বগুড়া বুধবার | ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২২ | ৩০ রজব ১৪৩৬ হিজরি | ২০ মে ২০১৫
ব্রেকিং নিউজ
আর্কাইভ
দিন :
মাস :
সাল :
এই সংখ্যার পাঠক
১৫৩৫৪২
সার্চ
পবিত্র শবে বরাত ২ জুন মঙ্গলবার
নির্বাচিত সংবাদ
ডিমলায় ধানের চেয়ে ভুট্টা চাষে বেশি লাভবান কৃষক
নীলফামারীর ডিমলার বাজারে তুলনামূলকভাবে ধানের চেয়ে ভুট্টার দাম ও চাহিদা দুটোই বেশি। চলতি রবি মৌসুমে উপজেলার কৃষকেরা ধান চাষাবাদের চেয়ে ভুট্টা চাষে তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি লাভবান হয়েছে বলে তারা মনে করছে। প্রতিবিঘা জমিতে ইরিবোরো চাষ করে ৬/৭ হাজার টাকা খরচ করে ২০/২১ মণ ধান ঘরে তুললেও বাজারে প্রতি মাণ ধান বিক্রি হচ্ছে ৪/৫শ টাকা। অথচ প্রতি বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষ করে ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা খরচ করে বিঘায় ভুট্টা ফলন হয় ২৫/৩০ মণ এবং প্রতি মণ ভুট্টা বাজারে বর্তমান মূল্য ৫শ থেকে ৬শ টাকা মণ। বাজারে ধানের চেয়ে ভুট্টা দাম ও চাহিদা অনেক বেশি। ভুট্টার চেয়ে ইরিবোরো ধান চাষে পোকা মাকড়ের আক্রমণে ক্ষেত নষ্ট হওয়ার সম্ভবনা বেশি থাকে কিন্তু ভুট্টার ক্ষেত্রে তা একেবারেই ক্ষেত নষ্টের ভয় থাকে না। চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় বোরো ধানের চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্র ছিল ১৩ হাজার ৩ হেক্টর জমিতে। এর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৫৫ হাজার ২৫ মে:টন, কিন্তু আবহাওয়া প্রতিকূল থাকায় বিভিন্ন সেচ সংকট ধানের শীষ বের হওয়ার সময় গোড়া পোচা রোগে কারণে উল্লেখিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার সম্ভবনা দেখা দিয়েছে। অপর দিকে চলতি মৌসুমে উপজেলায় ভুট্টা চাষের লক্ষ্যমাত্রা ৫ হাজার ৬৮২ হেক্টর জমিতে ধরা হলেও চাষাবাদ করা হয় ৭ হাজার হেক্টর জমিতে। আর এতে ৪০ হাজার ৩৪৫ মে:টন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলেও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় পর্যাপ্ত সেচ ও সার সুবিধার কারণে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে রেকর্ড পরিমাণ ভুট্টা ফলনের আশা করছেন কৃষকরা। ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের ছাতুনামা গ্রামের মজিদুল (৪০) জানান, আমি চলতি মৌসুমে ৫ বিঘা জমিতে ইরিবোরো চাষ করে শীষ গোড়া পচা রোগে আক্রমণে ধানে চিটা পড়ে নষ্ট হওয়ার কারণে বিঘায় ৭/৮ মণ ধান হয়েছে। এতে চাষাবাদ খরচের অর্ধেক টাকাও ওঠেনি। ইরি চাষাবাদ করে সর্বস্বান্ত হয়েছি। তিনি আরো জানান, অন্য ৩ বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষ করে মোট ৯০ মণ ভুট্টা ঘরে তুলতে পেরেছি। ওটুকু জমিতে ভুট্টা চাষ না করলে মাঠেই মরতে হতো। একই কথা জানালেন পূর্বছাতনাই ইউনিয়নের পূর্ব ছাতনাই গ্রামের আবু বক্কর সিদ্দিক। তিনি ১০ বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষ করে ভুট্টার ভাল ফলন হওয়ায় অনেক লাভবান হয়েছেন।
ধুনটে তিন বছর বিদ্যুতের নতুন সংযোগ পাচ্ছে না গ্রাহক
সাবস্টেশনের অভাবে বগুড়ার ধুনট উপজেলায় তিন বছর যাবৎ পল্লী বিদ্যুতের নতুন সংযোগ দেয়া বন্ধ রয়েছে। সংযোগের জন্য টাকা দিয়ে প্রায় চার হাজার আবেদনকারী ও প্রতিষ্ঠান চরম বিপাকে পড়েছেন। স্থানীয় একটি সূত্রে জানা যায়, পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ অন্য এলাকায় সংযোগ দেয়া অব্যাহত রেখেছে। কিন্তু সাবস্টেশন এবং বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের ধারণ ক্ষমতা না থাকার অজুহাত দেখিয়ে ধুনট উপজেলায় বিদ্যুতের বি-ফিডার থেকে নতুন সংযোগ দেয়া বন্ধ রেখেছে। অথচ তিন বছর আগে নতুন সংযোগের জন্য নির্দিষ্ট ফরমে অফেরতযোগ্য সমীক্ষা ফি নিয়ে আবেদন গ্রহণ করা হয়। এ সব আবেদনকারীদের কোনো সংযোগ না দিয়ে একই ভাবে আবেদন, বৈদ্যুতিক তার ও মিটারের জন্য টাকা নেয়া হচ্ছে। পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয়ে আবাসিক, বাণিজ্যিক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিল্প ও সেচের সংযোগের জন্য প্রায় চার হাজার আবেদনপত্র পড়েছে। এদের বেশির ভাগ ব্যক্তি মিটারের জন্য ৬০০ টাকা করে জমা দিয়েছে। এ ছাড়াও সমীক্ষা ফি হিসাবে ১০০ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত পল্লী বিদ্যুতের হিসাবে জমা দিয়েছে। অন্যদিকে জরুরি প্রয়োজনে অনেকেই ডিপোজিট ওয়ার্কের (গ্রাহকদের নিজস্ব খরচে কেনা লাইন) আওতায় আবেদন করেছে। এ সব গ্রাহক মালামাল এবং সংযোগ নেয়ার জন্য টাকা জমা দিয়ে বসে আছেন। বগুড়া পল্লী বিদ্যুৎ (১৩নং ধুনট এলাকা) সমিতির পরিচালক সাইদুল ইসলাম মিঠু জানান, পল্লী বিদ্যুৎ আধুনিকায়ন (আরইইউপি) প্রকল্পের আওতায় উপকেন্দ্র (সাবস্টেশন) স্থাপনের জন্য ধুনট সদরের চরপাড়া গ্রামে এক বিঘা জমি অধিগ্রহণ করেন। জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) আর্থিক সহায়তায় সেখানে ৩৩/১১ কেভি ১০ এমভিএ ক্ষমতা সম্পন্ন বৈদ্যুতিক উপকেন্দ্র স্থাপনের কাজ চলছে। এতে নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১০কোটি টাকা। এই প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট যোগাযোগ করা হচ্ছে। বগুড়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ধুনট অফিসের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (এজিএম) শামসুল হক জানান, বিদ্যুতের চাহিদা থাকলেও সাবস্টেশন এবং বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের ধারণ ক্ষমতা না থাকায় সংযোগ দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। উপজেলা সদরের চরপাড়া গ্রামে বিদ্যুতের সাবস্টেশন নির্মাণ কাজ চলছে। তা চালু হতে আরও দুই তিন মাস সময় লাগবে। এরপরই নতুন করে সংযোগ দেয়া যাবে।
