রাত ৩:১৮, শুক্রবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং

আজকের ই-পেপার

সর্বশেষ খবর
হিজরী নববর্ষ ও আশুরা
রোহিঙ্গা নিধনের সাফাই সুচির
তুমব্রু সীমান্তে রোহিঙ্গাদের গ্রামে আগুন, গুলির শব্দ
জলবায়ুর বিরূপ আচরণ
একজন রোহিঙ্গাও না খেয়ে মরবে না: ত্রাণমন্ত্রী
র‌্যাম্প মডেল থেকে জঙ্গি নেতা মেহেদী গ্রেফতার
রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিভিন্ন দেশের নেতাদের সাথে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক
শেখ হাসিনা কূটনৈতিক ভাবে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান চান: মতিয়া
রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে দিতে জাতীয় ঐক্যের বিকল্প নেই : বিএনপি
চালের দাম ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে আনার দাবি রিজভীর
বগুড়ায় ভিজিডির ২২৩ বস্তা চাল উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৩
রোহিঙ্গাদের ত্রাণের ট্রাক খাদে, নিহত ৯
সুনামগঞ্জে বাস-পিকআপ সংঘর্ষে নিহত ২
কুষ্টিয়ায় ৮ চাল ব্যবসায়ীকে জরিমানা
মানিকগঞ্জে ফেরি থেকে পড়ে যুবক নিহত

করতোয়া ডেস্ক: বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার তুমব্রু সীমান্তের ওপারে মিয়ানমার এলাকা থেকে ১০ রাউন্ড গুলির শব্দ পাওয়া গেছে। সেখানে রোহিঙ্গাদের বাড়িঘরে আগুন দেয়ার দৃশ্যও দেখা গেছে। বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে প্রায় ১০০ গজ দূরে এ ঘটনা ঘটে। ওই সীমান্তের নো-ম্যানস ল্যান্ডে আশ্রয় নিয়েছেন হাজারও রোহিঙ্গা। গত ২৬ দিন তারা সেখানে অবস্থান করছেন।  বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৪টায় তুমব্রু রাখাইন স্টেটে আগুন দেয়ার দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। এ সময় ওই সীমান্তে অবস্থান করছিলেন তিনি।

প্রসঙ্গত, তুমব্রু সীমান্তে পাহাড়ের ঢালু অঞ্চলে বাঁশের খুঁটি দিয়ে বাংলাদেশ-মিয়ানমারের সীমানারেখা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে কোনো বেড়া নেই। বরং ঢালু পাহাড় থেকে বাংলাদেশে প্রবেশের জন্য তৈরি করা হয়েছে সিঁড়ি। মাঝে নো-ম্যানস ল্যান্ড। সীমান্তঘেঁষে মিয়ানমারের ওপারের প্রথম গ্রামটির নাম তুমব্রু রাখাইন স্টেট। বাড়িতে আগুন দেয়া ভুক্তভোগী রোহিঙ্গা নাসিমা খাতুন বলেন, ২৫ আগস্টের পর আমরা বাড়িঘর ছেড়ে নো-ম্যানস ল্যান্ডে অবস্থান নেই। মাঝে মধ্যে গ্রামে গিয়ে বাড়িঘর দেখে আসতাম। আজ (বৃহস্পতিবার) বিকেলে হঠাৎ করে মগারা (মগ) এসে বাড়িঘরে আগুন দেয়। এর আগে সেনাবাহিনী এসে গুলি করে। নো-ম্যানস ল্যান্ডে অবস্থান করায় প্রাণে বেঁচে যাই।

 ‘আমার সবকিছু মগারা পুড়িয়ে ছাই করে দিল। বাপ-দাদার ভিটেমাটি ছাড়া করেও তারা ক্ষান্ত দেয়নি। এবার আগুন দিয়ে সব শেষ করে দিল’- চিৎকার করে নো-ম্যানস ল্যান্ডে গড়াগড়ি করতে থাকেন নাসিমা খাতুন। নাসিমা খাতুনের চার মেয়ে ও পাঁচ ছেলে। তারা হলো- মেয়ে মনোয়ারা, হামিবা, নাসরিন ও হাসিনা খাতুন; ছেলে ইকবাল, কামাল, রিয়াজ ও আলাউদ্দিন। অপর ছেলের নাম জানা যায়নি। নো-ম্যানস ল্যান্ডে পাঁচ/ছয়দিন অবস্থান করা শাহাবুদ্দিন বলেন, পরিবার ধরে পাঁচ-ছয়দিন এখানে আছি। বার্মায় (মিয়ানমারে) মারা যাওয়ার চেয়ে, এখানে মরাই ভালো। তারা তো মানুষ না। গুলি করে হত্যার পর পুড়িয়ে লাশ গুম করে ফেলছে। আগুনের দৃশ্য দেখিয়ে তিনি বলেন, ওই গ্রামে কারও বসবাস ছিল না। এরপরও তারা আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিল।

প্রসঙ্গত, গত ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে পুলিশ ও বিদ্রোহী গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে পুলিশ সদস্যসহ বহু রোহিঙ্গা হতাহত হয়। ওই ঘটনার পর থেকেই মিয়ানমারের সেনাবাহিনী বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে ‘শুদ্ধি অভিযান’র নামে রাখাইন রাজ্যে নিরীহ মানুষের ওপর বর্বর নির্যাতন, হত্যা, ধর্ষণ ও বাড়িঘরে আগুন দেয়ার মতো ঘটনা ঘটায়। ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংখ্যা চার লাখ ২০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, রোহিঙ্গাদের স্রোত এখনই থামবে না। এ সংখ্যা আরও কয়েক লাখ ছাড়াবে।

এমন পরিস্থিতিতে একদিকে যেমন সঙ্কটের মুখোমুখি রোহিঙ্গারা, অন্যদিকে সঙ্কটময় পরিস্থিতিতে বাংলাদেশও। গত ২৬ দিনে রোহিঙ্গাদের থাকা-খাওয়ার সুরাহা হলেও অন্তঃসত্ত্বা ও শিশুদের মধ্যে পুষ্টিকর খাবার সরবরাহ, বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার তীব্র সঙ্কট দেখা দিয়েছে।
জরুরি ভিত্তিতে এগুলো সরবরাহের ব্যবস্থা না করা হলে চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়বে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গারা। তবে প্রশাসন বলছে, তারা ধীরে ধীরে পরিস্থিতি গুছিয়ে আনছেন। অল্প কয়েকদিনের মধ্যে পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে বলেও জানান প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

 

 

রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিভিন্ন দেশের নেতাদের সাথে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক

করতোয়া ডেস্ক: নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সংস্থাটির ৭২তম সাধারণ অধিবেশনে অংশগ্রহণের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে যুক্তরাজ্য ও নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী, তুরস্ক ও এস্তোনিয়ার প্রেসিডেন্ট, নেদারল্যান্ডসের রানী ও আওএম এর মহাপরিচালকের সাক্ষাৎ হয়েছে। বুধবার ও আগের দিন মঙ্গলবার বিভিন্ন সময় আলাদা আলাদাভাবে এসব সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। বুধবার রাতে হোটেল গ্র্যান্ড হায়াতে পররাষ্ট্রসচিব শহীদুল হক সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম উপস্থিত ছিলেন। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় দুপুরে জাতিসংঘ মহাসচিবের দেয়া মধ্যাহ্নভোজের পর নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ইরনা সোলবার্গ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মধ্যে সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। পররাষ্ট্রসচিব জানান, সাক্ষাতে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনার পাশাপাশি মিয়ানমারের নির‌্যাতনের শিকার সেদেশের নাগরিক রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে।

মানবিক দিক বিবেচনা করে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানান নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী। রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে সহায়তা দেয়ার আগ্রহও প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী ইরনা সোলবার্গ। মঙ্গলবার বিকেলে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে রোহিঙ্গা ইস্যুতে অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন (ওআইসি) কন্ট্যাক্ট গ্রুপের এক সভা শেষে একটি অনির্ধারিত বৈঠকে মিলিত হন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান।

মানবিক দিক বিবেচনা করে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় দেয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ ও প্রশংসা করেন এরদোয়ান।তিনি বলেন, তুর্কি জনগণ বাংলাদেশের দুঃখ কষ্টে সব সময় পাশে থাকবে। রোহিঙ্গাদের সহায়তার বিষয়েও আগ্রহ প্রকাশ করেন এরদোয়ান। আগের দিন মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের নিয়ে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে’র দেয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বৃটিশ প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে রোহিঙ্গা ইস্যুসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বুধবার সকালে এস্তোনিয়ার প্রেসিডেন্ট কারস্তি কালিউলাইদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকে দুই দেশের ডিজিটালাইজেশনের বিষয়ে আলোচনা হয়। এবং তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতায় এক মত হন দুই নেতা। বুধবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে নেদারল্যান্ডসের রানী মাক্সিমা র্জোরেগিয়েটা র্সেরুটির মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উন্নয়ন বিষয়ক বিভিন্ন আলোচনার পাশাপাশি রোহিঙ্গা ইস্যুও উঠে আসে।

এ ইস্যুতে বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসা করেন রানী মাক্সিমা। পররাষ্ট্রসচিব জানান, সেখানে প্রধানমন্ত্রী তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ও উপস্থিত ছিলেন। জয়ের সঙ্গে মাক্সিমার তথ্য প্রযুক্তিগত সহায়তার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। রাতে হোটেল গ্র্যান্ড হায়াত হোটেলে ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন অব মাইগ্রেশনের (আইওএম) মহাপরিচালক উইলিয়াম ল্যাসি সুইং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। পররাষ্ট্রসচিব বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে আইওএম বাংলাদেশে কি কাজ করছে সেটা প্রধানমন্ত্রীকে জানান মহাপরিচালক। আরো কি করবেন সেটাও প্রধানমন্ত্রীকে বলেন তিনি। আগামী ৫-৬ অক্টোবরের দিকে রোহিঙ্গাদের অবস্থা দেখতে উইলিয়াম ল্যাসি সুইং বাংলাদেশে সফরে যাবেন। রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে মানবিক কারণে আশ্রয় দেয়ায় ধন্যবাদ জানান তিনি। রোহিঙ্গাদের তাদের নিজ দেশে ফিরে যেতে মিয়ানমারের ওপর আর্ন্তজাতিক চাপ সৃষ্টির তাগিদ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের তাদের নিজ দেশে ফিরে যেতেই হবে।

বড় তহবিলের চেষ্টায় জাতিসংঘ
মিয়ানমারে সহিংসতার মুখে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য বড় অংকের তহবিলের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে আহ্বান জানাতে যাচ্ছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির বাংলাদেশে আবাসিক সমন্বয়ক রবার্ট ওয়াটকিনস বুধবার  এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘এক্ষেত্রে বাংলাদেশ একা হয়ে যাবে না। আমরা বড় একটি তহবিলের অনুরোধ জানাতে চলেছি। বাংলাদেশেই আন্তর্জাতিক দাতাদের সঙ্গে একটি বৈঠক আয়োজন করছি। আগামীতে সংশোধিত যে তহবিলের আনুরোধ জানানো হবে, তা অনেক বড় হবে।’ গত মাসের শেষ দিকে রোহিঙ্গারা আসতে শুরু করলে তিন লাখ শরণার্থীর জরুরি প্রয়োজন মেটাতে তিন মাসের জন্য প্রাথমিকভাবে সাত কোটি ৮০ লাখ ডলারের আহ্বান জানায় জাতিসংঘ। এখন জাতিসংঘের সংস্থাগুলো মনে করছে, রাখাইন পরিস্থিতির উন্নতি না হলে বছরের শেষ নাগাদ আরও পাঁচ থেকে ছয় লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে চলে আসতে পারে। জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক বলছেন, তারা নতুন করে যে তহবিলের আহ্বান জানাবেন তা ২৫ অগাস্টের আগে ও পরে আসা রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি তাদের পাশে দাঁড়ানো স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সহায়তার কথা বিবেচনায় নিয়ে করা হবে। শরণার্থীদের ত্রাণ কার্যক্রম যাতে ভালোভাবে পরিচালিত হয় সেজন্য বাংলাদেশে দায়িত্বের মেয়াদ এক মাস বাড়ানো হয়েছে ওয়াটকিনসের। নতুন তহবিল আগেরটার চারগুণ ধরে নিতে পারেন। কিন্তু তাও হবে মাত্র তিন মাসের জন্য।  পর্যন্ত বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের মৌলিক চাহিদা নিশ্চিতে অন্তত এক বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন বলে মনে করেন একজন বাংলাদেশি অর্থনীতিবিদ। ওয়াটকিনস বলেন, তারা অবশ্যই বাংলাদেশকে সহায়তা করবেন।

তাৎক্ষণিকভাবে বাংলাদেশের জনগণ সাহায্য করছে। আমাদেরও তাদের সহায়তা করতে হবে, কারণ ইতোমধ্যেই তারা কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কাছ থেকে আমরা আরও সহায়তা চাইতে চলেছি। তিনি বলেন, বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় তার সেবা ও অবকাঠামোর উপর চাপ পড়েছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, এটা অব্যাহত থাকছে। আমরা শরণার্থীদের সঙ্গে বাংলাদেশি মানুষকেও সহযোগিতা করতে চাই। বিভিন্ন দেশের সহায়তায় এরইমধ্যে প্রাথমিক আহ্বানের তহবিলের অর্থ উঠে আসায় দাতাদের ধন্যবাদ জানান ওয়াটকিনস। রোহিঙ্গা সংকট ও রাখাইন পরিস্থিতি নিয়ে মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চির বক্তব্যে হতাশ হয়েছেন বলে জানান রবার্ট ওয়াটকিনস। তিনি বলেন, ‘আমরা হতাশ হয়েছি। সেখানে আসলে কী ঘটছে সে বিষয়ে তার কাছ থেকে আরও স্বীকারোক্তি আশা করেছিলাম।’ মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর সু চি মঙ্গলবার বলেছেন, নব্বইয়ের দশকে করা প্রত্যাবাসন চুক্তির আওতায় ‘যাচাইয়ের মাধ্যমে’ বাংলাদেশে থাকা শরণার্থীদের ফিরিয়ে নিতে তার দেশ প্রস্তুত। কিন্তু এই শরণার্থীদের ‘রোহিঙ্গা’ হিসেবে স্বীকার করে না নেওয়ায় এবং তাদের ওপর সেনাবাহিনীর নির্যাতনের বিষয়টি ভাষণে এড়িয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তিনি সমালোচিত হচ্ছেন।  

 

 

 



বিশেষ প্রতিবেদন

এবার শেখ হাসিনার জন্মদিনকে ‘মানবতা দিবস’ পালনের প্রস্তাব

মাহফুজ সাদি: বঙ্গবন্ধুকন্যা, আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭১তম জন্মদিন আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর। তিনি রোহিঙ্গা ইস্যুতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় এবার এদিনটিকে জাতীয়ভাবে ‘মানবতা দিবস’ হিসেবে উদযাপন করার প্রস্তাব করা হয়েছে। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর গণহত্যা ও নির্যাতনের শিকার লাখা লাখ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দেয়ায় ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’(মানবতার জননী) অখ্যায়িত করার প্রেক্ষা পটে এই প্রস্তাব এলো।

বুধবার ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগের সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে ক্ষমতাসীন কেন্দ্রীয় ১৪ দলের নেতাদের সাথে বাংলাদেশের হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মতবিনিময় সভায় এ সংক্রান্ত প্রস্তাবটি তুলে ধরেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সূত্র বিষয়টি দৈনিক করতোয়াকে নিশ্চিত করেছে। বৈঠক সূত্র জানিয়েছে, লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে আশ্রয় দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হয়েছেন। সেই সাথে তাদের নিজ দেশে অধিকারসহ ফিরিয়ে নিতে আন্তর্জাতিকভাবে চাপ দিচ্ছেন শেখ হাসিনা। তার এই সিদ্ধান্তকে মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ইতোমধ্যে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’(মানবতার জননী) অখ্যায়িত করেছে। তার মতো মহান নেত্রীর জন্মদিনে মানবতার জয় হবে এটা ভেবে দিবসটিকে ‘মানবতার দিবস’ হিসেবে পালন করা যেতে পারে বলে ১৪ দলের বৈঠকে আলোচনা উঠেছে।

এছাড়া, বৈঠকে মিয়ানমারের নেত্রী অন সান সু চির বক্তব্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখান করা হয়। মিয়ানমানের সামরিক জান্তার হাতে নির্যাতিত হয়ে দেশ ছেড়ে বাংলাদেশেসহ বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নিয়েছে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী। তাদের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আশ্রয় নিয়েছে বাংলাদেশে। এসব রোহিঙ্গাদের ভোটাধিকার ও নিরপত্তা নিশ্চিত করে নিজ দেশে ফিরিয়ে নিতে আহ্বান জানিয়ে আসছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই ইস্যুতে বিশ্ব জনমত গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন তিনি।

এসব বিষয় নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এর প্রেক্ষিতে রোহিঙ্গা ইস্যুতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনর জন্মদিনকে  ‘মানবতার দিবস’ হিসেবে পালনের প্রস্তাব করেন খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি। সূত্র জানায়, বৈঠকে খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিশ্বব্যাপী মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে কূটনৈতিকভাবে তাদের নিজ দেশে অধিকারসহ ফিরিয়ে দেয়ার জন্য কাজ করছেন। সারা বিশ্বে যখন মানবতা মুখ থুবড়ে পড়ছে, তখন শেখ হাসিনা মানবতার জয়গান গাইছেন। তার মতো মহান নেত্রীর জš§দিনে মানবতার জয় হবে এটা ভেবে দিবসটিকে ‘মানবতা দিবস’ হিসেবে পালন করা যেতে পারে। সভায় উপস্থিত ১৪ দলের নেতারা এ বক্তব্য সমর্থন করলেও চূড়ান্ত কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। খালিদ মাহমুদ চৌধুরী দৈনিক করতোয়াকে বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে সারাবিশ্বে মানবতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করায় শেখ হাসিনার জন্মদিনকে মানবতা দিবস হিসেবে পালন করা প্রস্তাব করছি। সম্প্রতি কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার কুতুপালং রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে ব্রিটেন ভিত্তিক গণমাধ্যম চ্যানেল ফোর। চ্যানেলটির এশিয়া প্রতিনিধি জনাথান মিলার তার প্রতিবেদনে তুলে ধরেন ক্যাম্পে থাকা রোহিঙ্গাদের মানবেতর জীবনের কিছু অংশ। ওই প্রতিবেদনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ বলে ভূষিত করা হয়।

উল্লেখ্য, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের জ্যেষ্ঠ সন্তান শেখ হাসিনা ১৯৪৭ সালের এই দিনে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কালরাতে বঙ্গবন্ধু সপরিবারে ঘাতকদের হাতে নিহত হন। বিদেশে থাকার কারণে বেঁচে যান শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। শেখ হাসিনা ১৯৮১ সালে আওয়ামী লীগের হাল ধরেন। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পর ১৯৯৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি। এরপর ২০০৮ ও ২০১৪ সালে পরপর দু’বার তিনি প্রধানমন্ত্রী হন। ১৯৬৮ সালে বিশিষ্ট পরমাণুবিজ্ঞানী ড. ওয়াজেদ মিয়ার সঙ্গে শেখ হাসিনার বিয়ে হয়। তাঁর দুই সন্তান সজীব ওয়াজেদ জয় ও সায়মা হোসেন পুতুল। বৈঠকে মিয়ানমারের নেত্রী অন সান সু চির বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেন ১৪ দলের সমন্বয়ক ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। জোটের পক্ষ থেকে এই দমন-পীড়নের তীব্র নিন্দা জানান তিনি। বৈঠকে ১৪ দলের নেতারা এবং হিন্দু ও বৌদ্ধ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


রাজশাহী বিভাগ

বগুড়ায় ভিজিডির ২২৩ বস্তা চাল উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৩

বগুড়ার দুপচাঁচিয়া একটি চালকল থেকে ২২৩ বস্তা ভিজিডির চাল উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দুপচাঁচিয়া থানার ওসি আব্দুর রাজ্জাক জানান, বুধবার উপজেলার জোহালী মাটাই গ্রামে আকবর আলীর চালকলে এ উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মাহফুজা খাতুন অভিযান পরিচালনা করেন।

গ্রেপ্তাররা হলেন, চালকল মালিকের ছেলে জহুরুল ইসলাম (৩২), চাল ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম (৩৪) ও নুরুল ইসলাম (২৯)।

মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা বলেন, গোপনে সংবাদে আকবর আলীর চালকলে অভিযান চালিয়ে ২২৩ বস্তা (৩০ কেজি ওজনের) ভিজিডির চাল উদ্ধার করা হয়। এ সময় চালগুলো মজুদের অভিযোগে কল মালিকের ছেলে ও দুই ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এর আগে মঙ্গলবার রাতে সারিয়াকান্দির মথুরাপাড়া বাজারের জুলফিকার আলী নামে এক ব্যবসায়ীর একটি গুদাম থেকে ১৪২ বস্তা ভিজিডির চাল জব্দ করে দুই গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

তুমব্রু সীমান্তে রোহিঙ্গাদের গ্রামে আগুন, গুলির শব্দ

করতোয়া ডেস্ক: বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার তুমব্রু সীমান্তের ওপারে মিয়ানমার এলাকা থেকে ১০ রাউন্ড গুলির শব্দ পাওয়া গেছে। সেখানে রোহিঙ্গাদের বাড়িঘরে আগুন দেয়ার দৃশ্যও দেখা গেছে। বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে প্রায় ১০০ গজ দূরে এ ঘটনা ঘটে। ওই সীমান্তের নো-ম্যানস ল্যান্ডে আশ্রয় নিয়েছেন হাজারও রোহিঙ্গা। গত ২৬ দিন তারা সেখানে অবস্থান করছেন।  বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৪টায় তুমব্রু রাখাইন স্টেটে আগুন দেয়ার দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। এ সময় ওই সীমান্তে অবস্থান করছিলেন তিনি।

প্রসঙ্গত, তুমব্রু সীমান্তে পাহাড়ের ঢালু অঞ্চলে বাঁশের খুঁটি দিয়ে বাংলাদেশ-মিয়ানমারের সীমানারেখা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে কোনো বেড়া নেই। বরং ঢালু পাহাড় থেকে বাংলাদেশে প্রবেশের জন্য তৈরি করা হয়েছে সিঁড়ি। মাঝে নো-ম্যানস ল্যান্ড। সীমান্তঘেঁষে মিয়ানমারের ওপারের প্রথম গ্রামটির নাম তুমব্রু রাখাইন স্টেট। বাড়িতে আগুন দেয়া ভুক্তভোগী রোহিঙ্গা নাসিমা খাতুন বলেন, ২৫ আগস্টের পর আমরা বাড়িঘর ছেড়ে নো-ম্যানস ল্যান্ডে অবস্থান নেই। মাঝে মধ্যে গ্রামে গিয়ে বাড়িঘর দেখে আসতাম। আজ (বৃহস্পতিবার) বিকেলে হঠাৎ করে মগারা (মগ) এসে বাড়িঘরে আগুন দেয়। এর আগে সেনাবাহিনী এসে গুলি করে। নো-ম্যানস ল্যান্ডে অবস্থান করায় প্রাণে বেঁচে যাই।

 ‘আমার সবকিছু মগারা পুড়িয়ে ছাই করে দিল। বাপ-দাদার ভিটেমাটি ছাড়া করেও তারা ক্ষান্ত দেয়নি। এবার আগুন দিয়ে সব শেষ করে দিল’- চিৎকার করে নো-ম্যানস ল্যান্ডে গড়াগড়ি করতে থাকেন নাসিমা খাতুন। নাসিমা খাতুনের চার মেয়ে ও পাঁচ ছেলে। তারা হলো- মেয়ে মনোয়ারা, হামিবা, নাসরিন ও হাসিনা খাতুন; ছেলে ইকবাল, কামাল, রিয়াজ ও আলাউদ্দিন। অপর ছেলের নাম জানা যায়নি। নো-ম্যানস ল্যান্ডে পাঁচ/ছয়দিন অবস্থান করা শাহাবুদ্দিন বলেন, পরিবার ধরে পাঁচ-ছয়দিন এখানে আছি। বার্মায় (মিয়ানমারে) মারা যাওয়ার চেয়ে, এখানে মরাই ভালো। তারা তো মানুষ না। গুলি করে হত্যার পর পুড়িয়ে লাশ গুম করে ফেলছে। আগুনের দৃশ্য দেখিয়ে তিনি বলেন, ওই গ্রামে কারও বসবাস ছিল না। এরপরও তারা আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিল।

প্রসঙ্গত, গত ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে পুলিশ ও বিদ্রোহী গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে পুলিশ সদস্যসহ বহু রোহিঙ্গা হতাহত হয়। ওই ঘটনার পর থেকেই মিয়ানমারের সেনাবাহিনী বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে ‘শুদ্ধি অভিযান’র নামে রাখাইন রাজ্যে নিরীহ মানুষের ওপর বর্বর নির্যাতন, হত্যা, ধর্ষণ ও বাড়িঘরে আগুন দেয়ার মতো ঘটনা ঘটায়। ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংখ্যা চার লাখ ২০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, রোহিঙ্গাদের স্রোত এখনই থামবে না। এ সংখ্যা আরও কয়েক লাখ ছাড়াবে।

এমন পরিস্থিতিতে একদিকে যেমন সঙ্কটের মুখোমুখি রোহিঙ্গারা, অন্যদিকে সঙ্কটময় পরিস্থিতিতে বাংলাদেশও। গত ২৬ দিনে রোহিঙ্গাদের থাকা-খাওয়ার সুরাহা হলেও অন্তঃসত্ত্বা ও শিশুদের মধ্যে পুষ্টিকর খাবার সরবরাহ, বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার তীব্র সঙ্কট দেখা দিয়েছে।
জরুরি ভিত্তিতে এগুলো সরবরাহের ব্যবস্থা না করা হলে চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়বে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গারা। তবে প্রশাসন বলছে, তারা ধীরে ধীরে পরিস্থিতি গুছিয়ে আনছেন। অল্প কয়েকদিনের মধ্যে পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে বলেও জানান প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

 

 

রোনালদোর ফেরার ম্যাচে রিয়ালের হার

পাঁচ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা শেষে রিয়ালের হয়ে মাঠে নামলেন রোনালদো। গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন অনেক। তবে বল জালে জড়াতে ব্যর্থ হন এই তারকা। উল্টো শেষ সময়ের গোলে রিয়াল বেটিসের কাছে ১-০ গোলের হারের স্বাদ নিয়ে মাঠ ছেড়েছে জিদানের শিষ্যরা।

ঘরের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ম্যাচের তৃতীয় মিনিটেই এগিয়ে যেতে পারতো সফরকারী বেটিস। পাল্টা আক্রমণে একজনকে কাটিয়ে আন্তোনিও সানাবিরার নেওয়া শট গোলরক্ষককে পরাস্ত করলেও কারভাহালের পায়ে লেগে ফিরলে গোল বঞ্চিত হয় সফরকারীরা।

 

ম্যাচের দশম মিনিটে গোলের সুযোগ পান রোনালদো। জটলার মধ্যে ঠিকমতো শট নিতে পারেননি। তবে ব্যকহিলে চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু বল একজনের গায়ে লেগে বাইরে চলে যায়। ম্যাচের ২৯ মিনিটে রোনালদোর নেওয়া শট ঝাঁপিয়ে ঠেকান গোলরক্ষক। ম্যাচের ৪২ মিনিটে ইসকোর কোনাকুনি শট ঝাঁপিয়ে ঠেকান বেটিস গোলরক্ষক। আর বিরতির ঠিক আগে আরেকটি সুযোগ নষ্ট করেন রোনালদো।

বিরতি থেকে ফিরে গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে স্বাগতিকরা। ম্যাচের ৫১ মিনিটে গোলেরও সুযোগ পেয়ে যান রোনালদো। তবে বাঁ-দিক থেকে বেলের দারুণ ক্রসে বল জালে জড়াতে ব্যর্থ হন চারবারের বর্ষসেরা এই খেলোয়াড়।

একের পর এক মিসে দিশেহারা রিয়াল একাদশে ম্যাচের ৬৭ মিনিটে মিডফিল্ডার ইসকোকে বসিয়ে আসনসিওকে নামান জিদান। খানিক পর ডিফেন্ডার মার্সেলো ও লকা মদ্রিচের জায়গায় নামেন দুই ফরোয়ার্ড ভাসকেস ও মায়োরাল। ফলে রিয়ালের আক্রমণের ধার আরও বাড়ে। ৭৫ মিনিটে বেলের দুর্দান্ত এক ব্যাকহিল গোলরক্ষক ঠেকানোর পর বল লাগে পোস্টে। যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে মায়োরালের হেড ঝাঁপিয়ে ঠেকান গোলরক্ষক।

উল্টো ম্যাচের যোগ করা সময়ের শেষ মিনিটে জয়সূচক গোলটি করেন সানাবিরা। স্বদেশি ডিফেন্ডার আন্তোনিও বারাগানের ক্রসে হেডে নাভাসকে পরাস্ত করেন ২১ বছর বয়সী স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড আন্তোনিও সানাবিরা। ফলে হারের স্বাদ নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় রিয়ালকে। এ হারে ৮ পয়েন্ট নিয়ে সপ্তম স্থানে নেমে গেছে তারা। শীর্ষস্থানধারী বার্সেলোনার চেয়ে ৭ পয়েন্টে পিছিয়ে

আইন-আদালত
আর্ন্তাজাতিক
তথ্যপ্রযুক্তি

পূজার বিশেষ নাটকে আফরান নিশো ও মেহজাবিন চৌধুরী

অভি মঈনুদ্দীন : আর মাত্র ক’দিন পরেই দূর্গা পূজা শুরু হতে যাচ্ছে। আর এ উপলক্ষ্যে স্যাটেলাইট চ্যানেল বাংলাভিশনের নিজস্ব প্রযোজনায় গুণী নাট্যনির্মাতা অঞ্জন আইচ নির্মাণ করছেন বিশেষ নাটক ‘তোমার কথা বলবো কাকে’। অঞ্জন আইচের নির্দেশনায় এবারই প্রথম একসঙ্গে কাজ করছেন আফরান নিশো ও মেহজাবিন চৌধুরী। এর আগে বিভিন্ন পরিচালকের নির্দেশনায় নিশো মেহজাবিন একসঙ্গে কাজ করলেও অঞ্জন আইচের নির্দেশনায় প্রথম কাজ করছেন। রাজধানীর উত্তরায় একটি শুটিং হাউজে নাটকটির শুটিং শুরু হয়েছে গতকাল থেকে। বৃষ্টিকে উপক্ষো করেই পরিচালক অঞ্জন আইচ নাটকটি নির্মাণ করছেন। এতে অভিনয় প্রসঙ্গে আফরান নিশো বলেন,‘ দাদার নির্দেশনায় কাজ করতে এ কারণেই ভালোলাগে যে তার গল্পভাবনা সবসময়ই খুউব ভালো হয়।

 সেই গল্প ভাবনার সাথে যখন মিলিয়ে শিল্পীদের অভিনয়, চিত্রনাট্য, মেকিং’র চমৎকার সমন্বয় ঘটে তখনই একটি সুন্দর নাটক হয়ে দাঁড়ায়। আশাকরি এই নাটকটিও ঠিক তেমনি একটি নাটক হবে। আর দাদার নির্দেশনায় প্রায় তিন বছর পর আমার কাজ করা হচ্ছে। মেহজাবিন এই সময়ে এসে অভিনয় নিয়ে দারুণভাবে ভাবছে। এটা একজন অভিনেত্রী হিসেবে খুবই ভালো দিক। রূপ সচেতনতার পাশাপাশি অভিনয়টা নিয়ে যে ভাবতে হবে সেটা একজন অভিনয় শিল্পীর কাজ। মেহজাবিন সবসময়ই আমার একজন পছন্দের কোআর্টিস্ট এবং দর্শকও আমাদের এই জুটিকে খুব পছন্দ করেন।’ মেহজাবিন বলেন,‘ অনেকদিন পর অঞ্জন দাদার নাটকে কাজ করছি। তার নির্দেশনায় এবারই প্রথম খন্ড নাটকে কাজ করা। গল্পটা বেশ ভালো।

 নিশো ভাইয়া নিঃসন্দেহে একজন ভালো অভিনেতা। তারসঙ্গে অভিনয় করাটা সবসময়ই বেশ উপভোগ করি। একজন সহশিল্পী যখন ভালো হয় তখন কাজ করাটাও চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।’ পরিচালক অঞ্জন আইচ জানান ‘তোমার কথা বলবো কাকে’ নাটকটি একটি রোমান্টিক ও যথেষ্ট আবেগঘন নাটক। আফরান নিশো ও মেহজাবিন চৌধুরীকে গল্পের কারণে তাদের সর্বোচ্চ অভিনয় দিয়েই অসীম ও রিয়া চরিত্র দুটিকে ফুটিয়ে তুলতে হচ্ছে বলে জানান পরিচালক অঞ্জন আইচ। আসছে দূর্গা পূজায় দশমীতে বাংলাভিশনে নাটকটি প্রচার হবে। আফরান নিশো প্রথম অঞ্জন আইচের নির্দেশনায় ধারাবাহিক নাটক ‘শূণ্য সমীকরণ’ নাটকে অভিনয় করেন। অন্যদিকে মেহজাবিন চৌধুরী অঞ্জন আইচের নির্দেশনায় প্রথম ‘চক্র’ ধারাবাহিকে অভিনয় করেন।

শিক্ষা
অর্থ-বাণিজ্য
ধর্ম
সাহিত্য
লাইফস্টাইল
স্বাস্থ্য
Go Top