সকাল ৬:৪১, সোমবার, ২৭শে মার্চ, ২০১৭ ইং

আজকের ই-পেপার

স্বাধীনতার বার্ষিকীতে একাত্তরের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে জাতীয় স্মৃতিসৌধে এসে জঙ্গিবাদমুক্ত সমৃদ্ধ বাংলাদেশের প্রত্যাশার কথা বলেছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। রোববার সারাদেশে উদযাপিত হচ্ছে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস; যেখানে শ্রদ্ধা নিবেদনের মূল কেন্দ্রে ছিল সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ। ভোর ৬টায় জাতির পক্ষ থেকে জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর এই শ্রদ্ধা নিবেদন পর্বের পর উন্মুক্ত করে দেওয়া হয় স্মৃতিসৌধের ফটক; বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি অনেকে ব্যক্তিগতভাবে কিংবা পরিবার-পরিজন নিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে আসেন।

এবার জাতীয় স্মৃতিসৌধে যখন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত হাজার হাজার মানুষের স্রোত, তখন সিলেটে একটি জঙ্গি আস্তানা ঘিরে অভিযানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে চলা এই অভিযানের মধ্যেই শনিবার রাতে পর পর দুটি বিস্ফোরণে দুই পুলিশ সদস্যসহ ছয়জন নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহত হয়েছেন র‌্যাবের একজন কর্মকর্তাসহ দুই জন।

গত স্বাধীনতা দিবসের পর থেকে এবছর পর্যন্ত বাংলাদেশকে দেখতে হয়েছে গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে সারাবিশ্বকে নাড়া দেওয়া জিম্মি সংকটের ঘটনা। এরপর পুরো সময়জুড়ে সারাদেশের বিভিন্ন স্থানে চলেছে জঙ্গিবিরোধী নানা অভিযান।

তাই জঙ্গিবাদ রুখতে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ করার আহ্বান ফিরে ফিরে এসেছে বিভিন্ন সংগঠনের নেতা আর সাধারণ মানুষের মুখে। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার বলেন, “এ বছর আমরা গণহত্যা দিবসের স্বীকৃতি জাতীয় সংসদে পেয়েছি, যেটা গতকাল পালিত হয়েছে। স্বীকৃতি পাওয়াটা আমাদের একটি অর্জন।

“কিন্তু যে পাকিস্তানীদের পরাজিত করে আমরা দেশ স্বাধীন করেছি তাদের দোসর জামাত-বিএনপি অস্তিত্ব নিয়ে টিকে আছে। তারা এবং জঙ্গিদের রুখতে ঐক্যবদ্ধ হওয়া এখন জরুরি।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফয়জুন্নেসা চৌধুরাণী ছাত্রীনিবাসের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাতে আসেন উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী অন্তরা দে।

তিনি বলেন, “স্বাধীনতার এত বছর পর এসে জঙ্গিবাদীরা এমনভাবে হামলা-আক্রমণ চালাবে সেটা সত্যিই মেনে নেওয়া যায় না। তাদেরকে কঠোর হাতে দমন করার শপথ এখান থেকে নেওয়া উচিত।”

এ বছর থেকে গণহত্যা দিবস জাতীয়ভাবে স্বীকৃত হওয়ায় আশাবাদী হওয়ার কথা জানিয়ে এর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির দাবি তোলেন এই শিক্ষার্থী। জাতীয় স্মৃতিসৌধে মানুষের স্রোত চলার মধ্যে সকাল সাড়ে ৯টায় বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

সকাল গড়িয়ে দুপুরেও চলে চলতে থাকে মানুষের এই শ্রদ্ধা নিবেদন। বিভিন্ন স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থীদের দেখা গেছে স্কুল-কলেজের পোশাকে শ্রদ্ধার ফুল নিয়ে স্মৃতির মিনারে হাজির হতে।

সকালে ভাইস চেয়ারম্যান আবু ওসমান চৌধুরীর নেতৃত্বে স্মৃতি একাত্তরের সেক্টর কমাণ্ডারস ফোরামের নেতাকর্মীরা স্মৃতিসৌধে আসেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরুর সময়ে ৮ নম্বর সেক্টরের কিছু ঘটনা শুনিয়ে নিরস্ত্র সাধারণ মানুষ কীভাবে স্বাধীনতার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েছিল তার বর্ণনা দেন ওই সেক্টরের কমান্ডার আবু ওসমান চৌধুরী।

রক্ত দিয়ে অর্জিত সেই স্বাধীন দেশে জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের কর্মকাণ্ড তাকে ‘আহত’ করে জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি, আর দুর্বৃত্তরা চাচ্ছে আমাদের অধিকার করে নিতে। সন্ত্রাসীরা ধর্মীয় অনুশাসনের কথা শুনিয়ে তাদের পক্ষে নিয়ে যাচ্ছে। এটা আমরা মেনে নিতে পারি না।

“এই সময়ে জনগণকে বুঝাতে হবে, সন্ত্রাসীদের রুখতে হবে এবং দেশের সব অগ্রগতি নির্ভর করবে তাদেরকে নিয়ন্ত্রণে রাখার মধ্যে।” স্মৃতিসৌধে জনতার স্রোতে দেখা গেছে সাভারের পক্ষাঘাতগ্রস্তদের পুনর্বাসন কেন্দ্রে (সিআরপি) চিকিৎসাধীন একদল প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে, যাদের অনেকে হুইল চেয়ারে চেপে কিংবা কারও হাতে ভর করে আসেন স্মৃতিসৌধে।

স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাতে এসে জঙ্গিবাদ মোকাবেলায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। তিনি বলেন, “মু্ক্তিযুদ্ধের ঐক্যবদ্ধ চেতনাই পারে আমাদের সকল স্বপ্ন সফল করতে। মুক্তিযোদ্ধারা তাদের জীবন দিয়ে আমাদের জন্য স্বাধীন দেশ দিয়ে গেছেন। এখন সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ মোকাবেলায়ও আমাদেরকে মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক সেই চেতনাকে ভিত্তি হিসেবে ধরতে হবে।”

শ্রদ্ধা জানানোর সারিতে মেয়েকে নিয়ে এসেছিলেন সাভারের আকমল হোসেন; পরন লাল-সবুজ পোশাক আর মুখে জাতীয় পতাকা আঁকা ছিল পাঁচ বছর বয়সী আফিফা জেরিনের।

শিশুমনে ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা গেঁথে’ দেওয়াকে আফিফার সেখানে আসার কারণ হিসাবে উল্লেখ করেন ব্যবসায়ী আকমল। “আমরা তো শিশুদের ইতিহাস জানাই না। এ কারণে জঙ্গিবাদীরা তাদের পথভ্রষ্ট করতে পারে। ও নিজে আসুক এবং দেখুক- এতে করে সবার মধ্যে শহীদদের আত্মত্যাগের চেতনা ছড়াবে।”

মুক্তিযুদ্ধের পরের ‘সামরিক শাসন ও বিএনপি-জামাতের দুঃশাসনকে’ দেশে জঙ্গিবাদ উত্থানের কারণ উল্লেখ করে তা প্রতিরোধের আহ্বান এসেছে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের কাছ থেকে।

স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী মেনন বলেন, “দুঃশাসনের ধারাবাহিকতায় দেশে জঙ্গিবাদের উত্থান হতে পেরেছে। এখন সেটা ভয়াবহ আকারে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। জঙ্গিবাদ মোকাবেলায় এবং দেশের ধারাবাহিক অগ্রযাত্রার জন্য মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে ক্ষমতায় রাখা এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।”

সজাগ (সমাজ ও জাতি গঠন) নামক সংগঠনের কর্মীরা প্রতিবারের মতো এবারও জাতীয় পতাকা মিছিল ও লাল-সবুজ পোশাক পরে শ্রদ্ধা জানাতে আসেন স্মৃতিসৌধে। এছাড়া জাতীয় শ্রমিক লীগসহ কয়েকটি সংগঠনকেও দেখা গেছে জাতীয় পতাকার মিছিল নিয়ে আসতে।

জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ নিয়ে অনেকের শঙ্কা ও হতাশার মধ্যে জাতীয় স্মৃতিসৌধে মানুষের উপস্থিতি দেখে আশাবাদ ঝরেছে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নার কণ্ঠে।

তিনি বলেন, “সিলেটে জঙ্গি আস্তানায় অভিযান, বিমানবন্দর এলাকায় হামলাসহ কোনো কিছুকে মানুষ বাধা মনে করেনি। এখানে আসা লোকগুলো তার প্রমাণ। অনেক হতাশার মাঝেও তারা চায় ঐক্যবদ্ধ থাকতে। জনগণের সেই শক্তিকে এক করে রাখতে পারলে আমরা গণতন্ত্রের সব সিঁড়ি পেরোতে পারব, পৌঁছাতে পারব উন্নতির সোপানে।”

 

সিলেটে আস্তানায় নিহত ২ জঙ্গি, ভেতরে আরও আছে: সেনাবাহিনী

সিলেটের দক্ষিণ সুরমার আস্তানায় অন্তত দুজন জঙ্গি মারা পড়েছেন বলে সেনাবাহিনী জানিয়েছে; তবে ভেতরে আরও জঙ্গি থাকায় অভিযান অব্যাহত থাকছে। দক্ষিণ সুরমা এলাকার শিববাড়ীর পাঠানপাড়ার আতিয়া মহল ঘিরে অভিযানের তৃতীয় দিন রোববার বিকালে সর্বশেষ পরিস্থিতি জানান সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফখরুল আহসান।

ভেতরে অবস্থানরত জঙ্গিরা বেশ কৌশলী জানিয়ে তিনি বলেছেন, অভিযানে ‘ভালো’ ঝুঁকি রয়েছে। ফলে বলা যাচ্ছে না, কখন তা শেষ হবে।

 

বিশেষ প্রতিবেদন

দ্রুতই পুনর্গঠন সম্পন্ন করতে চায় বিএনপি

রাজকুমার নন্দী : ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয়ে ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হলেও এক বছরেও গুছিয়ে উঠতে পারেনি দলটি। কাউন্সিলে অনুমোদিত হলেও প্রকাশ হয়নি বিএনপির গঠনতন্ত্র। পুরোপুরি কার্যকর হয়নি ‘এক নেতার এক পদ’ নীতি। দলের মন্ত্রণালয়ভিত্তিক উপ-কমিটিগুলোও এখনো আলোর মুখ দেখেনি। স্থায়ী কমিটিসহ কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির কয়েকটি পদ এখনো শূন্য রয়েছে। এক বছরেও ডাকা হয়নি বিএনপির নির্বাহী কমিটির বর্ধিত সভা। শেষ হয়নি তৃণমূল পুনর্গঠন প্রক্রিয়াও। কিন্তু তারপরেও কাউন্সিলের এক বছরের অর্জনে সন্তুষ্ট বিএনপি। তবে এসব কমিটি গঠনে ধীরগতির জন্য বিএনপির ওপর ক্ষমতাসীনদের দমন-পীড়ন, হামলা-মামলাকে অনেকাংশেই দায়ী করছে দলটি।

বিএনপির নেতারা বলছেন, দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটিসহ ইতোমধ্যে জাতীয়তাবাদী যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দল ও জাসাসের কমিটি দেয়া হয়েছে। ঢাকা মহানগর কমিটিও যেকোনো দিন ঘোষিত হবে। নির্বাচন কমিশন গঠনে একটি সুনির্দিষ্ট রূপরেখাও দেয়া হয়েছে। একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের চেয়ারপারসন শিগগিরই নিরপেক্ষ সহায়ক সরকারের রূপরেখাও দেবেন। এরপর নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের দাবিতে প্রয়োজনে বেগম জিয়া রাজপথেও নামতে পারেন। সেজন্য দ্রুতই পুনর্গঠন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে চায় বিএনপি।

গত বছর রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে অনুষ্ঠিত বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলের দিনই খালেদা জিয়া দলের চেয়ারপারসন এবং তার বড় ছেলে তারেক রহমান সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান পুনর্র্নির্বাচিত হন। এরপর ৩০ মার্চ মহাসচিব পদে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম ঘোষণা করা হয়। কাউন্সিলের সাড়ে চার মাস পর গত ৬ আগস্ট ঘোষণা করা হয় ৫০২ সদস্যের ‘ঢাউস’ জাতীয় কমিটি। তখন ১৯ সদস্যের স্থায়ী কমিটির ১৭ জনের নাম ঘোষণা করে বিএনপি। তবে হান্নান শাহ মারা যাওয়ায় তার পদসহ এখন তিনটি পদ খালি রয়েছে। মৃত্যুজনিত কারণে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের কয়েকটি পদও শূন্য হয়েছে। এছাড়া নির্বাহী কমিটিতে আন্তর্জাতিক সম্পাদকের দুইটি, ছাত্র ও সহ-ছাত্রবিষয়ক দুইটি এবং যুববিষয়ক সম্পাদকের একটি পদ এখনো শূন্য রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দৈনিক করতোয়াকে বলেন, কমিটি গঠন একটি চলমান প্রক্রিয়া। সাংগঠনিক এই প্রক্রিয়ার কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সীমা থাকে না, এটি চলতে থাকে। ইতোমধ্যে দলের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা হয়েছে। কিছু অঙ্গ সংগঠনের কমিটিও হয়েছে, বাকিগুলোও খুব শিগগিরই হবে। জেলা সম্মেলন করছি, কমিটিগুলোও হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, আমাদের মনে রাখতে হবে-দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিও এখন বিএনপির প্রতিকূলে। দলের চেয়ারপারসন থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হাজার হাজার মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ প্রক্রিয়া এখনো চলছে। বিএনপিকে যেভাবে নির্যাতন-নিপীড়নের মধ্য দিয়ে নির্মুল করে দেয়ার চেষ্টা হচ্ছে, সেখানে আমরা যে এখনো সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারছি, মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছি, সেটিই বিএনপির সবচেয়ে বড় ভিত্তি, বড় অর্জন। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত যতটুকু কাজ হয়েছে তাতে আমরা সন্তুষ্ট।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জনের পর দল পুনর্গঠনে নামে বিএনপি। ওই নির্বাচন ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়ার পর ৪ ফেব্রুয়ারি বিএনপির চেয়ারপারসন সংবাদ সম্মেলনে দল পুনর্গঠনের ঘোষণা দেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত তৃণমূল পুনর্গঠন সম্পন্ন হয়নি। বর্তমানে ৮০টি সাংগঠনিক জেলার মধ্যে এখন পর্যন্ত ৩৪টি জেলায় আংশিক কমিটি হয়েছে। এদিকে, দলে এখন পর্যন্ত এক নেতার এক পদের বিধানও পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি। কাউন্সিলের পর নতুন কমিটিতে একাধিক পদধারী ৬১ জন নেতা ছিলেন। তারা কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির পদের পাশাপাশি মহানগর-জেলা-উপজেলা কমিটি অথবা বিএনপির অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পদে রয়েছেন। তবে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল, ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহানসহ প্রায় অর্ধ-শতাধিক নেতা ইতোমধ্যে একাধিক পদ ছেড়ে দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে বিএনপির তৃণমূূল পুনর্গঠনের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা মো. শাহজাহান দৈনিক করতোয়াকে বলেন, দলে ‘এক নেতার এক পদ নীতি’ কার্যকর শুরু হয়েছে। ১০-১২ জন ছাড়া অন্যরা একটি পদ রেখে বাকিগুলো ছেড়ে দিয়েছেন। শিগগিরই এটি পুরোপুরি কার্যকর হবে।

জানা যায়, কাউন্সিলে গঠনতন্ত্র অনুমোদনের পর তা প্রকাশ করার দায়িত্ব দেয়া হয় স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানকে। তবে সমন্বয়কের দায়িত্বে থাকায় তিনি এখন কুমিল্লা সিটি নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত। নির্বাচন শেষে ঢাকায় ফিরলেই দলীয় গঠনতন্ত্র প্রকাশ করা হবে। বিএনপির গঠনতন্ত্র প্রকাশ প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, এটা প্রায় প্রস্তুত হয়ে আছে। কিন্তু একটু সময় লাগছে। আওয়ামী লীগও তো তাদের গঠনতন্ত্র প্রকাশ করেনি। আশা করছি, আমরা শিগগিরই তা প্রকাশ করতে পারব। এদিকে, বিএনপি এখনো মন্ত্রণালয়ভিত্তিক উপ-কমিটিও দিতে পারেনি। গঠনতন্ত্রে ২৬টি উপ-কমিটির কথা রয়েছে। সেখানেও প্রায় ৩০০ নেতার ঠাঁই মিলবে। উপ-কমিটি গঠনের কাজ চলছে জানিয়ে বিএনপির মহাসচিব বলেন, এসব কমিটি গঠনে আমরা ইতোমধ্যে কিছু কাজ করেছি, কিন্তু তা ঘোষণা করা হয়নি। ইতোমধ্যে রিসার্চ সেল গঠিত হয়েছে। বাকি কাজও খুব শিগগিরই সম্পন্ন হবে।

 

 

রাজশাহী বিভাগ

সারাদেশে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালিত

রাজশাহী : জাতির সূর্য সন্তানদের স্মরণের মধ্যে দিয়ে জঙ্গিমুক্ত অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে রাজশাহীতে উদযাপন করা হচ্ছে জাতীয় স্বাধীনতা দিবস। কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যদিয়ে  গতকাল রোববার ভোর থেকে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে শহীদ মিনারগুলোয় মানুষের ঢল নামে। সূর্যোদয়ের পর রাজশাহী পুলিশ লাইনে ৩১বার তোপধ্বনির মধ্যে দিয়ে স্বাধীনতা দিবসের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। দিনের শুরুতে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠন ও সরকারি-বেরসরকারি প্রতিষ্ঠান শহীদ মিনারের পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

রাজশাহীর কুমাপাড়ায় স্বাধীনতা চত্বরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুসহ জাতীয় চার নেতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ। এ সময় অন্যদের মধ্যে মহানগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি শাহীন আকতার রেণী, সহ-সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মীর ইকবাল, মুক্তিযোদ্ধা নওশের আলী, সৈয়দ শাহাদত হোসেন, অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান বাদশা, সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার, সিনিয়র সদস্য ডা. তবিবুর রহমান শেখ, যুগ্ম-সম্পাদক নাইমুল হুদা রানা, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আসলাম সরকারসহ আরও অনেকে উপিস্থিত ছিলেন। এর আগে সকালে জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদসহ অন্যান্যে নেতৃবৃন্দ নগরীর কোর্ট শহীদ মিনার চত্বরে শহীদদের ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

সকাল সাড়ে ৮টায় টায় রাজশাহীর মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়ামে বিভাগীয় কমিশনার মো. নূর-উর-রহমান জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। এ সময় তার সঙ্গে রাজশাহী জেলা প্রশাসক কাজী আশরাফ উদ্দীন, রাজশাহী রেঞ্জের উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক এম. খুরশীদ হোসেন, রাজশাহী মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম ও রাজশাহী পুলিশ সুপার মোয়াজ্জেম হোসেন ভূঁঞা উপস্থিত ছিলেন।

সকাল ৯টায় রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার মো. নূর-উর-রহমান মহানগর পুলিশ আনসার ও ভিডিপি, ফায়ার সার্ভিস, বিএনসিসি, স্কাউটস, গার্লস গাইড, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের এবং অন্যান্য সামাজিক সাংস্কৃতিক ও শিশু-কিশোর সংগঠনের সদস্যদের কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন। পরে কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণকারীরা শারীরিক কসরত প্রদর্শন করা হয়। বেলা ১১টায় সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশনা হয়। দুপুর ১২টা থেকে রাজশাহী শিল্পকলা একাডেমীতে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।

বিকেল ৪টায় নারীদের ক্রীড়া অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভা এবং মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়ামে জেলা প্রশাসক একাদশ বনাম মুক্তিযুদ্ধ একাদশ প্রীতি ফুটবল প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। সন্ধ্যা ৭টায় নগর ভবনের গ্রীণ প্লাজায় আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও সিনিয়র সহকারী কমিশনার ইফতে খায়ের আলম জানান, স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে মহানগরীজুড়ে নিñিদ্র নিরাপত্তা নেওয়া হয়েছে। শহীদ মিনারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব সদস্যরাও টহল দিচ্ছে। এছাড়া সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা মাঠ পর্যায়ে নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত রয়েছে বলেও জানান পুলিশের এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

রংপুর : রংপুরের যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালিত হয়। এ উপলক্ষ্যে গতকাল রোববার রংপুর জেলা প্রশাসন নানা কর্মসূচির আয়োজন করে। বিভিন্ন কর্মসুচীর মধ্যে ছিল সুর্যদয়ের সাথে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পমাল্য অর্পণ, জেলা ক্রীড়া সংস্থা মাঠে কুচকাওয়াজ, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবার ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা, বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ। সকালে রংপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র শরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু পুস্পমাল্য অর্পণ করেন। স্মৃতিস্তম্ভ অর্জনে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন রংপুর বিভাগীয় কমিশনার, ডিআইজি, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার। শহীদ মিনারে জেলা আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাসদ, জাতীয় পাটি, ওয়ার্কার্স পাটি, বাসদ, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, সরকারি বেসরকারি দফতরের কর্মকর্তা ও সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা নিজেরদের ব্যানারে পুর্স্পমাল্য অর্পণ করেন। বেরোবি ভিসি ও অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষরা নিজ কলেজ শহীদ মিনারে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন।

পঞ্চগড় : স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে পাঁচ শতাধিক বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবার ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও আর্থিক সম্মাননাসহ বিভিন্ন উপহার দিয়েছে পঞ্চগড় পৌর পরিষদ। এর আগে পৌরসভা কার্যালয় চত্বরে আলোচনা সভা ও ভোজের আয়োজন করা হয়। পৌরসভার মেয়র তৌহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন ২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট নুরুল ইসলাম সুজন, জেলা প্রশাসক অমল কৃষ্ণ মন্ডল, পুলিশ সুপার গিয়াস উদ্দিন আহমেদ, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ আমানুল¬াহ বাচ্চু, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আনোয়ার সাদাত সম্্রাট, জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমান্ডার মির্জা আবুল কালাম দুলাল, সদর উপজেলা ইউনিট কমান্ডার ইসমাইল হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা এস এম লিয়াকত আলী, আব্দুল কাদের, সাইখুল ইসলাম, জহিরুল ইসলাম প্রমুখ। এছাড়া, মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভে তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের শুভ সূচনা, পু®পস্তবক অর্পণ, জাতীয় পতাকা উত্তোলন, পুলিশের ব্যান্ডদল কর্তৃক শহর প্রদক্ষিণ, স্টেডিয়ামে কুচকাওয়াজ ও জেলা প্রশাসক কর্তৃক অভিবাদন গ্রহণ, প্রতিযোগিতা, ডিসপে¬¬ প্রদর্শন, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলিিচ্চত্র প্রদর্শনী, শহীদ মুক্তিযোদ্ধের রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া, উন্নত মানের খাবার পরিবেশন, মহিলাদের অংশগ্রহণে ক্রীড়ানুষ্ঠান, প্রীতি ফুটবল ম্যাচ, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ : দিনের শুরুতেই জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, আওয়ামীলীগ, বিএনপি, জাসদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে। সকাল সাড়ে ৮টায় জেলা ষ্টেডিয়ামে পুলিশ, আনসার, ভিডিপি, বিএনসিসি, স্কাউটস, গার্ল গাইডস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন সংগঠনের সালাম গ্রহণ করেন জেলা প্রশাসক মোঃ মাহমুদুল হাসান ও পুলিশ সুপার টিএম মোজাহিদুল ইসলাম। পরে শাহনেয়ামতুল্লাহ কলেজ মিলনায়তনে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবার, যুদ্ধাহত ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা দেয়া হয়। এতে বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক মোঃ মাহমুদুল হাসান, পুলিশ সুপার টিএম মোজাহিদুল ইসলাম, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সেরাজুল ইসলাম, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান রুহুল আমিন, অধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম প্রমুখ।

নীলফামারী : শহরের স্বাধীনতা স্মৃতি অম্লানে পুস্পমাল্য অর্পণ করেন জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, জেলা বিচার বিভাগ, স্বাস্থ্য বিভাগ, আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠন, বিএনপি তার সহযোগী সংগঠন, জাতীয় পার্টি তার সহযোগী সংগঠন, সিপিবি তার সহযোগী সংগঠন, নীলফামারী সরকারী কলেজ, নীলফামারী পৌরসভা, সচেতন নাগরিক কমিটি, উদীচী শিল্পি গোষ্ঠি, নীলসাগর গ্রুপসহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। শেষে সেখানে শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।
সকালে নীলফামারী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক জাকীর হোসেন। বিকেলে সেখানে অনুষ্ঠিত হয় প্রীতি ফুটবল, ক্রিকেট  ও লাঠি খেলা।

বিকালে নীলফামারী জেলা শিশু একাডেমী  শিশুদের চিত্রাংকন প্রতিযোগীতা ও পুরস্কার বিতরণের আয়োজন করে।
সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসনের আয়োজনে  জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এদিকে নীলফামারী সরকারি মহিলা কলেজের আয়োজনে দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হয় ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগীতা। বিকেলে সেখানে আলোচনা সভা শেষে পুরস্কার বিতরণ করেন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি জেলা মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সভানেত্রী ( জেলা প্রশাসক জকীর হোসেনের স্ত্রী) নাহারিন আক্তার।
এসময় কলেজের অধ্যক্ষ নূরে আক্তার নার্গিস রেজোয়ানা বেগমের সভাপতিত্বে বক্তৃতা দেন জেলা মহিলালীগের সভানেত্রী রাবেয়া আলীম, সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আরিফা সুলতানা, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান দৌলত জাহান প্রমুখ। অনুরূপ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জেলার ডোমার, ডিমলা, জলঢাকা, কিশোরগঞ্জ উপজেলায় পালিত হয়েছে দিবসটি।
মুক্তিযোদ্ধা সংবর্ধনা:
নীলফামারীতে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে মুক্তিযোদ্ধা, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা দিয়েছে জেলা প্রশাসন।
গতকাল রোববার দুপুরে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক জাকীর হোসেন।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এ.জে.এম এরশাদ আহসান হাবিবের সভাপতিত্বে সংর্বধনা অনুষ্ঠানে, বিশেষ অতিথি জেলা পরিষদের  চেয়ারম্যান বীরমুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীন, পুলিশ সুপার জাকির হোসেন খান, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পৌর মেয়র দেওয়ান কামাল আহমেদ, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবুজার রহমান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা  শেখ মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমা-ার ফজলুল হক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। প্রত্যেকের হাতে একটি করে ক্রেস্ট তুলেদেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি।

মাগুরা : মাগুরা আছাদুজ্জামান স্টেডিয়ামে পুলিশ, আনসার, ভিডিপি, রোভার স্কাউট, গার্লস গাইডসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র- ছাত্রী, মুক্তিযোদ্ধাদের কুজকাওয়াজে জেলা প্রশাসক মুহ: মাহবুবর রহমান কর্তৃক সালাম গ্রহণ ও শরীর চর্চা প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। দিবসের অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে ছিল জাতির শান্তি সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করে মসজিদে বিশেষ মোনাজাত এবং সুবিধামত সময়ে মন্দির গীর্জা ও প্যাগোডায় বিশেষ প্রার্থনা, সন্ধ্যায় স্থানীয় আছাদুজ্জামান  অডিটরিয়মে আলোচনা সভা, গুরুত্বপূর্ণ ভবন সমুহে আলোক সজ্জা ইত্যাদি।


নওগাঁ :  জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষে  আব্দুল মালেক এমপি ও সাধন চন্দ্র মজুমদার এমপি, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এড. ফজলে রাব্বি, জেলা প্রশাসক ড. মোঃ আমিনুর রহমান, পুলিশ সুপার মোঃ মোজাম্মেল হক বিপিএম পিপিএম,  জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার আফজাল হোসেন, সিভিল সার্জন ডাঃ রওশন আরা খানম, পৌর মেয়র আলহাজ নজমুল হক সনি, চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালকবৃন্দ, জেলা প্রেস ক্লাব, নওগাঁ সরকারি কলেজ, বিএমসি সরকারি মহিলা কলেজ, জেলা বিএনপি, নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) জেলা কমিটি, সড়ক ও জনপথ, এলজিইডি, গণপূর্ত বিভাগ, বিদুৎ উন্নয়ন বোর্ড, এডাব, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। সকালে নওগাঁ স্টেডিয়ামে স্বেচ্ছায় রক্তদান, কুচকাওয়াজ, ছালাম গ্রহণ, ডিসপ্লে¬ প্রদর্শন, বিজয়ী ও বিজিতদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চত্বরে মুক্তিযোদ্ধা মঞ্চে মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা সভা উপলক্ষে আলোচনা সভা ও অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের অনুদান প্রদান এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। বিকেলে নওগাঁ স্টেডিয়ামে প্রীতি ফুটবল প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। সন্ধ্যায় মুক্তির মোড় মুক্তমঞ্চে আলোচনা সভা ও গভীর রাত পর্যন্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং নৃত্যানুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।

কুড়িগ্রাম :দিবসটি উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে সকালে কুড়িগ্রাম ষ্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় কুচকাওয়াজ ও শারীরিক কসরত। বিকেলে প্রীতি ফুটবল, হাডুডুসহ বিভিন্ন খেলাধুলা অনুষ্ঠিত হয়। সন্ধ্যায় স্বাধীনতার বিজয় স্তম্ভে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের আয়োজনে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করে। অপরদিকে কুড়িগ্রামের বিভিন্ন উপজেলাতেও অনুষ্ঠিত হয় একই ধরণের অনুষ্ঠান।
এ ছাড়াও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ২০জন মুক্তিযোদ্ধাকে সম্মাননা দেয়া হয়।

 গোপালগঞ্জ : টুঙ্গিপাড়ায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধি সৌধে রাত ১২টা ১ মিনিটে জেলা আওয়ামী লীগ, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনের উদ্যোগে পু®পমাল্য অর্পণের মধ্য দিয়ে গোপালগঞ্জে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। এসময় জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগ এবং অংগ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পরে বঙ্গবন্ধুর আত্মার ফাগফেরাত কামনা করে ফাতেহাপাঠ ও বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

পরে গোপালগঞ্জের স্থানীয় স্বাধীনতা ও বিজয় স্মৃতি স্তম্ভে পু®পস্তবক অর্পণ করে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও জেলা আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, বিভিন্ন স্কুল-কলেজ পুপমাল্য অর্পন করে। এ ছাড়া জেলা উদীচী, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন ও বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের পক্ষে থেকেও পু®পমাল্য অর্পণ করা হয়।

এছাড়া দিনটি পালন উপলক্ষে রোববার সকাল ৮টায় গোপালগঞ্জ শেখ কামাল ক্রিকেট স্টেডিয়াম মাঠে অনুষ্ঠিত হয় কুচকাওয়াজ ও শরীর চর্চা প্রদর্শনী। পরে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স মিলনায়তনে ৭১’-এর শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদেরকে সংবর্ধনা প্রদান ছাড়াও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারন ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
এদিকে, দিবসটি উপলক্ষে রোববার বেলা ১১টায় কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কর্ণেল (অবঃ) মুহাম্মদ ফারুক খান এমপির নেতৃতে আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ টুঙ্গিপাড়ায় জাতির জনকের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

এসময় যুগ্ম-সম্পাদক আবদুর রহমান এমপি, সংসদের সাবেক চিফ হুইপ আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক শেখ মোহম্মাদ আব্দুল্লাহ, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব আলী খানসহ জেলা ও টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পরে বঙ্গবন্ধুর রুহের মাগফিরাত কামনায় ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

নরসিংদী :  শহীদ বেদীতে শ্রদ্ধা নিবেদন, মোছলেউদ্দিন ভূইয়া স্টেডিয়ামে কুচকাওয়াজ ও ডিসপ্লে¬, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র ছাত্রীদের জন্য মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক প্রামান্য চলচ্চিত্র প্রদর্শনী , চিত্রাংকন ,আবৃত্তি ,বীর মুক্তিযোদ্ধা ,যোদ্ধাহত মুক্তি যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারকে সংবর্ধনা এবং প্রীতি ফুটবল ম্যাচ, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নরসিংদী জেলা প্রশাসক ড. সুভাষ চন্দ্র বিশ্বাস। এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার আমেনা বেগম, সিভিল সার্জন ডা. সুলতানা রাজিয়া। জেলা প্রশাসন কর্তৃক আয়োজিত অনুষ্ঠানে জেলার সকল সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান , স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়।
এছাড়া জেলার ৬টি উপজেলায় বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে অনুরুপ আলোচনা সভাসহ বিভিন্ন কর্মসুচি পালিত হয়েছে ।

আদমদীঘি (বগুড়া) : এ উপলক্ষে সকাল ৬টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুস্পস্তবক অর্পন, সকাল সাড়ে ৮টায় আদমদীঘি আইপিজে পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে মুক্তিযোদ্ধা, পুলিশ, আনসার বাহিনী ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীদের অংশ গ্রহণে কুচকাওয়াজ ও শারীরিক কশরত দেখানো হয়। কুচকাওয়াজে সালাম গ্রহণ করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেজাউল করিম ও ওসি শওকত কবির। বিকেলে মুক্তিযোদ্ধা বনাম প্রশাসনের মধ্যে প্রীতি ফুটবল খেলা অনুষ্ঠিত হয়।

কাহালু (বগুড়া) : এ উপলক্ষে সরকারিভাবে এবং উপজেলার রাজনৈতিক, বিভিন্ন সামাজিকও সাংস্কৃতিক  সংগঠনের পক্ষ থেকে পৃথকভাবে কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়।সরকারি কর্মসূচির মধ্য ছিল ২৫ মার্চ কাহালু সদর ইউনিয়নের মহরাবানী গ্রামের মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম ওমর আলীর কবর জিয়রত, শুক্রবার মধ্য রাতে কাহালু উপজেলা প্রশাসন চত্বরে তোপধ্বনিসহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পু®পমাল্য অর্পণ করার মাধ্যমে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের শুভ সূচনা হয়। গতকাল  সূর্যোদয়ের সাথে সাথে সকল সরকারি ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা,মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড পতাকা উত্তোলন, সকাল সাড়ে ৮টায় কাহালু উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে পুলিশ, মুক্তিযোদ্ধা, আনসার, ভিডিপিবিএনসিসি কাবস্কাউট, গার্লস্ গাইড স্কুল,কলেজ ও মাদ্রাসার ছাত্রছাত্রীর সমন্বয়ে মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজ ও ডিসপ্লে, সকাল ১১টায়  একই মাঠে মহিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের জন্য ক্রীড়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ক্রীড়া অনুষ্ঠানে কাহালু উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মাওলানা তায়েব আলী, উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাছলিমা খাতুন, উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি)এ.এম জহিরুল হায়াত,কাহালু পৌর মেয়র ও আওয়ামী লীগ কাহালু  উপজেলা শাখার সভাপতি আলহাজ হেলাল উদ্দিন কবিরাজ, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মমতা অরজু কবিতা,কাহালু উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নজিবর রহমান  সহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।এদিকে  বাদ যোহর দেশ ও জাতির শান্তি অগ্রগতি এবং মুক্তিযুদ্ধে শহীদের আতœার শান্তি কামনা করে মসজিদে বিশেষ মোনাজাত,মন্দিরে প্রার্থনা,দুপুরে কাহালু হাসপাতাল ও বিভিন্ন এতিম খানায় উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হয়।বিকেল ৩টায় কাহালু পৌর মঞ্চে উপজেলার বীর  মুক্তিযোদ্ধাদের সংর্বধনা ও সম্মাননা প্রদান করা হয় এবং সেখানে উপজেলার জীবিত ও প্রয়াত ৮৩ জন মুক্তিযোদ্ধা এবং তাদের  পরিবারদের মাঝে প্রাইজবন্ড প্রদান করা হয়।এছাড়া বিকেল ৪টায় কাহালু উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে কাবাডি, প্রীতি ফুটবল প্রতিয়োগিতা অনুষ্ঠিত হয়।সন্ধ্যায় পৌর মঞ্চে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে সরকারি কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটে। এদিকে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে কাহালু পৌর এলাকার সরদার পাড়া সূচনা স্পোর্টিং ক্লাবের উদ্যোগে দিনব্যাপী সরদার পাড়া এলাকায় ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে কাউন্সিলর গোলাম রব্বানী, ক্লাবের সভাপতি খোরশেদ আলম, সহ-সভাপতি শাহিন সরদার,সম্পাদক এনামুল হক সহ আরোও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে জাকের পার্টি কাহালু উপজেলা শাখা উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শহীদদের সম্মাাননা জানায়।

শেরপুর (বগুড়া) : উপজেলা ও পৌর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ২১বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিনের কর্মসূচির সূচনা করা হয়। এরপর উপজেলা প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, উপজেলা আওয়ামী লীগসহ দলের অঙ্গ সংগঠন, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, কমিউনিস্ট পার্টি, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, শেরপুর প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে শহীদ মিনারে পুস্পস্তবক অর্পণ করা হয়। সকাল সাড়ে ৮টায় শেরপুর ডিজে হাইস্কুল খেলার মাঠে স্থানীয় এমপি আলহাজ হাবিবর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। এসময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা একেএম সরোয়ার জাহান, শেরপুর পৌসভার মেয়র আব্দুস সাত্তার ও ওসি খান মো. এরফান উপস্থিত ছিলেন। এরপর শুরু হয় পুলিশ, আনসার ও ভিডিপি, বিএনসিসি স্কাউট, র্গালস গাইড ও শিশু কিশোরদের কুচকাওয়াজ ও শারীরিক কসরত প্রদর্শন। পরে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। দুপুরে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত ও জাতির সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করে ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোতে চলে বিশেষ প্রার্থনা এবং হাসপাতাল-এতিমখানায় উন্নতমানের খাবারের আয়োজন করা হয়। এছাড়া উপজেলা পরিষদ বনাম মুক্তিযোদ্ধা সংসদের মধ্যে প্রীতি ফুটবল প্রতিযোগিতা শেষে উপজেলা পরিষদ মুক্তমঞ্চে আলোচনা সভা এবং মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।

ধুনট (বগুড়া) : বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে তোপধ্বনি, শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ, জাতীয় পতকা উত্তোলন, গণকবর জিয়ারত, রচনা-চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কুচকাওয়াজ, মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা, ভলিবল প্রতিযোগীতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এ উপলক্ষে ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা মুহাম্মাদ ইব্রাহীমের সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বীরমুক্তিযোদ্ধা আলহাজ হাবিবর রহমান এমপি। সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ধুনট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান একেএম তৌহিদুল আলম মামুন, ভাইস চেয়ারম্যান রেজাউল করিম, নুরজাহান আকতার, পৌরসভার মেয়র এজিএম বাদশাহ, জেলা পরিষদের সদস্য নাজনীন নাহার, ধুনট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শেখ জালাল উদ্দিন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক আব্দুল হাই খোকন, সহসভাপতি গোলাম সোবাহান ও ধুনট প্রেসক্লাবের সভাপতি রফিকুল আলম প্রমুখ।

শাজাহানপুর (বগুড়া) : যথাযোগ্য মর্যাদায় বগুড়ার শাজাহানপুরে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালিত হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন দিবসটি উপলক্ষে আলোক সজ্জা, তোপধ্বনি, পতাকা উত্তোলন, শহীদ মিনার ও গণকবরে  পুষ্পস্তবক অর্পণ, মুক্তিযোদ্ধা সংবর্ধনা, আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অপরদিকে উপজেলা আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, মানবাধিকার কমিশন, দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি পৃথক পৃথক আয়োজন করে। এছাড়া উপজেলার ডেমাজানী কমরউদ্দিন ইসলামিয়া কলেজ, রাণীরহাট স্কুল এন্ড কারিগরি কলেজ, ডোমনপুকুর আমিনিয়া কামিল মাদ্রাসা, জোড়া নজমুল উলুম কালিম মাদ্রাসা, সাজাপুর ফুলতলা আহমদিয়া ফাজিল মাদ্রাসা, পারতেখুর দাখিল মাদ্রাসা, জামুন্না পল্লীবন্ধু স্কুল এন্ড কলেজ সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দিনব্যাপি স্বাধীনতা দিবসের কর্মসূচি পালন করে।  

দুপচাঁচিয়া (বগুড়া):সকাল ৮ টায় স্থানীয় হাইস্কুল মাঠে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহেদ পারভেজ ও থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নজরুল ইসলাম, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার অধ্যক্ষ আলহাজ্ব আব্দুল মজিদ। পরে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভা ইউএনও শাহেদ পারভেজ এর সভাপতিত্বে ও ব্যাংকার ক্রীড়া সংগঠক আজিজুল হক এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য রাখেন পৌর মেয়র মোঃ বেলাল হোসেন, থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ নজরুল ইসলাম, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার আলহাজ্ব আব্দুল মজিদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মিজানুর রহমান খান সেলিম, সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব ফজলুল হক সহ প্রমুখ। এ ছাড়াও দুপচাঁচিয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, দুপচাঁচিয়া পৌরসভা, তালোড়া পৌরসভা, উপজেলা আওয়ামীলীগ, উপজেলা জাতীয় পার্টি, জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), দুপচাঁচিয়া প্রেসক্লাব সহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন অনুরূপ ভাবে পৃথক কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি পালন করে।          

গাবতলী (বগুড়া) : শহীদ মিনারে উপজেলা প্রশাসন, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, পৌরসভা, জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গাবতলী এনজিও সংগঠনগুলো পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন। সকাল ৯টায় গাবতলী পাইলট হাইস্কুল মাঠে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে কুচকাওয়াজ, সমাবেশ শেষে ডিসপ্লে ও ক্রীড়া প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠিত হয়। বেলা ১১টায় গাবতলী সরকারি বালিকা বিদ্যালয় মাঠে মহিলাদের ক্রীড়া অনুষ্ঠান, আলোচনাসভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার পতœী মোরশেদ জাহান ও উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সরাইয়া জেরিন রনি। দুপুরে মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মনিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা চেয়ারম্যান  মোরশেদ মিলটন। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সাবেক এমপি কামরুন নাহান পুতুল, মুক্তিযোদ্ধা টিএম মুসা পেস্তা, সাবেক এমপি আমিনুল ইসলাম পিন্টু, সমাজসেবা কর্মকর্তা সাইফল ইসলাম,  মুক্তিযোদ্ধা আমিনুল মোমিন মুক্তা, আনোয়ারুল ইসলাম রন্টু, এসিল্যান্ড রাম কৃষ্ণ বর্মন, মডেল থানার ওসি আনম আব্দুল্লাহ আল হাসান, উপজেলা কমান্ডার হুমায়ন আলম চাঁন্দু, ডেপুটি কমান্ডার মোতাহার আলী, সাবেক কমান্ডার খাজা নাজিমুদ্দিন কৃষি কর্মকর্তা  আহসান হাবিব সরকার, আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুস ছালাম ভোলন, আব্দুর রাজ্জাক মিলু, আব্দুল গফুর, মহিলা লীগের সভাপতি রেকসেনা জালাল যুবলীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম বিটুল ও ছাত্রীগের সভাপতি মিল্টন হোসাইন প্রমুখ। বিকেলে পাইলট স্কুল মাঠে প্রীতি ফুটবল খেলা এবং বেলা ৪টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

নন্দীগ্রাম (বগুড়া) : ভোরে উপজেলা প্রশাসন, থানা প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, পৌরসভা, কুন্দারহাট হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ি, আওয়ামী লীগসহ অঙ্গসহযোগী সংগঠন, জাসদ, উপজেলা প্রেসক্লাব, কমিউনিটি পুলিশিং ফোরাম, দূর্ণীতি প্রতিরোধ কমিটি, সরকারি মহিলা ডিগ্রী কলেজ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন সংগঠন পৃথক পৃথক ভাবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুস্পমাল্য অর্পণ করে। এরপর শহীদদের স্মরণে ১মিনিট নীরবতা পালন ও বিদায়ী আত্মাররুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া মোনাজাত করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য বীরমুক্তিযোদ্ধা রেজাউল করিম তানসেন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তমাল হোসেন, থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) আব্দুর রাজ্জাক, উপজেলা কৃষি অফিসার মুহা: মশিদুল হক, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান রেজাউল আশরাফ জিন্নাহ, ভাইস চেয়ারম্যান একে আজাদ, জান্নাতুল ফেরদৌস লিপি, মেয়র কামরুল হাসান সিদ্দিকী জুয়েল, অধ্যক্ষ ওসমান গনি সরকার, ইউপি চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ, আব্দুল মতিন, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার হাবিবুর রহমান, প্রেসক্লাবের সভাপতি ফজলুর রহমান, পৌর আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বকুল হোসেন, প্রচার সম্পাদক এফকে ফারুক, কৃষকলীগের সভাপতি সফিকুল ইসলাম, সাধারন সম্পাদক সাঈদ রায়হান মানিক, স্বেচ্ছা সেবকলীগের সভাপতি মামুনুর রশিদ, সাধারন সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, ছাত্রলীগের সভাপতি আবু সাঈদ, সাধারন সম্পাদক কামরুল হাসান সবুজসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। এরপর সকাল ৯টায় কলেজ মাঠে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা কুচকাওয়াজ ও ক্রীড়া প্রতিযোগীতায় অংশ গ্রহণ করেন। পরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তমাল হোসেনের সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

 

আজকের ই-পেপার
ফেইসবুক

র‌্যাব গোয়েন্দা শাখার পরিচালককে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়েছে

সিলেট শিববাড়ি পাঠানপাড়ায় বোমা বিস্ফোরণে গুরুতর আহত র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার পরিচালক লে. কর্নেল আবুল কালাম আজাদকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়েছে। সেখানকার মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হবে। রোববার সন্ধ্যায় বিশেষ এয়ার এম্বুলেন্সে তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। এর আগে তিনি ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন ছিলেন। তার অবস্থা এখনও আশঙ্কামুক্ত নয় বলে র‌্যাব জানিয়েছে।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান জানান, ‘র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার পরিচালক লে. কর্নেল আবুল কালাম আজাদকে গুরুতর আহত অবস্থায় শনিবার রাতে ঢাকায় আনা হয়। তার অবস্থা গুরুতর। এখনও তিনি শঙ্কামুক্ত নন। উন্নত চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকরা তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়ার পরামর্শ দিলে তাকে সেখানে পাঠানো হয়।’ গত শনিবার সন্ধ্যায় পাঠানপাড়ায় বোমা বিস্ফোরণে আহত হন কালাম আজাদ। আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে রাখা হয়। কিন্তু শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় রাতে বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টারে ঢাকায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নিয়ে আসা হয়। একই ঘটনায় আহত র‌্যাবে কর্মরত মেজর আজাদের অবস্থার উন্নতি হচ্ছে জানিয়ে মুফতি মাহমুদ খান জানান, ‘তাকে সিএমএইচে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।’

 

মাশরাফির পর মিরাজের আঘাত

প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশের ছুড়ে দেওয়া ৩২৫ রানের টার্গেটে ব্যাট করছে শ্রীলঙ্কা।

সংক্ষিপ্ত স্কোর : শ্রীলঙ্কা ১৫/২ (৬ ওভার)

আউট হয়ে ফিরে গেছেন : দানুস্কা গুনাথিলাকা (০) ও কুশাল মেন্ডিস (৪)।

দ্বিতীয় উইকেটের পতন : মেহেদী হাসান মিরাজের করা ষষ্ঠ ওভারের শেষ বলে উড়িয়ে মারেন কুশাল মেন্ডিস। কিন্তু লং অনে তার ক্যাচটি তালুবন্দি করেন বদলি খেলোয়াড় হিসেবে নামা শুভাগত হোম চৌধুরী। দলীয় ১৬ ও ব্যক্তিগত ৪ রানে আউট হন তিনি।

প্রথম উইকেটের পতন : উদ্বোধনী জুটিতে ব্যাট করতে নামেন দানুস্কা গুনাথিলাকা ও উপুল থারাঙ্গা। ইনিংসের তৃতীয় বলেই আউট হয়ে ফিরে যান গুনাথিলাকা। বোলার ছিলেন বাংলাদেশের অধিনায়ক মাশরাফি। দলের কিংবা নিজের রানের খাতা খোলার আগেই উইকেট হারিয়েছে লঙ্কানরা।

 

তার আগে বাংলাদেশের তামিম ইকবালের ১২৭, সাকিব আল হাসানের ৭২, সাব্বির রহমানের ৫৪ ও মোসাদ্দেক হোসেনের অপরাজিত ২৪ রানে ভর করে বাংলাদেশ নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ৩২৪ রান সংগ্রহ করে।

আইন-আদালত
আর্ন্তাজাতিক
তথ্যপ্রযুক্তি

এবার রবীন্দ্র সঙ্গীতের অ্যালবাম নিয়ে চম্পা

অভি মঈনুদ্দীন ঃ অবনী মোহন দে, পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়, অপনু বড়–য়া, শান্তি শর্মা এবং প-িত তুষার দত্তের কাছে গানে তালিম নিয়ে নিয়মিত গান গেয়ে যাচ্ছেন এই সময়ের শ্রোতা সমাদৃত কন্ঠশিল্পী চম্পা বনিক। যথাযথভাবে গানে তালিম নিয়েই গান গাইছেন বলে সঙ্গীতাঙ্গনে এবং শ্রোতামহলে তার গানের আলাদা কদর আছে। এর আগে বাজারে তার একটি একক অ্যালবাম থাকলেও এবারই প্রথম রবীন্দ্র সঙ্গীতের অ্যালবাম নিয়ে আসছেন চম্পা বনিক। বাসু দেব’র সঙ্গীতায়োজনে এরইমধ্যে দুটি গানে কন্ঠ দিয়েছেন চম্পা বনিক।

 একটি হচ্ছে ‘তুমি কেমন করে গান করো হে গুণী’ এবং অন্যটি হচ্ছে ‘ওলো সই’। চম্পা জানান তিনটি কিংবা চারটি গানের সমন্বয়ে তার রবীন্দ্র সঙ্গীতের অ্যলবামটি সাজানো হচ্ছে। চম্পা বলেন,‘ অনেকদিনের ইচ্ছে ছিলো একটি রবীন্দ্র সঙ্গীতের অ্যালবাম করার। বাসু দাদা খুব সহযোগিতা করছেন। আমি তার কাছে কৃতজ্ঞ। সেইসাথে আমার পরিবারের সহযোগিতাতো আছেই। ভক্তদের জন্যই আমার এই অ্যালবাম করা। পাশাপাশি আমার স্বপ্ন পূরণের একটি বিষয়তো রয়েছেই। ’ এদিকে নিয়মিত স্টেজ শো করছেন চম্পা বনিক।

 

গতকাল মুন্সীগঞ্জে স্টেজ শো শেষ করে স্যাটেলাইট চ্যানেলে বাংলাভিশনে রথীন্দ্রনাথ রায়ের সঙ্গে লাইভ শো’তে গান গেয়েছেন তিনি। এদিকে ২৮ মার্চ সুনামগঞ্জের ছাতকে সঙ্গীত পরিবেশন করবেন তিনি। এছাড়া ৮ এপ্রিল সিলেটে সঙ্গীত পরিবেশন করবেন তিনি। ২০০৫ সালে ক্লোজআপ ওয়ান প্রতিযোগিতায় শীর্ষ ১০-এ এসে নিজেকে সেখানে থেকে সরিয়ে নেন চম্পা বনিক।

 ২০১০ সালে ‘সেরাকন্ঠ’ প্রতিাযোগিতায় চতুর্থ স্থান অধিকার করেন চম্পা। আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের সুর সঙ্গীতে চম্পা প্রথম প্লে-ব্যাক করেন। ২০১০ সালে  তার প্রথম একক অ্যালবাম ‘স্বপ্নের আঙ্গিনায়’ লেজার ভিশনের ব্যানার থেকে বাজারে আসে। সৈয়দ আব্দুল হাদীকে নিয়ে গত বছর জন্মদিনে ওমর ফারুকের লেখায় এবং ফরিদ আহমেদ’র সুর সঙ্গীতে একটি বিশেষ গান করা হয়। এতে কন্ঠ দিয়েছিলেন চম্পা। শুদ্ধ সঙ্গীত চর্চায় নিজেকে ধরে রেখেই আগামীর পথে এগিয়ে যেতে চান চম্পা। ছবি ঃ আলিফ হোসেন রিফাত।

শিক্ষা
অর্থ-বাণিজ্য
ধর্ম
সাহিত্য
লাইফস্টাইল
স্বাস্থ্য
Go Top