সোনাতলা আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
বগুড়ার সোনাতলায় গতকাল মঙ্গলবার সোনাতলা থানা পুলিশের উদ্যোগে আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সেলিম হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বগুড়ার পুলিশ সুপার মোজাম্মেল হক। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, বগুড়ার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় তিনি আন্তরিকতার সাথে তার উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করেছেন। এজন্য বগুড়ার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সব সময় ভালো ছিল। এক সময় একটি রাজনৈতিক দল চাঁদে সাঈদীকে দেখার গুজব তুলে বগুড়ার আইন শৃঙ্খলা চরমভাবে বিঘি্নত করার ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছিল। সেই সময় পুলিশ শক্ত হাতে তা মোকাবেলা করে আইন-শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রেখেছিল। এজন্য আমাদেরকে জীবনের ঝুঁকি নিতে হয়েছিল। পুলিশ জনগণের বন্ধু। সব সময় জনগণের কল্যাণে পাশে থেকে পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে। এলাকার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের পাশাপাশি সমাজের বিবেকবান লোকদের সচেতনতা বাড়াতে হবে। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্যে রাখেন সোনাতলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান, সোনাতলা উপজেলা চেয়ারম্যান অঞ্জনা খান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জিয়াউল করিম শ্যাম্পু, সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম বুলু, শহিদুল বারী খান রব্বানী, ড. এনামুল হক কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল মালেক, ইঞ্জিনিয়ার মেজবাউল হক জুলু, সৈয়দ আহম্মদ মডেল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আব্দুল মোমিন, পাকুল্যা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান একেএম লতিফুল বারী টিম, বালুয়া ইউপি চেয়ারম্যান প্রভাষক নাসির উদ্দিন আনজু, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি সোনাতলা উপজেলা শাখার সভাপতি মতিয়ার রহমান, সাধারণ সম্পাদক শামছুল হক মাষ্টার, কর্পূর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামছ উদ্দিন, কমিশনার তাজুল ইসলাম, সাংবাদিক নিপুন আনোয়ার কাজল প্রমুখ।
কাউনিয়ার গ্রামীণ নারীদের কারুকাজ খচিত টুপি রফতানি হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে
রংপুরের কাউনিয়া উপজেলায় টুপি শিল্পের নীরব বিপ্লব ঘটেছে। এখানকার গৃহিণীদের হাতের তৈরি সুই-সুতোয় আলপনা তোলা কারুকাজ খচিত টুপি এখন দেশের চাহিদা মিটিয়ে ওমান, সৌদি আরব, কাতার, জাপানসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে রফতানি হচ্ছে। এতে করে গ্রামের সহায় সম্বলহীন হাজার হাজার নারী অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছেন। জানা গেছে, গ্রামগঞ্জের নারীরা শুধু গৃহস্থালীর কাজ করার পর অবসর সময় শুয়ে বসেই কাটাতেন। অনেকেই সেলাই-ফোঁড়াইয়ের কাজ করলেও সেগুলোতে অর্থ উপার্জনের তেমন সুযোগ ছিল না। তাদের হাতে যখন থেকে টুপিতে নিপুণ কারুকাজের সুই-সুতার সরঞ্জাম উঠেছে, তখন থেকেই তাদের দিন বদলানো শুরু হয়েছে। এখন তাদের আর শুয়ে-বসে গল্প গুজবে সময় কাটানোর সময় নেই। হাজারো নারী স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি পরিবারের বাড়তি উপার্জনের জন্য এখন হাতে তুলে নিয়েছেন টুপি তৈরির কাজ। সুই-সুতোয় তারা সারা বছর লাখ লাখ টুপিতে নানা রঙের সুতোয় আলপনা তুলছেন। আর সেই টুপির সুনাম ছড়িয়ে পড়ছে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম প্রধান দেশে। কাউনিয়া উপজেলার শাহবাজ, থানাপাড়া, খোপাতি, হলদিবাড়ী, শহীদবাগ, হারাগাছ, রাজিব, গনাই, নিজপাড়া, মাঝিপাড়া, ঢুষমারা, হয়বৎখাঁ, নাজিরদহ, পল্লীমারী, গদাই, পাঞ্জর ভাঙ্গার, গোপীডাঙ্গা, প্রাননাথসহ ৪০টি গ্রামে এখন বছরজুড়ে নারীদের কর্মযজ্ঞ চলছে। কারো কোনো ফুরসত নেই। কখনো দাঁড়িয়ে কখনো বসে সারাদিন ব্যস্ত টুপি তৈরিতে। কথা হয়, উপজেলার সাহাবাজ গ্রামে টুপি তৈরির কারিগর চার সন্তানের জননী স্বপ্না বেগমের সাথে। তিনি জানালেন, একখন্ড বসতভিটা ছাড়া অর্থ-সম্পদ বলতে কিছুই নেই তাদের। একমাত্র উপার্জক্ষম দিনমজুর স্বামীর আয়ে তাদের ৬ জনের সংসার চলছিল না। এরপর অভাবের সংসারে সহযোগিতা করতে তিনি কাজ সন্ধান করতে থাকেন। একপর্যায়ে খুঁজে পান টুপিতে হাঁসু ও গুটির সেলাইয়ের কাজ। তিনি জানান, প্রথমদিকে টুপিতে হাঁসু ও গুটির কাজ করতে কষ্ট হলেও এখন আর সমস্যা হয় না। এখন নিপুণভাবে এ কাজ শেষ করতে পারছি। পাঁচ বছর ধরে টুপির কাজ করে যা আয় হয় তা দিয়ে আমার সংসার ভালোই চলছে। মধ্যপ্রাচ্যের টুপির বাজার জয় করেছে বাংলাদেশের স্বপ্না, আম্বিয়া, ফিরোজা ও জাহানারাদের আঁকা স্বপ্ন। আর টুপিতে এ স্বপ্ন একে দারিদ্র্যকে জয় করেছেন এরা। অপরদিকে কথা হয় রাজেন্দ্র গ্রামের