত হলো। তিনি বলেন, গ্রামের সকল মানুষ সহযোগিতা করার কারণেই এই সাঁকো তৈরি করা সম্ভব হয়েছে। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ইউপি সদস্য হাম্মাদ আলী, আবু বক্কর সিদ্দিক, আলম মাস্টার, জাহেদুল ইসলাম প্রমুখ।
বিভিন্ন স্থানে ত্রাণ বিতরণ
গাইবান্ধার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আবু বকর সিদ্দিকের উপস্থিতিতে গত বৃহস্পতিবার পুলিশি নিরাপত্তায় মনোহপুর ইউনিয়নের একসাথে দুই মাসের ভিজিডির খাদ্যশস্য সংশ্লিষ্ট ইউপি ভবনে সুষ্ঠুভাবে বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে। জানা যায়, অত্র ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাজেদার রহমান দুলুর সাথে কতিপয় ইউপি সদস্যের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে অভ্যন্তরীণ কোন্দল চলে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় ইউনিয়নের জুলাই মাসের বরাদ্দপ্রাপ্ত ১৯৯ এবং আগস্ট মাসের একই পরিমাণ কার্ডের বিপরীতে খাদ্যশস্য উত্তোলন করা হলেও সৃষ্ট জটিলতায় তা বিতরণের অপেক্ষায় থাকে। বিরাজমান পরিস্থিতিতে গাইবান্ধার জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে কার্ডধারীদের একত্রে দুই মাসের খাদ্যশস্য বিতরণ করা হয়। এ সময় ইউপি চেয়ারম্যান, সংরক্ষিত আসনের মহিলা সদস্য ও ইউপি সচিব উপস্থিত ছিলেন। শাহজাদপুরে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি : শাহজাদপুর সহকারী কমিশনার (ভূমি), ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার সন্দ্বীপ কুমার সরকার গত বৃহস্পতিবার শাহজাদপুরের দুর্গম চর এলাকা ও বন্যায় বাড়িঘর ডুবে যাওয়া কৈজুরী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন। তারা নৌকায় করে ক্ষতিগ্রস্থ বন্যার্তদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেটসহ বিভিন্ন ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন। তিনি জানান, প্রতিটি ইউনিয়নে পর্যায়ক্রমে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হবে। হাতীবান্ধায় বন্যাদুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ হাতীবান্ধা (লালমনিরহাট) প্রতিনিধি : লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় তিস্তা নদীর তীরবর্তি ৬টি ইউনিয়নের বন্যায় পানিবন্দী পরিবারগুলোর মাঝে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। জানা গেছে, প্রায় ১০ দিন ধরে পাহাড়ি ঢল নেমে আসায় উপজেলার ডাউয়াবাড়ী, পাটিকাপাড়া, সিন্দুর্না, সিংগিমারী, গড্ডিমারী ও সানিয়াজান ইউনিয়নে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হলে প্রায় ৭ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়ে। এতে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলোর দুর্ভোগ চরমে ওঠে। তাদের মধ্যে বিশুদ্ধ পানি ও শুকনো খাবারের তীব্র সংকট দেখা দেয়। বন্যাদুর্গত এলাকা ঘুরে উপজেলা চেয়ারম্যান লিয়াকত হোসেন বাচ্চু, ইউএনও মাহবুবুর রহমান, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা উত্তম কুমার নন্দী, আ.লীগ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান সোহাগ সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানদের সাথে নিয়ে ২৫ মে.টন চাল ত্রাণ বিতরণ করেন। তবে ক্ষতিগ্রস্থরা জানিয়েছেন, চাহিদার তুলনায় ত্রাণ অপ্রতুল হওয়ায় দুর্গতরা হাতের কাছে পাওয়া নানা অখাদ্য কুখাদ্য খাচ্ছে। এতে ডায়েরিয়াসহ বিভিন্ন ধরনের পানিবাহিত রোগের আশংকা দেখা দিয়েছে। সারিয়াকান্দিতে ত্রাণ বিতরণ করলেন এমপি ওমর সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধি : বগুড়ার সারিয়াকান্দির রৌহাদহে বন্যার্ত ও নদীভাঙন কবলিতদের মাঝে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেছেন সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম ওমর। উপজেলা জাতীয় পার্টির উদ্যোগে ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জাপা সভাপতি মোকছেদুল আলম, সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম খাজা, জাপা নেতা সাহাদত জামান আঙ্গুর, শফিকুল ইসলাম, তহসিন আলী, মোফাজ্জল হোসেন, সাহাদত জামান প্রমুখ। ডিমলায় বন্যা দুর্গতদের মাঝে চাল ও শুকনো খাবার বিতরণ ডোমার (নীলফামারী) প্রতিনিধি : নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় বন্যা কবলিত ৬টি ইউনিয়নে ৪০ দশমিক ৮৫ মেট্রিক টন চাল ও ৪০ হাজার টাকা মূল্যের শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। গতবৃহস্পতিবার বিকালে উপজেলার বন্যাকবলিত ৬টি ইউনিয়নে পর্যায়ক্রমে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের উদ্দ্যেগে নীলফামারী-১ (ডোমার-ডিমলা) আসনের সংসদ সদস্য আফতাব উদ্দিন সরকার উপস্থিত থেকে ত্রাণ বিতরণ করেন। এসময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রেজাউল করিম, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. মশিয়ার রহমান প্রমুখ। গয়াবাড়ি, খালিশা চাপানী, খগাখড়িবাড়ি, টেপাখড়িবাড়ি, পূর্বছাতনাই ও ঝুনাগাছচাপানীনের প্রত্যেক জনকে ২০ কেজি করে মোট ২ হাজার ৪২ জনকে ৪০ দশমিক ৮৫ মেট্রিক টন চাল ও সহস্রাধিক মানুষের মাঝে ৪০ হাজার টাকার শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়। সারিয়াকান্দিতে বিশ্বখাদ্য সংস্থার উদ্যোগে বন্যার্তদের মধ্যে শুকনো খাবার বিতরণ সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধি : বিশ্ব খাদ্য সংস্থার উদ্যোগে গত বৃহষ্পতিবার দুপুরে চন্দনবাইশা আয়েশা ওসমান বালিকা বিদ্যালয়ে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১ হাজার পরিবারের মধ্যে ৩.৭৫০ মেট্রিক টন শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। এসময় উপস্থিত ছিলেন ওই সংস্থার প্রতিনিধি শাহীন সুলতানা, মামুনুর রশীদ, জর্স সুমন মন্ডল। গ্রাম উন্নয়ন কর্ম গাকের প্রতিনিধি, মোবারক হোসেন তালুকদার, মোঃ মোখলেছুর রহমান, আরমান হোসেন, আনিছার রহমান, রাশেদ বিলাহ জুয়েল, হসকিন মোঃ আবু হাসান, সাইদুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম, বায়েজিদ ইসলাম, নজরুল ইসলাম, হামিদুর রহমান , লিটন বাদশা প্রমুখ। কুড়িগ্রামে জাতীয় পার্টির ত্রাণ বিতরণ কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি : কুড়িগ্রাম ২ আসনের সংসদ সদস্য ও বিরোধী দলীয় চিপ হুইপ আলহাজ তাজুল ইসলাম চৌধুরীর পক্ষ থেকে ৪শ\' পবিবারের মাঝে শুকনো খাবারের প্যাকেট বিতরণ করেন। কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুর ও পাঁচগাছী ইউনিয়নের বন্যাকবলিত এলাকার অসহায় গরিবের মাঝে ত্রাণ দেন সংসদ সদস্যের মুখ পাত্র ও কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মো. নূরন্নবী সরকার। এসময় জেলা জাতিয় পার্টি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।
বগুড়ার জলেশ্বরীতলায় অদ্বিতীয়া বিউটি পার্লারের উদ্বোধন
গতকাল শুক্রবার বগুড়া শহরের জলেশ্বরীতলায় শহীদ খোকন সড়কের তহুরুননেছা মহিলা ক্লাব মার্কেটে, সর্বাধুনিক প্রযুক্তি সম্বলিত অদ্বিতীয়া বিউটি পার্লারের উদ্বোধন হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা পুলিশ সুপারের পত্নী সুলতানা হক কণা। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি এড.মকবুল হোসেন মুকুল। আরও উপস্থিত ছিলেন কেএটি ফার্নিচারের স্বত্ত্বাধিকারি আলী এখতিয়ার তাজু, নাইকন গ্রুপের চেয়ারম্যান মোঃ এ্যাডোনিস বাবু, রাহুল গ্রুপের চেয়ারম্যান রঞ্জিত কুমার, তানজির হোসেন খান রনি। আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে ছিলেন করতোয়া মালিল্টিমিডিয়া স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ রেহেনা আরিফ, উপাধ্যক্ষ আঞ্জুমান আরা বেগম, জেলা মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক দিলরুবা আমিন আক্তার বানু সুইট, হাসনা খাতুন, অদ্বিতীয়া বিউটি পার্লারের স্বত্ত্বাধিকারি অদিতি সিনহা আগমনি। খবর বিজ্ঞপ্তির।
শিবগঞ্জ কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতি লিঃ এর আহ্বায়ক কমিটি গঠন
বগুড়ার শিবগঞ্জ কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতি লিঃ (ইউসিসিএ) এর ব্যবস্থাপনা কমিটি ভেঙে দেয়া হয়েছে। সমিতির ৫জন সদস্য পদত্যাগ করায় ব্যবস্থাপনা কমিটির কোরাম শূন্যতার কারণে জেলা সমবায় অফিসারের স্মারক নং ২৯৮৬ এর সুপারিশের প্রেক্ষিতে ব্যবস্থাপনা, নির্বাহী ও নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষে সমবায় সমিতির আইন ২০০১ (সংশোধিত ২০০২-১৩) এর ১৮(৫) ধারা মতে তিন সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি নিয়োগ করা হয়েছে বলে বিভাগীয় সমবায় কার্যালয়ের যুগ্ম নিবন্ধক আহসান কবীর স্বাক্ষরিত পত্রে জানানো হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে আহ্বায়ক করে ও গড়মহাস্থান সুলতানিয়া কৃষক সমিতির মোশারফ হোসেন ও ছলেমান ধোন্দাকোলা কৃষক সমিতির জয়নাল আবেদীনকে সদস্য করে তিন সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটি আগামী তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন করে নির্বাচিত ব্যক্তিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন।
চরকা ঘুরিয়ে ইলীন জিপিএ-৫ পেয়েছে
শাহজাদপুর উপজেলার কৈজুরী নতুনপাড়া এলাকার পিতৃহারা ইলীন দরিদ্রকে জয় করে চরকায় সুতা কেটে এবার এইচএসসি পরীক্ষাতে জিপিএ-৫ পেয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। কৈজুরী উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজ থেকে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে সে। যমুনায় বাড়িঘর বিলীন হওয়া ইলীন মা মিনা খাতুনের সাথে চরকা ঘুরিয়ে সংসার চালাত। দরিদ্রসীমার নিচে বসবাসকারী ইলীনের মা মিনা খাতুন জানান, উপজেলার বাঁকধুনাইল গ্রামে রফিকুল ইসলামের সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পরপর কন্যা সন্তান জন্ম গ্রহণ করায় তাকে তালাক দিয়ে অন্যত্র আরেকটি বিয়ে করে। অভাবের সাথে পাল্লা দিয়ে নানা প্রতিকূল অবস্থায় তার মেয়েকে খেয়ে না খেয়ে বড় করেন। তার অসাধারণ মেধাবী দেখে কলেজের অধ্যক্ষ হাজী আব্দুল খালেক তার পড়াশোনার যাবতীয় খরচ বহন করেন এবং সার্বক্ষণিক তার খোঁজ খবর রাখতেন। মেয়েটির ইচ্ছে তাকে দেশের কোন ব্যক্তি তার পড়াশোনার ব্যয়ভার বহন করলে সে বিচারক হবার ইচ্ছে পোষণ করে। মেধাবী ইলীনের ভবিষ্যৎ নিয়ে দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন।
ফুটবল নিয়ে দর্শকদের অবাক ভালোবাসা
বাংলাদেশ- নেপাল ম্যাচকে ঘিরে গতকাল সিলেট জেলা স্টেডিয়াম জনসমুদ্রে পরিণত হয়! যেদিকে চোখ গেছে, শুধু মানুষ আর মানুষ। স্টেডিয়ামের গ্যালারি তো বটেই, স্টেডিয়ামসংলগ্ন ভবনের ছাদ, পানির ট্যাংকি, গাছ-সব জায়গায় লোকে লোকারণ্য। স্টেডিয়ামের ফটক ভেঙে দর্শক ঢুকে পড়ে মাঠে। ডাগ আউট, টাচ লাইন-সবকিছুই চলে গিয়েছিল দর্শকদের \'দখলে\'। এ অবস্থায় সংশয় দেখা দিয়েছিল বাংলাদেশ-নেপাল অনূর্ধ্ব ২৩ দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজন নিয়ে। যদিও প্রায় সোয়া এক ঘন্টা পর শুরু হয় ম্যাচ। ম্যাচ আয়োজনের পরিস্থিতি সৃষ্টিতে নিরাপত্তাকর্মীদের রীতিমত গলদঘর্ম অবস্থা। অনেক চেষ্টার পর অতিরিক্ত দর্শকদের মাঠ থেকে সরিয়ে নিতে সক্ষম হন নিরাপত্তাকর্মীরা। তবে বেশ কিছু দর্শকরা তখনো মাঠ ঘেঁষা জায়াগায় দাঁড়িয়েছিল। ফলে খেলোয়াড়দের থ্রো-ইন করাও কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়। মাঠের এ অবস্থা এক দিক দিয়ে দেশের ফুটবলের জন্য সুখবর বটে। বিপুল সংখ্যক দর্শক দেখে বাফুফের কর্মকর্তাদের মুখে হাসি ফুটে উঠতেই পারে। তবে একটি আন্তর্জাতিক ম্যাচে এ ধরনের চরম অব্যবস্থাপনার দায় কিছুতেই এড়াতে পারে না বাফুফে। খেলোয়াড়-ম্যাচ অফিসিয়ালদের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েই গেল। আগেরদিনই হাজার বিশেক টিকিট বিক্রি হয়েছিল। গ্যালারির ধারণক্ষমতা অনুযায়ী, ২০ হাজার লোকের স্থান সংকুলান হওয়াই কঠিন ছিল। আশঙ্কা করা হয়েছিল, এর চেয়ে বেশি লোক চলে এলে সৃষ্টি হবে ভয়াবহ পরিস্থিতি। বাস্তবে হয়েছেও তা-ই। দর্শকে স্টেডিয়ামই \'ভেঙে পড়ার\' দশা। মাঠের বাইরেও অপেক্ষা করে সমান সংখ্যক দর্শক। ফুটবল নিয়ে বাংলাদেশের কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচে শেষ কবে গ্যালারি ভেঙে মানুষ ঢুকে পড়ার ঘটনা ঘটেছে সেটা প্রায় ভুলে যাওয়া এক অতীত। সিলেটে প্রথম আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ফুটবল ম্যাচ বলেই হয়তো এত আগ্রহ। ক্রিকেটের জনপ্রিয়তায় দ্বিতীয় সারিতে চলে যাওয়া, দর্শক-খরায় ভুগতে থাকা ফুটবলের জন্য মানুষের এই ভালোবাসা অবাক করে দেয়ার মতোই। তবে এটাও প্রমাণ হয়েছে, ফুটবল খেলাটাকে শুধু ঢাকার গ িতে আটকে না রাখলেই ভালো করবে বাফুফে। সারা দেশে ফুটবলের প্রতি মানুষের ভালোবাসা এখনো অটুট। নিয়মিত বিরতিতে বাফুফে বাংলাদেশ দলের জন্য প্রীতি ম্যাচের আয়োজন করতে পারে। সেসব খেলা ছড়িয়ে দিতে পারে দেশের বিভিন্ন জেলায়। একটি জয় যে বাংলাদেশের স্মিত ফুটবলকে আবারও নতুন করে জাগিয়ে তুলতে পারে তাই যেন শুক্রবার প্রমাণিত হয়েছে সিলেটের মাটিতে। বলে রাখা ভালো, অতিথি নেপাল ফুটবলকে দলকে ৩ দিন আগে ঢাকার আর্মি স্টেডিয়ামে ১-০ গোলে হারিয়েছে এশিয়ান গেমসগামী বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ ফুটবল দল। এই জয়ের কারণেই মূলত শুক্রবারের নেপাল-বাংলাদেশ ম্যাচ নিয়ে আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে বাংলাদেশী ক্রীড়াপ্রেমী মানুষের মনে। এশিয়ান গেমস সামনে রেখেই নেপালের বিপক্ষে ২টি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ খেলছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ ফুটবল দল। ২৬ আগস্ট আর্মি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রথম প্রীতি ম্যাচটি।
রাজধানীর কাঁচাবাজারে বেগুন-মরিচ ছাড়া অন্যান্য পণ্যের দাম স্থিতিশীল
রাজধানীর বাজারে গতকাল শুক্রবার ছুটির দিনে অন্যান্য কর্ম দিবসের তুলনায় ক্রেতাদের সমাগম ছিল বেশি। যদিও মাসের প্রথম ছুটির দিনের তুলনায় ক্রেতা ছিল কম। গতকাল ছিল মাসের শেষ ছুটির দিন। সারা সপ্তাহ অফিস-ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত থাকার কারণে ছুটির দিনেই বাজার করার সময় পান নগরবাসী। গতকাল বাজার ঘুরে দেখা গেছে বেগুন-মরিচ ছাড়া প্রায় সব পণ্যের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। রামপুরার বাসিন্দা রেজা আলী বলেন, \'যে দিনই সময় পাই বাজার করতে যাই। আজ (শুক্রবার) পোল্ট্রি মুরগি ১৩০ টাকা কেজি, কালি বাউস মাছ ৩০০ টাকা কেজি, আলু ২৫ টাকা কেজি, মুগডাল ১৪০ টাকা ও মুসরির ডাল ১১০ টাকা কেজি, ফুলকপি ২০ টাকা ও পাতাকপি ২৫ টাকা পিচ এবং সয়াবিন তেল ১১৭ টাকা লিটার কিনেছি।\' সূত্রাপুর বাজারের বিক্রেতা মেহবুব বলেন, \'বাজারে এখন শসা ৩৫ টাকা, টমেটো লাল-সবুজ ৫০ থেকে ৮০ টাকা, ধনেপাতা ও পুদিনাপাতা ১৮০ টাকা, বুটের ডাল ৬৫ টাকা, ডাবলি ৪৬ টাকা, মটর ডাল ৮০ টাকা, আলু ২৫-৩০ টাকা, পেঁয়াজ ৪০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৭০ টাকা, চিনি দেশী-বিদেশী ৪৫ থেকে ৪৮ টাকা, মসুরির ডাল ১০০ টাকা ও মুগ ডাল ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।\' শ্যামবাজার হলো রাজধানীর সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার। শ্যামবাজারের বিক্রেতা মো. ইমরান বলেন, \'এ বাজারে আলুর পাল্লা (৫ কেজি) ১২০ টাকা, পেঁয়াজের পাল্লা ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা, কাঁচা মরিচ পাল্লা ২৫০ টাকা, টমেটো পাল্লা ২০০ থেকে ২১০ টাকা, শশা পাল্লা ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা, বেগুন পাল্লা ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। ৫ কেজির নিচে শ্যামবাজারে বিক্রি হয় না। তবে কিছু কিছু সবজি অনেকে কেজি হিসেবে বিক্রি করে।\' ধুপখোলা বাজার থেকে কেনাকাটা শেষে বাড়ি ফেরার পথে নীপা বলেন, \'আমার স্বামী ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় বাসার বাজার আমাকেই করতে হয়। এ বাজার থেকে মিনিকেট চাল ৫৩ টাকা কেজি, হাঁসের ডিম ৪০ টাকা হালি ও মুরগির ডিম ৩২ টাকা হালি, আদা ১৫০ টাকা কেজি, রসুন ৭০ টাকা কেজি, লবণ ২০ টাকা কেজি, সয়াবিন তেল ১০০ টাকা ও সরিষার তেল ১২০ টাকা লিটার, লেবু ২০-৪০ টাকা ডজন কিনলাম।\' এ ছাড়াও, পুরান ঢাকার সূত্রাপুর, ধুপখোলা, শ্যামবাজার, নাজিরাবাজারসহ মতিঝিল, রামপুরা বাজার ঘুরে দেখা যায়, গরুর মাংস ২৮০ টাকা কেজি, ফার্মের মুরগি ১৪০ থেকে ১৫৫ টাকা কেজি, ফার্মের মুরগির শুধু মাংস ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি, খাসির মাংস ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আবার মিনিকেট চাল ৪৯-৫৪, নাজিরশাইল ৫২-৫৬, চিনিগুড়া চাল ৮৫, বাসমতি চাল ৬৫, কাটারি ভোগ চাল ৯০, পোলাও চাল ৮৬, মুসুর ডাল ১০০-১১০, মুগ ডাল ১২০-১৪০, খেশারি ৪৫-৬০, ছোলা ৫০-৬০, চিনি ৪৫-৫০, রসুন দেশী ও বিদেশী ৭০-১০০, আদা ১৫০-১৮০, হলুদ ১৫০-১৬৫, তেল সয়াবিন ও সরিষার ৯০-১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এই সরকারের হাতে গণতন্ত্র আইনের শাসন সার্বভৌমত্ব নিরাপদ নয় ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার বলেছেন, অাঁতাত করে ক্ষমতায় এসে গণতন্ত্রকে হত্যা করে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা করার পাঁয়তারা শুরু করেছে। জজ ও সাংবাদিকদের মুখ বন্ধ করতে আইন তৈরি করা হচ্ছে। এই সরকারের হাতে গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও সার্বভৌমত্ব নিরাপদ নয়। নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কারণে বাংলাদেশ ধ্বংস হতে চলেছে। আর এ কারণেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে ভয় পাচ্ছে অবৈধ সরকার। এ সরকারকে আর ক্ষমতায় রাখা যাবে না। গতকাল শুক্রবার বিকালে স্থানীয় লোকভবন মিলনায়তনে ২০ দলীয় ঐক্যজোট দিনাজপুর জেলা শাখা আয়োজিত সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি উপরোক্ত কথা বলেন। অবিলম্বে অবৈধ সরকারের পদত্যাগ এবং নির্দলীয়-নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিয়ে গণতন্ত্র, জনগণের ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবিতে দিনাজপুরে ২০ দলীয় ঐক্যজোট এই সমন্বয় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক সেনাপ্রধান লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান, ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতা ও জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, জামায়াতের ইসলামী রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের টিম সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা মমতাজ উদ্দীন, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও সাবেক এমপি আখতারুজ্জামান মিয়া, জেলা জামায়াতের আমীর আনোয়ারুল ইসলাম, সেক্রেটারি এড. মাহবুবুর রহমান ভুট্টো, চিরিরবন্দর উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা জাতায়াতের সাবেক আমীর আফতাব উদ্দীন মোল্লা, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এড. আনিসুর রহমান চৌধুরী, সদর উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওঃ আব্দুল মাতিন, জেলা ন্যাপের সভাপতি মঞ্জুরুল আলম, খেলাফত মজলিসের সভাপতি মাওঃ খাদেমুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হাসানুজ্জামান উজ্জল, বিরল উপজেলা চেয়ারম্যান আ ন ম বজলুর রশিদ, ফুলবাড়ী উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ খুরশিদ আলম মতি, কোতোয়ালি বিএনপির সভাপতি আলহাজ মোঃ আবু বক্কর সিদ্দিক, দিনাজপুর জেলা ছাত্রদলের আহবায়ক মোস্তফা কামাল মিলন, জেলা যুবদলের আহবায়ক জাহাঙ্গীর আলম, পৌর তাঁতীদলের আহবায়ক মুন্তাসির চৌধুরী লাবু, পৌর মহিলা দলের আহবায়ক শাহিন সুলতানা বিউটি। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক সেনাপ্রধান লে: জে (অব.) মাহবুবুর রহমান বলেন, মরহুম জিয়ার অভাবে গণতন্ত্র আজ পদদলিত। জনগণের সাথে সম্পৃক্ত নয় এমন লোকদের নিয়ে ভুয়া সংসদ তৈরি করে সরকার গঠন করা হয়েছে। এ সরকার এখন চোরাবালির উপর দাঁড়িয়ে আছে। জনগণকে সাথে নিয়ে এই সরকারের পতন ত্বরান্বিত করতে হবে। জাগপা সভাপতি শফিউল আলম বলেন, কাদের মোল্লার ফাঁসি ও সাঈদীদের জেলে পুরে আন্দোলন ঠেকানো যাবে না। শেখ হাসিনার দুনিয়া ছোট হয়ে আসছে। জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্ম পরিষদের সদস্য অধ্যক্ষ মমতাজ আলী ঈমানি লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত হওয়ার আহবান জানান ইসলামী মূল্যবোধ ও জাতীয়তাবাদী শক্তিকে। সমন্বয় সভায় ২০ দলীয় জোটের সর্বস্তরের নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন। সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার গত বৃহস্পতিবার রাতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা শাখা আয়োজিত এক কর্মী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। শহরের পার্বতীপুর রোডস্থ সৈয়দপুর কমিউনিটি সেন্টারে ওই সমাবেশের আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপি আহবায়ক আলহাজ অধ্যক্ষ মো. আব্দুল গফুর সরকার। এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ, মো. আখতারুজ্জামান মিঞা ও এ জেড এম রেজওয়ানুল হক। কর্মিসভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, সৈয়দপুর পৌরসভার প্যানেল মেয়র বিএনপির নেতা জিয়াউল হক জিয়া, বিএনপি নেতা কাজী একরামুল হক, বজলার রহমান, এ কে এম এহছানুল হক, ডা. জহিরুল হক, রফিকুল ইসলাম, গজনফর আলী মিন্টু, লোকমান হাকিম, মীর আনোয়ার আলী মবুল, মাসুদ রানা, ছাত্রদল নেতা রিজওয়ান আক্তার পাপ্পু ,শ্রমিক নেতা সহিদুল ইসলাম প্রমুখ।
শেখ হাসিনার হাত ধরে দেশ সামনে এগিয়ে যাচ্ছে যোগাযোগমন্ত্রী
বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে উন্নয়নে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ। মানুষ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি সুলভ মূল্যে ক্রয়, বিদ্যুতের আলোসহ শান্তিতে ঘুমাতে পারছে। আইন-শৃঙ্খলা উন্নতি হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আগস্ট মাস রক্ত ঝরার মাস। ১৫ আগস্ট শোকের দিন। কিন্তু খালেদা জিয়া আন্দোলন করেন, জম্মদিন পালন করেন। তিনি বিএনপিকে প্রতিহিংসার রাজনীতি বন্ধ করার আহব্বান জানান। গতকাল শুক্রবার ১২টায় সিংড়া কোর্ট মাঠে জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৩৯তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগ আয়োজিত শোকসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি উপরোক্ত কথাগুলো বলেন। শোকসভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাজেদুর রহমান খান, সাবেক ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আহাদ আলী সরকার, নাটোর-২ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম শিমুল, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বিশ্বনাথ দাস কাশিনাথ, জেলা যুবলীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম রমজান, উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম আরিফ, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি শফিকুল ইসলাম শফিক, সাধারণ সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস প্রমুখ। শোকসভায় বিএনপি ও জাতীয় পার্টি থেকে প্রায় ৫ শতাধিক নেতাকর্মী আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। এর আগে যোগাযোগমন্ত্রী সিংড়া উপজেলা সম্প্রসারিত প্রশাসনিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের ফলক উন্মোচন করেন।
বগুড়া ও সিরাজগঞ্জে বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে অর্ধশতাধিক গ্রাম প্লাবিত
প্রবল বর্ষনে ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে যমুনা নদীর পানির প্রবল তোড়ে বগুড়ার সারিয়াকান্দী ও সিরাজগঞ্জে বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধের প্রায় সাড়ে পাঁচশ\' মিটার ভেঙে অর্ধশতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। এসব এলাকা থেকে মানুষজনকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার, ত্রাণ ও পূণর্বাসন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব, জেলা ও পুলিশ প্রশানের কর্মকর্তা ও সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাবৃন্দ বাঁধের ভাঙনস্থল এবং বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেন। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে তাৎক্ষণিক খাবার বিতরণ করা হয়। গতকাল শুক্রবার দুপুরে সারিয়াকান্দিতে যমুনার পানি ৯৯ সেন্টিমিটার, সিরাজগঞ্জে ৪৩, গাইবান্ধার ফুলছড়ি পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বিপদসীমার ২৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া গত ২৪ ঘন্টায় কুড়িগ্রামের চিলমারী পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ৪৯ সেন্টিমিটার, ধরলার পানি সেতু পয়েন্টে বিপদসীমার ৪৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এসব এলাকার প্রায় ৩ লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো এসংক্রান্ত খবর- সারিয়াকান্দি (বগুড়া) : বগুড়ার সারিয়াকান্দির চন্দনবাইশায় বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ভেঙে গেছে। বাঁধ ভেঙে যমুনার পানি প্রবল বেগে জনপদে প্রবেশ করায় ২৫টি গ্রামের অর্ধলক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। রাতে বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় অনেকেই তাদের জিনিসপত্র সরিয়ে নিতে পারেনি। বিধ্বস্ত হয়েছে বহু ঘরবাড়ি। বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে দেখা দেয় প্রবল নদীভাঙন। মধ্য আগস্টের মাঝামাঝি হতে ৪ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ হুমকির মুখে পড়ে। চন্দনবাইশা এবং রৌহাদহ পয়েন্টের কয়েকটি স্থানে মূল বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ যমুনায় ভেঙে যাওয়ায় পিছন দিয়ে পাউবো রিং বাঁধ নির্মাণ করে। যমুনার ভাঙন ও ব্যাপক হারে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় গত বৃহস্পতিবার রাত দেড়টার দিকে রিং বাঁধ ভেঙে প্রবল বেগে যমুনার পানি মানাস নদী দিয়ে প্রবেশ করতে থাকে। এর মধ্যেই অর্ধকিলোমিটার বাঁধ ভেঙে গেছে। বাঁধ ভাঙা পানিতে নতুন করে ২৫টি গ্রামে পানি প্রবেশ করে ঘরবাড়ি ডুবে যাওয়ায় নতুন করে অর্ধলক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। বিস্তীর্ণ এলাকার ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। বগুড়া-চন্দনবাইশা সড়কের উপর যে সকল নদী ভাঙা লোকজন আশ্রয় নিয়েছিল তারা নতুন করে বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে। কুতুবপুর-চন্দনবাইশা, রৌহাদহ-কড়িতলা সড়কের উপর দিয়ে পানি প্রবল বেগে প্রবাহিত হওয়ায় সড়ক ভেঙে গেছে। এ সকল সড়কের ব্রিজ, কালভার্ট হুমকির মুখে পড়েছে। চন্দনবাইশা, ঘুঘুমারি, কড়িতলা, কাঁশাহার, রৌহদহ, কামালপুর গ্রামের উপর দিয়ে প্রবল স্রোতের কারণে লোকজন বেশি বিপাকে পড়েছে। মসজিদ, মাদ্রাসা, স্কুল, কলেজ পানিতে তলিয়ে গেছে। গভীর রাতে হঠাৎ করে বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় লোকজন তাদের নিত্যপ্রয়াজনীয় জিনিসপত্র পর্যন্ত সরিয়ে নিতে পারেনি। ধলিরকান্দি হতে চন্দনবাইশা পর্যন্ত বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধের উপর লোকজন গৃহপালিত পশুসহ গাদাগাদি করে অবস্থান করছে। বাঁধ ভাঙা পানিতে গাবতলী ও ধুনট উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা তলিয়ে যাবে। বর্তমান অবস্থা খুবই ভয়াবহ। বিশুদ্ধ পানি, খাদ্য সংকট ও পয়ঃনিষ্কাশনের সমস্যা দেখা দিয়েছে। যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে গতকাল শুক্রবার দুপুরে ৯৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। বাঁধ ভেঙে যাওয়ার খবর পেয়ে রাতেই এমপি আব্দুল মান্নান লোকজনকে উদ্ধারে ভাঙন এলাকায় আসেন। তিনি সারারাত সেখানে উপস্থিত থেকে উদ্ধার কাজ তদারক করেন। রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার মোঃ হেলালুদ্দিন আহমেদ, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব গৌতম কুমার ভট্টাচার্য, জেলা প্রশাসক শফিকুর রেজা বিশ্বাস, বগুড়ার পুলিশ সুপার মোজাম্মেল হক পিপিএম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) খোরশেদ আলম ও সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাবৃন্দ বাঁধের ভাঙনস্থল এবং বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেন। এমপি আব্দুল মান্নান বন্যাদুর্গতদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন। ধুনট (বগুড়া) : যমুনা নদীর বাঁধ ভেঙে মুহূর্তের মধ্যে বগুড়ার ধুনটে আরও ১১টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে সারিয়াকান্দি যমুনা নদীর রৌহাদহ বাঁধ ভেঙে পানি ভাটির দিকে সমগ্র ধুনট এলাকায় প্রবেশ করছে। ফলে নতুন করে বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে চিকাশি ইউনিয়নের বড়িয়া, খাটিয়ামারি, গুলারতাইড়, ভালুকাতলা, জোড়শিমুল, শনপচা, মোহনপুর, চরচিকাশি, সোনারগাঁ, ছোট চিকাশি ও গজারিয়া গ্রাম। এর আগে এক সপ্তাহ যাবৎ ভান্ডরবাড়ি ইউনিয়নের ১২টি গ্রামের প্রায় তিন হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়ে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাফিজুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, সারিয়াকান্দির বাঁধ ভাঙা পানির প্রবল স্রোত ধুনটের দিকে ধেয়ে আসছে। মুহূর্তের মধ্যে তলিয়ে যাচ্ছে গ্রামের পর গ্রাম। পানিবন্দী হয়ে পড়ছে হাজার হাজার মানুষ। বন্যার পানিতে তলিয়ে আবাদি জমি, পুকুরের মাছ, বাড়িঘরসহ নানা ধরনের সম্পদের ক্ষতি হচ্ছে। চিকাশি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন জুয়েল জানান, বন্যায় পাকা সড়ক তলিয়ে ধুনট ও সারিয়াকান্দির উপজেলার মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থার ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটেছে। একই সাথে পানির প্রবল স্রোতে ঝুঁকিপূর্ণ হয়েছে ১০ কিলোমিটার পাকা সড়ক। গতকাল শুক্রবার সকালে পাকা সড়কের ওপর দিয়ে প্রবল বেগে পানি গড়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়। ধুনটের বড়িয়া হয়ে সারিয়াকান্দির কড়িতলা পর্যন্ত পাকা সড়ক বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। সড়কের উপর দিয়ে পানির প্রবল স্রোত বইছে। এদিতে বগুড়ার ধুনটে ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়নে বন্যাদুর্গত এলাকার মানুষের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণের উদ্বোধন করেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার হেলাল উদ্দিন আহম্মেদ। গতকাল শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে তিনি ধুনটের ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়নে পানিবন্দি মানুষের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন। গত সাত দিন যাবৎ এই ইউনিয়নের তিন হাজার পরিবার পানিবন্দী অবস্থায় জীবনযাপন করছে। বিভাগীয় কমিশনারের বন্যাকবলিত এলাকায় ত্রাণ সামগ্রী বিতরণের বিষয়টি নিশ্চিত করেন ধুনট উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজ। বিভাগীয় কমিশনারের ত্রান বিতরণী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এলাকার সংসদ সদস্য আলহাজ হাবিবর রহমান, ত্রাণ ও দুযর্োগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব গৌতম ভট্টাচার্য্য, বগুড়া জেলা প্রশাসক (ডিসি) শফিকুর রেজা বিশ্বাস, ধুনট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ একেএম তৈহিদুল আলম মামুন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাফিজুর রহমান, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ওবায়দুল হক, কৃষি কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম, প্রকৌশলী সালাহ উদ্দিন, প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. আব্দুস ছামাদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাই খোকন, ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আতিকুল করিম আপেল প্রমুখ। সোনাতলা (বগুড়া) : বগুড়ার সোনাতলায় যমুনা ও বাঙ্গালী নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ফলে প্রতিদিন উপজেলা তেকানী চুকাইনগর ও পাকুল্লা ইউনিয়নের বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধের পূর্ব পাশের প্রায় ১৮টি গ্রামের ১৭ হাজারের অধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। এসব পরিবারের সদস্যরা বাড়িঘর না ছাড়লেও ছেড়েছে তাদের গৃহপালিত গবাদিপশু। আবার কিছু কিছু এলাকার লোকজনকে বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও আবাসনে আশ্রয় নিতে দেখা গেছে। সোনাতলা উপজেলার পাকল্লা ইউনিয়নের খাটিয়ামারী, দক্ষিণ পাকুল্লা, আচারের পাড়া, রাধাকান্তপুর, মির্জাপুর, বালুয়াপাড়া, পূর্ব সুজাইতপুর ও কুশাহাটা গ্রামের প্রায় ৩২শ পরিবারের প্রায় ৯ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। অপরদিকে উপজেলার তেকানী চুকাইনগর ইউনিয়নের পূর্ব তেকানী, চুকাইনগর, খাবুলিয়া, মহব্বতের পাড়া, দাউদেরপাড়া, ভিকনেরপাড়া, মহেশপাড়া, সরলিয়া, চরমোহনপুর, জন্তিয়ারপাড়া সহ ১০ গ্রামের প্রায় ১৪ হাজার পরিবারের প্রায় ২১ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। এসব এলাকার বসতবাড়িগুলো বন্যার পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। গতকাল বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইটিসি) সুফিয়া নাজিম, সোনাতলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ফিরুজুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জেসমিন প্রধান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আলতাফ হোসেন, ওসি সেলিম হোসেন, পাকুল্লা ইউপি চেয়ারম্যান একেএম লতিফুল বারী টিম, তেকানী চুকাইনগর ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ আশরাফ উদ্দিন আকন্দ বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেন। সিরাজগঞ্জ : সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার মেঘাই রিং বাঁধের ৩০ মিটার এলাকা জুড়ে ধস নেমেছে। যমুনায় অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধির ফলে শুক্রবার সাকালে বাধে আকস্মিকভাবে ধস নামে। হঠাৎ বাঁধে ধস নামায় বাঁধ অভ্যন্তরের অন্তত ৬শ\' বাড়িঘর প্লাবিত হয়েছে। এ সকল অঞ্চলের মানুষ তাদের বাড়িঘরে রাখা আসবাবপত্রসহ কোন কিছুই রক্ষা করতে পারেনি বলেও বন্যা কবলিতরা জানিয়েছে। আকস্মিকভাবে বাড়িঘরে পানি ওঠায় তারা গতকাল শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত কোন খাবারের ব্যবস্থা করতে পারেনি বলেও জানিয়েছে। এছাড়া বাধ ভাঙার কারণে যমুনার পানিতে কাজিপুর- সোনমুখী আঞ্চলিক সড়কটিও তলিয়ে গেছে। পানির প্রবল চাপের কারণে সড়কটি ক্ষতিগ্রস্থ হলে এই সড়ক দিয়ে যে কোন মুহূর্তে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যেতে পারে। কাজিপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাফিউল ইসলাম জানান, কাজিপুর উপজেলার মেঘাই এলাকায় অবস্থিত রিং বাধের ৩০ মিটার এলাকা পানি প্রবল স্রোতে নদীতে ধসে যায়। এ কারণে নতুন করে অন্তত ৬শ পরিবার পানিবন্দি হয়েছে। খবর পেয়ে জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন সহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বাঁধ এলাকা পরিদর্শন করেছে। এদিকে সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে যমুনা নদীর পানি আরো বেড়েছে। শুক্রবার দুপুরে সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে যমুনার পানি বিপদসীমার ৪৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, গত ২৪ ঘন্টায় সিরাজগঞ্জে ১৮ সেন্টিমিটার পানি বেড়েছে। যে কারণে জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি আরো অবনতি হয়েছে। এদিকে, পানি বাড়ার সাথে সাথে সিরাজগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতি অবনতি হয়েছে। বিশেষ করে কাজিপুর উপজেলা সহ চরাঞ্চলের মানুষ আবারো নতুন করে পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। যমুনার পানি বাড়ার সাথে সাথে অভ্যন্তরীণ নদ-নদীর পানিও বাড়ার পাশাপাশি চলছে টানা বৃষ্টি। পানি বাড়ার কারণে জেলার নতুন নতুন এলাকায় পানি ঢুকতে শুরু করেছে। পানি বাড়ার কারণে প্রবল স্রোতে ব্রহ্মপূত্র বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে প্রচন্ড চাপ পড়ছে। জেলার চরাঞ্চলগুলোর প্রায় কয়েক হাজার ঘর-বাড়ি এখন ১ থেকে ৩ ফুট পানিতে তলিয়ে রয়েছে। বিশুদ্ধ খাবার পানির অভাবে ডাইরিয়া, আমাশয়সহ নানা পেটের পীড়া শুরু হয়েছে। সেই সাথে বন্যাকবলিত মানুষদের হাত-পায়ের ঘা সহ চুলাকানিও দেখা দিয়েছে। সরকারিভাবে কিছু ত্রাণ বিতরণ করা হলেও প্রত্যন্ত অঞ্চলের বন্যাকবলিতরা এখনও কোন ত্রাণ পায়নি বলে অভিযোগ করেছেন। ফলে তারা অনাহার আর অর্ধাহারে দিনাতিপাত করছে। এদিকে যমুনা, করতোয়া, হুড়াসাগর, বড়াল ও গোহালা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় শাহজাদপুরের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতিরি অবনতি হয়েছে। এসব নদ-নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। উপজেলার পৌরসভাসহ ১৩টি ইউনিয়নের বেশির ভাগ গ্রামই বন্যাকবলিত হয়েছে। উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের ১৫ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। গতকাল দিনভর স্থানীয় সংসদ সদস্য হাসিবুর রহমান স্বপন ও সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোঃ বিল্লাল হোসেন সরজমিনে উপজেলার পোতাজিয়া, রুপবাটি, সোনাতনি ও কৈজুরী ইউনিয়নের বন্যাকবলিত বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দুর্গতদের মাঝে নগদ টাকা ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন। এ সময় স্থানীয় ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার সন্দ্বীপ কুমার সরকার, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাইমা আফরোজ ইমা, হাসিব সরকার, ইসমাইল হোসেন, নুসরাত জাহান, পঙ্কজ চন্দ্র দেবনাথ, সাইদুজ্জামান চৌধুরী ও কৈজুরী ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। গাইবান্ধা : গাইবান্ধায় ঘাঘট নদীর পানি গতকাল বিপদসীমার ৬৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। অপরদিকে গাইবান্ধার ফুলছড়ি পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বিপদসীমার ২৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ঘাঘটের পানির চাপে শহরতলির পূর্ব কোমরনই মিয়াপাড়ায় ওয়াপদার বাঁধে ফাটল দেখা দিয়েছে। ঘাঘট নদীতে অস্বাভাবিক হারে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় পানির চাপে বাঁঁধটিতে ওই ফাটল দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। ভাঙনের হাত থেকে বাঁধটি রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ড কার্যক্রম শুরু করেছে। ফাটল দেখা দেয়ার পর থেকেই ওই বাঁধের উপর দিয়ে গাইবান্ধা-গিদারী চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে বাঁধটি তারা রক্ষা করতে পারবেন। কুড়িগ্রাম : কুড়িগ্রামের ধরলা, ব্রহ্মপুত্র, দুধকুমারসহ ১৬টি নদ-নদীর পানি আরও বাড়তে থাকায় জেলায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় চিলমারী পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ৪৯ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৪৯ সেন্টিমিটার, ধরলার পানি সেতু পয়েন্টে ৪৬ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৪৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। এছাড়াও নুনখাওয়া পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি ২৪ সেন্টিমিটার ও দুধকুমার নদীর পানি ১০ সে.মি বৃদ্ধি পেয়েছে। বন্যার পানির প্রবল স্রোতে রৌমারী উপজেলার দাঁতভাঙ্গা ডিসি সড়কের ধর্মপুর এলাকা ও চিলমারী উপজেলার রানীগঞ্জ বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় আরও শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে করে জেলার ৫৯টি ইউনিয়নের চার শতাধিক গ্রামের প্রায় তিন লাখ মানুষ পানি বন্দী হয়ে পড়েছে। জেলায় ৪ শতাধিক মৎস্য প্রকল্প পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বন্যার পানিতে ভেসে গেছে প্রায় ১ কোটি টাকার মাছ। বন্ধ হয়ে গেছে জেলার দুই শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রম। টানা ১৫ দিন ধরে বন্যার পানিতে তলিয়ে থাকায় জেলার ৩৫ হাজার হেক্টর জমির রোপা আমন ও মৌসুমী ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। কুড়িগ্রাম জেলা ত্রাণ বিভাগের কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, নতুন করে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় আরও তিন ইউনিয়নসহ মোট ৫৬টি ইউনিয়নের ৩৫৩টি গ্রাম পানিবন্দি হয়েছে। এতে ৪১৬ দশমিক ৪৫ বর্গকিলোমিটার এলাকা প্লাবিত হয়েছে। জামালপুর : পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় জামালপুরের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বাহাদুরাবাদ পয়েন্টে যমুনার পানি ১১ সেন্টিমিটার বেড়ে গতকাল শুক্রবার সকালে বিপদসীমার ৭১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। অব্যাহত পানি বৃদ্ধির ফলে নতুন নতুন এলাকা বন্যাকবলিত হয়ে পড়ছে। সব মিলিয়ে জেলার ৭ উপজেলার ৩৫টি ইউনিয়নের প্রায় আড়াই লাখ মানুষ পানিবন্দী জীবনযাপন করছে। প্রায় ২ সপ্তাহ ধরে পানিবন্দী থাকায় দুর্গত এলাকায় চরম খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত ১৪১ মেট্রিক টন চাল ও ১১ লাখ টাকার শুকনো খাবার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। তবে এখনও অনেক দুর্গত এলাকায় ত্রাণ সহায়তা পৌঁছেনি বলে অভিযোগ করেছেন দুর্গতরা। মেলান্দহ-মাহামুদপুর সড়কের ডাইভারশন রোডে ও ইসলামপুর-গুঠাইল সড়কের কয়েটি স্থান পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে। টাঙ্গাইল : জেলার নাগরপুর উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। যমুনা ও ধলেশ্বরী নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে তীরবর্তী চরাঞ্চলের ৫০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ইতিমধ্যে উপজেলার যমুনা ও ধলেশ্বরী নদীতীরবর্তী ৫ শতাধিক বাড়ি-ঘর নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বিস্তীর্ণ এলাকার ফসলের মাঠ, সবজি ও মাছের ঘের তলিয়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া জেলার ভুঞাপুর, গোপালপুর, টাঙ্গাইল সদর, দেলদুয়ার, কালিহাতী ও বাসাইল উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। যমুনা ও ধলেশ্বরী নদীর ভয়াবহ ভাঙনে উপজেলার ভাড়রা ও সলিমাবাদ ইউনিয়নের পাঁচতারা, আটাপাড়া, মারমা, ধলাই ও পাইকশা মাইজাইল গ্রামে ৩ শতাধিক ও মোকনা, সহবতপুর এবং গয়হাটা ইউনিয়নের ২ শতাধিক পরিবারের বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। গৃহহীন এসব পরিবার খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে। বন্যাদুর্গত এলাকায় বিশুদ্ধ খাবার পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মোকনা, ভাড়রা, সলিমাবাদ, সহবতপুর, গয়হাটা ও দপ্তিয়র ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্যার কবলে পড়েছে।
ফারুকী খুন : ডাকাতি ছিল সাজানো নাটক
ইসলামী ফ্রন্টের নেতা এবং জনপ্রিয় টিভি উপস্থাপক মাওলানা শায়খ নূরুল ইসলাম ফারুকীকে হত্যা করতে আসা খুনিরা ডাকাতির নাটক সাজিয়েছিল বলে মনে করছেন তদন্তকারী কর্মকর্তারা। তাদের প্রাথমিক সন্দেহ, চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকা ের পেছনে ইসলামি চেতনা ও রাজনৈতিক বিরোধের বিষয়টি বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে। পাশাপাশি ব্যক্তিগত এবং আর্থিক কোনো বিষয় এর পেছনে ভূমিকা রেখেছে কি না, তাও খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা। তবে ধর্মীয় অনুষ্ঠানের জনপ্রিয় এ উপস্থাপকের হত্যাকান্ডের ব্যাপারে কোনো স্পষ্ট ক্লু উদ্ধার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তবে তারা জঙ্গি-সংশ্লিষ্টতাকে প্রাধান্য দিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন তেজগাঁও জোনের উপকমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার। এদিকে সুপ্রিম কোর্টের জামে মসজিদের খতিব ও একাধিক বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের ধর্মীয় উপস্থাপক মাওলানা নূরুল ইসলাম ফারুকীর হত্যাকান্ডে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি। এ হত্যার প্রতিবাদে গতকাল বৃহস্পতিবার আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত ও এর সহযোগী সংগঠন ছাত্রসেনা আগামীকাল শনিবারের মধ্যে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের সময়সীমা বেঁধে দেয়। ফারুকী আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের আন্তর্জাতিক সম্পাদক ছিলেন। অন্যদিকে, এই হত্যাকান্ডের ঘটনায় ফারুকীর ছেলে ফয়সাল ফারুকী বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় সাত-আটজনকে আসামি করে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেছেন। তাতে হত্যার সম্ভাব্য কোনো কারণের কথা উল্লেখ করা হয়নি। তবে ডাকাতির কথাও বলা হয়েছে। এজাহারে বলা হয়, নগদ ২ লাখ টাকা, একটি ক্যামেরা, একটি টেপ রেকর্ডার এবং প্রায় সাড়ে ৫ ভরি স্বর্ণালংকারসহ আনুমানিক ৬ লাখ টাকার মালামাল লুট হয়েছে ঘটনার সময়ে। তবে মামলায় ডাকাতি ও হত্যার কথা বলা হলেও ঘটনাটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড বলে মনে করছে পুলিশ ও র‌্যাব। তারা মনে করছেন, ডাকাতির ঘটনা নিছক সাজানো নাটক। পুলিশ ইতিমধ্যে সন্দেহভাজন তিনজনকে আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদ করছে। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার নাজমুল আলম বলেন, নূরুল ইসলাম ফারুকীর খুনিদের সম্পর্কে এখনো সঠিক ধারণা পাওয়া যায়নি। তবে পরিবার ও বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মনে হচ্ছে, ধর্মীয় আদর্শগত বিরোধের কারণেই পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে তদন্তে এ বিষয়ের পাশাপাশি পারিবারিক বিরোধ, হজে লোক পাঠানো নিয়ে লেনদেনসহ একাধিক কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। র‌্যাবের অতিরিক্ত পরিচালক (এডিজি) কর্নেল জিয়াউল আহসান বলেন, ঘটনার পরপরই র‌্যাবের পক্ষ থেকে তদন্ত শুরু হয়েছে। এখন পর্যন্ত পরিষ্কার কোনো ধারণা পাওয়া না গেলেও ধর্মীয় মতাদর্শগত বিরোধের কারণেই পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে। চূড়ান্ত মত দেওয়ার মতো তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) বিপ্লব কুমার সরকার বলেন, আট মাস আগে রাজধানীর গোপীবাগে কথিত পীর লুৎফর রহমানসহ ছয় খুনের ঘটনার সঙ্গে ফারুকী হত্যাকান্ডের অনেকটা মিল আছে। দুটি খুনের ঘটনার ধরন প্রায় একই রকম। দুটি হত্যাকা ের পেছনে একই গোষ্ঠী জড়িত থাকতে পারে বলে তিনি সন্দেহ করছেন। তিনি বলেন, তদন্ত-সংশ্লিষ্টরাও ফারুকীর স্বজনদের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলেছেন। খুনিদের আচরণ ও কথাবার্তার মাধ্যমে কোনো ধারণা পাওয়া যায় কি না, জানার চেষ্টা করেছেন পুলিশ কর্মকর্তারা। এরই মধ্যে তারা জানতে পেরেছেন, ফারুকীকে হত্যার আগে খুনিরা দীর্ঘদিন ধরেই তার ওপর নজরদারি করেছিল। পূর্বপরিচয়ের সূত্রেই বুধবার সহজেই বাসায় ঢোকে দুই যুবক। এরপর আরো কমপক্ষে আটজন বাসায় ঢোকার পর রাত ৯টার মধ্যে হত্যা মিশন সফল করে তারা পালিয়ে যায়।
তিন খুনের ঘটনায় কালা বাবুর দুই চাচীকে জিজ্ঞাসাবাদ
রাজধানীর মগবাজারে বাড়িতে ঢুকে গুলি করে তিনজনকে হত্যার ঘটনায় দুই নারীকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। পুলিশ বলছে, ওই দুই নারী হত্যাকান্ডে সন্দেহভাজন কালু বাবুর চাচী। রমনা বিভাগের পুলিশের উপ-কমিশনার ইকবাল হোসেন জানান, শুক্রবার সকালে সোনালীবাগের এক বাসা থেকে তাদের আটক করে রমনা থানায় নেয়া হয়। তারা কতটুকু জানেন তা জানার জন্যই জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ওই দুজনের নাম জানতে চাইলে রমনা থানার এসআই মিজানুর রহমান বলেন, কোনো সমস্যা না থাকলে তাদের ছেড়ে দেয়া হবে। ওই হত্যাকান্ডের ঘটনায় গতকাল শুক্রবার বিকাল পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা করা হয়নি বলে এসআই মিজানুর জানান। বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে মগবাজারের নয়াটোলা এলাকার সোনালীবাগের একটি বাড়িতে গুলিতে নিহত হন বৃষ্টি আক্তার ওরফে রানু, বিলাল হোসেন ও মুন্না নাসের তিনজন। রানুর ভাই হৃদয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। নিহতদের স্বজনরা এই হামলার জন্য স্থানীয় \'সন্ত্রাসী\' কালাবাবুকে দায়ী করছেন। তারা বলছেন, চাঁদা না দেয়ায় এই হত্যাকা ঘটানো হয়েছে। অবশ্য পুলিশের ধারণা, রেলের জমির দখল নিয়ে বিরোধের জেরে এই হত্যাকান্ড ঘটেছে। নিহত বৃষ্টি মগবাজার রেলওয়ে ইউনিট আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কালা চাঁনের বড় বোন। এলাকাবাসী জানায়, কালাচাঁনের দখল করা জমিতে টিনশেড ঘর তুলে ভাড়া দিয়েছিলেন ষ্টি। স্থানীয় সন্ত্রাসী কালা বাবু অনেক দিন ধরেই ওই জমির দখল নিতে চায়। ঢাকার ৩৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি আবদুল খালেক বলেন, রেলের জমির দখল নিয়ে কালা চাঁন ও কালা বাবুর মধ্যে ঝামেলা ছিল। দুটি কক্ষের জন্য তিনজনকে হত্যা : চার পাশে ইটের গাঁথুনি। ওপরে টিনের ছাউনি। মাঝারি আকৃতির মাত্র চারটি কক্ষ। দুটি করে কক্ষের মালিক কালাচাঁদ ও কালাবাবু। দুটি কক্ষে সন্তুষ্ট নন কালাবাবু। তার আরও দুটি চাই। স্থানীয়রা জানান, নয়াটোলার ৭৮ সোনালীবাগে পাশাপাশি বসবাস করছিলেন অপরাধ জগতের দুই প্রভাবশালী কালাচাঁদ ওরফে শামীম ও কাইল্যা বাবু ওরফে কালাবাবু। রাজনৈতিক ক্ষমতার পালাবদলে ওই বাড়িটির মালিক বদল হয়। কখনও কালাবাবু, কখনও কালাচাঁদ বাড়ির মালিকানা দাবি করে। বাসা দখলের আধিপত্যের জের ধরেই ভাই-বোনসহ তিনজনকে হত্যা করা হয়। নিহতরা হলেন মুন্না (১৮), বিলাল (২২) ও রানু আক্তার বৃষ্টি (২৩)। মুন্না ও রানু আক্তার ভাইবোন। এ ঘটনায় হৃদয় (২২) নামের একজন আহত হয়েছেন। রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মশিউর রহমান বলেন, স্থানীয় কালাবাবুসহ ৭ থেকে ৮ জন বাসায় ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলি করে। এতে ৪ জন গুলিবিদ্ধ হয়। আহত অবস্থায় তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজে নেওয়া হলে চিকিৎসক ৩ জনকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুসারে, রাজধানীর মগবাজারের নয়াটোলা এলাকার সোনালীবাগে কিলিংমিশনে পৃথক দুটি গ্রুপ অংশ নিয়েছে। অন্তত ৮ সদস্যদের হত্যাকারী গ্রুপের নেতৃত্ব দিয়েছেন কালা বাবু। সোনালীবাগের রাস্তার পাশেই অবস্থান করে কালা বাবু। এ সময় তার সঙ্গীদের হাতে ছোরা দেখা গেছে। রাত আটটার দিকে মুন্না বাসার দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে তার পোশাক ধরে দাঁড় করায় দুর্বৃত্তরা। সেখান থেকে কালাবাবু টেনে হিঁচড়ে মুন্নাকে বাসার সামনে নিয়ে যায়। কোনো কিছু বোঝার আগেই শরীরে পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি করা হয়। এর পরেই গ্রুপটি আলাদা হয়ে ৭৮ সোনালীবাগের টিনশেড বাসায় একটি গ্রুপ প্রবেশ করে রানু আক্তারকে গুলি করে। অপর একটি গ্রুপ পাশের বহুতল ভবনের দোতলায় প্রবেশ করে বিলালকে গুলি করে। গুলির আওয়াজ বাইরে আসার পরই হৃদয় নামে আর একজনকে গুলি করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে ডিএমপির রমনা বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) আনোয়ার হেসেন বলেন, দুর্বৃত্তরা হিংস্রভাবে হামলা চালিয়েছে। দুইভাগে বিভক্ত হয়ে আলাদা দুটি স্থানে একাধিক ব্যক্তিকে গুলি করার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে একজনকে পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি করার ঘটনা ঘটেছে। হত্যাকারীরা ঘটনা ঘটিয়ে বেশি সময় অবস্থান করেনি বলেও জানিয়েছে এডিসি আনোয়ার। ভাড়া থাকাই ছিল অপরাধ : রেলওয়ে ইউনিট যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক কালাচাঁদ। বরিশাল জেলার হিজলা থানা বরজাগিয়া গ্রাম থেকে অন্তত ১০ বছর আগে সোনালীবাগে আসেন। অন্যদিকে কাইল্যা বাবু সোনালীবাগের স্থানীয় বাসিন্দা। তাদের মধ্যে কোন্দলের বহিঃপ্রকাশ ঘটে ভাড়াটিয়াদের ওপর। কালাচাঁদের বাসার ভাড়াটিয়াদের বাসা ছেড়ে দেওয়ার জন্য সব সময় হুমকি দিয়ে আসছিল কালাবাবু। স্থানীয় বাসিন্দা মো. লোকমান জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগরের মৃত এরশাদ হকের ছেলে বিলাল। স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে কালাচাঁদের বাসায় ভাড়া থাকতেন। অপরদিকে ভাই ও দুই বোনকে নিয়ে মা মমতাজ বেগম রূপগঞ্জে মামা হানিফের কাছে বসবাস করতেন। কালাচাঁদের বাসা ছেড়ে দেওয়ার জন্য মাঝেমধ্যে কালা বাবুর লোকজন হুমকি দিয়ে আসছিল। যদি বাসাটা ছেড়ে দিত তাহলে হয়তো তাকে মরতে হত না বলে জানান লোকমান। রেলের জমি বিক্রি করেছিল রনি : স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রেলওয়ের জন্য সরকারিভাবে বরাদ্দকৃত ৭৮ সোনালীবাগ ও এর আশপাশের অনেক জমি ছিল। গত আওয়ামী লীগ সরকার আমলের শুরুর দিকে ওই জমি রনি নামের এক স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি দখলে নেয়। এক বছর আগে জমির ওপর টিনশেড চারটি রুমের ঘর তৈরি করে কালাচাঁদের কাছে দুটি রুম বিক্রি করে দেয়। অপর দুটি রুম বিক্রি করা হয় কালা বাবুর কাছে। গত ৭ মাস ধরে কালা বাবু রুম দুটি ছেড়ে দেওয়ার জন্য কালাচাঁদকে চাপ প্রয়োগ করে। এছাড়াও পাশের একটি বাড়ির দোতলায় কালাচাঁদের পরিবারে সদস্যদের কেউ ফ্লাট কিনছে বলে বাবুর কাছে তথ্য যায়। এর জন্য ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে কালা বাবু। রুম না ছেড়ে এবং চাঁদা দিতে অস্বীকার করে উল্টো কালাচাঁদ তার বোন রানু আক্তারকে সঙ্গে নিয়ে রনির সমর্থনে নতুন একটি ওয়াল নির্মাণ করছিল। স্থানীয় বাসিন্দা ঢাকা বিভাগ শ্রমিক লীগের সহ-সভাপতি মো. আবুল হোসেন বলেন, রেলওয়ের জমি রনি দখলে নিয়ে রুম কালাচাঁদ ও কালা বাবুর কাছে বিক্রি করে। ওই সময় থেকেই তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে আসছে। এছাড়াও চাঁদা না দেওয়াকে কেন্দ্র করে তিনজনকে গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটে। কালা বাবুকে ধরতে অভিযান : কালা বাবু মগবাজার এলাকার একাধিক হত্যা মামলাসহ অন্তত ৭টি চাঁদাবাজি মামলার আসামি। মগবাজারের এক আনসার সদস্য হত্যার ঘটনায় এ কালা বাবু নেতৃত্ব দিয়েছে। তার কাজে কেউ বাধা হলে কিংবা কথামতো কাজ না করলেই গুলি করে হত্যা করে কালা বাবু। রমনা জোনের সহকারী কমিশনার শিবলী নোমান জানান, প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে কালা বাবু মগবাজারে ট্রিপল মার্ডারে নেতৃত্ব দিয়েছে। সে গুলি করে হত্যা করেছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনজনকে হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন ও হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারের জন্য কালা বাবুকে গ্রেফতার অভিযান চলছে। ময়নাতদন্ত শেষ : রাজধানীর মগবাজারে ৩ খুনের ঘটনায় নিহতদের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বিকেল পৌনে ৪টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিহতদের ময়নাতদন্ত শেষ হয়। এ ব্যাপারে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সোহেল সাহমুদ বলেন, মগবাজারে ওই খুনের ঘটনায় নিহতদের ময়নাতদন্ত শেষ হয়েছে। তিনি বলেন, ময়নাতদন্তে দেখা গেছে মুন্নাকে শরীরে পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি করা হয়েছে। তার পেটে গুলি লেগে পিঠ দিয়ে বেরিয়ে যায়। আর বিল্লালকে গুলি করা হয় পেটে। পেটের বেশ ভিতর থেকে তার গুলি বের করা হয়েছে। এছাড়া বৃষ্টিকে দু\'টি গুলি করা হয় এর মধ্যে তার হাতে ও ও বুকে গুলি লাগে। ময়নাতদন্ত শেষে নিহত ৩ জনের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এরআগে রমনা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হুমায়ন কবির ওই ৩ লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন। জানা গেছে, নিহত মুন্নার লাশ বগুড়ায় আর বিল্লালের লাশ নারায়ণঞ্জে দাফন করা হবে। এছাড়া বৃষ্টির লাশ ঢাকা কিংবা তার দেশের বাড়ি বরিশালে দাফন করা হতে পারে বলে জানা গেছে।
 
 
 
আজ রাজধানীতে আওয়ামী লীগের সমাবেশ বিএনপির মানববন্ধন
স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা অফিস :
দীর্ঘ দিন পর আজ শনিবার পৃথক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে রাজধানী ঢাকায় মুখোমুখি হচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিরোধী দল বিএনপি। ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শোকের মাস আগস্ট স্মরণে আলোচনা সভা রয়েছে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের। অপর দিকে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট ঢাকাসহ দেশের সকল জেলা... বিস্তারিত
 
রাবি ছাত্রলীগের সম্পাদক তুহিনকে অব্যাহতি
রাবি প্রতিনিধি :
দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম তৌহিদ আল হোসেন তুহিনকে পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বর্তমান কমিটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক খালিদ হাসান বিপ্লব। গতকাল শুক্রবার বিকেলে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম সাংবাদিকদের এ তথ্য... বিস্তারিত
 
নবজাতক চুরির ঘটনায় আটক দুই নারী তিন দিনের রিমান্ডে
স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা অফিস:
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের প্রসূতি ওয়ার্ড থেকে নবজাতক চুরির ঘটনায় আটক দুই নারীর ৩ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। রিমান্ড মঞ্জুর করা নারীরা হচ্ছেন রাশেদা খানম পারভীন ও রহিমা। চুরি যাওয়া শিশুটিকে উদ্ধার করে গাজীপুর থেকে তাদেরকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। গতকাল শুক্রবার সকালে... বিস্তারিত
 
নূর হোসেন ফের তিন দিনের জেল হেফাজতে
শারজায় ভবন থেকে পড়ে ২ বাংলাদেশীর মৃত্যু
 
 
ভিডিও
রাশিচক্র আজ ঢাকায় আজ বগুড়ায়
 
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের চরমপন্থিরা আত্মসমর্পণের আহ্বানে সাড়া দেবে বলে মনে করেন কি?
হ্যাঁ
উত্তর নেই
না
 
 
 
আজকের ভিউ
নামাজের সময়সূচী
ওয়াক্ত
সময়
ফজর
03:50
জোহর
12:7
আছর
04:42
মাগরিব
06:54
এশা
08:20
 
 

সম্পাদকঃ মোজাম্মেল হক, সম্পাদক কর্তৃক ন্যাশনাল প্রিন্টিং প্রেস, শিল্পনগরী বিসিক বগুড়া এবং ১৬৭ ইনার সার্কুলার রোড, (আরামবাগ) ইডেন কমপ্লেক্স, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত ও চকযাদু রোড, বগুড়া হতে প্রকাশিত।
ফোন ৬৩৬৬০,৬৫০৮০, সার্কুলেশন বিভাগঃ ০১৭১৩২২৮৪৬৬, বিজ্ঞাপন বিভাগঃ ৬৩৩৯০, ফ্যাক্সঃ ৬০৪২২। ঢাকা অফিসঃ স্বজন টাওয়ার, ৪ সেগুন বাগিচা। ফোনঃ ৭১৬১৪০৬, ৯৫৬০৬৬৯, ৯৫৬৮৮৪৬, ফ্যাক্সঃ ৯৫৬৮৫২২ E-mail : dkaratoa@yahoo.com . . . .

Powered By: