সকাল ৬:১৬, সোমবার, ২৩শে জানুয়ারি, ২০১৭ ইং

আজকের ই-পেপার

সংসদ রিপোর্টার : সমৃদ্ধ ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষ্যে সরকারের প্রচেষ্টা ‘ব্যাপক সাফল্য’ পেয়েছে মন্তব্য করে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, ২০৪১ সালে উন্নত দেশের কাতারে যাওয়ার যে ল্য নেওয়া হয়েছে তা অর্জন হবে বলে আশাবাদী তিনি।

রাষ্ট্রপতি বলেন, আমি দৃঢ়ভাবে আশাবাদী যে রাষ্ট্র ও সমাজের সর্বস্তরে সুশাসন সুসংহতকরণ, গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ এবং জনগণের সর্বাত্মক অংশগ্রহণের মাধ্যমে আমরা এসব ল্য অর্জনে সম হব। এজন্য দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি।

রোববার জাতীয় সংসদে বছরের প্রথম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নির্মূলেও সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। আবদুল হামিদ বলেন, একটি গণতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যে থেকে জাতির অগ্রযাত্রার আকাঙ্াকে বাস্তব রূপ দিতে বর্তমান সরকারের প্রয়াস অব্যাহত রয়েছে। শান্তি, গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির যে পথে আমরা হাঁটছি, সে পথ ধরেই বাংলাদেশ আরও বহু দূর এগিয়ে যাবে এবং বিশ্বসভায় একটি উন্নত দেশ হিসাবে আপন মহিমায় উদ্ভাসিত হবে। ‘রূপকল্প-২০২১’ এবং দিনবদলের সনদের ভিত্তিতে প্রণীত প্রেতি পরিকল্পনা ও ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার আওতায় বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং এ কার্যক্রমে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের ফলে আর্থ-সামাজিক েেত্র গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু হওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তিতে বাংলাদেশ মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হবে এবং ২০৪১ সালে বিশ্বসভায় একটি উন্নত দেশের মর্যাদায় অভিষিক্ত হবে, এটাই জাতির প্রত্যাশা। ‘রূপকল্প-২০২১’, দিনবদলের সনদ ও এসডিজি’র ল্যমাত্রা অর্জন এবং বিভিন্ন পরিকল্পনায় গৃহীত কর্মসূচির যথাযথ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে জাতির এ প্রত্যাশা অবশ্যই পূরণ হবে।”

বিকাল ৪টায় স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হয়। সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন। অধিবেশন শুরুর পর সংসদ সদস্য মনজুরুল ইসলাম লিটনের মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব গ্রহণ হয়। এর পর রেওয়াজ অনুযায়ী অধিবেশন মুলতুবি করেন স্পিকার। পরে সন্ধ্যা ৬টায় আবার অধিবেশন শুরু হয়। কোনও সংসদের প্রথম এবং নতুন বছরের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেওয়ার বিধান রয়েছে। পরে পুরো অধিবেশনজুড়ে তার ভাষণের ওপর আলোচনা করবেন সংসদ সদস্যরা। আলোচনা শেষে রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ জানিয়ে সংসদে একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়। সংসদের মুলতুবি বৈঠক শুরুর পরে স্পিকার রাষ্ট্রপতির আগমনের ঘোষণা দিলে সশস্ত্র বাহিনীর একটি বাদক দল বিউগলে ‘ফ্যানফেয়ার’ বাজিয়ে রাষ্ট্রপতিকে সম্ভাষণ জানান। সংসদ কে রাষ্ট্রপতি ঢোকার পর নিয়ম অনুযায়ী জাতীয় সংগীত বাজানো হয়। সংসদে রাষ্ট্রপতির জন্য স্পিকারের ডান পাশে লাল রঙের গদি সম্বলিত চেয়ার রাখা হয়। স্পিকারের অনুরোধের পর রাষ্ট্রপতি তার লিখিত ভাষণের সংপ্তিসার পড়া শুরু করেন। এসময় তার মূল বক্তব্য পঠিত বলে গণ্য করার জন্য স্পিকার শিরীন শারমিনকে অনুরোধ জানান আবদুল হামিদ। স্পিকারের আসনের বাম পাশে রাখা ‘রোস্ট্রামে’ দাঁড়িয়ে ভাষণ দেন তিনি। ১১৯ পৃষ্ঠার ভাষণের সংপ্তিসারে রাষ্ট্রপতি অর্থনীতি, বাণিজ্য-বিনিয়োগ, খাদ্য-কৃষি, পরিবেশ-জলবায়ু, শিা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন খাতে সরকারের কার্যক্রম ও সাফল্য তুলে ধরেন। এছাড়া দেশে আইনের শাসন সুসংহত ও সমুন্নত রাখা এবং সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে সরকারের কার্যক্রমের প্রশংসা করেন রাষ্ট্রপতি।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের কথা তুলে ধরে আবদুল হামিদ বলেন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান সমুন্নত এবং সংসদীয় গণতন্ত্রের ধারা অব্যাহত রেখে ২০১৪ সালে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে দশম জাতীয় সংসদ গঠিত হয় এবং বর্তমান সরকারের ওপর দেশ পরিচালনার গুরুদায়িত্ব অর্পিত হয়। গত মহাজোট সরকারের ধারাবাহিকতায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আজীবন লালিত স্বপ্ন ‘সোনার বাংলা’ গড়ার প্রত্যয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার ‘রূপকল্প-২০২১’, দিনবদলের সনদ এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আলোকে ুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত একটি প্রগতিশীল, গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার ল্েয নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে একটি মধ্য আয়ের, জ্ঞানভিত্তিক, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধিশালী ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ গড়ে তোলার ল্েয সরকারের নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টা ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছে। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে নিম্ন মধ্য আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে। এখন জাতির দৃষ্টি নিবদ্ধ রয়েছে ২০৪১ সালের দিকে-বিশ্বসভায় একটি উন্নত দেশের মর্যাদায় অভিষিক্ত হওয়ার মানসে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি সরকার উন্নয়নের এ ধারা অব্যাহত রেখে জাতির আকাঙ্া পূরণে সম হবে। রাষ্ট্রপতি বলেন, একাত্তরের শহীদদের কাছে আমাদের অপরিশোধ্য ঋণ রয়েছে, আসুন ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে এবং দল-মত-পথের পার্থক্য ভুলে জাতির গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার মাধ্যমে আমরা লাখো শহীদের রক্তের ঋণ পরিশোধ করি।

 

লিটন হত্যাকারীদের কঠোর শাস্তির অঙ্গিকার প্রধানমন্ত্রীর

সংসদ রিপোর্টার : গাইবান্ধা-১ আসনের সংসদ সদস্য মনজুরুল ইসলাম লিটনের হত্যাকারীদের খুঁজে বের করে শাস্তি নিশ্চিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, বিএনপি-জামায়াত জোটের ভয়াল তান্ডব ও সন্ত্রাসী জনগণকে সঙ্গে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন সংসদ সদস্য লিটন। যুদ্ধাপরাধী গোলাম আযমকেও তাঁর এলাকায় প্রবেশ করতে দেয়নি। এটাই হয়তো ছিল এমপি লিটনের বড় অপরাধ। এলাকার মানুষের শান্তি ও স্বস্তি নিশ্চিত করেছিল বলেই হয়তো তাঁকে এভাবে অকালে জীবন দিতে হলো। এ হত্যাকান্ড অবশ্যই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যেভাবে কঠোর অবস্থা নিয়েছি, তেমনিভাবেই লিটন হত্যাকারীদের খুঁজে বের করে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।  
 রোববার বিকেলে দশম জাতীয় সংসদের চৌদ্দতম অধিবেশনে শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি একথা বলেন। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে শুরু হওয়া সংসদ অধিবেশনে এই আলোচনায় আরো অংশ নেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, প্রবীণ পার্লামেন্টারিয়ান সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট মো. ফজলে রাব্বি মিয়া, চিফ হুইপ আসম ফিরোজ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, জুনাইদ আহমেদ পলক, হুইপ মাহাবুব আরা গিনি, এ কে এম শামীম ওসমান, মীর শওকত আলী বাদশা ও জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদ।  বক্তাদের বেশিরই হত্যাকান্ডের শিকার মনজুরুল ইসলাম লিটনকে নিয়ে গণমাধ্যমের কিছু গণমাধ্যমের ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করেন। আলোচনার পর সর্বসম্মতিক্রমে শোক প্রস্তাবটি গৃহীত হয়।  
প্রধানমন্ত্রী আন্দোলনের নামে বিএনপি-জামায়াতের চরম তান্ডব, পুড়িয়ে মানুষ হত্যা ও নাশকতার বিবরণ তুলে ধরতে গিয়ে বলেন, গাইবান্ধাসহ পুরো উত্তরাঞ্চলই বিএনপি-জামায়াত জোট সন্ত্রাস ও জঙ্গিদের অভয়ারণ্য পরিণত করেছিল। ২০১৩ ও ২০১৫ সালে গাইবান্ধাসহ আশেপাশের এলাকায় প্রচন্ড সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালায় জামায়াত-শিবির ও বিএনপির সন্ত্রাসীরা। পুলিশ ফাঁড়িয়ে আক্রমণ চালিয়ে ৪ পুলিশ সদস্যকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে তারা। সেখানে আওয়ামী লীগের এক থেকে দেড় হাজার সদস্যদের বাড়ি-গাড়ি, দোকানপাট ও ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করেছিল জোটের সন্ত্রাসীরা।  সংসদ সদস্য লিটনের নির্বাচনী এলাকা জামায়াত অধ্যুষিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্বাচনের বানচালের নামে বিএনপি-জামায়াত জোটের সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্য দিবালোকে অস্ত্র নিয়ে হাজার হাজার গাছ কেটে রাস্তায় অবরোধ করে সারাদেশের মতো ওই এলাকাতেও বিভীষিকাময় পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছিল। যখন ওই এলাকার জনগণ বিএনপি-জামায়াত জোটের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুললো, তখন এমপি হিসেবে নয়, একজন এলাকার সাধারণ মানুষ হয়ে মনজুরুল ইসলাম লিটন নেতৃত্ব দিয়েছে। এটাই যেন এমপি লিটনের জীবনে কাল হয়ে দেখা দিলো। তাদের অগ্নিসন্ত্রাস লিটন রুখে দিয়ে ওই এলাকায় মানুষের মধ্যে শান্তি ও স্বস্তি ফিরিয়ে দিয়েছিল। এটা যেন ছিল লিটনের বড় অপরাধ। এজন্যই তাঁকে টার্গেট করা হলো।  
শিশু সৌরভ গুলিবিদ্ধ হওয়া নিয়ে ওই সময় কিছু গণমাধ্যমের কঠোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংসদ সদস্য লিটন কেন একটি শিশুকে গুলি করবে? শিশু সৌরভের পরিবারও তো আওয়ামী লীগ করতো। লিটনকে হত্যার জন্য ওই সময় এ্যামবুশ করে বসেছিল। এটা দেখে লিটন নিজের জীবন বাঁচাতেই ফাঁকা গুলি করে। এটা নিয়ে কিছু পত্র-পত্রিকাগুলো এমনভাবে লিখলো, কিন্তু কেউ সত্য ঘটনাটি লিখলো না। তিনি বলেন, সে বারবার বলছিল যেখানেই যাই সেখানেই নিজের নিরাপত্তা নিজেকেই দিতে হয়। নইলে আমাকে মেরে ফেলা হবে। কিন্তু তাঁর, স্ত্রীসহ সবার অস্ত্র সিজ করা হলো। নির্বাচনের কথা বলে পুলিশের নিরাপত্তাও তুলে নেওয়া হলো। এই সুযোগেই হত্যাকারীরা বাড়িতে ঢুকে নির্মমভাবে লিটনকে হত্যা করে।বিএনপি-জামায়াত মতায় থাকতে সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া, সংসদ সদস্য আহসান উলাহ মাস্টার হত্যাকা-, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব ঘটনার তদন্ডেই বেরিয়ে এসেছে এসব ঘটনার সঙ্গে বিএনপি-জামায়াত জোটই জড়িত ছিল। তিনি বলেন, আমরা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করছি। লিটন গোলাম আযমকে তাঁর এলাকায় নামতে দেয়নি। এরই যেন প্রতিশোধ নেয়া হলো। যেখানেই আওয়ামী লীগের কেউ শক্ত হয়ে দাঁড়াচ্ছে তাদেরই হত্যা করা হচ্ছে। সংসদ সদস্যদের প্রবল দাবির মুখে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, গোয়েন্দাদের একটি চৌকষ দল ছাড়াও পুলিশ বাহিনী খুনীদের ধরতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। অবশ্যই হত্যাকারী ও মুল পরিকল্পনাকারীদের ধরে তাদের মুখোশ জাতির সামনে উন্মোচন করা হবে। তিনি বলেন, এমপি লিটন যুদ্ধাপরাধী ও স্বাধীনতাবিরোধীদের বিরুদ্ধে জনগণের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। গোলাম আযমকে তাঁর এলাকায় ঢুকতে দেয়নি। যা তার মৃত্যুর কারণ হতে পারে। তবে তদন্তেই আসল ঘটনা বেরিয়ে আসবে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সংসদ সদস্য মনজুরুল ইসলাম লিটনের হত্যাকান্ডকে পরিকল্পিত উলেখ করে বলেন, এটা গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ। পরিকল্পিতভাবেই তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। অবশ্যই এ হত্যাকান্ডের মুল রহস্য উদঘাটন এবং খুনীদের গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনতে হবে।  
তোফায়েল আহমেদ বলেন, অত্যন্ত প্রতিকূল অবস্থার মধ্যে জামায়াত-শিবির অধ্যুষিত এলাকায় লিটনকে রাজনীতি করতে হয়েছে। বিএনপি-জামায়াত জোটের সন্ত্রাস-নাশকতার ও ৪ পুলিশ হত্যার বিরুদ্ধে লিটন জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রূখে দাঁড়িয়েছিল। এটাই ছিল যেন তাঁর অপরাধ। তিনিও দ্রুত খুনিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান। সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এমপি লিটন হত্যাকান্ডের জন্য বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়াকে দায়ী করে বলেন, সন্ত্রাস-নাশকতা-সাম্প্রদায়িকতার বিরদ্ধে যুদ্ধ করে গেছেন এমপি লিটন। এই হত্যাকান্ডের মূল নায়ক হচ্ছে বিএনপি-জামায়াত জোট ও তাদের নেত্রী খালেদা জিয়া। এজন্য অবশ্যই তাঁকে জবাব দিতে হবে। অগণতান্ত্রিক অপশক্তির নেত্রীই হচ্ছেন খালেদা জিয়া।  ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বি মিয়া আবেগজড়িত কণ্ঠে বলেন, অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবেই লিটনকে হত্যা করা হয়েছে। একটি শিশু গুলিবিদ্ধ হওয়া নিয়ে দেশের মিডিয়া যেন লিটনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিল। শত চেস্টা করেও লিটনের সিজ করা অস্ত্র ফেরত আনা যায়নি। পেলে হয়তো তাঁকে এভাবে জীবন দিতে হতো না।  জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদ নিরাপত্তা দাবি করে বলেন, তিনশ’ জনকে নাকি দেহরী দিয়ে নিরাপত্তা দেওয়া হয়। দেশে তো ৩০০ এমপি নেই। তবে বাকি ভিআইপি কারা তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে জানাতে হবে। অতীতে যারা এমপিদের হত্যা করেছে তারা পুরস্কৃত হয়েছে। আগামীতে লিটনের হত্যাকারীরাও পুরস্কৃত হবে কি না জানিনা। এই হত্যার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

বিশেষ প্রতিবেদন

ছুটির দিনে কেনা কাটার ধুম বাণিজ্য মেলায়

এরশাদ আলী : ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা শেষ হতে আর মাত্র ১০ দিন বাকী। শেষ দিকে মেলায় ক্রেতা-দর্শণার্থীর ভীড় বাড়বে এমনটা অনুমিতই ছিল। কিন্তু সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায়  শুক্রবার মেলায় মানুষের ভীড় সেই অনুমান ছাড়িয়ে যায়। মানুষের ঢল নামে মেলায়। ক্রেতা-দর্শণার্থীর পদচারনায় মুখরিত হয়ে ওঠে মেলা প্রাঙ্গণ। তবে এদিন মেলায় ঘুরে বেড়ানোর চেয়ে কেনাকাটাতেই ব্যস্ত ছিলেন দর্শণার্থীরা। তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না স্টল-প্যাভিলিয়নগুলোতে। ক্রেতাদের সামলাতে হিমশিম খাচ্ছিলেন বিক্রেতারা।

ছুটির দিনে শীতের মিষ্টি রোদে সকাল থেকেই মানুষের ভীড় দেখা যায় মেলায়। মানুষের ভীড়ের ভোগান্তি এড়াতে আগেভাগেই পরিবার পরিজন নিয়ে মেলায় হাজির হন অনেকে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে   এবং শেষ বিকেলে মেলা প্রাঙ্গণে দেখা যায় মানুষের উপচেপড়া ভীড়। এদিন মেলায় দর্শণার্থীদের কেনাকাটার প্রতি ঝোঁক ছিল বেশি। মেলায় আগতদের প্রত্যেকের হাতেই দেখা গেছে পণ্যসামগ্রীর প্যাকেট। অনেকের হাতে একাধিক প্যাকেটও দেখা গেছে। মূলত মেলার শেষ দিকে বিভিন্ন পণ্যে আকর্ষণীয় ছাড়ের কারনেই বিক্রি বেড়েছে বলে একাধিক ক্রেতা-বিক্রেতা জানান।

রাজধানীর ধোলাই খাল থেকে পরিবার নিয়ে মেলায় আসেন ব্যবসায়ী রকি। তিনি একটি স্টলের পাশে অনেকগুলো প্যাকেট হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন। তাকে বাইরে রেখে সাথে আসা বাসার মহিলা সদস্যরা ভিতরে কেনাকাটায় ব্যস্ত ছিলেন। তিনি জানান, মেলায় ঘুরতে আসলেও তারা কেনাকাটায় বেশি সময় দিচ্ছেন। বিশেষ করে মহিলারা বাসার প্রয়োজনীয় অনেক কিছু কিনছেন। মেলায় ছাড়ের কারনে এবং অনেক কোম্পানীর বিভিন্ন ধরনের পণ্য একসাথে পাওয়ায় ক্রেতারা আকৃষ্ট হচ্ছেন বলে তিনি জানান। বরাবরের মতো গৃহস্থালীর পণ্য এবং প্লাস্টিক সামগ্রীর স্টল এবং প্যাভিলিয়নগুলোতে ছিল মানুষের উপচেপড়া ভীড়। আরএফএল প্লাস্টিক, আপন প্লাস্টিক এবং বেঙ্গল প্লাস্টিকের প্যাভিলিয়নে ক্রেতাদের ভীড় এবং বিক্রিও ছিল চোখে পড়ার মতো। ক্রেতা আকৃষ্ট করতে তাদের মধ্যে এক ধরনের ছাড়ের প্রতিযোগিতা দেখা গেছে। আরএফএল তাদের বিভিন্ন পণ্যে ছাড়ের ছাড়ের পাশাপাশি র‌্যাফেল ড্র, সেলিব্রিটি ডিনার সহ আরও অনেক পুরষ্কারের ব্যবস্থা করেছে। মেলায় তাদের অনেক নতুন পণ্যও দেখা গেছে। এছাড়া কসমেটিক্স, শাড়ি, থ্রিপিস, ইলেকট্রনিক পণ্য, শিশুদের খেলনার স্টলগুলোতেও ছিল ক্রেতাসমাগম। ছেলেদের ব্লেজার, টিশার্ট, জুতা-স্যান্ডেলসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্যের স্টলগুলোও ছিল ক্রেতামুখর। হ্যাভেন হারবালের স্টলে নারী-পুরুষের সমান ভীড় দেখা গেছে। পারফিউপম, হেয়ার কালার, ফেসওয়াস, টুথপেস্ট, তেলসহ  তাদের বিভিন্ন পণ্যে একটি কিনলে একটি ফ্রি অফার ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। তাদের বিক্রি বেশ ভালো বলে জানান বিক্রেতারা। আগামী দিনগুলোতে তাদের বিক্রি আরও বাড়বে বলে  আশা প্রকাশ করেন। এদিকে টিভি, ফ্রিজ, ফার্নিচারের প্যাভিলয়নগুলোতে বিক্রি তুলনামূলক কম হলেও দর্শণার্থীদের ভীড় ঠিকই ছিল। ক্রেতারা প্যাভিলয়নগুলোতে সাজানো এসব পণ্য দেখছেন এবং বিভিন্ন অফার সম্পর্কে খোঁজখবর নিচ্ছেন। কোম্পানির লোকেরাও ক্রেতা আকর্ষণ করতে ছাড়ের পাশাপশি বিভিন্ন সুবিধা দিচ্ছেন।

আকতার ফার্নিচারের একজন কর্মকর্তা জানান, মেলায় বিক্রি তেমন না হলেও তাদের মূল লক্ষ্য মেলায় অংশ নিয়ে পণ্যের পরিচিতি বাড়ানো। এছাড়া মেলায় তাদের ১ লাখ টাকার পণ্য কিনলে লটারির মাধ্যমে ১ লাখ টাকার ক্যাশ ব্যাকের সুবিধা রেখেছেন। আরো আছে হোম ডেলিবাড়ির সুবিধা। তবে ওয়ালটনের প্যাভিলিয়নে দর্শণার্থীদের ভীড় এবং বিক্রি ছিল জমজমাট। টিভি ফ্রিজ, ল্যাপটপ, মোবাইল, আয়রন, কফি মেকার, ওয়াশিং মেশিন সহ তাদের ২০ টি পণ্য ক্রেতাদের আকৃষ্ট করেছে। তবে মেলায় খাবারের রেস্তোরাঁগুলোতে দাম বেশি রাখা হচ্ছে বলে শুরু থেকে যে অভিযোগ ছিল তা এখনো অব্যাহত রয়েছে। প্রকৃত দামের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি রাখা হচ্ছে বলে অনেকে জানান। ভ্যাটের নামে বেশি টাকা রাখা হলেও কাস্টমারদের কোন রশিদ দেয়া হয় না বলে তাদের অভিযোগ। এ নিয়ে বেশিরভাগ মানুষকেই অসন্তোশ প্রকাশ করতে দেখা যায়। রেস্তোরাঁয় কর্মরতদের সাথে বাকবিতন্ডায়ও জড়াতে দেখা যায় অনেককে। তারা এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। গত ১ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২২তম ঢাকা আন্তার্জাতিক বাণিজ্য মেলার (ডিআইটিএফ) উদ্বোধন করেন। বাংলাদেশ রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ মেলার আয়োজন করছে। বাংলাদেশ ছাড়াও আরও ২১টি দেশ এ মেলায় অংশগ্রহণ করছে। আগামি ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত মেলা চলবে।
 

 

রাজশাহী বিভাগ

গাইবান্ধার অপহৃত স্কুলছাত্র বগুড়ায় উদ্ধার, আটক ২


গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে অপহৃত এক স্কুলছাত্রকে বগুড়ার সোনাতলা উপজেলা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে; এ ঘটনায় পুলিশ আটক করেছে দুইজনকে।

রতন ইসলামকে (১৫) বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার কোচারপুর এলাকা থেকে শুক্রবার সন্ধ্যায় উদ্ধার করা হয় বলে জানান গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ থানার এসআই হাফিজুর রহমান।

রতন গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার গুমানিগঞ্জ ইউনিয়নের পারগয়ড়া গ্রামের সৈয়দ জামানের ছেলে ও পারগয়ড়া উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র।

আটককৃতরা হলেন – আবু হায়াত মো. রাসেল (২০) ও মামুন সরকার (১৮)।

রাসেল গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার গুমানিগঞ্জ ইউনিয়নের গোয়ালপাড়া গ্রামের আব্দুল মজিদ আকন্দের ছেলে ও গাজীপুরের ভাউয়াল বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র।

মামুন গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাপমারা ইউনিয়নের রামপুরা গ্রামের আব্দুল মালেকের ছেলে ও গোবিন্দঞ্জের কামদিয়া ডিগ্রি কলেজের উচ্চমাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র।

এসআই হাফিজুর বলেন, “বৃহস্পতিবার বিকালে রতনকে তার গ্রাম থেকে বেড়ানোর কথা বলে নিয়ে অপহরণ করেন রাসেল ও মামুন। তারা তার পরিবারের কাছে মোবাইল ফোনে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন।”

রতনের বাবা সৈয়দ জামান গোবিন্দগঞ্জ থানায় অভিযোগ দিলে মোবাইল ফোন ট্র্যাক করে রতনকে উদ্ধারসহ দুইজনকে আটক করা হয় বলে জানান এসআই হাফিজুর।

গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসি সুব্রত কুমার সরকার জানান, আটক দুইজনসহ রতনকে বগুড়া থেকে গোবিন্দগঞ্জ আনার পর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

 

কুষ্টিয়ায় ট্রলির ধাক্কায় স্কুলছাত্র নিহত

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি : কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলায় ট্রলির ধাক্কায় শাকিল আহমেদ (১১) নামে এক স্কুলছাত্র নিহত হয়েছে। গতকাল রোববার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার কুর্শারপুল পাড়ায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। বিকেলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যায়। শাকিল কুর্শা ইউনিয়নের পুলপাড়ার নুর ইসলামের ছেলে ও কুর্শা এন.কে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র।

মাজিহাট পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান জানান, সকালে সাইকেলে করে স্কুলে যাচ্ছিল শাকিল। পথে কুর্শারপুল পাড়ায় পৌঁছালে একটি ট্রলি তার সাইকেলটিকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। এতে গুরুতর আহত হয় সে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। কুর্শা এন.কে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি মোহন আলী লাল  জানান, গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে বিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যায়।

ক্রিকেটার আরাফাত সানি রিমান্ডে

তথ্যপ্রযুক্তি আইনে এক তরুণীর দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার ক্রিকেটার আরাফাত সানিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য, এক দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠিয়েছে আদালত। এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার এসআই ইয়াহিয়া  রোববার সানিকে ঢাকার হাকিম আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। শুনানি শেষে মহানগর হাকিম প্রণব কুমার হুই এক দিনের হেফজত মঞ্জুর করেন। আরাফাত সানির আইনজীবী রকিবুল ইসলাম এই রিমান্ডের বিরোধিতা করেন। অন্যকদিকে বাদীপরে আইনজীবী জুয়েল আহমেদ এর বিরোধিতা করেন। আদালত পুলিশের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা নিজামউদ্দিন  জানান, হাকিম আদালত তথ্যশপ্রযুক্তি আইনের মামলায় জামিন দেওয়ার এখতিয়ার রাখে না। আসামি জামিন চাইলে তাকে সাইবার ট্রাইব্যুনালে আবেদন করতে হবে। গত ৫ জানুয়ারি এক তরুণী এই ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে তথ্য প্রযুক্তি আইনের এই মামলা করেন বলে মোহাম্মদপুর থানার ওসি জামাল উদ্দিন মীর জানান। তিনি বলেন, আরাফাত সানির সঙ্গে বেশ কয়েক বছর ধরে সম্পর্ক বলে ওই তরুণীর দাবি। তারা পরিবারকে না জানিয়ে বিয়েও করেন। সম্প্রতি তুলে নেওয়ার কথা বললে সানি ভুয়া অ্যা কাউন্ট খুলে ফেইসবুকে তার অশ্লীল ছবি আপলোড করেন। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে রোববার সকাল ৮টার দিকে আমিন-বাজারের বাসা থেকে পুলিশ আরাফাত সানিকে গ্রেপ্তার করে বলে মোহাম্মদপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জানে আলম মুন্সী জানান। মামলার এজাহারের তথ্য  অনুযায়ী, ২৩ বছর বয়সী ওই তরুণীর বাসা মোহাম্মদপুরের কাটাসুর এলাকায়। মেয়েটির দাবি, সাত বছর আগে সানির সঙ্গে তার পরিচয় ও প্রেম হয়। ২০১৪ সালের ডিসে¤॥^রে তারা পরিবারকে না জানিয়ে বিয়ে করেন। এরপর বিয়ের বিষয়টি পরিবারকে জানিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে নেওয়ার কথা বললেও সানি সময় পেণ করতে থাকেন বলে ওই তরুণীর অভিযোগ। মামলার এজাহারে বলা হয়, পরিবার থেকে বিয়ের জন্যত চাপ থাকায় ওই তরুণী সানিকে বলেন, হয় তাকে তুলে নেওয়া হোক, না হলে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচ্ছেদের ব্যুবস্থা করা হোক।
এরপর গত বছর জুন মাসে সানি ফেইসবুকে একটি ভুয়া অ্যা কাউন্ট খুলে মেসেঞ্জারের মাধ্যামে তাদের কিছু অন্তরঙ্গ ছবি এবং ওই তরুণীর কয়েকটি ছবি তাকে পাঠান এবং নানাভাবে হুমকি দিতে শুরু করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে এজাহারে। তবে ৩০ বছর বয়সী সানির মা নার্গিস আক্তার মোহাম্মদপুর থানার সামনে সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, তার ছেলে কোনো অপরাধ করেনি। টাকার লোভে ওই মেয়ে তাকে ‘ফাঁসানোর’ চেষ্টা করছে। ওই তরুণী সানির সঙ্গে বিয়ের দাবি করলেও কোনো কাবিননামা দেখাতে পারেনি বলে দাবি করেন নার্গিস। বাংলাদেশ জাতীয় দলে বাঁহাতি স্পিনার সানির অভিষেক হয় ২০১৪ সালে। দেশের হয়ে সর্বশেষ তিনি খেলেছেন গতবছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। তার আগে ২০১৫ সালের নভেম্ব^রে জিম্বাবুয়ের বিপে সিরিজে দেশের হয়ে শেষ ওয়ানডে খেলেন। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সময় অবৈধ বোলিং অ্যাকশনের কারণে তাসকিন আহমেদের সঙ্গে আরাফাত সানিকেও নিষিদ্ধ করে আইসিসি। বোলিং অ্যাকশন সংশোধনের পর এখনও জাতীয় দলে ফেরা হয়নি সানির। গত বছরের শেষ দিকে রংপুর রাইডার্সের হয়ে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে অংশ নেন তিনি। শ্রীলঙ্কার দিনুকা হেতিয়ারাচ্চির পর দ্বিতীয় বোলার হিসেবে টি-টোয়েন্টিতে শূন্য রানে ৩ উইকেট নিয়ে তিনি আলোচনাতেও এসেছিলেন। আরাফাত সানির বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে বিসিবির মিডিয়া কমিটির প্রধান জালাল ইউনুস  বলেন, আগে সম্পূর্ণ ঘটনা জানতে চান তারা। আমরা এখনো পুরো ব্যাপারটা জানি না। আইসিটি অ্যাক্টে সানিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমরা ভিতরের ব্যাপারটা জানার চেষ্টা করছি। এরপর মন্তব্য করতে পারব।

আইন-আদালত
আর্ন্তাজাতিক
তথ্যপ্রযুক্তি

জামিন পেলেন কল্যাণ কোরাইয়া

গাড়ির ধাক্কায় আলোকচিত্রী জিয়া ইসলাম আহত হওয়ার ঘটনায় গ্রেফতার অভিনেতা কল্যাণ কোরাইয়াকে অন্তবর্তীকালীন জামিন পেয়েছেন। ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম কায়সারুল ইসলাম  সোমবার আসামিপক্ষের আবেদনের শুনানি করে কল্যা।ণের জামিন মঞ্জুর করেন।

বাদীপক্ষের অন্যিতম আইনজীবী শুভ্র সিনহা রায় রনি জানান, দুই হাজার টাকা মুচলেকায় মামলার তদন্ত প্রতিবেদন অর্থাৎ অভিযোগপত্র অথবা চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল পর্যন্ত জামিনে থাকতে পারবেন কল্যারণ কোরাইয়া। বাদীপক্ষের অপর আইনজীবী প্রশান্ত কর্মকার  জানান, আসামিকে কারাফটকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য যুক্ত করে এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কলাবাগান থানার এস আই ওমর ফারুক খান সোমবার আদালতে প্রতিবেদন দিয়েছেন। সেখানে তদন্ত কর্মকর্তা বলেছেন, জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু তথ্যও মিলেছে, যা যাচাই বাছাই করা হচ্ছে। তারপরও এ মামলার সবগুলো ধারাই জামিনযোগ্য বলে বিচারক আসামিকে জামিন দিয়েছেন বলে জানান প্রশান্ত। গত ৯ জানুয়ারি মধ্যরাতে রাজধানীর পান্থপথে বসুন্ধরা সিটির সামনে প্রাইভেট কারের ধাক্কায় আহত হন মোটর সাইকেলে থাকা জিয়া। তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর কল্যাইণও সেখানে গিয়েছিলেন। পরদিন সন্ধ্যালয় এই অভিনেতা ফেইসবুকে ‘আই এম ইনোসেন্ট’ লিখে স্ট্যায়টাস দিলে তা অনেকের নজরে পড়ে।

পুলিশও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য  তাকে থানায় ডেকে নেয়। এরই মধ্যেয প্রথম আলোর নিরাপত্তা ব্য্বস্থাপক অবসরপ্রাপ্ত মেজর সাজ্জাদুল কবির কলাবাগান থানায় কল্যানণের নামে মামলা করেন। রাতেই কল্যানণকে গ্রেপ্তার করার কথা জানানো হয় পুলিশের পক্ষ থেকে। গত ১১ জানুয়ারি কল্যাণকে আদালতে তোলা হলে রিমান্ড ও জামিনের আবেদন নাকচ করে তাকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে কারাফটকে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেয় আদালত। পরে গত রোববার কল্যাণের পক্ষে তার নতুন আইনজীবী ফারুক মিয়া জামিনের আবেদন করলেও সেদিন জিজ্ঞাসাবাদ সংক্রান্ত পুলিশ প্রতিবেদন আদালতে না আসায় এবং আসামির আগের আইনজীবীর অনুমতি না নিয়ে নতুন আইনজীবী আবেদন করায় বাদীপক্ষের আইনজীবীরা জামিনের বিরোধিতা করেন।

শিক্ষা
অর্থ-বাণিজ্য
ধর্ম
সাহিত্য
লাইফস্টাইল
স্বাস্থ্য