দিপালী রানীর সাথে। তিনি জানালেন, প্রায় চারবছর আগে সংসারে অভাব-অনটন ছিল তার নিত্যসঙ্গী। অভাবের সংসারে সহযোগিতার জন্য প্রশিক্ষণ নিয়ে শুরু করি টুপি সেলাইয়ের কাজ। এখন টুপি সেলাইয়ের কাজ করে প্রতিমাসে আয় হচ্ছে আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা। তিনি জানান, এনজিও থেকে ঋণ করে বাড়িতে নতুন ঘর উঠিয়েছি আর টুপি সেলাই করে ঋণের কিস্তি দিচ্ছে। জানা গেছে, উত্তরের অবহেলিত রংপুরের তিস্তা নদীর তীরবর্তী কাউনিয়া উপজেলার শাহবাজ গ্রামের হাফেজ আবদুল আউয়াল মন্ডল ২০০৩ সালে মাত্র ১৫ জন নারী নিয়ে গড়ে তোলেন এমএমসি নামের টুপির কারখানা। বর্তমানে এমএমসি টুপির কারখানাসহ আরো ৩টি টুপির কারখানা রয়েছে। কাউনিয়া উপজেলার অর্ধশতাধিক গ্রামের ২৫ হাজার দরিদ্র নারীরা টুপি তৈরির কাজ করে খুঁজে পেয়েছেন সুখের ঠিকানা। এমএমসি কারখানায় তৈরি হয় দুই ধরনের টুপি। একটি টুপি তৈরিতে খরচ হয় ৫৫০ টাকা থেকে ৬শ\' টাকা। প্রতিটি টুপিতে বক ছাপাতে ছয়জনকে মাসে বেতন দিতে হয় ১৮ হাজার টাকা। কারখানায় রয়েছে ৪০টি সেলাই মেশিন। ৩২ জন মহিলা ও ৮ জন পুরুষ টুপি সেলাইয়ের কাজ করেন। তারা টুপিপ্রতি মজুরি পান ২০ টাকা। কারুকাজ বা হস্তশিল্পের কাজ করেন ১৫০ জন। টুপিপ্রতি এরা পান ২০ টাকা। এ ছাড়া টুপি সেলাই কাজে কারখানাটির অধীনে বাড়িতে বসে কাজ করছেন ২৫ হাজার নারী। কারখানা থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে বাড়িতে বসে টুপিতে ্তুগুটি্থ সেলাইয়ের কাজ করে একেকজন পান ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা। তৈরি শেষে একেকটি টুপি বিক্রি হয় ৮শ থেকে ১ হাজার টাকা। কারখানার কর্মী খাদিজা, জহিদা, শাহাজাদি, সবুরা, কহিনুর, রোজিনা, সালমা, লাভলী, মর্জিনা, পেয়ারী, বিথী সুলতানা, রহমান, হাফিজুর রহমান জানালেন, দিনে তারা ৮-১০টি টুপি সেলাই করতে পারেন। এতে আয় হয় ১৬০ টাকা থেকে ২০০ টাকা। কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল আউয়াল জানান, ওমানে পাকিস্তানি টুপির চাহিদা বেশি। এরপরই বাংলাদেশের স্থান। প্রথম দিকে তৈরি টুপি দেশী পাইকারদের মাধ্যমে তিনি মধ্যপ্রাচ্যে রফতানি করতেন। ২০০৫ সাল থেকে নিজেই বিদেশী ক্রেতাদের সাথে যোগাযোগ করে রফতানি করছেন। এক পরিসংখ্যানে জানা গেছে, কাউনিয়ায় ছোটবড় প্রায় ১৫টি কারখানা আছে। এর অধীনে ৪০টি গ্রামের অন্তত ২৫ হাজার নারী এই টুপি সেলাইয়ের কাজে জড়িত। এর মাধ্যমে তাদের সংসারে সামান্য হলেও সচ্ছলতার ঢেউ লেগেছে।
শেরপুরে জমে উঠেছে বাহারি মৌসুমী ফলের বাজার
বছর ঘুরে আবারও এসেছে মধু মাস জ্যৈষ্ঠ। গত সোমবার ছিল মাসটির চতুর্থ দিন। আর সেই জ্যৈষ্ঠের আগমনে চারদিকে বাহারি ফলের সমাহার ঘটতে শুরু করেছে। রকমারি মৌসুমী ফলে ভরে উঠেছে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার বাজারগুলো। দোকানিরা থরে থরে সাজিয়ে রেখেছেন রকমারি আম, লিচু, বেদেনা, আঙগুর, তরমুজসহ নানা ফলের পসরা। তবে এবার দামও বেশ চড়া। তাই মধু মাসের ফল কিনতে ক্রেতা সাধারণের বেশ বেগ পেতে হচ্ছে। উপজেলার বাজারগুলোতে প্রচুর পরিমাণ স্থানীয় জাতের লিচু বিক্রি হচ্ছে। এদিকে দিনাজপুর, রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের লিচু সবেমাত্র স্থানীয় বাজারগুলোতে আসতে শুরু করেছে। তবে এসব অঞ্চলের লিচু বাজারে মিললেও দাম গতবারের চেয়ে অপেক্ষাকৃত বেশি বলে ক্রেতা সাধারণ ও ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। সব মিলিয়ে জমে উঠেছে মৌসুমী ফলের বাজার। রাজশাহীর গোপালভোগ, খিরসাভোগ, হিমসাগর আম বাজারে আসতে শুরু করলেও এখানকার স্থানীয় জাতের বিভিন্ন আম এবারের মধু মাসকে আরো মধুর করে তুলেছে। গতকাল সোমবার শেরপুর শহর ও আশপাশের বিভিন্ন বাজার এবং ফুটপাত ঘুরে দেখা গেছে নানা জাতের আম ৯০থেকে ১১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। দোকানি ইউসুফ আলী, সাজ্জাদ আলম বাচ্চু, শাহ আলম, জুয়েল রানা, আব্দুল বারিক জানান, বর্তমানে খিরসাভোগ প্রতি কেজি ৯০ থেকে ১০০ টাকা, গোপালভোগ ১০০ থেকে ১১০ টাকা, গোপাল ঘাস ৯০ থেকে ১০০ টাকা, বেদেনা ২৭০ থেকে ২৮০ টাকা, আঙ্গুর ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা, কাঁঠাল প্রতি পিস ১০০ থেকে ১৮০ টাকা, লটকট ৯০ থেকে ১০০ টাকা দরে স্থানীয় বাজারে বিক্রি হচ্ছে। আর স্থানীয় জাতের দেশী গুটি নামে পরিচিত আম প্রতিকেজি ৬০ থেকে ৭০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া লিচু চায়না-৩ প্রতি ১শ\'র দাম ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা, বোম্বাই ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা, দেশি ১৮০ থেকে ২০০ টাকা ও প্রতিকেজি তরমুজ ১৫ থেকে ২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তারা আরো জানান, ব্যাপক চাহিদা থাকলেও স্থানীয় বাজারগুলোতে এখনো পর্যাপ্ত পরিমাণ ফলের আমদানি ঘটেনি। তবে আসছে সপ্তাহের মধ্যেই প্রায় সব ধরনের জ্যৈষ্ঠের ফল বাজারে পাওয়া যাবে বলে তারা জানান।
চলনবিলে ঝরেপড়া ছয় হাজার শিশু এখন স্কুলে যাচ্ছে
চলনবিলের চারটি উপজেলার (নাটোরের গুরুদাসপুর ও সিংড়া, পাবনার চাটমোহর ও সিরাজগঞ্জের তাড়াশে) ঝরেপড়া ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের ছয় হাজার ১০৪ জন শিক্ষার্থী এখন স্কুলে যাচ্ছে। শিখন স্কুলে তারা পড়ে। শিখন স্কুল হচ্ছে সেভ দ্য চিলড্রেনের কারিগরি সহায়তায় পরিচালিত দেশী সংস্থা ভিলেজ এডুকেশন রিসোর্স সেন্টার (ভার্ক)। ওই সংস্থাটি শিখন স্কুলের মাধ্যমে চলনবিলের গ্রামাঞ্চলের ছেলে-মেয়েদের বিনামূল্যে প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করছে। এ জন্য ৫৭টি শিখন কেন্দ্র এবং ৫৪টি শিখন ক্লাব স্থাপন করা হয়েছে। শিখন কেন্দ্র এবং ক্লাবে খেলা-ধুলার মাধ্যমে শিশুদের জ্ঞানের বিকাশ ঘটছে। পড়াশোনায় শিশুরা হচ্ছে আগ্রহী। গুরুদাসপুর অফিসের মাঠ সমন্বয়কারী মো. আব্দুল আলীম খান জানান, অভাব, অসচেতনতা আর অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য এসব শিশুদের স্কুলে পড়ার কোন সুযোগ ছিল না। সংগঠনটির পক্ষ থেকে জরিপ চালানোর পর ২০১২ সালে যাত্রা শুরু করে শিখন স্কুল। যাত্রার সাড়ে চার বছরে উলি্লখিত তিনটি উপজেলার সুবিধা বঞ্চিত ৬ হাজার শিশুকে ১ম শ্রেণী হতে (চার বছর মেয়াদী), ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত, প্রস্তুতি পর্ব হতে দ্বিতীয় শ্রেণী পর্যন্ত (তিন বছর মেয়াদী) এবং প্রাইমারি স্কুলের পিছিয়ে পড়া ১ হাজার ৮০ জন ছাত্র-ছাত্রীকে পাঠদান করানো হচ্ছে। এসব শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে পড়াশোনার যাবতীয় উপকরণ দেয়া হয়। এছাড়া দক্ষ ও প্রশিক্ষিত শিক্ষকদের দিয়ে ইংরেজী, গণিতসহ ছয়টি বিষয়ে পড়ানো হয়। ২০১৬ সালে ৩ হাজার ২শ জন শিক্ষার্থী প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিএসসি) পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে। শিক্ষক রয়েছেন ২১১ জন। পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি রয়েছে চিত্রাঙ্কন, নাচ-গান এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। বিনোদন : পড়াশোনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয় নিয়ে প্রতিটি স্কুলে ক্লাস শেষে নিয়মিত আয়োজন করা হয়। আলোচনা সভা : অবিভাবকদের নিয়ে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সভায় তুলনামূলক দুর্বল শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলের জন্য আগ্রহী করে গড়ে তোলা, অভিভাবকদের দায়িত্ববোধ তৈরি, স্কুলের এবং বাল্যবিবাহ রোধসহ বিভিন্ন সামাজিক বিষয় নিয়ে অভিভাবকদের সাথে উন্মুক্ত আলোচনা করা হয়। চিকিৎসা : চলনবিলের এসব সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের পুষ্টিজনিত কারণে মেধা শূন্যতাসহ স্বাস্থ্যহানি চরমভাবে লক্ষণীয়। শিশুদের এসব সমস্যা দূর করার জন্য শিখন স্কুলগুলোতে বছরে দুইবার ভিটামিন এ ক্যাপসুল, কৃমিনাশক ও আয়রন ট্যাবলেট এবং চক্ষু পরীক্ষার মতো চিকিৎসা প্রদান করা হয়। এসএমসি কমিটি : শিখন স্কুল পরিচালনার জন্য ১১ সদস্য বিশিষ্ট একটি এসএমসি কমিটি রয়েছে। ওই কমিটিই ভার্কের শিখন স্কুল ও কেন্দ্র পরিচালনা করেন। এছাড়া স্কুলের অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য কমিটির সদস্যগণ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বিভিন্ন সময়ে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। সমস্যা : কার্যক্রম থাকলেও নিজস্ব ভবন নেই। কার্যক্রম চলে স্থানীয়দের বাড়িতে। অনেক সময় সব স্কুলে পাঠদানের মতো পরিবেশ বান্ধব কক্ষ পাওয়া যায় না। স্কুলগুলোতে বিদ্যুৎ না থাকায় প্রচন্ড গরমে অতিষ্ট হয় শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। এলাকাবাসী যা বলেন : গুরুাদসপুর উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আব্দুল আজিজ বলেন, ভার্কের শিখন স্কুল ও ক্লাবে চলনবিলের শিশুরা বিনামূল্যে প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছে। এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে একদিন আলোকিত হবে চলনবিলের মাটি ও মানুষ। গুরুদাসপুর অফিসের মাঠ সমন্বয়কারী মো. আব্দুল আলীম খান বলেন, ভার্কের বিদ্যমান শিক্ষা পদ্ধতি ও ব্যবস্থাপনা এলাকায় বেশ সারা ফেলেছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, শিখন স্কুলে প্রত্যন্ত পাড়া গাঁয়ের শিশুরা শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. ইয়াছমিন আক্তার বলেন, শিখন স্কুলের কথা শুনেছি। খুব তাড়াতাড়ি স্কুলগুলো পরিদর্শন করব।
করতোয়া সম্পাদকসহ ৩০ জনকে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস সম্মাননা প্রদান
দৈনিক করতোয়া সম্পাদক মোজাম্মেল হকসহ ৩০ জন গুণীব্যক্তিকে শেরে বাংলা সম্মাননা- ২০১৫ প্রদান করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় শাহাবাগ কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির শওকত ওসমান স্মৃতি মিলনায়তনে ১২৯তম বার্ষিক আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস পূর্তিতে প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি\' শীর্ষক আলোচনা সভায় \'শেরে বাংলা সামাজিক সাংস্কৃতিক ফাউন্ডেশনে\'র উদ্যোগে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস সম্মাননা- ২০১৫ প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ আ.স.ম ফিরোজ এমপি। এছাড়া ফাউন্ডেশনের সভাপতি মোঃ মাহাবুবুল হাসানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রী আ.ক.ম মোজাম্মেল হক এবং বিশেষ অতিথি মশিউর রহমান রাঙ্গা, এল. জি. ই. ডি, প্রতিমন্ত্রী। সম্মাননা প্রাপ্তরা হলেন- মোঃ মোজাম্মেল হক লালু, সম্পাদক, দৈনিক করতোয়া, সফল সাংবাদিক ও সমাজসেবক, বগুড়া, মোঃ ইসরাফিল আলম, সংসদ সদস্য, নওগাঁ- ০৬, আলহাজ এড. মোঃ নরুল ইসলাম তালুকদার, সংসদ সদস্য, বগুড়া-৩, আলহাজ এড. মোঃ আলতাফ আলী, সংসদ সদস্য, বগুড়া-৭, এডভোকেট হোসনে আরা লুৎফা ডালিয়া, এম.পি, মনোয়ারা হাকিম আলী, প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট, এফ.বি.সি.সি.আই ঢাকা, রফিকুল ইসলাম, চেয়ারম্যান, রিকো ইন্টারন্যাশনাল, আলহাজ বেলাল হোসেন, চেয়ারম্যান, বেলকন ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, সাবেক চেয়ারম্যান যমুনা ব্যাংক বিশিষ্ট শিল্পপতি ও সমাজসেবক, নওগাঁ, পরিতোষ সাহা, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজ সেবক, নওগাঁ, মোঃ আনছার আলী মৃধা, বি.এস.সি অনার্স, এম.এস.সি, বিশিষ্ট সমাজসেবক ও রাজনীতিবিদ, বগুড়া, এম মাসুদ রানা, ব্যবস্থাপক পরিচালক, নওগাঁ মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিঃ ভবানীপুর, নওগাঁ, মোঃ সাবেদুল ইসলাম রনি, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, সুরমা মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিঃ নওগাঁ, মোঃ ইসমাইল হোসেন, চেয়ারম্যান, বৈশাখী অটোমেটিকস রাইস মিলস, সান্তাহার, বগুড়া, আহম্মেদ আলী সরদার (স্বপন), চেয়ারম্যান, নাহিদ অটোরাইস মিলস লিঃ নওগাঁ, এডভোকেট লোকমান আলী, সফল আইনজীবী ও সমাজ সেবক, সহ-সভাপতি আইনজীবী বার সমিতি, বগুড়া, আলহাজ মাসুম বিল্লা, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, সুন্দরী অটোরাইস ইন্ডাস্ট্রিজ, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজ সেবক, বগুড়া, সত্য নারায়ণ শাহ্, লক্ষী অটো ফ্লাওয়ার ইন্ডাস্ট্রিজ, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজ সেবক, বগুড়া, মোঃ হানিফ তালুকদার, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজ সেবক, বগুড়া, মোঃ ফেরদৌস হোসেন, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজ সেবক, বগুড়া, রাকেশ সাহা, স্বত্বাধিকারী, আজমেরী অটো ফ্লাওয়ার মিলস, সফল ব্যবসায়ী ও সমাজ সেবক, সান্তাহার, বগুড়া, মোঃ জহুরুল ইসলাম, স্বত্বাধিকারী, বুলবুল রাইস ইন্ডাস্ট্রিজ, সফল ব্যবসায়ী ও সমাজ সেবক, আদমদীঘি, বগুড়া, তম্বী রহমান লিজা, আলহাজ মোঃ হারুন-অর-রশিদ চেয়ারম্যান, এশিয়ান গ্রুপ, লায়ন ড. এম. আলমগীর হোসেন রিজিয়ান চেয়ারম্যান, লায়ন্স ক্লাব ইন্টারন্যাশনাল, বীরমুক্তিযোদ্ধা এম.আর. আমিন, বিশিষ্ট কলামিস্ট ও আয়কর উপদেষ্টা, মোঃ জাহাঙ্গীর আলম আকাশ ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বৈশাখী গ্রুপ, হাজী তরিকুল ইসলাম সজীব কাউন্সিলর, ২২নং ওয়ার্ড, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কপর্োরেশন, ইঞ্জিনিয়ার মোঃ নূরে আলম সরকার, গীতিকার, আবিদ হোসেন পাভেল, মোঃ তৌফিক মোল্লা সেতু, আলহাজ রফিকুল ইসলাম, আলহাজ আনারুল ইসলাম, মোঃ মোকছেদুল ইসলাম, মোঃ হেলাল উদ্দীন, মোঃ আলহাজ নজরুল ইসলাম, মোঃ মুক্তার হোসেন এবং শাহীন চৌধুরী প্রমুখ ।
বর্তমান সরকার বিচার বিভাগের স্বাধীনতা কুক্ষিগত করে ফেলেছে
বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেছেন, বর্তমান সরকার বিচার বিভাগের স্বাধীনতা কুক্ষিগত করে ফেলেছে। এই সরকারের সময় আইনের শাসন ভুলুন্ঠিত হয়েছে। আইনজীবীদের মানমর্যাদা রক্ষাসহ আইনজীবীরা যাতে সাধারণ মানুষের অধিকার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারে সেজন্য জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেলের প্রার্থীদের নির্বাচিত করতে হবে। তিনি গতকাল মঙ্গলবার বগুড়া আইনজীবী সমিতির গওহর আলী ভবনে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেলের প্রার্থীদের পরিচিতি সভায় একথা বলেন। বগুড়া বারের সাবেক সভাপতি এড. আফতাব উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেলের সাধারণ আসনের প্রার্থী এড. এজে মোহাম্মাদ আলী, সুপ্রিম কোর্ট বারের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন, মোঃ সানাউল্লাহ মিয়া, এবং জি গ্রুপ আসনের প্রার্থী বগুড়া বারের সাবেক সভাপতি ও সাবেক এমপি এড. একেএম হাফিজুর রহমান। আরও বক্তব্য রাখেন বগুড়া বারের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বগুড়া পৌরসভার মেয়র এড. একেএম মাহবুবর রহমান, এড. দেলোয়ার হোসেন সরকার, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য এড. আতাউর রহমান, বগুড়া আইনজীবী ফোরামের সভাপতি এড. সাইফুল ইসলাম, এড. এজেএম শামসুদ্দিন স্বপন, এড. আলী আজগর. এড. মোজাম্মেল হক, এড, কাইছারুজ্জামান, এড. ওয়াজেদুর রহমান ওয়াজেদ, এড. কাজী নজরুল ইসলাম, জেলা এলডিপি সভাপতি এড, মোখলেছুর রহমান প্রাং, এড. শাজাহান আলী খান, এড. শফিকুল ইসলাম টুকু, এড. শের আলী, এড. শেখ মোখলেছার রহমান, এড. তারিকুল ইসলাম সাচ্চু, এড. সুফিয়া বেগম কোহিনুর, এড. রফিকুল ইসলাম, এড.একে ফজলুল হক, এড. নাজমুল হুদা পপন, এড. হাবিবুজ্জামান হ্যাপি, এড. সাকিউল হাসান রুবেল, এড. আব্দুল মান্নান মন্ডল প্রমুখ। সভায় বক্তারা আগামী ২৭ মে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেলের প্রার্থীদের নির্বাচিত করার জন্য আইনজীবীদের প্রতি আহবান জানান। সভাটি পরিচালনা করেন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম বগুড়া ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক এড.আব্দুল বাছেদ। খবর বিজ্ঞপ্তির।
পবিত্র শবে বরাত ২ জুন মঙ্গলবার
আগামী ২ জুন মঙ্গলবার দিবাগত রাতে পবিত্র শবে বরাত পালিত হবে। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শাবান মাসের চাঁদ দেখা গেছে। আজ বুধবার থেকে শুরু হচ্ছে ১৪৩৬ হিজরির শাবান মাস। শাবান মাসের ১৫ তম রাতে (১৪ শাবান দিবাগত রাত) শবে বরাত পালিত হয়। সেই হিসেবে আগামী ২ জুন দিবাগত রাতই শবে বরাতের রাত। গতকাল সন্ধ্যায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বায়তুল মুকাররম সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক সামীম মোহাম্মদ আফজাল। সভায় মহাপরিচালক জানান, সকল জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়, বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর, মহাকাশ গবেষণা ও দূর আনুধাবন কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী মঙ্গলবার বাংলাদেশের আকাশে ১৪৩৬ হিজরির শাবান মাসের চাঁদ দেখা গেছে। সভায় প্রধান তথ্য কর্মকর্তা তছির আহামদ, বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব প্রফেসর মাওলানা মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন, তথ্য মন্ত্রণালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, স্পারসো, ঢাকা জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। \'ভাগ্য রজনী\' হিসেবে পরিচিত শবে বরাতের তাৎপর্যপূর্ণ রাতটি বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের মুসলমানরা নফল নামাজ, কোরআন তিলাওয়াতসহ ইবাদত বন্দেগীর মাধ্যমে কাটিয়ে থাকে।
মাহিদুর-আফসারের রায় আজ
চাঁপাইনবাবগঞ্জের মাহিদুর রহমান ও আফসার হোসেন চুটুর যুদ্ধাপরাধ মামলার রায় জানা যাবে আজ বুধবার। ১৯৭১ সালে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ এলাকায় হত্যা ও গণহত্যার সুনির্দিষ্ট তিনটি অভিযোগ রয়েছে এই দুজনের বিরুদ্ধে। দুই পক্ষের যুক্তিতর্কের শুনানি শেষে বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ গত ২২ এপ্রিল মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমান (সিএভি) রাখে। মঙ্গলবার বিচারক জানান, বুধবার সকালে এ মামলার রায় ঘোষণা করবেন তারা। ২০১০ সালের ২৫ মার্চ ট্রাইব্যুনাল গঠনের মধ্য দিয়ে যুদ্ধাপরাধের বহু প্রতীক্ষিত বিচার শুরুর পর এটি হবে অষ্টাদশ রায়। ২০১৪ সালের ১১ ডিসেম্বর মাহিদুর ও আফসারের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এ মামলার বিচার শুরু হয়। মুক্তিযুদ্ধের সময় শিবগঞ্জ উপজেলার বিনোদপুর স্কুল মাঠ ও আশেপাশের এলাকায় গণহত্যার ঘটনায় ২০১৩ সালে মাহিদুর রহমান ও আফসার হোসেন চুটুসহ ১২ জনকে আসামি করে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আদালতে একটি মামলা হয়। মামলাটি করেন গণহত্যার শিকার শহীদ পরিবারের সদস্য শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষা ইউনিয়নের পারচৌকা গ্রামের বদিউর রহমান বুদ্ধু। প্রসিকিউশনের তদন্ত দল ওই দুই জনের যুদ্ধাপরাধের অভিযোগের তদন্ত শুরু করে গতবছর ১১ ফেব্রুয়ারি। তদন্তশেষে ৭ খন্ডে ৯৫৬ পৃষ্ঠার চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরি করেন তদন্ত কর্মকর্তা। ২০১৪ সালের ১৫ সেপ্টেম\্বর শিবগঞ্জের দুর্লভপুর ইউনিয়ন থেকে মাহিদুর এবং বিনোদপুর থেকে আফসারকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ওইবছর ১৬ নভেম্বর মাহিদুর ও আফসারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করেন প্রসিকিউটর সাহিদুর রহমান। ২৪ নভেম\্বর তাদের গ্রেফতার দেখিয়ে ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ আমলে নেয়। অভিযোগ গঠনের পর প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে গতবছর ১২ জানুয়ারি শুরু হয় সাক্ষ্যগ্রহণ। এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জেডএম আলতাফুর রহমানসহ প্রসিকিউশনের মোট ১০ জন সাক্ষী আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। তবে দুই আসামির পক্ষে কোনো সাফাই সাক্ষী ছিলেন না। সাক্ষ্য-জেরা শেষে দুই পক্ষের আইনজীবীরা আদালতের সামনে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে। প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজ বলেন, দুই আসামির বিরদ্ধে আনা তিনটি অভিযোগ প্রসিকিউশন প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। তাই তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি আশা করছে প্রসিকিউশন। অন্যদিকে দুই আসামির আইনজীবীরা তাদের খালাস দেওয়ার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী আবদুস সোবহান তরফদার বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোতে উলি্লখিত অপরাধের বিচার ইতোপূর্বে হয়ে গেছে। তাই আপনারা এমন বিচার করুন, যাতে আন্তর্জাতিক মহলে এই বিচার নিয়ে প্রশ্ন না ওঠে। এ সময় ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান তাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, দেশে-বিদেশে কে কী বলল, আমরা খেয়াল করি কম। এগুলোর দোহাই দিয়েন না, ভয়ও দেখাবেন না। আমরা শপথ নিয়েছি ন্যায় বিচারের জন্য। তিনি আরও বলেন, ট্রাইব্যুনাল কোনো রায় দিলে তার বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশের বিচার বিভাগ \'শক্তিশালী\'। মাহিদুর-আফসারের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ তদন্ত সংস্থার তথ্যানুযায়ী, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় এই দুজন বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে অস্বীকার করে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীকে সহযোগিতা করার জন্য সশস্ত্র রাজাকার বাহিনীতে যোগ দেন। সশস্ত্র প্রশিক্ষণ শেষ করার পর অস্ত্র ও প্রয়োজনীয় সংখ্যক গুলি সংগ্রহ করে অন্যান্য রাজাকারের সঙ্গে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার আদিনা ফজলুল হক ডিগ্রি কলেজ দখল করে রাজাকার ক্যাম্প স্থাপন করে এলাকায় হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণ, লুণ্ঠন, অগি্নসংযোগ ও ধর্মান্তরিত করাসহ অন্যান্য মানবতাবিরোধী অপরাধ করতে থাকেন। অভিযোগ ১: ১৯৭১ সালের ৬ অক্টোবর সকাল ৬টা থেকে ৭ অক্টোবর সন্ধ্যা পর্যন্ত দুই দিনে মাহিদুর ও আফসারের সহায়তায় পাকিস্তানি দখলদার ও রাজাকার বাহিনী অপারেশন চালিয়ে ৩৯ জনকে আটক, অপহরণ, নির্যাতন করে এবং ২৪ জনকে হত্যা করে। অভিযোগ ২: ১৯৭১ সালের ১৩ অক্টোবর বেলা ১টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাহিদুর ও আফসারের সহায়তায় রাজাকার বাহিনী শিবগঞ্জের এরাদত বিশ্বাসের টোলা এবং কবিরাজ টোলা গ্রামের ৭০টি বাড়িতে লুণ্ঠন চালায় এবং আগুন ধরিয়ে দেয়। অভিযোগ ৩: ১৯৭১ সালের ২ নভেম্বর (১২ রমজান, ১৫ কার্তিক, মঙ্গলবার) বেলা ২টা থেকে পরের দিন ৩ নভেম্বর রাত পর্যন্ত তৎকালীন চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহকুমার শিবগঞ্জ থানাধীন শেরপুর ভান্ডার (লক্ষ্মীপুর), আদিনা ফজলুল হক সরকারি ডিগ্রি কলেজ, শিবগঞ্জ সিও দেভ অফিস আর্মি ক্যাম্প এবং উপজেলাসংলগ্ন ইয়াকুব বিশ্বাসের আমবাগান এলাকায় মাহিদুর ও আফসারের সহায়তায় রাজাকার বাহিনী অপারেশন চালিয়ে আটক, নির্যাতন, অপহরণ, লুণ্ঠন, অগি্নসংযোগ করে এবং চার জনকে হত্যা করে।
সালাহউদ্দিনকে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর নিতে চান
ভারত সরকারের অনুমতি পেলে বিএনপি নেতা সালাহ উদ্দিন আহমেদকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মেঘালয়ের শিলং-এ অবস্থানরত তার স্ত্রী হাসিনা আহমেদ। গতকাল মঙ্গলবার শিলং সিভিল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সালাহ উদ্দিনের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি। এছাড়া সালাহ উদ্দিনের পক্ষে কাজ করতে আইনজীবী এস পি মাহান্তের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক আব্দুল লতিফ জনি। গত ১০ মার্চ উত্তরার একটি বাসা থেকে নিখোঁজ হন। তারপর থেকে তার স্ত্রী দাবি করে আসছিল গোয়েন্দা পরিচয়ে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। গত সোমবার তাকে ভারতের মেঘালয়ে সন্ধান পাওয়া যায়। পরে চিকিৎসার শিলং হাসপাতালে ভর্তি হন। তবে অবৈধ অনুপ্রবেশ মামলার আসামি সালাহ উদ্দিনের এখনই ছাড়া পাওয়ার কোনো সুযোগ দেখছে না ভারতীয় পুলিশ। দুই মাস আগে ঢাকায় নিখোঁজ হওয়ার পর গত ১১ মে শ খানেক কিলোমিটার দূরে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের শিলংয়ে বিএনপির এই যুগ্ম মহাসচিবের সন্ধান মেলে। আচরণ অসংলগ্ন মনে হওয়ায় বাংলাদেশের সাবেক এই প্রতিমন্ত্রীকে প্রথমে একটি মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও পরে স্থানান্তর করা হয় শিলং সিভিল হাসপাতালে। সেখানেই সোমবার রাতে তার সঙ্গে দেখা করেন সাবেক এমপি স্ত্রী হাসিনা আহমেদ। ভিসা পাওয়ার পর রোববার রাতে বিমানে কলকাতার উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন তিনি।কলকাতা থেকে সোমবার সকালে রওনা হয়ে শিলং পৌঁছে সন্ধ্যায় হাসপাতালে যান সালাহ উদ্দিনের স্ত্রী। পুলিশের অনুমতি মেলার পর রাত ৯টার দিকে স্বামীর সঙ্গে ১৫ মিনিট কথা বলার সুযোগ পান তিনি। এদিকে ইস্ট খাসি হিল জেলার পুলিশ সুপার এম খাড়খাড়ং বলছেন, পুলিশ হেফাজতে চিকিৎসাধীন সালাহ উদ্দিনের এখনই ছাড়া পাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে সালাহ উদ্দিনের বিরুদ্ধে মামলার কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, এখন তার ছাড়া পাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। আমরা আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করছি। হাসপাতাল থেকে যদি পুলিশ সালাহ উদ্দিনকে আদালতে হাজির করে, তাহলে বাংলাদেশের এই নেতাকে ভারতের কারাগারে যেতে হবে বলে আইনজীবীরা জানিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তার সর্বোচ্চ শাস্তি পাঁচ বছর কারাদন্ড। আইনজীবীরা বলছেন, আদালতে হাজির করার পর যদি সরকার তাকে ফেরত পাঠানোর আবেদন করে, আদালত তা বিবেচনা করতে পারে। গতকাল স্বামীর সঙ্গে দ্বিতীয় দফায় দেখা করেন হাসিনা আহমদ। দুপুরে আসামিদের ওয়ার্ডে সাক্ষাৎ হয় স্বামী সালাহ উদ্দিন আহমেদের সঙ্গে। ছেলেমেয়ে ও পারিবারিক নানান বিষয় নিয়েই কথা হয় তাদের মধ্যে। স্বামীর সঙ্গে কথা বলার পর হাসিনা আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, তার (সালাহ উদ্দিন) শারীরিক অবস্থা খুবই খারাপ। দুই থেকে তিন মিনিটের বেশি তিনি দাঁড়িয়ে থাকতে পারেন না। তার শরীর কাঁপতে থাকে। তার হার্টের সমস্যা আছে। কিডনির অবস্থাও ভালো না। তাই জরুরি ভিত্তিতে তার চিকিৎসা প্রয়োজন। তবে এই চিকিৎসা তিনি করাতে চান সিঙ্গাপুরে। এসময় সাংবাদিকরা তাকে পাল্টা প্রশ্ন করেন, ভারতের চিকিৎসা ব্যবস্থা অনেকটা উন্নত। বাংলাদেশের অনেক লোক ভারতে হার্ট ও কিডনির চিকিৎসা করাতে আসেন। তা হলে সালাহ উদ্দিনকে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা করাতে হবে কেন? জবাবে হাসিনা আহমেদ বলেন, গত ২০ বছর ধরে সালাহ উদ্দিনের সব চিকিৎসা চলছে সিঙ্গাপুরে। তিনবার তার হার্টে অস্ত্রোপচার হয়েছে। রিং পরানো হয়েছে। তিনি সিঙ্গাপুরেই চিকিৎসা নিতে স্বাচ্ছন্দবোধ করছেন। তবে চাইলেই তো আর সালাহ উদ্দিনকে তৃতীয় কোনো দেশে নেয়া যাবে না। রয়েছে আইনের জটিলতা। ফরেনার অ্যাক্ট লঙ্ঘন করেছেন বিএনপির এই নেতা। এটি অবৈধ অনুপ্রবেশ। গুরুতর অপরাধ। এর একটা সুরাহা হতে হবে। এ ব্যাপারে হাসিনা আহমেদ বলেছেন, তিনি অপরাধ বিষয়ক একজন সিনিয়র আইনজীবীর সঙ্গে এ ব্যাপারে আলোচনা করেই পদক্ষেপ নেবেন। জানা গেছে, আজ হাসপাতালে যাওয়ার আগে হাসিনা আহমদ যান শিলংয়ের লাশুম এলাকায় অপরাধ বিষয়ক সিনিয়র আইনজীবী এসপি মাহান্তের অফিসে। কিন্তু তিনি তখন আদালতে থাকায় তার সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়নি। জুনিয়র আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বললেও তারা তাকে সঠিক পরামর্শ দিতে পারেননি। হাসিনা আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, মঙ্গলবার বিকেলেই তিনি এসপি মাহান্তের সঙ্গে কথা বলবেন। মোটকথা আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমেই তিনি স্বামীকে সিঙ্গাপুর নিয়ে যেতে চান। তিনি ভারত সরকার ও মেঘালয় পুলিশকে তার স্বামীর চিকিৎসাসহ দেখভালের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে হাসিনা আহমেদ ভারতে তার স্বামীর রাজনৈতিক আশ্রয় চাওয়ার বিষয়টি নাকচ করেন। হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সিটিস্ক্যানসহ বিএনপি নেতার কয়েকটি স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে। এসব পরীক্ষার রিপোর্ট পেলে হাসপাতাল থেকে তার ছাড়া পাওয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। পুলিশ জানিয়েছে, হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর সালাহ উদ্দিনকে আদালতে তোলা হবে।
 
 
 
জমি-বাড়ি ফ্ল্যাটে বসছে 'প্রোপার্টি ট্যাক্স'
স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা অফিস :
সারচার্জের পরিবর্তে জমি, বাড়ি ও ফ্ল্যাটে প্রোপার্টি ট্যাক্স (সম্পদ-কর) আরোপ করছে সরকার। আগামী অর্থবছরে (২০১৫-১৬) এই কর আরোপ করা হতে পারে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের নির্দেশে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এ নিয়ে কাজ শুরু করেছে বলে এনবিআর'র একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছেন। এই কর আরোপ... বিস্তারিত
 
মানবপাচারে গডফাদারদের ছাড় নয়
সালাহউদ্দিনকে ফেরাতে ভারতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা
_স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা অফিস :
বিএনপি নেতা ও সাবেক মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদকে ফিরিয়ে আনতে সরকার ভারতের সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি বলেন, মানবপাচারে জড়িত গডফাদারদের ছাড় দেওয়া হবে না। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি। সালাহউদ্দিন আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার... বিস্তারিত
 
প্রধানমন্ত্রীর শান্তির আহ্বানে বিএনপির সাধুবাদ
স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা অফিস :
শান্তির পথে আসতে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানকে সাধুবাদ জানিয়েছে বিএনপি। একই সঙ্গে বিরোধী দলের ওপর দমন-পীড়ন বন্ধ করে সংকট নিরসনে সংলাপের বসার আহ্বান জানিয়েছে দলটি। গতকাল মঙ্গলবার বিকালে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে দলের মুখপাত্রের দায়িত্বে থাকা আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, গতকাল (সোমবার) এক অনুষ্ঠানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী... বিস্তারিত
 
অভিবাসী বাংলাদেশীদের ফিরিয়ে আনবে জাতিসংঘ
কুয়ালালামপুরে ত্রিদেশীয় বৈঠক আজ ৩ শ' রোহিঙ্গাকে জায়গা দেবে ফিলিপাইন
করতোয়া ডেস্ক :
সমুদ্র পথে ট্রলারে করে অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে বিভিন্ন দেশে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে আনতে রাজি হয়েছে জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা আইওএম। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারের একটি অনুরোধে আইওএম সম্মতি দিয়েছে বলে বিবিসি বাংলা এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে।
ঢাকায় আইওএমের মুখপাত্র আসিফ মুনীরের বরাত দিয়ে বিবিসি... বিস্তারিত
 
 
ভিডিও
রাশিচক্র আজ ঢাকায় আজ বগুড়ায়
 
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের চরমপন্থিরা আত্মসমর্পণের আহ্বানে সাড়া দেবে বলে মনে করেন কি?
হ্যাঁ
উত্তর নেই
না
 
 
 
আজকের ভিউ
নামাজের সময়সূচী
ওয়াক্ত
সময়
ফজর
08:50
জোহর
1:15
আছর
05:00
মাগরিব
06:38
এশা
08:30
 
Ads Loading...
Ads Loading...
 

সম্পাদকঃ মোজাম্মেল হক, সম্পাদক কর্তৃক ন্যাশনাল প্রিন্টিং প্রেস, শিল্পনগরী বিসিক বগুড়া এবং ১৬৭ ইনার সার্কুলার রোড, (আরামবাগ) ইডেন কমপ্লেক্স, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত ও চকযাদু রোড, বগুড়া হতে প্রকাশিত।
ফোন ৬৩৬৬০,৬৫০৮০, সার্কুলেশন বিভাগঃ ০১৭১৩২২৮৪৬৬, বিজ্ঞাপন বিভাগঃ ৬৩৩৯০, ফ্যাক্সঃ ৬০৪২২। ঢাকা অফিসঃ স্বজন টাওয়ার, ৪ সেগুন বাগিচা। ফোনঃ ৭১৬১৪০৬, ৯৫৬০৬৬৯, ৯৫৬৮৮৪৬, ফ্যাক্সঃ ৯৫৬৮৫২২ E-mail : dkaratoa@yahoo.com . . . .

Powered By: