সকাল ৭:১২, রবিবার, ৩০শে এপ্রিল, ২০১৭ ইং

আজকের ই-পেপার

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: দলের নেতা-কর্মীদের ক্ষমতার অপব্যবহার করতে মানা করলেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। গতকাল শনিবার চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচলাইশে একটি কমিউনিটি সেন্টারে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি সম্মেলনে তিনি বলেন, ক্ষমতা বেশিদিন থাকে না। অনুরোধ করি ক্ষমতার অপব্যবহার করবেন না। এটা আমানত। টাকা-পয়সা বেশিদিন থাকবে না। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় না থাকলে টাকা পয়সা নিয়ে দেশে থাকতে পারবেন না। ভুল স্বীকার করে সংশোধন করতেও নেতা-কর্মীদের পরামর্শ দেন সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। নেতা হিসেবে আমার ভুল হতে পারে। প্রত্যেকে ভুল করে। আমি যদি মনে করি আমি যা করি সব ঠিক তাহলে দলও ডুববে, নিজেও ডুববেন। আমারও ভুল হয়। আমিও সংশোধন করি। দলে নতুন সদস্য নেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, পকেট ভারী করার জন্য খারাপ লোকদের দলে টানবেন না। দুঃসময় আসলে তাদের হাজার পাওয়ারের বাতি দিয়ে খুঁজে পাবেন না। চাটুকার-মোসাহেবদের কাছ থেকে দূরে থাকার আহ্বানও জানান তিনি।

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনের সঞ্চালনায় প্রতিনিধি সভায় দলের কেন্দ্রীয় সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম, প্রচার সম্পাদক হাছান মাহমুদ বক্তব্য রাখেন। মঞ্চে মহানগর আওয়ামী লীগের নির্বাহী কমিটির প্রায় সবক সদস্য উপস্থিত ছিলেন। সহ-সভাপতি প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি এবং আফসারুল আমীন প্রতিনিধি সভায় উপস্থিত ছিলেন না। অনুষ্ঠানের সঞ্চালক আ জ ম নাছির এক পর্যায়ে মঞ্চে উপস্থিত বন্দর-পতেঙ্গা আসনের সংসদ সদস্য এম এ লতিফের নাম বললে কয়েকজন প্রতিনিধি হৈ চৈ করতে থাকেন।

প্রতিনিধি সভায় চট্টগ্রাম মহানগরের অধীন বিভিন্ন থানা কমিটির নেতারা দলকে তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠিত করা, অনুপ্রবেশকারীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ, এলাকার সংসদ সদস্যদের সঙ্গে নেতাকর্মীদের দূরত্ব কমানোর দাবি তোলেন। ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ অভ্যন্তরীন দ্বন্দ্ব মিটিয়ে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেন, তৃতীয়বারের মতো দলকে ক্ষমতায় নিয়ে যেতে ঐক্যের কোন বিকল্প নেই। নিজেদের মধ্যে কোন ভেদাভেদ থাকলে তা আলোচনার টেবিলেই সমাধান করতে হবে। প্রতিনিধি সভায় চট্টগ্রাম মহানগর আওয়াম লীগের অধীন ১৫ থানা ও ৪৪টি ওয়ার্ডসহ মিলিয়ে আটশ’র মতো প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন বলে দলের এক নেতা জানিয়েছেন।

বিএনপি ‘নালিশ পার্টি’
প্রতিনিধি সম্মেলনে বক্তব্যে ওবায়দুল কাদের বিএনপিকে ‘নালিশ পার্টি’ আখ্যায়িত করেন। বিএনপি এখন খালি প্রেস ব্রিফিংয়ে ভাঙা রেকর্ড বাজায়। তারা এখন নালিশ পার্টি। একের পর এক তারা নালিশ করে যাচ্ছে, কখনও মিডিয়ায়, কখনও বিদেশিদের কাছে। ওবায়দুল কাদের বলেন, কৌশল-অপকৌশল যতই করুন শেখ হাসিনার কৌশলের কাছে রাজনৈতিক দাবা খেলায় আপনারা (বিএনপি) হেরে গেছেন। কোনো কৌশল করে আগামী নির্বাচনে আপনারা জিততে পারবেন না। ভারত নিয়ে বিএনপির বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, কিন্তু আওয়ামী লীগ সবসময় দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে বন্ধুত্ব করে। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হানিফ বিএনপিকে ‘পাকিস্তানের এজেন্ট’ আখ্যা দিয়ে বলেন, মুক্তিযুদ্ধে তাদের এজেন্ট হিসেবে জিয়াউর রহমান যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। ক্ষমতায় এসে তিনি মুক্তিযুদ্ধ বিরোধীদের পুনর্বাসন করে পাকিস্তানি ভাবধারা প্রতিষ্ঠায় কাজ করেছেন। খালেদা জিয়াও পরবর্তীতে একই কাজ করেছেন।

হেফাজতের সঙ্গে চুক্তি হয়নি
ওবায়দুল কাদের বলেন, কওমি মাদ্রাসার স্বীকৃতি দেওয়া নিয়ে হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে আওয়ামী লীগের কোনো চুক্তি হয়নি। তাদের সাথে আমরা কোনো চুক্তি করিনি। তাদের মূল ধারায় আনতে স্বীকৃতি দিয়েছি। স্বীকৃতি আর এলায়েন্সের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। হেফাজতকে নিয়ে বিএনপি ষড়যন্ত্র করেছিল বলে দাবি করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক। তারা হেফাজতকে নিয়ে আগামী ৫ মে আরেকটা শাপলা চত্বর বানানোর খায়েশ ছিল। তা আপাতত চূর্ণ বিচূর্ণ হয়ে গেছে। শফী হুজুর নিজেও তো এখন বলেন ‘জঙ্গিবাদ ইসলামের শত্রু’।

কোচিং সেন্টার-গাইড বই বন্ধে আইন হচ্ছে

কোচিং সেন্টার ও গাইড বই বন্ধ করতে এবার আইন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। ব্যবসায়ী শিক্ষকদের এ আইনের আওতায় আনা হবে বলেও জানান তিনি। শনিবার দুপুরে রাজধানীর একটি হোটেলে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের নিয়ে ‘কানেক্টিং ক্লাসরুমের ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামে বিষয়টি জানান মন্ত্রী। এর আয়োজক ছিলো ব্রিটিশ কাউন্সিল।

নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, অনেক শিক্ষক আছেন, যারা ক্লাসে ভালো করে না পড়িয়ে ক্লাসের বাইরে কোচিং সেন্টার খুলে সেখানে ভালো করে পড়ান। তাদের এ ব্যবসা বন্ধ করতে আইন করা হচ্ছে। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষকরা আমাদের মাথার মণি। আমি শিক্ষকদের নিয়ে গর্ববোধ করি। তাদের সর্তক থাকতে হবে, যেন কুলাঙ্গাররা এর মধ্যে ঢুকতে না পারে। বিশ্বমানের শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মকে আমাদের বিশ্বমানের শিক্ষা দিতে হবে। যাতে দক্ষতা-যোগ্যতা দিয়ে বিশ্বের যেকোনো দেশে কাজ করতে পারে। দক্ষতা-যোগ্যতা না থাকলে দেশেই কাজ পাবে না। মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দলীয় শিক্ষানীতি নয়, জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়ন করেছে। এজন্য ২০০৯ সালের শিক্ষানীতিতে জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়ে সমর্থন দিয়েছে। নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, এখন অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করার সময়। আমি বিশ্বাস করি, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ব্রিটিশ কাউন্সিলের যৌথ উদ্যোগ শিক্ষার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। শিক্ষার লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হবে। ঢাকার ব্রিটিশ কাউন্সিলের কান্ট্রি ডিরেক্টর বারবারা উইকহ্যাম বলেন, শিক্ষার্থীদের একুশ শতকের জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করানো আমাদের লক্ষ্য। আর এ লক্ষ্য অর্জনে আমরা শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করে যাচ্ছি। এতে তারা শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা দিতে পারবেন।

বিশেষ প্রতিবেদন

সুজানগরে খাল-বিল শুকিয়ে চৌচির নৌকা নিয়ে বিপাকে মৎস্যজীবীরা

শেখ তৌফিক হাসান, সুজানগর (পাবনা) : চলতি শুষ্ক মৌসুমে পাবনার সুজানগরের অধিকাংশ খাল-বিল এবং নদী-নালা শুকিয়ে চৌচির হয়ে গেছে। এতে উপজেলার মৎস্যজীবীরা তাদের নৌকা রক্ষা করা নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। সেই সাথে খাল-বিল এবং নদী-নালা শুকিয়ে যাওয়ায় মৎস্যজীবীরা বেকার হয়ে পড়েছেন। এদের মধ্যে ২/৪জন স্বচ্ছল মৎস্যজীবী দূর-দূরান্তের মৎস্য খামার বা নদী-নালার মাছ কিনে এনে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করলেও বেশিরভাগ মৎস্যজীবী তা পারছেন না।

উপজেলা মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ঐতিহাসিক গাজনার বিলসহ উপজেলায় ছোট-বড় ২০/২৫টি খাল-বিল এবং নদী-নালা রয়েছে। আর উপজেলার প্রায় ৩হাজার মৎস্যজীবী এসব খাল-বিল এবং নদী-নালায় নৌকা চালিয়ে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। কিন্তু চলতি শুষ্ক মৌসুমে ঐতিহাসিক গাজনার বিলসহ উপজেলার অধিকাংশ খাল-বিল এবং নদী-নালা শুকিয়ে গেছে। এমনকি গ্রামগঞ্জে ব্যক্তি পর্যায়ে খনন করা বেশিরভাগ পুকুরও পানিশূন্য। ফলে যে সকল মৎস্যজীবী ওই সকল খাল-বিলে নৌকার সাহায্যে মাছ ধরে থাকেন তারা তাদের নৌকা রক্ষা করা নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। উপজেলার বাদাই গ্রামের ভুক্তভোগী মৎস্যজীবী সমির কুমার জানান, আমরা মৎস্যজীবীরা নৌকার সাহায্যে খাল-বিলে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে থাকি। কিন্তু বর্তমানে উপজেলার খাল-বিল শুকিয়ে যাওয়ায় নৌকা রাখার মত পানি পাচ্ছিনা। ২/৪ জন মৎস্যজীবী আশপাশের পুকুরে তাদের নৌকা ডুবিয়ে রক্ষা করতে পারলেও বেশিরভাগ নৌকা শুকিয়ে যাওয়া খাল-বিলে পড়ে নষ্ট হচ্ছে। পাশাপাশি খাল-বিল শুকিয়ে যাওয়ায় মাছ ধরতে না পেরে বেশিরভাগ মৎস্যজীবি তাদের পরিবারপরিজন নিয়ে অত্যন্ত কষ্টে দিনাতিপাত করছে বলেও ভুক্তভোগীরা জানান।

রাজশাহী বিভাগ

মোকামতলায় নিখোঁজ গৃহবধূর লাশ পুকুর থেকে উদ্ধার

মোকামতলা (বগুড়া) প্রতিনিধি : বগুড়া মোকামতলায় গৃহবধু নিখোঁজের ৩দিন পর পুকুর থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এঘটনায় তার শাশুড়িসহ ৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

জানা গেছে, শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা ইউনিয়নের ভাগকোলা গ্রামের মোতাছিন আলীর ছেলে আমিনুর ইসলাম ৫ বছর আগে একই উপজেলার রায়নগর ইউপির সেকেন্দ্রাবাদ গ্রামের আমিনুর রহমানের মেয়ে মরিয়ম বেগমকে (২৫)  বিয়ে করেন। তাদের ঘরে রয়েছে মিতু নামের ১৩ মাস বয়সী মেয়ে সন্তান। হঠাৎ গত ২৭ এপ্রিল সকাল ৯টার পর মরিয়ম রহস্যজনক ভাবে নিখোজ হয়। আত্মীয়-স্বজন বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজির পর তার সন্ধান না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়ে।

এদিকে নিখোজের ৩ দিন পর গতকাল শনিবার মরিয়মের বাড়ী থেকে ৫শ’ গজ দূরে করতোয়া নদীর (বেলতলা ঘাট) একটি ডোবায় তার লাশ ভেসে উঠে। পরে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। এঘটনায় ওই গৃহবধূর স্বামী আমিনুর ও তার বাবা মোতাছিন পালিয়ে গেলেও শাশুড়ি আমেজা বেগম, দাদা শ্বশুর মজিবুর রহমান এবং খালু শ্বশুর মুক্তার হোসেনকে আটক করে পুলিশ।

নিহত মরিয়মের বাবা আমিনুর রহমান বলেন, নিখোজ হওয়ার আগের দিন পারিবারিক দ্বন্দ্ব হয়। তার ধারণা তার মেয়েকে হত্যা করে পানিতে ফেলা রাখা হয়েছে। মোকামতলা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মিজানুর রহমান বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৩ জনকে আটক করা হয়েছে। ময়না তদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

আজকের ই-পেপার
ফেইসবুক

ফেনীতে পুলিশের ব্লক রেইড, আটক ৪

ফেনী প্রতিনিধি: ফেনীতে পুলিশের জঙ্গি বিরোধী অভিযান ‘ব্লক রেইডে’ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চার জনকে আটক করা হয়েছে। গতকাল শনিবার শহরের বিভিন্ন স্থানে এ অভিযান চালানো হয় বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার এস এম জাহাঙ্গীর আলম সরকার। তিনি বলেন, শহরের পাঠানবাড়ি, রামপুর, মাস্টারপাড়া ও সহদেবপুরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে বাড়ির মালিক ও ভাড়াটিয়াদের আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে জাতীয় পরিচয়পত্রসহ প্রয়োজনীয় তথ্য নিকটস্থ থানায় জমা দিতে বলা হয়। এ সময় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চার জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানান তিনি। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মনিরুজ্জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল) উক্য সিং মার্মা, ফেনী মডেল থানার ওসি রাশেদ খাঁন চৌধুরীসহ চার শতাধিক পুলিশ এ অভিযানে অংশ নেয়।

 

 

 

মানসিক যুদ্ধ জয়ে মাশরাফির দুই মন্ত্র

লম্বা সফর। বিরুদ্ধ কন্ডিশন। শক্ত প্রতিপক্ষ। ক্রিকেটীয় স্কিলের পরীক্ষা, শারীরিক সামর্থ্যেরও। তবে মাশরাফি বিন মুর্তজার মতে, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিত সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জটা মানসিক। তার কাছে যেটি যুদ্ধের মত। সেই যুদ্ধ জয়ের মন্ত্রও জানা আছে অধিনায়কের। থাকতে হবে পরিবারের মতো। জিততে হবে ম্যাচ।

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির জন্য সবার আগে ইংল্যান্ডে যাচ্ছে বাংলাদেশ দল। বুধবার রাতেই দেশ ছাড়বে দল। সাসেক্সে প্রস্তুতি ক্যাম্প দিন দশেকের। সেখান থেকে ৭ মে দল যাবে আয়ারল্যান্ডে। খেলবে ত্রিদেশীয় সিরিজে। এরপর জুনের ‍শুরুতে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি। সব মিলিয়ে দীর্ঘদিনের সফর।

মঙ্গলবার সফরপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে মাশরাফি বললেন প্রত্যাশা, সম্ভাবনা নিয়ে। জোর দিলেন মানসিক প্রস্তুতিতে। “আমরা কিভাবে মানসিক প্রস্তুতি নিব, সেটার উপর অনেক কিছু নির্ভর করে। পুরো দলেরই যেটা থাকা উচিত, সেটা হলো মানসিকভাবে দ্রুত প্রস্তুত হওয়া। যদি মানসিকভাবে প্রস্তুত না হতে পারি, তাহলে ২০-২৫ দিনের প্রস্তুতি ক্যাম্পও তেমন একটা কাজে দিবে না।”

“আমার কাছে মনে হয় না, ২০-২৫ দিনের প্রস্তুতি নিয়ে আমরা সেখানে চ্যাম্পিয়ন হয়ে যাব। তবে যদি মানসিকভাবে প্রস্তুত হতে পারি, তাহলে অনেক দূর এগোতে পারব। এখানে মানসিক যুদ্ধটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। বড় বড় দলের বিপক্ষে তাদের কন্ডিশনে খেলা; কিছুটা শীত থাকবে, গ্রীষ্মের শুরু যেহেতু। কাজটা সহজ হবে না। ওরা যতটা সহজে পারবে, আমাদের তার চেয়ে দুই গুণ বেশি কষ্ট হবে। সুতরাং আমরা যদি সুস্থ থাকি এবং লড়াইয়ের মানসিক প্রস্তুতি নিতে পারি, তাহলে আশা করি, ভালো খেলা হবে।”

মানসিক প্রস্তুতি যেমন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকাটা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জও। অতীত অভিজ্ঞতা বলে, শঙ্কার কারণ আছে যথেষ্টই। বিশেষ করে এরকম লম্বা সফরে। লম্বা সফরের শেষ দিকে মানসিক ক্লান্তি ও শ্রান্তি পেয়ে বসে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের। মাঠে চেয়ে বেশি টানে দেশ, বাড়ি। এবার কাজটা আরও কঠিন। কারণ মূল লক্ষ্য যেটি, সেই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিই থাকবে শেষ দিকে। টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই এক মাসের বেশি হয়ে যাবে বাংলাদেশের সফর!

শঙ্কা যে আছে, সেটি স্বীকার করে নিচ্ছেন মাশরাফিও। তবে সেটিকে জয় করার পথটাও তার জানা। অধিনায়ক মনে করিয়ে দিলেন অস্ট্রেলিয়া-নিউ জিল্যান্ডে ২০১৫ বিশ্বকাপের সাফল্যকে।

“একটা ভয় থাকে, সফরের শেষের দিকে আমরা ক্লান্ত হয়ে যাই। আগের ইতিহাস বলে, শেষের দিকে এমন হয়েছে, একটা সেশন খুব ভালো খেলে পরের সেশনটা খুব খারাপ হয়েছে। তবে অস্ট্রেলিয়া বিশ্বকাপে আমরা পুরো টুর্নামেন্ট ভালো খেলতে পেরেছিলাম। জয়ের ভেতরে ছিলাম, পয়েন্ট টেবিলে এমন একটা অবস্থায় ছিলাম যে কোয়ার্টারে ওঠার উত্তেজনা ছিল। ক্লান্তি তাই সেভাবে আসেনি। আমার মনে হয়, শুরুর জয়গুলো এই ক্লান্তির ব্যাপারটা দূর করতে পারে। এবার যেটা আয়ারল্যান্ডে করতে পারি। জয়ের ভেতরে থাকলে ভেতরের অনুভূতি খুব ভালো থাকে।”

“আরেকটা ব্যাপার, দলে এক সঙ্গে ১৭-১৮ জন থাকবে, তাদের এক সঙ্গে থাকাটা  গুরুত্বপূর্ণ। সবসময় সবার সময় মসৃণ যাবে না। তবু সবাইকে এক সঙ্গে থাকতে হবে। বিশেষ করে যাদের খারাপ সময় যাবে, তাদেরকে দলের অংশ করে রাখাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। পরিবারের মতো থাকতে হবে। এই দুই ব্যাপার হয়ত আমরা করতে পারি।”

মাশরাফির নেতৃত্বে বাংলাদেশের সাফল্যের মূল মন্ত্রই ছিল দলীয় ঐক্য। এবার মাশরাফির নেতৃত্বের আরও একটি পরীক্ষা। অধিনায়ক মাশরাফি জিতলে, জিতে যাবে বাংলাদেশও!

 

আইন-আদালত
আর্ন্তাজাতিক
তথ্যপ্রযুক্তি

‘শাকিব যে মনে করছে এটা চক্রান্ত তা ঠিক না’ বললেন অপু বিশ্বাস

বিনোদন রিপোর্টার : নানা আলোচিত ঘটনা শেষে এবারের বাংলা নববর্ষের প্রথম বিকেলে একসঙ্গে সময় কাটিয়েছেন অপু বিশ্বাস, শাকিব খান ও তাদের একমাত্র সন্তান আব্রাহাম খান জয়। এরপর শাকিব পাবনায় ‘রংবাজ’ ছবির শুটিংয়ে চলে যান। তবে মাঝে দুই দফায় ঢাকায় আসেন তিনি।

 

এ সময় কি অপু ও শাকিবের মধ্যে দেখা বা কথা হয়েছে? এমন প্রশ্নের জবাবে অপু বিশ্বাস বলেন, দেখা হয়েছে তবে তেমন কোনো কথা হয়নি। শাকিব অনেক ব্যস্ত ছিল। এটা নিয়ে আমার কোনো আফসোস নেই। উল্লেখ্য, অপু বিশ্বাস টিভি লাইভে আসার কারণে শাকিব বেশ মনক্ষুন্ন হন। এ বিষয়ে কি ভাবছেন জানতে চাইলে অপু বিশ্বাস বলেন, শাকিব কেনো আমাকে ভুল বুঝছে এটা আমি জানি না। আমার কাছে মনে হয় যে, টুডে ওর টুমরো তো বলতেই হতো।


 তাই না। শাকিবের হয়তোবা মনে হয়েছে এখনই কেন আমি বললাম। এ বিষয়টা তো আমি আগেও বলেছি। যখন আমাদের বাচ্চা হয়ে গেল তখন মনে হয় শাকিবের এ বিষয়টি নিয়ে মানসিক প্রস্তুতি নেয়া উচিত ছিল। তবে সে কেন এখনো এ বিষয়টাকে এমন ভাবছে জানি না। তবে শাকিব যে মনে করছে এটা চক্রান্ত তা ঠিক না। যদি চক্রান্ত করার ইচ্ছে থাকতো তাহলে বিগত আট বছরে অনেক বিষয় নিয়েই চক্রান্তে জড়াতে পারতাম। তখন যেহেতু করি নি তাই এখনো সেটার সম্ভাবনা নেই।

 

অপু বিশ্বাস আরো বলেন, শুধু একটা কথা স্পষ্টভাবে বলতে চাই-যখন আমাদের সন্তান হয়ে গেছে তখন তার কথা ভেবে সবার সামনে এসেছি। আমার সন্তানের বিবেক বুদ্ধি হবার আগে আমি সবার সঙ্গে তাকে পরিচয় করে দিয়েছি। আর বিষয়টি ও বড় হবার পর ঘটলে হয়তোবা তার ধারনা হতে পারতো যে, সে পৃথিবীতে আসাতে কি তার বাবা-মা কোনো বিপদে পড়েছিল। আর  তাই এতদিন তারা তা প্রকাশ করতে পারে নি।


এসব অনেক বিষয় আমি চিন্তা করেছি। আমার বাচ্চার বয়স গেল ২৭শে এপ্রিল সাত মাসে পড়েছে মাশাআল্লাহ। আমার সন্তান যেন বড় হবার পর আনন্দে থাকে, কষ্ট যেন না পায়। আট-দশটা সেলেব্রেটির সংসারের মতো আমার সন্তানও যেন গর্ব করে বলতে পারে আমার বাবা-মাও জনপ্রিয় সেলিব্রিটি। যেটা মৌসুমী আপা ও সানী ভাইয়ের ছেলে-মেয়ে বলতে পারছে। তাই আমার এটাকে ভুল সিদ্ধান্ত বলে মনে হয় না। শাকিবের ঘরে কবে ফিরবেন? এমন প্রশ্নের বাবে অপু বলেন, শাকিব তো বলেই সংসার ছিল। আমি আমার সন্তানকে সময় দিতে চাই। আর আমাকে তো কাজে ফিরতে হবে।


এসব নিয়ে এখন ভাবছি না। সবকিছু ভাগ্যের উপর ছেড়ে দিয়েছি। আমার বাচ্চাটা হবার সময়ও শাকিব খান অনেক ব্য¯স্তছিল। যেটা হচ্ছে এটা ভাগ্যের লিখন। এটা নিয়ে ক্ষোভ, চাওয়া পাওয়া নেই আমার। শাকিব খান তো চান অপু বিশ্বাস কাজ না করে সংসার করুক, এ বিষয়টা কিভাবে দেখছেন? এ প্রসঙ্গে অপু বলেন, শাকিব এবং আমি দু’জনই পেশাগত শিল্পী। সেখান থেকেই পরিচয়, বিয়ে এবং সংসার। আমি একটা উদাহরণ টেনে বলতে চাই, আমাদের ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান একজন মহাতারকা। তিনি এত বড় তারকা হবার পরও তার স্ত্রী শিশিরকে মিডিয়ার সামনে এনেছেন।


 তাহলে আমি তো আগে থেকেই মিডিয়াতে কাজ করছি। ঘরের মানুষকে সাকিব আল হাসান বাইরে পপুলার করেছেন। আর শাকিব খান পপুলার মানুষকে ঘরে বসিয়ে রাখতে চাইছেন! তাই এটা নিয়ে এখন কিছু মন্তব্য না করে আমি সময়ের হাতে ছেড়ে দিলাম। এদিকে অপু বিশ্বাস অভিনীত বুলবুল বিশ্বাসের ‘রাজনীতি’ ছবিটি সেন্সরে জমা হয়েছে। এ ছবিটি নিয়ে তিনি বলেন, এটি আমার অনেক পছন্দের একটি ছবি। শাকিব খানও এ ছবিতে রয়েছেন। ছবিটি দর্শক পছন্দ করবেন বলে আশা করছি। এ ছবির পাশাপাশি ‘পাঙ্কু জামাই’ ও ‘মা’ ছবিরও অনেকাংশ কাজ করেছি আমি।

নতুন ছবি নিয়ে কবে কাজে ফিরবেন অপু বিশ্বাস? এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, খুব শিগগিরই ফিরব। দুই মাসের মধ্যে ফেরার ইচ্ছে রয়েছে। এক মাস আগে থেকেই নিয়মিত ব্যায়াম ও ডায়েট করছি। দু’মাসের মধ্যে ফিট হয়ে নতুন ও পুরানো কাজে হাত দিব। সামনে অনেক চমক নিয়ে আসছি। দর্শকদের এজন্য একটু অপেক্ষায় থাকার অনুরোধ রইল।

শিক্ষা
অর্থ-বাণিজ্য
ধর্ম
সাহিত্য
লাইফস্টাইল
স্বাস্থ্য
Go Top